Home •শিক্ষা ও প্রচার মাধ্যম অশিক্ষা ও কুশিক্ষার নাশকতা (চতুর্থ পর্ব)

Article comments

অশিক্ষা ও কুশিক্ষার নাশকতা (চতুর্থ পর্ব) PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Sunday, 01 April 2018 06:46

শিক্ষাঙ্গণঃ বধ্যভূমি ঈমানের

মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে যে জ্ঞান সরাসরি মানুষকে দেয়া হয় সেটিই হলো ওহীর জ্ঞান সে জ্ঞানই লিপিবদ্ধ করা হয়েছে পবিত্র কোরআনে পূর্বে সে জ্ঞান দেয়া হয়েছিল তাওরাত, ইঞ্জিল ও যব্বুরে চারটি আসমানি কিতাবের বাইরেও ওহীর জ্ঞান লাগাতর দেয়া হয়েছে লক্ষাধিক নবী-রাসূলের মাধ্যমে সেটি মানব সৃষ্টির শুরু থেকেই তাই হযরত আদম (আঃ) শুধু প্রথম মানবই নন, প্রথম নবীও কারণ, মানব রূপে বেড়ে উঠার জন্য স্রেফ দেহ জরুরী নয়, অপরিহার্য হলো ওহীর জ্ঞান মানবজাতির জন্য মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে এ জ্ঞানই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ দান পানাহার পশুপাখিও পায়; কিন্তু মানুষজাতির জন্য করুণাময় স্রষ্টার অতি বিশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ রহমত হলো ওহীর জ্ঞান মানুষ সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টিতে পরিণত হয় সে ওহীর জ্ঞানে, দৈহিক বল বা সৌন্দর্যে নয় এ জ্ঞানের বলেই মানুষ নিজেকে জান্নাতের উপযোগী করে গড়ে তোলে নইলে মানব সন্তান শুধু পশু নয়, পশুর চেয়েও নিকৃষ্টতর জীবে পরিণত হয় পশু জগতে গণনিধন নাই, জাতি বা প্রজাতি নির্মূল নাই, সমকামিতাও নাই অথচ পশু থেকেও যারা নীচে নামে তাদের জীবনে শুধু এরূপ পাপাচারই থাকে না, তার চেয়েও জঘন্য অপরাধ প্রবনতা থাকে মানুষ সে ইতর স্তরটিতে পৌঁছে দৈহিক পঙ্গুত্বের কারণে নয়, সেটি ঘটে অসুস্থ্য বা মৃত ঈমানের কারণে এবং ঈমান অসুস্থ্য হয় বা মারা পড়ে পানাহারে কমতিতে নয়, বরং ওহীর জ্ঞান না থাকাতে প্রতিটি মানবের উপর তাই সবচেয়ে বড় দায়ভারটি স্রেফ ঘরবাঁধা ও পানাহার সংগ্রহ নয়; সেটি হলো, ওহীর জ্ঞানে নিজে আলোকিত হওয়া, সে সাথে অন্যদেরকেও আলোকিত করা একমাত্র সে আলোতেই সম্ভব সিরাতুল মুস্তাকীমে চলা ও উচ্চতর সভ্যতার নির্মাণ

 

শিকড় কেটে দিলে বৃক্ষ বাঁচে না তেমনি ঈমান বাঁচে না ওহীর জ্ঞানের সাথে সংযোগ ছিন্ন করা হলে ব্যক্তির দেহের মধ্যে তখন খুন হয় তার আধ্যাত্মিক সত্ত্বা দেহের খুনের চেয়ে ঈমানের খুন ও রূহের রুগ্নতা কি কম ভয়ংকর? ব্যক্তির বিবেক ও উচ্চতর নৈতিকতার সম্পর্ক তো রূহের সাথে; দেহের সাথে নয় দেহ খুন হওয়াতে মানুষ অপরাধ কর্মের সামর্থ্য হারায় কিন্তু রূহের রুগ্নতায় ব্যক্তি ভয়ানক অপরাধীতে পরিণত হয় এমন মানুষকে মহান আল্লাহতায়ালা পশুর চেয়েও নিকৃষ্টতর বলেছেন দেহের খাদ্য পানাহারে মেলে রূহের খাদ্য আসে কোরআন-হাদীস তথা ওহীর জ্ঞান থেকে তাই কোরআন-হাদীসের জ্ঞানচর্চা বন্ধ হলে রোগের উপদ্রব শুরু হয় রূহের জগতে যখন কোন দেশে এরূপ রুগ্ন রূহের মানুষদের সংখ্যা বিপুল ভাবে বেড়ে উঠে সেদেশ তখন দুর্বৃত্তি, সন্ত্রাস, ফ্যাসিবাদি স্বৈরাচার, ডাকাতি, ধর্ষণ, যুদ্ধ, বিশ্বযুদ্ধ, এবং যুদ্ধে গণহত্যা, পারমানবিক বোমার ব্যবহার ও নগর-ধ্বংসের ন্যায় নানারূপ অপরাধে রেকর্ড সৃষ্টি করে তাই কোরআন-হাদীসের জ্ঞানচর্চাক বন্ধ করা ও এ জ্ঞানের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো অতি ভয়ানক ও গুরুতর অপরাধ এ অপরাধটি যেমন সমগ্র মানব কুলের বিরুদ্ধে, তেমনি মহান আল্লাহতায়ালার বিরুদ্ধে মানব-সন্তানদের জান্নাতের উপযোগী রূপে গড়ে তোলার যে মিশনটি মহান আল্লাহতায়ালার, বিদ্রোহ ও নাশকতাটি মূলতঃ সে মিশনের বিরুদ্ধে পৃথিবীপৃষ্ঠে এর চেয়ে গুরুতর অপরাধ আর কি হতে পারে? অপরাধ এখানে জীবন কেড়ে নেয়া বা শত শত কোটি টাকার সম্পদ ছিনিয়ে নেয়ার নয়, বরং অনন্ত-অসীম কালের জন্য জান্নাত ছিনিয়ে নেয়ার সে জান্নাতের এক বর্গহাত জমিও কি ট্রিলিয়ন ডলারে কেনা সম্ভব? সেক্যুলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে এটি হলো বিশাল নাশকতা সেক্যুলারিস্টগণ সে গুরুতর অপরাধে লিপ্ত সমগ্র বিশ্বজুড়ে এজন্য শরিয়তের আইনে এটি গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ এ অপরাধ যেমন জনগণের বিরুদ্ধে তেমনি মহান আল্লাহতায়ালার বিরুদ্ধে।

