Home •শিক্ষা ও প্রচার মাধ্যম অশিক্ষা ও কুশিক্ষার নাশকতা (তৃতীয় পর্ব)

Article comments

অশিক্ষা ও কুশিক্ষার নাশকতা (তৃতীয় পর্ব) PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Sunday, 25 March 2018 09:59

শিক্ষানীতিঃ ইসলামের ও ইসলামের শত্রুশক্তির

দেশের শিক্ষানীতিতেই প্রকাশ পায় সেদেশের শাসক চক্রের রাজনৈতীক এজেন্ডা। একটি দেশ ভবিষ্যতে কোথায় পৌঁছবে এবং সে দেশের জনগণই বা কীরূপ চেতনা ও চরিত্র নিয়ে বেড়ে উঠবে -সেটি শিল্পনীতি, কৃষিনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য বা প্রতিরক্ষা নীতিতে ধরা পড়ে না। বিষয়টি নির্ভূল ভাবে ধরা পড়ে দেশের শিক্ষানীতি থেকে। আজকে মুসলিম বিশ্ব যেরূপ বিভক্ত মানচিত্র, ভাতৃঘাতি যু্দ্ধ, বিদেশীদের অধিকৃতি, নৃশংস গণহত্যা, শহরের পর শহর ধ্বংস ও উদ্বাস্তুকরণ প্রক্রিয়ার শিকার তার শুরুটি আজ হয়নি। পরাজয়, অপমান ও ধ্বংসের পথে এ যাত্রাটির শুরু বহু আগে থেকেই। সেটি বেগবান হয়েছে ঔপনিবেশিক শক্তির হাতে অধিকৃত হওয়ার পর। কাফেরদের হাতে অধিকৃতির ভয়ানক কুফলটি শুধু রাজনৈতিক গোলামী ও অর্থনৈতিক শোষন নয়, বরং তাতে অসম্ভব হয় মুসলিমদের মুসলিম রূপে বেড়ে উঠা। গাড়ীর দু’টি চাকার ন্যায় শাসক শক্তির রাজনৈতিক এজেন্ডা ও শিক্ষানীতি সব সময়ই একত্রে চলে। ফলে যখনই কোন দেশ ঔপনিবেশিক শত্রুশক্তির হাতে অধিকৃত হয়, তখন সে দেশের শিক্ষানীতি দখলদার শক্তির আদর্শিক, রাজনৈতিক ও নৈতিক নাশকতামূলক স্ট্রাটেজী থেকে মুক্ত থাকে না। তখন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মূল লক্ষ্য হয় দখলদার বিদেশী শাসনের সেবাদাস সৃষ্টি। দখলদার শক্তি নিজেদের সেনাবাহিনী, পুলিশ বাহিনী ও প্রশাসনিক দফতরে লোকবল পায় শিক্ষালয় কেন্দ্র থেকে। বিদ্যাশিক্ষা এভাবে ছাত্রদের স্বাধীনতা বিরোধী, ধর্মবিরোধী, নৈতিকতা বিরোধী অপরাধী এবং জাহান্নামের উপযোগী করে গড়ে তোলে। ভারতের বুকে ব্রিটিশদের হাতে প্রণীত শিক্ষানীতি তো সেটিই করেছে। ভারতের বুকে সাম্রাজ্যবাদী শাসন বাঁচাতে যে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় নাগরিক দখলদার ব্রিটিশের প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ বিভাগে কাজ করেছে এবং তাদের পক্ষে দু’টি বিশ্বযুদ্ধে প্রাণ দিয়েছে -তারা তো সৃষ্টি হয়েছে ব্রিটিশদের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি থেকেই। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় ব্রিটিশ শাসনের সম্প্রসারণেও এরা যুদ্ধ করেছে এবং হতাহত হয়েছে। এভাবে প্রমাণিত করে, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যর্থ হয়েছে তাদের মাঝে ধর্মপ্রেম, দেশপ্রেম ও নৈতীকতার জন্ম দিতে। এবং ব্যর্থ হয়েছে ছাত্রদের গুরুতর অপরাধ কর্ম থেকে বাঁচাতে। তৎকালে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশদের প্রণীত শিক্ষা বর্জনের পিছনে ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের মূল যুক্তিটি ছিল শিক্ষানীতির এরূপ ঈমান, নৈতিকতা ও দেশপ্রেম বিধ্বংসী ব্যাপক নাশকতা। যে শিক্ষা সন্তানদের জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাতে পারে সে শিক্ষায় কি কোন ঈমানদারের আগ্রহ  থাকতে পারে?

