Home •সংস্কৃতি ও সমাজ অপসংস্কৃতির স্রোতে ভাসা থেকে মুক্তি কোন পথে?
অপসংস্কৃতির স্রোতে ভাসা থেকে মুক্তি কোন পথে? PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Saturday, 01 January 2011 13:39

আল্লাহতে বিশ্বাসী ও অনুগত হলে জীবন শ্লিল ও রুচীশীল হয়, আসে পবিত্রতা। ইসলাম পবিত্রতার প্রতিষ্টা চায় শুধু মসজিদে নয়, সমগ্র সমাজ ও রাষ্ট্রে। এমনকি আনন্দ-উৎসব ও শোক-দুঃখের আসর গুলোতেও। সমাজের কোন ক্ষুদ্রতর অংশ আনন্দ-উংসব বা সাংস্কৃতিক ক্রীয়াকর্মের নামে অশ্লিলতা ও নোংরামীতে আক্রান্ত হোক ইসলাম সেটি চায় না। কারণ এগুলো রোগ, আর রোগমাত্রই সংক্রামক। এগুলীর শুরু€ ক্ষুদ্রতার স্থান থেকে হলেও আস্তে আস্তে সেটি সমগ্র রাষ্ট্রকে গ্রাস করে। এ অশ্লিলতা নাটকের মঞ্চ, সিনেমা হল, যাত্রা দল বা নিষিদ্ধ পল্লীতে শুরু€ হলেও সেখানে সীমাবদ্ধ থকে না। আগুনের ন্যয় ঘর থেকে ঘর, গ্রাম থেকে গ্রামকে গ্রাস করে। এজন্যই ব্যক্তি ও জাতির পরিশুদ্ধির প্রয়োজনে ইসলাম সমাজের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অঙ্গণ থেকেও অশ্লিলতার নির্মূল চায়। কোন স্থানকেই ইসলাম একাজে লাইসেন্স দিতে রাজী নয়।

 

 

সমাজ পরিশুদ্ধির প্রয়োজনে ইসলাম শুধু ব্যক্তির মৌখিক কালেমা পাঠের মধ্যেই দায়িত্ব সারে না, বরং তাকে একটি বিশেষ মডেলে গড়ে তুলতে চায়। আর সে মডেল হলো, রাসূলে পাকের (সাঃ) মডেল। কালেমা উচ্চারণের মধ্য দিয়ে সেটি শুরু হয় বটে তবে শেষ হয় না। এর জন্য তাকে চিন্তা-চেতনা, আমল-আখলাক বিশুদ্ধকরণের বিশেষ এক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হতে হয়। ইসলামি সংস্কৃতি হলো সে বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়া। আরবীতে এটিকে বলা হয় তাহযীব। তাহযীব হলো আরবী ব্যকারণের বাবে তাফয়ীলে হাযযাবা শব্দের ক্রিয়া বিশেষ্য। এ বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়া কাজ না করলে পূর্ণাঙ্গ মুসলিম করার প্রক্রিয়াই বন্ধ হয়ে যায়। কারণ মানুষ বইপত্র বা স্কুল-কলেজ থেকে যা শেখে তার চেয়ে বহুগুণ বেশী শেখে সংস্কৃতি থেকে। মাছ যেমন পানিতে বেড়ে উঠে, মানুষও তেমনি বেড়ে উঠে তার সংস্কৃতির মধ্যে। জীবনের মূলপাঠ সে সেখান থেকেই লাভ করে। তাকে কেন সৎ হতে হবে, কিভাবে সৎ হতে হবে, কেন ধর্মে একনিষ্ট হতে হবে, কেন অপরের দুঃখে দুখী এবং সুখে সুখী হতে হবে, কিভাবে বড়দের সন্মান ও ছোটদের স্নেহ করতে হবে, প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন বা মেহমানকেই বা কিভাবে আপ্যায়ীত করবে, জীবনের মূল ফিলোসফি কি -সে গুলি সে শেখে সংস্কৃতি থেকে। ইসলাম শুধু কালেমা বা নামাজ পাঠ শেখায় না। শুধু কালেমা বা নামাজ পাঠে সেটি সম্ভব হলে আমরাও আজ সে প্রাথমিক যুগের ন্যায় মানব রূপে গড়ে উঠতাম। কারণ এগুলো আজকের সমাজে কম হচ্ছে না। নবীজীর (সা) আমলে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হাজারে হাজারে তৈরী হয়েছিল  নামাজ-কালামের বাইরেও একটি শক্তিশালী শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রক্রিয়া ক্রিয়াশীল থাকার কারণে। সমগ্য মুসলিম ইতিহাসে তারাই আমাদের একমাত্র গর্বের ধন। আমরা শত কোটিরও বেশী মুসলমান তাদের হাজার ভাগের এক ভাগও সৃষ্টি করতে পারিনি। অথচ তারা কোন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হননি। সেদিনের মত আজ আর উন্নত মানব সৃষ্টি হচ্ছে না, কারণ ইসলামের সে বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়াই বিনষ্ট বা বিলুপ্ত হয়েছে। এজিদদের মত স্বৈরাচারি জালেমদের হাতে যে খোদায়ী প্রক্রিয়াটা একবার বিনষ্ট হলো সেটি আর সঠিকভাবে মুসলমানেরা প্রতিষ্টাই করতে পারলো না। ফলে চরিত্রহীনতায় আমরা বিশ্বের বহু অমুসমানকেও ছাড়িয়ে গেছি।