 

নবীজী (সাঃ)র হাদীসঃ প্রতিটি মানব সন্তানের জন্ম মুসলিম রূপে, কিন্তু তার ধর্মান্তর ঘটে তার পিতামাতা ও পরিবেশের কারণে বাংলাদেশের ন্যায় মুসলিম দেশগুলোতে ইসলাম থেকে কোটি কোটি সন্তানের ধর্মচ্যুতির ঘটনাটি ঘটছে কোন মন্দিরে বা গির্জায় নয়, সেটি মূলতঃ শিক্ষাঙ্গণে ঔপনিবেশিক শক্তির চালুকরা শিক্ষানীতির কারণে ঈমান-হত্যার বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে মুসলিম দেশগুলির স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ফলে খোদ মুসলিম ভূমিতে অক্ষত ও পূর্ণ ঈমান নিয়ে বেড়ে উঠা যেমন অসম্ভব করা হয়েছে, তেমনি অসম্ভব হয়েছে মুসলিম ভূমিতে সুস্থ্য ইসলামি ভাতৃত্বের বন্ধন নিয়ে বেড়ে উঠা ফলে অসম্ভব হয়েছে ইসলামি সভ্যতার নির্মাণ বরং শিক্ষার নামে বিস্তর পানি ঢালা হয়েছে ভাষা, গোত্র ও ভূগোল-ভিত্তিক বিভক্তিকে গভীর করতে ফলে, ১৫০ কোটি মুসলিমের কোন সিভিলাইজেশন স্টেট নাই অথচ মুসলিমদের জনসংখ্যা যখন ঢাকা, করাচী বা জাকার্তার ন্যায় যে কোন শহরের আজকের জনসংখ্যার চেয়েও কম ছিল তখনও বিশ্বশক্তি রূপে মুসলিমদের সম্মান ছিল এখন যে পরিচিতিটি প্রবল তা হলো ভাষা, গোত্র ও অঞ্চলের নামে বিভক্তির দেয়াল ঘেরা ৫৭টি জাতীয়, উপজাতীয় ও গোত্রীয় রাষ্ট্রের ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন কোনে মুসলিমগণ লাখে লাখে নিহত, ধর্ষিতা ও নিজ ভিটা থেকে উচ্ছেদ হলেও তাদের পাশে দাঁড়ানোর মত শক্তিশালী রাষ্ট্র না অথচ সেটি খৃষ্টান, হিন্দু ও ইহুদীর আছে

 

মুসলিম দেশগুলির স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ হয়েছে শিক্ষার নামে মৃত ঈমান ও রুগ্ন রূহধারি দুর্বৃত্তের উৎপাদন ফলে বাংলাদেশের ন্যায় মুসলিম দেশগুলিতে যতই বাড়ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ততই বাড়ছে দুর্বৃত্তদের সংখ্যা। এবং এ দুর্বৃত্তগণই পরবর্তী জীবনে রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী, পুলিশ, সেনা অফিসার, বুদ্ধিজীবী, সাংস্কৃতিক কর্মী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও আদালতের বিচারক রূপে দেশগুলির উপর নিজেদের দখলদারি প্রতিষ্ঠা করেছে ফলে মুসলিম বিশ্বজুড়ে বেড়েছে অনাচার, পাপাচার এবং নিষ্ঠুর স্বৈরাচার তাদের কারণে লক্ষ লক্ষ নিরপরাধ মানুষ যেমন নির্যাতিত ও নিহত হচ্ছে, তেমনি অসম্ভব হয়েছে স্বাধীন ভাবে ধর্মপালন ফলে মুসলিমগণ যেমন শিক্ষাজীবন শেষ করছে কোরআন থেকে জ্ঞানার্জনের সামর্থ্য অর্জন না করেই। তেমনি তারা ইসলাম পালন করছে শরিয়ত, হুদুদ, শুরা, খেলাফা, জিহাদের ন্যায় অতি বাধ্যতামূলক কোরআনী বিধানগুলিকে বাদ দিয়েই তারা বিচারপ্রার্থী হচ্ছে সেক্যুলার আদালত ও তার কুফর আইনের কাছে। অথচ পবিত্র কোরআনের ঘোষণাঃ যারাই আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান তথা শরিয়ত মোতাবেক বিচারকার্য পরিচালনা করে না তারাই কাফেরতারাই জালেম.তারাই ফাসেক (সুরা মায়েদা, আয়াত ৪৪, ৪৫ ও ৪৭) ঔপনিবেশিক কাফের শাসকগণ মহান আল্লাহতায়ালার এ বিধান মুসলিমদের দৃষ্টি থেকে লুকিয়েছিল তারা শুধু মুসলিমদের সম্পদেই হাত দেয়নি, হাত দিয়েছে চেতনার ভূমিতেও এবং সেটি সম্ভব হয়েছিল পরিকল্পিত কুশিক্ষার সাহায্যে নইলে তাদের কুফরি আইন ও কুফরি আদালত কি মুসলিমদের কাছে গ্রহণযোগ্য পেতো? যার মধ্যে পবিত্র কোরআনের উপরুক্ত আয়াতের উপর ঈমান আছে সে কি কখনো বিচারক, উকিল ও বিচারপ্রার্থী রূপে কাফেরদের আদালতের প্রাঙ্গণে এবং কুফরি আইনের কাছে হাজির হতো? কারণ মুসলিমের কাছে তার জীবনের মূল এজেন্ডা তো রোজ হাশরের বিচার দিনে কাফের, জালেম ও ফাসেক রূপে চিত্রিত হওয়া থেকে বাঁচা এবং করুণাময় রাব্বুল আলামীনের কাছে সাচ্চা মুসলিম রূপে পরিচিতি দেয়া কিন্তু কাফেরদের আদালতে ও তাদের কুফরি আইনের কাছে আত্মসমর্পণ করলে কি মুসলিম পরিচিতি থাকে?