 

 

আজও যারা মুসলিম দেশগুলিতে শরিয়ত, হুদুদ, শুরা, জিহাদ ও খেলাফার ন্যায় আল্লাহতায়ালার দ্বীনের মৌল বিষয়গুলির প্রতিষ্ঠা রুখতে যুদ্ধ শুরু করেছে এবং কাফেরদের সাথে আন্তর্জাতিক কোয়ালিশন গড়েছে তারাও কোন কাফের দেশে মঠ, মন্দির, গীর্জা বা সেনানিবাসে পয়দা হয়নি। বরং বিপুল সংখ্যায় সৃষ্টি হয়েছে মুসলিম দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই। ইসলামবিরোধী শক্তির থাকে অধিকৃত হওয়ার ভয়ানক বিপদটি তো এখানেই। তখন দেশের রাজনীতি ও প্রশাসনের ন্যায় শিক্ষানীতিও কাজ করে, আখেরাতের ভাবনা, কোরআনের দর্শন ও মহান আল্লাহতায়ালার প্রতি ঈমানী দায়বদ্ধতা থেকে ছাত্রদের দূরে সরাতে। ছাত্রগণ তখন নাস্তিক, গো-পূজারি, মুর্তিপূজারি বা অন্য কোন ধর্মে দীক্ষিত না হলেও তাদের পক্ষে কঠিন হয় প্রকৃত মুসলিম রূপে গড়ে উঠা। কারণ, কীরূপ চেতনা, চরিত্র ও মিশন নিয়ে ছাত্ররা বেড়ে উঠবে সে বিষয়টি তাদের হাতে থাকে না। সেটি নির্ধারণ করে শিক্ষানীতির প্রণেতাগণ। ফলে ছাত্র জীবনে এবং ছাত্রজীবন শেষে তাদের জন্য সহজ হয়, ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামাটিও। মুসলিম দেশগুলিতে ইসলাম যেভাবে পরাজিত এবং বিজয়ীর বেশে যেভাবে ইসলামের শত্রুগণ -তার কারণ তো নিজ দেশের শিক্ষানীতিতে সৃষ্ট ইসলামের শত্রুগণ।

মুসলিমদের বিপদ স্রেফ বিদেশী কাফের শক্তির হাতে  অধিকৃত হওয়ায় নয়। স্বদেশী স্বৈরাচারি শক্তির হাতে অধিকৃত হওয়ার নাশকতাটিও কি কম? তখন শিক্ষাঙ্গণ পরিণত হয় সরকারের আয়ু বাড়াতে প্রয়োজনীয় লোকবল সরবরাহের ইন্ডাস্ট্রিতে।  জনগণের পার্থিব বা পরকালীন কল্যাণ সে শিক্ষানীতিতে গুরুত্ব পায় না। স্বৈরাচারি শাসকগণ শুধু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গণই দখলে নেয়না, দখলে নেয় জনগণের চেতনার ভূমিও। তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলে কাজ দেয় পুলিশ ও সেনাবাহিনী। এবং চেতনার ভূমি দখলের কাজটি করে শিক্ষানীতি। রাজনীতি ও বুদ্ধিবৃত্তির অধিকৃত অঙ্গণে পবিত্র কোরআনের তথা ওহীর জ্ঞানের কোন স্থান থাকে না। ইসলাম সরিয়ে সেখানে পরিকল্পিত ভাবে প্লাবন আনা হয় কুফরি ধ্যান-ধারনার। ইসলামের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে সাম্রাজ্যবাদি বিদেশী কাফের ও মুসলিম নামধারি স্বদেশী স্বৈরাচারি শক্তির মাঝে পার্থক্য সামান্যই। কাফেরদের ন্যায় মুসলিম নামধারি স্বৈরাচারি শাসকগণও শরিয়ত, হুদুদ, শুরা ও খেলাফার ন্যায় আল্লাহতায়ালার নির্দেশিত মৌল বিধানগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামে। সাম্রাজ্যবাদি ইউরোপীয় শাসকগণ যে লক্ষ্যে মুসলিম দেশে শিক্ষানীতি প্রণয়োন করেছিল সে লক্ষ্যটি তো তাদেরও। এরই ফল হলো, মুসলিম ভূমি থেকে সাম্রাজ্যবাদি শাসন বিলুপ্ত হলেও এখনো বহাল তবিয়তে বেঁচে আছে তাদের শিক্ষানীতি ও সেক্যুলার ফিলোসফি। ফলে বেঁচে আছে তাদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যও।