 

ইসলামের শত্রুপক্ষ ইসলামের উপর সরাসরি হামলাতে ভয় পায়। তারা ইসলামের বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়া বা সংস্কৃতিকে বিনষ্ট করতে চায়। বীজকে গজাতে দেওযার পর তাকে  বেড়ে উঠার সুযোগ না দিলে সেটি নিস্ফল আয়ু পায় মাত্র, ফল দেয় না। মুসলমানের জন্ম বন্ধ করতে না পারলেও মুসলমান রূপে বেড়ে উঠাকে তারা বন্ধ করেছে। তাদের সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের এটিই হলো বড় সফলতা। ফলে আমরা শতকোটির অধিক মুসলমান ইসলামের বিজয়ে কোন অবদানই রাখতে পারছি না। এহেন নিস্ফল জীবনের সবচেয়ে জ্বাজল্যমান ও নিকৃষ্টতর উদাহরণ হলো বাংলাদেশের ১৬ কোটি মুসলমান। ইসলামের পবিত্র কোরআন অক্ষত থাকলেও দেশটি পশ্চাদপদতায় লাগাতর রেকর্ড গড়েছে। ভিক্ষাবৃত্তিকে আমরা একটি আর্ন্তজাতীক শিল্পে পরিণত করেছি। বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়ার বদলে যে দূষিতকরণ প্রক্রিয়া দেশী ও বিদেশী শত্রুরা চালু করেছিল তাকে আমরা উৎখাত না করে বরং যুগের তালে আরো আধুনিকীকরণ করেছি। আর ইসলামের বিরোধী পক্ষতো সেটিই চায়। এটিই তাদের সনাতন সংস্কৃংতি। ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে নয়, এ সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়েই বস্তুতঃ ইসলামের দুষমনেরা আজ ইসলামের বিরোধীতায় নেমেছে।

 

সংস্কৃতির মাধ্যম বহু। অপসংস্কৃতি তথা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রকে দূষিত করার প্রক্রিয়াও অনেক। ইসলামী সংস্কৃতির মূলকেন্দ্র হলো মসজিদ। এটিই হলো মর্তের বুকে আল্লাহর নিজস্ব প্রতিষ্ঠান। এখান থেকেই দ্বীনের আলো মহল্লার অন্ধকার সরায়। কিন্তু ইসলাম বিরোধী শক্তি ইসলামী সংস্কৃতির এ প্রাণকেন্দ্রকে বহুলাংশেই প্রাণহীন ও অকার্যকর করেছে। আল্লাহর এ পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্টানটি ব্যবহৃত হচ্ছে নিছক নামাজ আদায়ের স্থানরূপে। নামাজের সময় ব্যতীত লক্ষ লক্ষ মসজিদের মহামূল্যবান অঙ্গন অধিাকংশ  সময় জনশূণ্য থাকে। দ্বীনশিক্ষা, মানুষের মাঝে ভাতৃত্ব গড়া, সমাজসেবা, জ্বিহাদ সংগঠিত করা,  এবং জাতিকে নেতৃত্ব দেয়ার যে কাজ মসজিদের মিম্বর থেকে হত তা আজ বিস্মৃতপ্রায়। এসব কাজের জন্য সেসময় মসজিদ ভিন্ন মুসলমানের অন্যকোন প্রতিষ্ঠানই ছিল না। ক্লাব, যাত্রাদল, সিনেমা,ও নাট্যমঞ্চের যে সংস্কৃত্ সেটি অমুসলমানের, মুসলমানের নয়। মসজিদের জায়নামাজের যে পবিত্রতা সেটি অন্যত্র সম্ভব নয়। তাই সমাজীকরণ প্রক্রিয়ার প্রয়োজনে অন্যরা ক্লাব গড়লেও পবিত্রতার স্বার্থে মুসলমানেরা শুধু মসজিদই গড়েছে। মুসলমান তার ঘনিষ্টতম বন্ধু খুঁজে পায় এই মসজিদে।