 

অপরাধঃ আল্লাহতায়ালার আয়াত লুকানোর

ঔপনিবেশিক কাফেরদের শিক্ষানীতির অন্যতম লক্ষ্য, মহান আল্লাহতায়ালার কোরআনী বিধানকে মুসলিমদের থেকে লুকানো ইসলামে এটি ভয়ানক অপরাধ তা ডেকে আনে আল্লাহতায়ালার ও তাঁর সৃষ্টিকুলের লানত যা পরকালে গোপনকারীকে জাহান্নামে নিয়ে হাজির করে এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে হুশিয়ারি এসেছে এভাবে, নিশ্চয়ই যারা গোপন করে আমি যা সুস্পষ্ট বর্ণনা ও হিদায়েত রূপে নাযিল করেছি -মানুষের জন্য তা কিতাবে বিস্তারিত ভাবে পেশ করার পরও, তারাই হলো সেসব ব্যক্তি যাদের উপর অভিসম্পাত করেন আল্লাহ ও অন্যান্য অভিসম্পাতকারীগণ-(সুরা বাকারা, আয়াত ১৫৯) পবিত্র কোরআনের আয়াতগুলি এজন্য নাযিল হয়নি যে সেগুলি লুকানো হবে বরং এজন্য যে, সেগুলি ব্যক্তি ও সমষ্টির জীবনে প্রচার ও প্রতিষ্ঠা পাবে এজন্যই ঔপনিবেশিক কাফেরদের হাতে অধিকৃত হওয়ার পূর্বে শরিয়তের আইনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি মুসলিমদের কাছে অজানা ছিল না তাদের কাছে অজানা ছিল না সে আইনকে অস্বীকার করা ও তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের শাস্তি ফলে নবাব সিরাজুদ্দৌলার আমলে দেশে কাজীর আদালত ছিল, সে আদালতে শরিয়তের আইন অনুসারে বিচার ছিল এবং হুদুদের প্রতিষ্ঠাও ছিল একই ভাবে শরিয়তি আইনের প্রতিষ্ঠা ছিল প্রতিটি মুসলিম দেশেও মুসলিম দেশের শাসক ও প্রজাগণ পরিচিত ছিল না শরিয়তের আইন ভিন্ন অন্য কোন আইনের সাথে বিষয়টি এরূপ, যে ব্যক্তি কোনদিনই উত্তর মেরুতে ঘর বাঁধার বাসনা রাখে না, সে কেন সেখানে যাওয়ার রাস্তার খুঁজবে? কুফরি আইনে সাথে মুসলিমদের সম্পর্ক ছিল সব সময়ই এরূপ অথচ শাসন ক্ষমতা কবজা করে ইউরোপীয় কাফেরগণ সে কুফরি আইনই চাপিয়ে দেয় মুসলিমদের ঘাড়ে এভাবেই অসম্ভব করা হয় মুসলিমদের জন্য পূর্ণ মুসলিম রূপে বাঁচা এ পাপ থেকে বাঁচতে হলে কাফেরদের শাসনের বিলুপ্তির বিকল্প নেই এজন্যই জিহাদ ইসলামে শ্রেষ্ঠ ইবাদত; জিহাদ না হলে অসম্ভব হয় পূর্ণ মুসলিম রূপে বাঁচা তখন যা অনিবার্য হয় তা হলো কুফরি আইনের কাছে আত্মসমর্পণ

 

মুসলিম দেশে কোরআনের আয়াত লুকানোর কাজ যে শুধু ঔপনিবেশিক কাফের শাসকদের হাতে হয়েছে তা নয়। এখন সেটি হচ্ছে তাদের হাতে-ও যারা নিজেদেরকে মুসলিম রূপে পরিচয় দেয়। সেটি হচ্ছে দুই ভাবে এবং দুইটি ভিন্ন পক্ষের দ্বারা। একটি পক্ষ কোরআনের বিধানকে জেনে-বুঝেও তার প্রচার ও তার প্রতিষ্ঠায় নামছে না। এরা হলো মুসলিম দেশের আলেম-উলামা, পীর-মাশায়েখ ও ইসলামি দলের নেতাকর্মীগণ। তারা জানে এ পথটি জিহাদের; এ পথ জানমালের বিশাল কোরবানী চায়। এ কাজে শতকরা ৮০ ভাগের বেশী সাহাবায়ে কেরামকে শহীদ হতে  হয়েছে। ফলে জেনে বুঝেই তারা সাহাবায়ে কেরামের এ পথকে পরিহার করেছে। শরিয়ত, হুদুদ ও খেলাফা প্রতিষ্ঠার চেয়ে তাদের কাছে প্রিয় হলো তাদের দল, মাদ্রাসা, দরবার, ও পীরগিরি বাঁচানো। একাজে তো তারাই নামতে পারে যারা নিজেদের জানমালকে জান্নাতের বিনিময়ে মহান আল্লাহতায়ালার কাছে বিক্রয়ের চুক্তি করেছে। মহান রাব্বুল আলামিন  মুমিনের সাথে তাঁর কৃত সে চুক্তির কথা সুরা তাওবার ১১১ নম্বর আয়াতে অতি সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করেছেন।  দ্বিতীয় যে পক্ষটি পবিত্র কোরআনের আয়াত লুকানোর কাজে দিবারাত্র ব্যস্ত তারা হলো মুসলিম দেশগুলির শাসক শক্তিবর্গ ও তাদের সহযোগী সকল সেক্যুলার শক্তি। তারা সেকাজে ব্যবহার করছে দেশের শিক্ষানীতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাগুলিকে। এবং তারা সেটি করছে কোরআন-হাদীসের শিক্ষাকে সিলেবাসের বাইরে রেখে। তারা সেটি করছে নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচানোর স্বার্থে। কারণ, ইসলাম ও মুসলিমের বিরুদ্ধে তাদের কৃত ভয়নাক অপরাধ নিয়ে এ আত্মস্বীকৃত ইসলামের বিপক্ষশক্তি অজ্ঞ নয়। তাই নিজেদের অপরাধের শাস্তি থেকে প্রাণ বাঁচানোর স্বার্থেই তার মহান আল্লাহতায়ালার আয়াতের প্রচার ও প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে খাড়া হয়।