রাষ্ট্রের নীতি ও শিক্ষানীতি –এ দুটির মাঝে অটুট ঐক্য ও অভিন্নতা কাজ করে এমন কি  ইসলামী রাষ্ট্রেও। এমন রাষ্ট্রে সকল প্রতিষ্ঠান ও সমগ্র লোকবল অন্যায়ের নির্মূল ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধরত অটুট বাহিনীতে পরিণত হয়। দেশ জুড়ে তখন জোয়ার শুরু হয় নেক কর্মের। তখন সরকারের মূল কাজটি হয়, সৎ কর্মে নিয়োজিত সকল নাগরিকদের নেতৃত্ব ও প্রশিক্ষণ দেয়া। সে সাথে তাদেরকে নিরাপত্তা দেয়া। রাষ্ট্রর ইসলামি হওয়ার অর্থ, আইন তৈরী ও নীতি নির্ধারণের অধিকার এখানে সরকারের থাকে না, সে অধিকারটি একমাত্র সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহতায়ালার। রাষ্ট্র পরিচালনায় এটিই হলো তাঁর সার্বভৌমত্ব। জনগণ, পার্লামেন্ট বা কোন শাসককে সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক মনে করা ইসলামে হারাম। মহান আল্লাহতায়ালা ব্যতীত অন্য কাউকে সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক ও আইন-দাতা মেনে নেয়া হলে তাতে চ্যালেঞ্জ করা হয় তাঁর ক্ষমতা ও অধিকারের। এটি শিরক -যা ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে হাজির করে। রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠা পেলে খোদ সরকার পরিণত হয় মহান আল্লাহতায়ালার খলিফায়। তখন সরকারের নীতি হয়, অন্যায়ের নির্মূল ও ন্যায়ের তথা ইনসাফের প্রতিষ্ঠা। ইসলামে এটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পবিত্র কোরআনে সে নীতির ঘোষণা এসেছে এভাবে, “আমি আমার রসূলগণকে সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ প্রেরণ করেছি এবং তাদের সাথে অবতীর্ণ করেছি কিতাব ও ন্যায়নীতি, যাতে মানুষ ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পারে। আর নাযিল করেছি লৌহ, যাতে আছে প্রচণ্ড রণশক্তি এবং মানুষের বহুবিধ উপকার। সেটি এজন্য যে, আল্লাহ জেনে নিবেন কে না দেখে তাঁকে ও তাঁর রাসূলকে সাহায্য করে। আল্লাহ শক্তিধর ও পরাক্রমশালী।” (সুরা হাদিদ, আয়াত ২৫)। উপরুক্ত আয়াতে যে বিষয়টি অতি সুস্পষ্ট তা হলো, রাসূল প্রেরণ ও কোরআন নাযিলের উদ্দেশ্য শুধু এ নয় যে, মুসলিমগণ স্রেফ নামায-রোযা ও হজ-যাকাত পালন করবে। বরং মূল বিষয়টি হলো, সকল প্রকার অন্যায়ের নির্মূল এবং ন্যায়-নীতি ও ইনসাফের প্রতিষ্ঠা।  এটিই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ও রাসূলের মিশন। এবং উপরুক্ত আয়াতে এ কথাও বলা হয়েছে, তিনি দেখতে চান সে মিশনকে সফল করতে কারা নিজেদের জান ও মালের বিনিয়োগ করে। এটি সহজেই বোধগম্য যে, দখলদার সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের নির্মূলের কাজটি নিরস্ত্র ইবাদতে সম্ভব নয়; তাই অপরিহার্য হলো সশস্ত্র ইবাদতের প্রস্তুতি। ইসলামে সে ইবাদতটি হলো জিহাদ। সে জিহাদের কাজটি যাতে  পর্যাপ্ত রণশক্তি পায় সে জন্য তিনি লৌহ নাযিল করেছেন।

যে ভয়ানক পাপটি অশিক্ষা ও কুশিক্ষায়

নামায-রোযা পরিহার করা ইসলামে কবিরা গুনাহ। এ গুনাহ ব্যক্তিকে জাহান্নামে পৌঁছায়। কিন্তু তার চেয়েও ভয়ানক গুনাহটি ঘটে অশিক্ষিত ও কুশিক্ষিত হওয়ায়। নামায-রোযা দূরে থাক, তখন ঈমানদার হওয়াই অসম্ভব হয়ে পড়ে। সিরাতুল মুস্তাকীমে চলায় আলোকিত মন ও আলোকিত পথ লাগে। ঈমানদার ব্যক্তির মনের আলো ও পথের আলো –উভ্য়ই আসে পবিত্র কোরআন থেকে। বলা হয়েছে, “এবং যারা এমন আনলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর, তারাই হলো সিদ্দিক ও শহীদ; তাদের প্রতিপালকের কাছে তাদের জন্য রয়েছে নূর ও প্রতিদান। -(সুরা হাদীদ, আয়াত ১৯)। মহান আল্লাহতায়ালার শ্রেষ্ঠ ওয়াজ তথা শ্রেষ্ঠ নসিহত পবিত্র কোরআনের মাঝে। বলা হয়েছে, “এ দুনিয়ায় মানুষের অর্জন, প্রতিষ্ঠা ও পতিপত্তি যত বিশালই হোক তা কি আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত হিদায়েত ও জান্নাতপ্রাপ্তির সমকক্ষ হতে পারে? পবিত্র কোরআনে সে ঘোষণাটি এসেছে এভাবেঃ “হে মানবকুল! তোমাদের কাছে উপদেশবাণী এসে গেছে তোমাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে এবং এসেছে তোমাদের রোগের নিরাময় বিধি (চিকিৎসাবিধি নানারূপ আত্মীক, নৈতীক ও ঈমানী রোগের); এবং মু’মিনদের জন্য এসেছে হিদায়েত ও রহমত। (অতএব) বল, এগুলি হচ্ছে আল্লাহর অনুগ্রহে ও দয়ায়। সুতরাং (তাঁর সে করুণার প্রেক্ষিতে) তারা আনন্দ প্রকাশ করুক, যা কিছু তারা সঞ্চয় করে তা থেকে এটি উত্তম।” -(সুরা ইউনুস, আয়াত ৫৭-৫৮)।