 

তবে নিছক কয়েক মিনিটের জন্য জায়নামাজে আসাতে ব্যাক্তির জীবনে পরিশুদ্ধি আসে না। নামাজের বাইরেও নবীজী (সা) তাঁর সাহাবাদের নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়েছেন, দ্বীনের আলোকে তাদেরকে আলোকিত করেছেন। জ্ঞানই সংস্কারের মূল উপাদান, চেতনায় পরিবর্তনে এর বিকল্প নেই। জ্ঞানই মানুষকে মুসলমান বানায়, সংস্কারপ্রাপ্ত একটি বিশুদ্ধ মনের জন্ম দেয়। ইসলামী সংস্কৃতির মূল ভিত্তিই হলো এটি। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআন পাকে বলেছেন, একমাত্র জ্ঞানীরাই আমাকে ভয় করে। অথচ মুসলিম সমাজের অজ্ঞতা অমুসলিম সমাজের চেয়েও গভীরতর। সমাজের এ গাঢ় অন্ধকার দেখেই বলা যায়, দ্বীনের আলো এখানে জ্বলেনি। সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে অন্ধকার সরাতে আল্লাহর এ প্রতিষ্টান মসজিদ সফলতা আনতে পারেনি।

 

দ্বীনের বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়া বিনাশের লক্ষ্যে ইসলামের বিপক্ষ শক্তি এক দিকে যেমন মসজিদকে নিষ্ক্রিয় করেছে, তেমনি প্রতিষ্ঠা করেছে নাচগান, যাত্রা, নাটক, সিনেমা, মদ্যপান, বেশ্যাবৃত্তি ও নানান অশ্লিলতা। এগুলোর ফলে মুসলমানদের চেতনা যেমন অসুস্থ্য হচ্ছে, তেমনি কদর্যতা পাচ্ছেŽ তাদের €রুচীবোধ ও আচার-আচরন। সাহিত্য ও সংস্কৃতির গুরত্ব পূর্ণ উপাদান। সাহিত্য জ্ঞানের বিস্তারে পাইপ লাইনের কাজ করে। কিন্তু অশ্লিল সাহিত্য এ পাইপ লাইনের মাধ্যমে ঘরে ঘরে রোগের বিস্তার ঘটায়। দূষিত পানিতে দেহ রোগাগ্রস্ত হয়, দুষিত সাহিত্যে রোগাগ্রস্থ হয় সমগ্র চেতনা। চেতনার এ রোগাগ্রস্থ্যতার কারণেই মানুষ চুরি-ডাকাতি, খুণ-ধর্ষন ও রাহাজানিতে লিপ্ত হয়।  বাংলাদেশে আজ সেটিই হয়েছে।

 