 

উপরুক্ত দুটি পক্ষের কর্মকান্ডের ফলে মুসলিম দেশগুলিতে ইউরোপীয় কাফেরদের শাসন বিলুপ্ত হলেও কুফরি আইন ও কুফরি আদালতের কাছে মুসলিমদের আত্মসমর্পণ এখনো শেষ হয়নি ফলে মুসলিম শাসনামলের আদালত, শরিয়তি আইন ও হুদুদ মুসলিম ভূমিতে এখনো ফিরে আসেনি বরং বিদেশী কাফেরদের সুরক্ষিত আদর্শিক উপনিবেশ রূপে আজও বেঁচে আছে তাদের প্রতিষ্ঠিত পতিতাপল্লি, ক্লাব, সিনেমা পল্লি, কোট-কাছাড়ি, শিক্ষাঙ্গণ, সেনানীবাস, প্রশাসনিক অবকাঠামো ও সূদী ব্যাংক ফলে মুসলিম জীবনে শেষ হয়নি মহান রাব্বুল আলামিনের প্রতি আংশিক আনুগত্য নিয়ে বাঁচার দিন আরো বিস্ময়ের বিষয় হলো, আল্লাহতায়ালার প্রতি এরূপ সীমিত আনুগত্য নিয়ে মুসলিমদের মাঝে কোন বেদনা নাই পূর্ণ আনুগত্যে দেখাতে তেমন আগ্রহও নেই অথচ জাহান্নামের আগুণের ভয় থাকলে তো কুফরি আইন-আদালতের কাছে এমন আত্মসমর্পণ নিয়ে হৃদয়ে কাঁপন শুরু হওয়া উচিত ছিল। সীমিত আনুগত্য ছেড়ে  মহান আল্লাহতায়ালার প্রতি পূর্ণ আনুগত্যে সদা নিষ্ঠাবান হতো। সীমিত আনুগত্য তো ইবলিসেরও ছিল তার বিদ্রোহ ছিল মাত্র একটি বিষয়ে সেটি হযরত আদম (আঃ)কে সিজদা না করার ক্ষেত্রে। অথচ মুসলিম ভূমিতে আজকের বিদ্রোহ তো অসংখ্য বিষয়ে। মহান আল্লাহতায়ালা তো চান তার হুকুমগুলির প্রতি পরিপূর্ণ আনুগত্য, সীমিত আনুগত্য মানেই অবাধ্যতা পবিত্র কোরআনে তাই বলা হয়েছে, উদখুলু ফিস সিলমি কাফ্ফা অর্থঃ ইসলামে প্রবেশ করো পরিপূর্ণ ভাবে এবং ইসলামের অর্থ তো আল্লাহতায়ালার হুকুমের কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণ। আংশিক আত্মসমর্পণ নিয়ে কি ইসলাম পালন হয়? অথচ যারা নিজেদের আলেম, পীর-মাশায়েখ ও ধর্মীয় নেতা-কর্মী রূপে জাহির তাদের মাঝেও এরূপ আংশিক দ্বীন পালন নিয়ে মাতম নেই তাদের মাঝে শরিয়ত, হুদুদ, খেলাফা ও মুসলিম উম্মাহর বুকে স্থাপিত বিভক্তির দেয়াল ভাঙ্গা নিয়ে কোন জিহাদও নেই যেন এগুলি ছাড়াই পরিপূর্ণ দ্বীনপালন সম্ভব!

 

লক্ষ্যঃ চেতনালোকে অধিকৃতি

কাফের শক্তির হাতে অধিকৃত হওয়ার বিপদ যে কত্টা ভয়াবহ, কতটা দীর্ঘমেয়াদী এবং কতটা বহুমুখি তারই জ্বলন্ত নমুনা নিয়ে বেঁচে আছে আজকের বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মিশর, নাইজিরিয়া ও মালয়েশিয়ার ন্যায় সাবেক ব্রিটিশ কলোনিগুলো। সে অধিকৃতির শুরুটি অস্ত্রের বলে হলেও তার কুফলগুলো যুগ যুগ টিকে থাকে শিক্ষানীতির বলে বাংলাদেশের রাজনীতি, সংস্কৃতি, আইন আদালতে ঔপনিবেশিক কাফেরদের সে অধিকৃতি আজও যেরূপ বেঁচে আছে তা তো ব্রিটিশ-প্রণীত শিক্ষানীতির ফলেই। সেটি যেমন চেতনালোকে, তেমনি রাজনীতি, শিক্ষা-সংস্কৃতি, আইন-অআদালত ও প্রশাসনে। ফল সে দখলদারি বাঁচাতে বিদেশী কাফেরদের এখন একটি তীরও ছুড়তে হচ্ছে না। তাদের কুফরী আইন-আদলতের কাছে আত্মসমর্পণ এখন বাঙালীর সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে একই কান্ড ঘটেছে ইউরোপীয় কাফেরদের অন্যান্য সাবেক কলোনীগুলিতেও। একেই বলা হয় এ্যাডুকেশনাল মডেলিং