অনৈসলামিক সরকারের বড় অপরাধটি এ নয় যে, তারা শরিয়ত, হুদুদ, খেলাফার প্রতিষ্ঠাকে অসম্ভব করে। বরং তার চেয়েও ভয়ানক অপরাধ করে মহান আল্লাহতায়ালার শ্রেষ্ঠ দান থেকে মানব শিশুকে বঞ্চিত করে। এবং সে অপরাধটি ঘটছে শিক্ষাঙ্গণে। বনি ইসরাইলের আলেমগণ তাওরাতের শিক্ষাকে জনগণের দৃষ্টি থেকে আড়াল করে আযাব ডেকে এনেছিল; মুসলিম দেশের সরকারগুলিও তেমনি আযাব ডেকে আনছে কোরআনের শিক্ষাকে আড়াল করে। সে কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে লক্ষ লক্ষ স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়। এসব প্রতিষ্ঠানে কোরআনের জন্য কোন স্থান নেই। শিক্ষার নামে এগুলি গভীরতর করছে অশিক্ষা ও কুশিক্ষার অন্ধকার; এবং সেটি হচ্ছে জনগণের রাজস্বের অর্থে। সে গভীর অন্ধকারে অসম্ভব হচ্ছে সিরাতুল মুস্তাকীম খুঁজে পাওয়া। এভাবে জনগণের জন্য অসম্ভব করছে জান্নাতে পৌঁছা। মানবকুলের এতবড় ক্ষতি কোন জন্তু-জানোয়ার বা রোগ-জীবাণু করে না। সিরাতুল মুস্তাকীম খুঁজে পাওয়া ও সে পথে টিকে থাকার সামর্থ্য বাড়াতেই কোরআনের জ্ঞানার্জন প্রতিটি নরনারীর উপর ফরজ। তাছাড়া কোরআনী জ্ঞানের গুরুত্ব আরেকটি কারণেও। সেটি হলো, ঈমানদার বাঁচতে হয় আমৃত্যু পরীক্ষার মধ্যে জীবন কাটিয়ে। সে পরীক্ষাটি হয় কে কতটা ন্যায়ের পক্ষে ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অটল অবস্থান নিল -তার উপর। জালেমের পক্ষ থেকে চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধটিও মূলতঃ সে পরীক্ষারই অংশ। এখানে পরীক্ষা হয়, কে জালেমের পক্ষ নিল এবং কে তার বিরোধীতা করলো –সে বিষয়টিরও। পরীক্ষা হয় তার নিজ জীবনের ইচ্ছা-অনিচ্ছা ও বাসনারও।