সংস্কৃতি হলো মানুষকে সভ্যতর করার শিল্প। মানুষ সভ্যতর হয়, সমাজ সামনে এগুয়, এবং রাষ্ট্র সমৃদ্ধতর হয় এ শিল্পের গুণেই। বাংলাদেশে আজ যে অবাধ ধর্ষণ, চুরি-ডাকাতি, হত্যার সয়লাব, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে, সেটিই প্রমাণ করে এ সৃষ্টিশীল শিল্প এদেশে গড়ে উঠেনি। বরং বেড়েছে মানুষকে অসভ্যতর করার শিল্প অর্থাৎ অপসংস্কৃতি। এটির টানে যেন উর্ধ্বশ্বাসে আমরা আঁধারের দিকে ছুটেছি। আর এরূপ আঁধারের দিকে নেওয়াই শয়তানের কাজ, ঈমানহীনদের সে সুহৃদ। কোরআন পাকে সেটিই বলা হয়েছে। সংস্কৃতির লেবাসে যুগে যুগে মানুষকে সে আল্লাহর অবাধ্যতার দিকে ধাবিত করছে। এটিই শয়তানের সনাতন ধর্ম। শয়তানের এ ধর্ম কোন কিতাব নির্ভর নয়, সংস্কৃতি নির্ভর। সংস্কৃতির ছদ্দবেশে সে ব্যক্তির পরিশুদ্ধির প্রক্রিয়াকে চিরতরে  রুখতে চায়। বাংলাদেশে ইসলামের উপর জঘন্যতম হামলা আসছে এই সাংস্কৃতিক কর্মীদের পক্ষ থেকেই। মৌলবাদ নির্মূল করার নামে এরাই ইসলামকে নির্মূল করতে চায়। এদের কারণে জাতিকে সভ্যতর করার মাধ্যমগুলো আজ বিপর্যয়। কবিতার নামে, যাত্রা-নাটক ও সিনেমার নামে এরা মানুষের চিন্তা-চেতনাকে দিন দিন আরো অসুস্থ্যতর করছে। বাড়ছে উলঙ্গতা, বাড়ছে অশ্লিললতা, বাড়ছে নেশাগ্রস্ততা।  ফলে পাড়ার বখাটে ছেলেটি ধর্ষণে উৎসাহ পাচ্ছে। ফলে পাড়ায় পাড়ায় যতই বাড়ছে নাট্যদল, ক্লাব, ভিডিও, সিনেমা হল ততই বেড়ে চলেছে সমাজে অসুস্থ্য মানুষের ভিড়। এদের কারণে ৫০ বছর পূর্বে জাতি নীতিনৈতিকতা ও মূল্যবোধের মানদণ্ডে যে পর্যায়ে ছিল তার চেয়ে অনেক নীচে নেমেছে। সংস্কৃতি চর্চার নামে এ পতন-প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে ইসলামের নির্মূলে শত্রুর€ একটি তীরও ছোড়ার প্রয়োজন পড়বে না। সাংস্কৃতিক ভিন্নতাই রাজনৈতিক ভিন্নতার জন্ম দেয়। সেটি বিলুপ্ত হলে আমাদের পৃথক থাকার যুক্তি বা ভিত্তিই বিলুপ্ত হবে, ফলে বিপর্যস্ত¯হবে আমাদের স্বাধীনতা ও জাতীয় অস্তিত্ব। বাংলাদেশের ভারতপন্থী সাংস্কৃতিক কর্মীরা বস্তুত সে কাজেই দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। এদের প্রতিপালনে একারণেই ভারতের বিপুল বিণিয়োগ। বাংলাদেশে এ অবধি কোন শিল্পে এরা একটি পয়সা বিণিয়োগ না করলেও কোটি কোটি টাকা বিণিয়োগ করেছে সাংস্কৃতিক ক্রিয়াকর্মে ও মিডিয়াতে। দলে দলে আসছে নাট্যকর্মী, গায়ক-গায়ীকা ও সিনেমাকর্মী। একাজে তাদের একনিষ্ট সেবকদের তারা পুরস্কৃতও করছে। জাতিকে বাঁচাতে হলে চেতনার দূষিতকরণ প্রক্রিয়া থেকে জাতিকে বাঁচাতে হবে। যে পাইপ লাইনে ঘরে ঘরে সংস্কৃতির নামে জাতি ধ্বংসের জীবাণূপৌছে তার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। আমাদের বাঁচবার তাগিদে অতিশয় প্রয়োজন হলো সংস্কৃতির সংস্কারের। জাতির সুস্থ্যতা আসতে পারে একমাত্র এর পরেই।

 