 

যখনই কোন মুসলিম দেশ ইসলামবিরোধী কাফের শক্তির হাতে অধিকৃত হয় তখন সেদেশে তাদের মূল স্ট্রাটেজী হয় মুসলিমদের প্রকৃত ইসলাম থেকে দূরে সরানো এভাবে ইসলামি চেতনাশূণ্য বিশাল মুসলিম জনশক্তিকে তারা তাদের নিজস্ব লোকবলে পরিণত করে এরূপ স্ট্রাটেজীর কারণেই মুসলিমদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও তাদের সম্পদ বৃদ্ধিতে মুসলিমগণ লাভবান হয়নি, শক্তিশালী হয়েছে দখলদার কাফেরগণ তাই ১৭৫৭ সালে এশিয়ার সবচেয়ে সম্পদশালী দেশ বাংলা দখলের ফলে ক্ষুদ্র ইংরেজ জাতির ভাগ্যই পাল্টে যায় বাংলা থেকে বিপুল সম্পদ লুন্ঠনের ফলে তারা শুধু দ্রুত পুরা ভারতই দখলে নেয়নি, বিশ্বময় বিস্তার করতে পেরেছে তাদের সাম্রাজ্য একই ভাবে মধ্যপ্রাচ্যের সম্পদ বাড়িয়েছে দখলদার মার্কিনীদের সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি কাফেরদের হাতে অধিকৃত হওয়ার ফলে মুসলিমগণ যে কতটা ঈমানশূণ্য হয় তার উজ্বল উদাহরণ হলো, ইংরেজ বাহিনী ১৯১৭ সালে যখন জেরুজালেম ও ইরাক দখল করে তখন সে বাহিনীতে ইংরেজদের চেয়ে অধীক ছিল অ-ইংরেজ সৈনিক সিরিয়া, ইরাকের ন্যায় ইসলামের কেন্দ্রীয় ভূমি কাফেরদের হাতে তুলে দিতে এসব মার্সেনারি মুসলিমগণ কাফের বাহিনীর সাথে মিলে খলিফার বাহিনীর বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করেছে ব্রিটিশ শিক্ষানীতি তাদের ঈমান এতটাই কেড়ে নেয় যে, খলিফা ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে এত বড় গুরুতর অপরাধেও তাদের হৃদয় কাঁপেনি বরং কাফেরদের বিজয়কে তারা নিজেদের বিজয় ও উৎসব গণ্য করেছে একই কারণে ২০১৩ সালে ঢাকার শাপলা চত্বরে, ২০০৭ সালে ইসলামাবাদের লাল মসজিদে এবং ২০১৩ সালে কায়রোর রাবা আল আদাবিয়া ময়দানে এ তিনটির দেশের সেক্যুলার পুলিশ ও সেনাবাহিনী কামান দেগে মুসল্লি হত্যা করেছে।

 

ঔপনিবেশিক কাফের শক্তির স্ট্রাটেজী শুধু মুসলিম ভূমির উপর দখলদারি প্রতিষ্ঠা নয়,  বরং চেতনালোকের উপর দখলদারি। তেমন একটি লক্ষ্যকে সামনে রেখেই কাফের শক্তির মূল স্ট্রাটেজী মুসলিমদের পানাহার বন্ধ করা নয়; বরং কোরআন-হাদীসের সাথে তাদের সম্পর্ক ছিন্ন করা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার সিলেবাস ও পাঠ্যপুস্তক থেকে এজন্যই তারা কোরআন-হাদীসের জ্ঞানদান বিলুপ্ত করে উপরুন্ত, ইসলামের বিরুদ্ধে নাশকতা বাড়াতে নতুন নতুন বই লেখে এবং শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঈমান-হত্যার প্রকৃত বধ্যভূমি রূপে গড়ে তোলে বাংলাদেশে ভারত সে কাজটিই করছে তাদের রাজনৈতিক দাসদের দিয়ে সেক্যুলার শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাপ্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষে দেহ নিয়ে বাঁচা সম্ভব হলেও কঠিন হয় ঈমান নিয়ে বাঁচা। ফলে আজ থেকে প্রায় শত বছর পূর্বে মুসলিম জাহানে মুসলিমদের মাঝে ইসলাম ও ঈমান যতটা বেঁচে ছিল, এখন সেটি নাই। তখন অন্ততঃ মুসলিমদের মাঝে ভাষা, ভূগোল, বর্ণ ও গোত্রের নামে বিভক্তির এত দেয়াল ছিল না। তখন পবিত্র ভূমিতে হজে যেতে বা কোন মুসলিম ভূমিতে ঘর গড়তে কোন মুসলিমের পাসপোর্ট ও ভিসা লাগতো না। তখন আরব-অনারব, তুর্কি-কুর্দি, বাঙালী-অবাঙালী নিয়ে রাজনীতিতে বিভক্তির দেয়াল ছিল না, তারা সহজেই একই মঞ্চে খাড়া হতে পারতো। ১৯৪৭ সালে দেখা গেছে দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম রাজনীতিতে। ফলে ঔপনিবেশিক ও আগ্রাসী হিন্দুদের সম্মিলিত বিরোধীতা সত্ত্বেও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু এখন মুসলিম বিশ্বের ভৌগলিক মানচিত্রই শুধু নয়, আদর্শিক মানচিত্রও পাল্টে গেছে। ফলে সেরূপ একতা এখন কল্পনাও করা যায় না। মুসলিম দেশ ও তার জনপদগুলি পূর্ণ হয়ে গেছে রুগ্ন রূহ ও মৃত ঈমানের মানুষে। ফলে ইসলামের শত্রুগণ এখন বিপুল সংখ্যায় অনুগত খলিফা পাচ্ছে এদের থেকে বস্তুতঃ এরাই দখলে নিয়েছে মুসলিম দেশের রাজনীতি, পুলিশ, প্রশাসন, বুদ্ধিবৃত্তি, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও সেনাবাহিনী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে এজন্যই শরিয়ত, হুদুদ, শুরা, খেলাফত ও জিহাদের ন্যায় ইসলামের মৌল বিধানগুলি রুখতে বিদেশী কাফেরদের যুদ্ধে নামতে হয় না সে কাজটি অতি সফল ভাবে সমাধা করে মুসলিম নামধারি তাদের বিশ্বস্থ্য খলিফাগণ