আল্লাহতায়ালার শিক্ষানীতি

মিথ্যার বিরুদ্ধে এবং সত্যের পক্ষে অবিচল থাকার বাসনা ও সামর্থ্য পানাহারে বাড়ে না। অংক শাস্ত্র, চিকিৎসা বিজ্ঞান, পদার্থ বিজ্ঞান বা অন্য কোন বিজ্ঞানের জ্ঞানেও বাড়ে না। বাড়ে না জায়নামাজে, বনে-জঙ্গলে বা সুফি খানকায় একাকী ধ্যানে বসাতেও। সেটি বাড়ে মহান আল্লাহতায়ালার মিশনকে নিজ জীবনের মিশন নিয়ে বাঁচার বাসনা থেকে। সে পবিত্র বাসনাটি বাঁচিয়ে রাখে ওহীর জ্ঞানের গভীরতা। সে জ্ঞানের টেক্সট বুক হলো পবিত্র কোরআন; তা থেকে পাঠ গ্রহণ এজন্যই প্রতিটি নরনারীর উপর বাধ্যতামূলক। সে লক্ষ্য পূরণে কোরআন শিক্ষাকে তাই শিক্ষানীতির মূল উদ্দেশ্য হতে হয়; একমাত্র তখনই ছাত্রগণ পায় আল্লাহতায়ালার মিশনের সাথে একাত্ম হওয়ার সামর্থ্য। এটি এক বিশাল কাজ। এরূপ উচ্চতর মানবগড়ার কাজটিই রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত। শিক্ষাদানের সে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি যেমন কাফেরদের হাতে অধিকৃত দেশগুলিতে সম্ভব নয়, তেমনি সম্ভব নয় ইসলামে অঙ্গিকারহীন সেক্যুলারিস্টদের হাতে অধিকৃত দেশগুলিতেও। অথচ সে কাজটি শিক্ষাঙ্গণে না হলে ছাত্রগণ তখন বাঁচতে অভ্যস্থ হয় শয়তানের মিশনের সাথে একাত্ম হয়ে। একারণেই ইসলামের শত্রুশক্তির হাতে অধিকৃত দেশে নামাযী ও রোযাদারের সংখ্যা কোটি কোটি হলেও অন্যায়ের নির্মূল ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠায় সৈনিক পাওয়া যায়না। বরং ঘটে উল্টোটি। তখন বিদেশী কাফের শক্তিও নিজ পক্ষে মুসলিম দেশের অভ্যন্তরে লক্ষ লক্ষ ক্যাডার পায়। যেমন ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসকশক্তি পেয়েছে ভারতে এবং ভারত পাচ্ছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাচ্ছে আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, সৌদি আরব, আমিরাত, মিশর, লিবিয়ার ন্যায় মুসলিম দেশগুলিতে। অন্যায়ের নির্মূল না হওয়ায় সুনামী আসে অসত্য, অন্যায় ও দুর্বৃত্তির। ফলে মুসলিম দেশও তখন দুর্নীতিতে বিশ্বরেকর্ড গড়ে।

শিক্ষানীতি ছাড়া রাষ্ট্রীয় নীতি চলে না। সেটি যেমন শয়তানী শক্তির বেলায়, তেমনি ইসলামের বেলায়। তাই শিক্ষানীতি যেমন শয়তানের রয়েছে, তেমনি রয়েছে মহান আল্লাহতায়ালার। শয়তানের শিক্ষানীতির মূল লক্ষ্যঃ মানবকে জান্নাতে কাজে নেয়ার মহান আল্লাহতায়ালার প্রজেক্টকে ব্যর্থ করা। শয়তানী শক্তিবর্গ এভাবেই তাদের নিজ শাসনকে বাঁচিয়ে রাখে এবং অব্যাহত রাখে নানারূপ নাশকত। ফলে শয়তানী শক্তিকে রাজনীতি ও শিক্ষানীতির অঙ্গণে বহাল রেখে আল্লাহতায়ালার ইচ্ছা বাস্তবায়ন অসম্ভব। এ কারণেই নবীজী (সাঃ) ও তাঁর সাহাবাগণ তাদের মিশনকে মসজিদ  গড়ায় ও নামায-রোযায় সীমিত রাখেননি। দেশের সকল অঙ্গণ থেকে দুর্বৃত্তদের অধিকৃতিও নির্মূল করেছেন। সে লক্ষ্য পূরণে যুদ্ধের পর যুদ্ধ লড়েছেন এবং তাঁর সাহাবাগণ একাজে জান ও মালের বিশাল কোরবানিও পেশ করেছেন।