পাশ্চাত্য সংস্কৃতির অভ্যন্তরে থেকে বাঁচবার আরেক উপায় হলো মুসলমান শিশুদের শৈশব থেকেই ইসলামী শিক্ষার ব্যবস্থা করা। এটি তাদের জন্য ভ্যাকসিনের কাজ করবে। কলেরার মহামারীতে এখন আর হাজার হাজার মানুষ মারা যায় না। পলিও রোগে এখন আর আগের মত সবাই পক্ষাঘাতগ্রস্ত¯হয় না। না হওয়ার অন্যতম কারণ শৈশবে টিকা দান। ইসলামী জ্ঞানদান বস্তুত  সে টিকাদানেরই কাজ করে। এটি অনৈসলাম থেকে শিশু-সন্তানের ঈমানকে বাঁচায়। তবে মুসলমান তার সন্তানের শিক্ষাদানের এ ইসলামী দায়িত্বটি কখনই অমুসলিমের উপর দিতে পারে না। এ দায়িত্বটি একান্তই তার নিজের। মুসলমানরা পিতামাতারা যখন তাদের সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্ব নিজেরা নিয়েছেন একমাত্র তখনই তাদের ঈমান, আমল ও সংস্কৃতি সুরক্ষা পেয়েছে। কিন্তু যখনই শিক্ষার ক্ষেত্রে অবহেলা দেখিয়েছে তখন তাদের পরাজয়ও শুরু€হয়েছে। তুরস্কের খলিফারা এককালে তাদের মেধাবী ছাত্রদের ইউরোপে পাঠাতো শিক্ষা হাসিলে। তারাই মুসলিম বিশ্বে পাশ্চাত্যের ফেতনা টেনে এনেছে। ফিরে এসে তারা্ জাতীয়তাবাদী সেক্যিউলার হয়েছে এবং বিশাল উসমানিয়া খেলাফতকে টুকরো টুকরো করার ব্যবস্থা করেছে। অবিকল একই অবস্থা হয়েছে পাকিস্তানে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর যে সব সামরিক ও বেসামরিক অফিসার এবং শিক্ষকদের স্কলারশিপ দিয়ে প্রথমে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল তাদেরই বেশী ভাগ ফিরে এসে দেশ ও ধর্মের শত্রুতে পরিণত হয়েছে। পরিণত হয়েছে সেক্যিউলারিজম, মার্কসবাদ, জাতিয়তাবাদ ও নাস্তিকতার একনিষ্ঠ সৈনিককে।

 

অথচ এসব ফেতনা মুসলিম বিশ্বে পূর্বে কখনই এতটা বেগবান ছিল না। আর তাদের কারণেই এখনকার অবস্থাতো আরো ভয়ানক। মুসলমানরা এখন যে শুধু পরাজিতই তা নয়, বরঙ খড়কুটো ও জঞ্জালের ন্যায় সাংস্কৃতিক স্রোতে ভেসে চলেছে। মুসলিম দেশগূলো এখন ইসলামের দেশী শত্রুদের হাতে অধিকৃত। তবে এ অধিকৃতি ও স্রোতে ভাসা থেকে এখনও বাঁচা সম্ভব। তবে সেটি শয়তানের পথ পরিত্যাগ এবং আল্লাহর হাতল বা রশিকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরার মাধ্যমে। যারা সে হাতল বা রশিকে যারা শক্ত ভাবে ধরবে একমাত্র তাদেরই থাকবে না স্রোতে ভাসার সম্ভাবনা। একমাত্র তারাই পাবে পরকালে মূক্তি। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহর সে প্রতিশ্রুতিটা আসছে এভাবে, “ফা মাই ইয়াকফুর বিত্তাগুত ওয়া ইউমিমবিল্লাহ, ফাকাদিস তামসাকা বিল উরওয়াতিল উসকা লান ফিসামা লাহা” অর্থঃ যে ব্যক্তি তাগুতকে তথা আল্লাহর অবাধ্যতা ও দুষ্কর্মকে পরিহার করবে এবং আল্লাহর উপর ঈমান আনবে, সে এমন এক হাতলকে শক্ত ভাবে ধরবে যে যা থেকে সে কখনো বিচ্ছিন্ন হবে না।” –(সুরা বাকারা, আয়াত ২৫৬)। আর সে হাতল বা রশিটি হলো পবিত্র কোরআন। আর এটিই হলো হিদায়েতের পথ। পথভ্রষ্টতা ও অপসংস্কৃতি বাঁচার এটাই এক মাত্র পথ। এবং এটিই সিরাতাল মুস্তাকীমের পথ। (13/09/2003)



Add this page to your favorite Social Bookmarking websites
 
Last Updated on Saturday, 01 January 2011 13:45
 
Dr Firoz Mahboob Kamal, Powered by Joomla!; Joomla templates by SG web hosting
Copyright © 2017 Dr Firoz Mahboob Kamal. All Rights Reserved.
Joomla! is Free Software released under the GNU/GPL License.