 

লালনভূমি ফিতনা ও বিদ্রোহের

আল্লাহতায়ালার দ্বীন-পালন বাধাগ্রস্ত করার প্রতিটি কর্মই হলো ফিতনা ইসলামি পরিভাষায় এটি এক গুরুতর অপরাধ ইসলাম ও মুসলিমের বিরুদ্ধে পরিচালিত এ ফিতনায় অসম্ভব করা হয় শরিয়ত, হুদুদ, একতা, জিহাদ ও শুরার ন্যায় মহান আল্লাহতায়ালার নির্দেশিত বিধানগুলির প্রতিষ্ঠা কোন দেশে ফিতনা সৃষ্টিকারিগণ বিজয়ী হলে ব্যর্থ হয় মহান আল্লাহতায়ালার মূল মিশন আল্লাহতায়ালার বিধান তখন স্রেফ পবিত্র কোরআনে স্থান পায় -রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারে নয় তাই পবিত্র কোরআনে এরূপ ফিতনা সৃষ্টিকে চিহ্নিত করা হয়েছে মানব হত্যার চেয়েও জঘন্যতম অপরাধ রূপে কারণ, মানব হত্যা যত বিশালই হোক তাতে পৃথিবী পৃষ্টে মহান আল্লাহতায়ালার মিশন মারা পড়ে না রাষ্ট্র ও সমাজ জুড়ে সভ্যতর হওয়ার প্রক্রিয়াও বন্ধ হয়না অথচ সেটি ঘটে মহান আল্লাহতায়ালার মিশন বিলুপ্ত হলে শয়তানী শক্তির হাতে অধিকৃত হওয়ার মূল বিপদটি তো এখানেই ফিতনা সৃষ্টি তখন রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিণত হয় খোদ রাষ্ট্র তখন মহান আল্লাহতায়ালার মিশনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামে রাজনীতি ও প্রশাসনের সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিও তখন পরিণত হয় জনগণকে জাহান্নামের আগুণে নেয়ার হাতিয়ারে এজন্যই এরূপ ফিতনা সৃষ্টিকারীদের হাতে হাজার হাজার স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা পেলেও তাতে মানবতা ও নৈতিকতা বাড়ে না শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সভ্যতর সমাজ নির্মাণের কাজও তখন সামনে এগুয় না বরং বৃদ্ধি পায় ফিতনার জোয়ার মুসলিম বিশ্বজুড়ে আজ তো সেটিই হয়েছে মুসলিম দেশগুলিতে আজ স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা কি কম? ইসলামের বিজয় ও গৌরব কালে এর শত ভাগের এক ভাগও ছিল না কিন্তু সেদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি থেকে আল্লাহর পথে সাচ্চা মুজাহিদ পয়দা হতো; ফলে বিজয়ও আসতো কিন্তু আজ শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলিতে সৃষ্টি হচ্ছে ঈমানশূণ্য প্রবৃত্তির গোলাম; ফলে মুসলিম ভূমিতে বিশাল জনবল পাচ্ছে ইসলামের দুষমনেরা ফলে মুসলিম বিশ্ব জুড়ে আজ যেরূপ বর্বর স্বৈরাচার, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও ইসলাম বিরোধী তান্ডব -তা তো ঘটছে এসব নৃশংস দুর্বৃত্তদেরই হাতেই মুসলিম সমাজ থেকে ফিতনাকারিদের নির্মূল এজন্য এতটাই গুরুত্বপূর্ণ তারা স্রেফ দোয়াদরুদে দূর হবার হয় তাই পবিত্র কোরআনে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুকুম এসেছে বলা হয়েছে ততদিন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে যতদিন না ফিতনা নির্মূল হয়

 