মুসলিম জীবনে শিক্ষার গুরুত্ব যে কত অপরিসীম সেটি বুঝতে হলে মহান আল্লাহতায়ালা কাছে মুসলিমের মর্যাদা এবং তাঁর পক্ষ থেকে অর্পিত দায়ভারটি বুঝতে হবে। মুসলিমের মর্যাদাটি সমগ্র মানবসৃষ্টির মাঝে শ্রেষ্ঠ উম্মাহর। এবং দায়ভারটি মহান আল্লাহতায়ালার খলিফার। এবং তাঁর খলিফা রূপে মু’মিনের জীবনে মিশনটি হলো, অন্যায়ের নির্মূল ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা। লক্ষ্য, নানারূপ ভ্রান্ত ধর্ম ও মতাদর্শের উপর আল্লাহতায়ালার দ্বীনের বিজয় –যা কোরআনে বার বার বলা হয়েছে। এ কাজটি না হলে কৃষি, শিল্প, বিজ্ঞান ও অর্থনীতিতে যত বিপ্লবই আসুক তা দিয়ে মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানো যায় না। অপর দিকে ব্যক্তির মর্যাদা ও তাঁর উপর দায়ভার যত বেশী, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজনও তত অধীক। অশিক্ষিত, কুশিক্ষিত ও অযোগ্য জনবল দিয়ে কি মহান আল্লাহতায়ালা খলিফার দায়িত্ব পালন সম্ভব? স্বৈরাচারি রাজার খলিফাকেও শিক্ষা ও প্রচুর প্রশিক্ষণ দিয়ে ময়দান নামানো হয়। শিক্ষার সে প্রয়োজন মেটাতেই নবীজী (সাঃ)র শিক্ষক রূপে পাঠানো হয়েছে হযরত জিবরাইল (আঃ)র ন্যায় শ্রেষ্ঠ ফেরেশতাকে। নবীজী (সাঃ) নিজে শিক্ষক হয়েছেন তাঁর মহান সাহাবাদের। এবং তাদের পাঠদানে টেক্সট বুক রূপে ব্যবহৃত হয়েছে সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব আল-কোরআন। মুসলিম উম্মাহর আজকের বিপর্যয়ের মূল কারণ, আল্লাহ সোবহানা ওয়া তায়ালার সে শিক্ষানীতি তারা বর্জন করেছে। শিক্ষকের যে আসনে বসেছিলেন খোদ নবীজী (সাঃ), সে আসনটি আজ দখলে নিয়েছে ওহীর জ্ঞানে অজ্ঞ ও ইসলামে অঙ্গিকারহীন সেক্যুলার ব্যক্তিবর্গ। বিপদের আরো কারণ, টেক্সট বুক রূপে ব্যবহৃত হচ্ছে কাফের, ফাসেক, জালেম ও সেক্যুলারিস্টদের রচিত বই। শিক্ষায় এতো শূণ্যতা, অপূর্ণতা ও ভ্রষ্টতা নিয়ে কি মহান আল্লাহতায়ালার খলিফার দায়িত্ব পালন করা যায়? বরং অশিক্ষিত, কুশিক্ষিত ও আল্লাহর দ্বীনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী মানুষের দ্বারা ভরে গেছে মুসলিম উম্মাহর রাজনীতি, প্রশাসন, আইন-আদালত, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিসহ প্রতিটি অঙ্গণ। মুসলিমের নিজের ঘরেই এভাবে বেড়েছে ইসলামের শত্রুদের অধিকৃতি। ফলে অন্যদের আর কি পথ দেখাবে, ইসলাম পরাজিত খোদ মুসলিম ভূমিতেই।

বিফলতা কেন সিরাতুল মুস্তাকীমে চলায়?

সিরাতুল মুস্তাকীমের পথটি স্রেফ নামায-রোযা, হজ-যাকাত ও দোয়া-দরুদের নয়; জিহাদ এ পথে অনিবার্য। কারণ, এ পথে রয়েছে অন্যায়ের নির্মূল ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার ঈমানী দায়বদ্ধতা। আখেরাতে জান্নাত জুটে তো তাদেরই যারা সে অর্পিত দায়ভার পালনে নিষ্ঠাবান। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহতায়ালার হুকুমটি এসেছে এভাবেঃ “তোমাদের মধ্যে অবশ্যই একটি দল থাকবে যারা মানুষকে কল্যাণের দিকে ডাকবে, ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবে এবং নির্মূল করবে অন্যায়কে। এবং তারাই হলো সফলকাম।” -(সুরা আল-ইমরান, আয়াত ১০৪)।  নিরস্ত্র চোর ধরতেও বহু পথ দৌড়াতে হয়। সে কাজটি দোয়াদরুদে হয় না। আর সশস্ত্র  দুর্বৃত্ত শাসকগণ তো বাঘ-ভালুকের চেয়েও হিংস্র। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের নৃশংস হিংস্রতায় দেশটির ৪ লাখ মানুষ প্রান হারিয়েছে, ৬০ লাখ মানুষ রিফিউজী হয়েছে। এবং মাটির সাথে মিশে গেছে দেশটির বহু শহর। ধ্বংসের কাজে যুদ্ধাপরাধী বাশার আল-আসাদ রাশিয়া এবং ইরানকে ডেকে এনেছে। দেশটির ইতিহাসে কোন কালেই এত নৃশংসতা ঘটেনি। একই রূপ নৃশংসতায় মায়ানমারের দশ লাখের বেশী রোহিঙ্গা মুসলিম আজ গৃহহীন। ভস্মিভূত হয়েছে তাদের ঘরবাড়ি। এখন রোহিঙ্গাদের ভিটায় ক্যান্টনমেন্ট বানানোর কাজ চলছে। নিছক বক্তৃতা, বিবৃতি এবং ওয়াজ-নসিহতে কি এরূপ হিংস্র দুর্বৃত্তদের মন গলে? অতীতে নবী-রাসূলদের নসিহতও এরূপ দুর্বৃত্তেদর উপর কোনরূপ প্রভাব ফেলেনি। তাদের নির্মূলে আল্লাহতায়ালার নির্দেশিত পথটি হলো সশস্ত্র জিহাদের। এরূপ মানবরূপী হায়েনাদের বিরুদ্ধে খালি হাতে দাঁড়ানো তাই নবীজী (সাঃ)র সূন্নত হয়। সেটি নিছক নির্বু্দ্ধিতা। এরূপ হিংস্র মনুষ্যপশুদের সামনে দাঁড়ানোর ঝুঁকিটি যেমন বিশাল, নিহত হলে পুরস্কারটিও তেমনি বিশাল। সেটি করুণাময় মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে পুরস্কার রূপে অনন্ত-অসীম কালের জন্য জান্নাতপ্রাপ্তি। তাদের মৃত বলাকে তিনি হারাম করেছেন। ভাষা, জাতি, গোত্র, বর্ণ, দল বা কোন সেক্যুলার আদর্শের নামে যারা অর্থ ও প্রান দেয়, তারা কি সেটি আশা করতে পারে?