ওহীরজ্ঞান-শূণ্য অপরাধীদের পশু বললে পশুর অবমাননা হয় কারণ, পশু কখনোই কোন দেশে সেরূপ ফিতনা বা নাশকতা ঘটায় না পশুগুণ কাউকে জাহান্নামের পথেও টানে না তারা কখনোই ফিরাউন, হালাকু, চেঙ্গিজ, হিটলার, মুসোলিনি, স্টালিন, মাও সে তুং ও জর্জ বুশদের ন্যায় গণহত্যার নায়কদের নেতা রূপে গণ্য করেনি মহান আল্লাহতায়ালার বিরুদ্ধে তারা কখনো বিদ্রোহেও নামেনি সে বর্বরতা ও নৃশংসতা যেহেতু মানবদের দ্বারা ঘটে, পবিত্র কোরআনে এরূপ মানবেরা চিত্রিত হয়েছে পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট রূপে মানবের জন্য তার জন্ম থেকেই বাঁচার এজেন্ডাটি সুনির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে সেটি স্রেফ মানব রূপে বেড়ে উঠা নয়, বরং মহান আল্লাহতায়ালার খলিফা রূপে আমৃত্যু বাঁচা আর আল্লাহতায়ালার খলিফা রূপে বাঁচার অর্থ তাঁর এজেন্ডাকে নিজ জীবনের এজেন্ডা রূপে গ্রহণ করা পবিত্র কোরআনের ভাষায় সে এজেন্ডাটি হলো, লিইয়ুযহিরাহু আলাদ্বীনে কুল্লিহি যার অর্থ, সকল ধর্ম ও সকল দ্বীনের উপর ইসলামের বিজয় ইসলামের শত্রুদের মূল দুষমনি তো মহান আল্লাহতায়ালার এ এজেন্ডার বিরুদ্ধে তারা তো চায় তাদের নিজ এজেন্ডার বিজয় সে লক্ষ্যে তারা মুসলিমদের বিচ্ছিন্ন করতে চায় মহান আল্লাহতায়ালার এজেন্ডা থেকে সেটি করে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কাজে লাগিয়ে মহান আল্লাহতায়ালার এজেন্ডা নিজ জীবনে ধারণ করে বাঁচার অর্থ সিরাতুল মুস্তাকীমে চলা কিন্তু ওহীর জ্ঞান ছাড়া সিরাতুল মুস্তাকীম চেনা ও সে পথে চলা কি সম্ভব? অন্ধকার জঙ্গলে কম্পাস ছাড়া পথ চলার ন্যায় সেটি এক অলীক স্বপ্ন ওহীর জ্ঞানে তথা পবিত্র কোরআনের জ্ঞানে অজ্ঞ থাকার পরিনামটি এজন্যই ভয়াবহ সেটি যেমন পার্থিব জীবনে, তেমনি আখেরাতেও সেরূপ অজ্ঞতা পরকালে জাহান্নামে নিয়ে পৌঁছায়

 

মানব সন্তানকে জাহান্নামের আগুণ থেকে বাঁচানোর দায়ভারটি দেশের কৃষি, শিল্প বা অর্থনীতির নয়; বরং সেটি শিক্ষানীতি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানবকে সৃষ্টি করার সাথে সাথে তাঁর শিক্ষাদানের সে মহাদায়িত্বটি নিজ হাতে নিয়েছেন মহাজ্ঞানী মহাপ্রভু মহান আল্লাহ ছোবহানা ওয়াতায়ালা সে কাজে ওহীর জ্ঞান দিয়ে যেমন বহুলক্ষ বার ফেরেশতা পাঠিয়েছেন, তেমনি লক্ষাধিক নবী-রাসূলও পাঠিয়েছেন মহান আল্লাহতায়ালার দেয়া সর্বশেষ সে পথ-নির্দেশনাটি এখনো বেঁচে আছে এবং কিয়ামত অবধি বেঁচে থাকবে পবিত্র কোরআনের মাঝে দেশের শিক্ষানীতি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির দায়ভারটি স্রেফ নিরক্ষতা দূর নয় শুধু কৃষি, শিল্প, বিজ্ঞান ও ব্যবসা-বানিজ্য শেখানো নয় বরং মানুষকে সে পথ-নির্দেশনার সাথে পরিচিত করা দেশের শিক্ষানীতির এটিই মূল দায়ভার। একমাত্র তখনই শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গ মানবসৃষ্টির পিছনে মহান আল্লাহতায়ার যে পবিত্র উদ্দেশ্যটি কাজ করে তার সাথে একাত্ম হয় এবং সামর্থ্য পায় তাঁর একনিষ্ঠ বান্দা ও খলিফায় রূপে বাঁচায় নইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা ডিগ্রি নিয়ে জীবন কাটায় শয়তানের সেবাদাস রূপে সেটি ঘটে এমনকি ধর্মপালন, দরবেশী রেওয়াজ ও আধ্যাত্মিকতার নামেও শুধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, সমগ্র মানব জাতির বিরুদ্ধে এটিই হলো সবচেয়ে বড় নাশকতা সে নাশকতাটি ঘটে স্রেফ কাফের শাসিত অমুসলিম দেশগুলিতে নয়, বাংলাদেশের ন্যায় মুসলিম দেশগুলিতেও এবং সেটি ঘটে শিক্ষাঙ্গণে; এবং সরকারের ব্যবস্থাপনায় কারণ, এসব মুসলিম দেশের রাজনীতি, প্রশাসন, আইন-আদালত ও শিক্ষা-সংস্কৃতির ভূমিও অধিকৃত হয়ে গেছে এমন সব ব্যক্তিবর্গের হাতে যারা নিজেরাই প্রচন্ড পথভ্রষ্ট এবং অন্যদের পথভ্রষ্ট করাই তাদের মিশন ফলে ফিরাউন ও নমরুদের ন্যায় তাদের রাজনীতি ও যুদ্ধবিগ্রহেরও মূল লক্ষ্য হলো, মহান আল্লাহতায়ালা-প্রদত্ত ওহীর আলোকে নিভিয়ে দেয়া ফলে মানবজাতির বিপর্যয় এখন বিশ্বময় পথ দেখানোর দায়িত্ব ছিল যে মুসলিমদের উপর তারাই এখন যুদ্ধে নেমেছে ইসলামের প্রতিষ্ঠা রুখতে এবং সেটি কাফেরদের সাথে কোয়ালিশন গড়ে ইসলামের গৌরব কালে এমনটি কখনোই ঘটেনি

 