ইসলামের শত্রুপক্ষের দখলদারি থেকে রাষ্ট্রকে মুক্ত করার গুরুত্বটি অতি অপরিসীম। সে কাজটি না হলে কোরআন-শিক্ষা বাঁচে না। প্রকৃত ইসলামও বাঁচে না। তাতে ব্যর্থ হয় মহান আল্লাহতায়ালার মিশন। তখন যা বাঁচে তা হলো  কুশিক্ষা। তখন চলে শিক্ষার নামে ভ্রষ্ট আদর্শের বিষ পান। তাতে মৃত্যু ঘটে ঈমানের। তাই রাষ্ট্রের উপর থেকে শয়তানি শক্তির দখলদারি বিলুপ্তির কাজটি নিছক রাজনীতি, সমাজসেবা বা মানবসেবা মূলক কাজ নয়। ইসলামে এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত। কিছু সংখ্যক স্কুল, কলেজ বা মাদ্রাসা নির্মাণ করে রাষ্ট্র-পরিচালিত কুশিক্ষার এ জোয়ার রোধ করা অসম্ভব। এজন্য রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গণে চাই পরিশুদ্ধি। অন্যায়ের নির্মূল ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা যেহেতু ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ মিশন, পবিত্রতম জিহাদ হলো সে মিশন নিয়ে বাঁচার একমাত্র পথ। তাই যে পথে জিহাদ নেই, সে পথে মহান আল্লাহতায়ালার মিশন নিয়ে বাঁচার অঙ্গিকারও নাই। স্বৈরাচারি দুর্বৃত্তদের শাসন ও ইসলাম একত্রে চলে না, মু’মিনের জিহাদ তখন অনিবার্য হয়ে উঠে। প্রতিটি দুর্বৃত্ত শাসকই বিষয়টি বুঝে। তাই স্বৈরাচারি সরকারের রাজনৈতিক ক্যাডার, প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী নামায, রোযা, হজ, যাকাত ও দোয়াদরুদ নিষিদ্ধ করতে ময়দানে নামে না। তাদের কাছে অসহ্য হলো জিহাদ। ফলে নামায-রোযা, হজ-যাকাতের অনুমতি দিলেও জিহাদের কথা মুখে আনতে দিতে রাজি নয়। তাই ঔপনিবেশিক শক্তির হাতে যখনই কোন মুসলিম দেশে অধিকৃত  হয়েছে, তখনই পবিত্র কোরআনের জিহাদ বিষয়ক আয়াতগুলির উপর শিক্ষাদান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে জিহাদ বিরোধী সে পলিসিটি এখন আর শুধু দখলদার কাফেরদের নীতি নয়, সে নীতিটি এখন মুসলিম নামধারি সকল স্বৈরাচারি শাসকদেরও।

সিরাতুল মুস্তাকীমে চলার জন্য শুধু নিয়েতই যথেষ্ট নয়, সে জন্য চাই প্রয়োজনীয় সামর্থ্যও। বস্তুতঃ সে সামর্থ্যটিই মানব জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সামর্থ্য। বিজ্ঞানী, ব্যবসায়ী, চিকিৎস্যক বা অন্য কোন পেশাদার হওয়ার সামর্থ্যটি অনেক কাফের, ফাসেক ও মুনাফিকও পায়। কিন্তু সিরাতুল মুস্তাকীমে চলার সামর্থ্যটি নিজ গুণে অর্জনের বিষয়। সে সামর্থ্যটি কোন কারখানায় গড়ে উঠে না। সেটি গড়ে উঠে কোরআনের  জ্ঞানে। মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে সে জ্ঞানই তো সর্বশ্রেষ্ঠ দান। ফলে যে শিক্ষানীতিতে সে জ্ঞান বিতরণের ব্যবস্থা নাই সেটি মুসলিম দেশের শিক্ষানীতি হয় কি করে? তাছাড়া মুসলিম জীবনে কোরআন শিক্ষাটি ফরজ তথা বাধ্যতামূলক হওয়ার আরেকটি গুরুতর কারণও রয়েছে। সিরাতুল মুস্তাকীমের পথে যে চলে তার জীবনে অনিবার্য কারণেই পদে পদে জিহাদ হাজির হয়। জান্নাতে পৌঁছার এছাড়া ভিন্ন রাস্তা নেই। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহতায়ালার নিজের ঘোষণাটি হলোঃ “তোমদের কি ধারণা, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ আল্লাহ এখনও দেখেননি তোমাদের মধ্যে কারা জিহাদ করেছে এবং কারা ধৈর্যশীল।” –(সুরা আল –ইমরান, ১৪২)। তাই ঈমানদারের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হলো জিহাদ-পূর্ণ সিরাতুল মুস্তাকীমে চলার প্রস্তুতি। জিহাদে যার নিয়েত নাই এবং প্রস্তুতিও নাই –তার পক্ষে অসম্ভব হলো সিরাতুল মুস্তাকীমে চলা।  মুনাফিকের জীবনে নামায-রোযা, হজ-যাকাত থাকাটি অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু তার জীবনে জিহাদে নামার প্রস্তুতি যেমন থাকে না, তেমনি ঈমানী বলও থাকে না। তাই ছিটকে পড়ে সিরাতুল মুস্তাকীম থেকে। সেটি দেখা গেছে নবীজী (সাঃ)র আমলেও। ওহুদ যুদ্ধে যে তিন শত ব্যক্তি জিহাদ থেকে পিছু হটে, তাদেরকে দেখা গেছে নবীজী (সাঃ)র পিছনে নামায পড়তে। জিহাদ এভাবে ফিল্টারের কাজ করে যা ঈমানদারদের পৃথক করে মুনাফিকদের থেকে।

ঈমানের দাবীতে কে সাচ্চা এবং কে ভন্ড -সে বিচার হয় জিহাদের ময়দানে। এ পরীক্ষায় যারা কৃতকার্য হবে তারাই পাবে জান্নাত। তাই সে পরীক্ষায় পাশ করাটি অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার বিষয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগণের রাজস্বের অর্থে শিক্ষার তাবত আয়োজনে ও সিলেবাসে জিহাদ ও জিহাদের ময়দানে পরীক্ষার বিষয়টিকে যদি লুকানো হয় তবে সাধারণ মানুষ সে পথে চলার প্রস্তুতিই বা নিবে কেমনে? পবিত্র কোরআনে বনি ইসরাইলের আলেমদের ভারবাহি  গাধা বলা হয়েছে। কারণ, তারা তাওরাতে বর্ণিত মহান আল্লাহতায়ালার অতি শিক্ষণীয় বাণীগুলিকে মানুষের দৃষ্টি থেকে লুকিয়েছিল। সে অভিন্ন কাজটিই করছে বাংলাদেশের ন্যায় দেশগুলির শিক্ষা  প্রতিষ্ঠানগুলো। তারা মুসলিম সন্তানদের থেকে লুকিয়ে রেখেছে পবিত্র কোরআনের শিক্ষাকে। তারা স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস পূর্ণ করেছে ইসলামী চেতনা-বিনাশী সাহিত্য দিয়ে। স্থান পেয়েছে রবীন্দ্রনাথ, বংকিমচন্দ্র, শরৎচন্দ্র, ডারউইন, ফ্রয়েড ও কার্ল মার্ক্সের ন্যায় শতশত কাফেরদের লিখনী। কিন্তু স্থান পায়নি পবিত্র কোরআন। অনুকরণীয় আদর্শ রূপে সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মহম্মদ (সাঃ) ও তার মহান সাহাবাগণও স্থান পায়নি। সে স্থান দখলে নিয়েছে ইসলামী চেতনাশূন্য ব্যক্তিবর্গ। একটি মুসলিম দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ছাত্রদের ইসলাম থেকে দূরে সরানোর কাজে কতটা শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে -এ হলো তারই নজির। খোদ শয়তান স্বহাতে শিক্ষানীতিটি প্রণয়ন করলে কি এর চেয়ে খারাপ হতো?  ২৫/০৩/২০১৮



Add this page to your favorite Social Bookmarking websites
 
 
Dr Firoz Mahboob Kamal, Powered by Joomla!; Joomla templates by SG web hosting
Copyright © 2018 Dr Firoz Mahboob Kamal. All Rights Reserved.
Joomla! is Free Software released under the GNU/GPL License.