শিক্ষাঙ্গণঃ জন্মভূমি সবচেয়ে বড় অজ্ঞতা ও ব্যর্থতার

দীর্ঘ বহু বছর স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটিয়েও সিরাতুল মুস্তাকীম চেনা ও সে পথে চলার সামর্থ্য অর্জনে যারা ব্যর্থ হয়, তাদের শিক্ষাজীবন যে পুরাপুরি ব্যর্থ -তা নিয়ে কি সন্দেহ চলে? এর চেয়ে বড় ব্যর্থতা জীবনে আর কি হতে পারে? ক্ষতি এখানে হাজার হাজার ট্রিলিয়ন ডলার অর্থ হারানোর নয়। ক্ষতিটি তার চেয়েও বিশাল ও ভয়ংকর সেটি অনন্ত অসীম কালের জন্য জান্নাত হারানোর। তবে বেদনাটি শুধু অভাবনীয় কিছু হারানোর নয়, ভয়ানক কিছু পাওয়ারও। সে প্রাপ্তিটি হলো, অনন্ত কালের জন্য জাহান্নামের আগুনে দগ্ধ হওয়ার। তাই মানব জীবনের চুড়ান্ত সাফল্যটি হলো, শেষদিন অবধি জান্নাতের পথে চলায় ওহীর জ্ঞানে অজ্ঞ ব্যক্তির মূল বিপদটি হলো, জীবনের সবচেয়ে এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিতে যে অজ্ঞ -সেটিও সে বুঝতে পারে না কোন ব্যক্তির জীবনে এটিই সবচেয়ে বড় অজ্ঞতা সে অজ্ঞতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি বা ডক্টরেটে দূর হয় না বরং সে অজ্ঞতা আরো গভীরতর হয় সেক্যুলার শিক্ষাঙ্গণে পথহারা ব্যক্তির ন্যায় এমন অজ্ঞ ব্যক্তির জীবনেও প্রচুর ব্যস্ততা থাকে পেশা নিয়ে দৌড়া-দৌড়ি এবং ক্লান্তিও থাকে কিন্তু সে যে পথহারা সে হুশ তার থাকে না সে বেহুশ অবস্থায় জাহান্নামের পথটিই তার কাছে সঠিক মনে হয় সে বেহুশ মনে সিরাতুল মুস্তাকীমের পরিচয় জানাতে এবং সে পথে চলাতে কোন আগ্রহ তার থাকে না অজ্ঞতাপ্রসূত সে অনাগ্রহের কারণে কোরআন না বুঝে পড়াটি সওয়াবের কাজ মনে হয় অথচ মহান আল্লাহতায়ালার ঘোষণাঃ তোমাদের জন্য আমি সুস্পষ্ট আয়াত বর্ণনা করেছি এজন্য যে, সেগুলির উপর আক্বলের তথা বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ করবে অর্থাৎ তা নিয়ে গভীর ভাবে গবেষণায় বসবে (সুরা হাদীদ, আয়াত ১৭) অতএব যে কোরআন পাঠে আক্বল তথা বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ হয়না, তাতে চরম অবাধ্যতা হয় মহান আল্লাহতায়ালার হুকুমের আর তাঁর হুকুমের এরূপ প্রতিটি অবাধ্যতাই তো কবিরা গুনাহ প্রশ্ন হলো, না বুঝে কোরআন পড়ায় কি  দূর হয় ওহীর জ্ঞানের অজ্ঞতা? শয়তান তো সেটিই চায় যে, মুসলিমগণ বেড়ে উঠুক কোরআনের জ্ঞান ছাড়াই ফলে না বুঝে কোরআন তেলাওয়াতে আনন্দ বাড়ে শয়তানের

 

বেঈমানগণ কোরআন না বুঝার ভয়ানক বিপদটি বুঝতে সক্ষম হবে জাহান্নামে পৌছার পর তারা তখন কি বলবে সে বর্ণনাটি দিয়েছেন মহাজ্ঞানী মহান আল্লাহতায়ালা নিজে তারা বলবে, যদি আমরা (কোরআনের বাণীকে) শুনতাম এবং সেগুলির উপর আক্বল তথা বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ করতাম তবে জাহান্নামের লেলিহান আগুণের বাসিন্দা হতাম না (সুরা মুলক, আয়াত ১০) তাই পবিত্র কোরআনে তেলাওয়াতে মূল লক্ষ্যটি হতে হয়, মহান আল্লাহতায়ালা তাঁর নাযিলকৃত প্রতিটি আয়াতে কি বলেছেন তার উপর গভীর ভাবে মনোনিবেশ করা ও তা থেকে শিক্ষা নেয়া আর শিক্ষা তো তারাই নিতে পারে যারা সে কিতাবকে বুঝে কোরআন বুঝার বিষয়টি তাই অতি গুরুতর বিষয়, সেটি প্রত্যেক নরনারীর উপর মহান আল্লাহতায়ালা ব্যক্তিকে যে অপরিসীম বুদ্ধিমত্তা দিয়েছেন সেটি কি স্রেফ হিসাব-নিকাশ, চাষাবাদ, ব্যবসা-বানিজ্য বা বিজ্ঞানের উৎকর্ষ সাধনে? সে বুদ্ধিমত্তার শ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগ তো পবিত্র কোরআন থেকে শিক্ষা লাভে সে শিক্ষালাভের সাথে জড়িত পরকালে জান্নাত লাভ তাই কোরাআনের জ্ঞানার্জনে বুদ্ধিমত্তার বিনিয়োগ না হলে প্রচন্ড খেয়ানত হয় মহান আল্লাহতায়ালা-প্রদত্ত শ্রেষ্ঠ নেয়ামতের

 

পবিত্র কোরআন মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে আসা সর্বশেষ হিদায়েতের গ্রন্থ মানুষের সাথে রাব্বুল আলামীনের এটিই একমাত্র যোগসূত্র পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, যারা এ কিতাবকে শক্তভাবে ধরলো তারাই সিরাতুল মুস্তাকীম পেল। নবীজী (সাঃ)কে তাই নির্দেশ দেয়া হয়েছে, (হে নবী!) শক্ত ভাবে ধরুন যা কিছু আপনার উপর নাযিল করা হয়েছে, নিশ্চয়ই আপনি (এ কিতাবকে আঁকড়ে  ধরার কারণে) সিরাতুল মুস্তাকীমের উপর আছেন। (সুরা যুখরুফ, আয়াত ৪৩)। আল্লাহর এ মহান কিতাবকে আঁকড়ে ধরার অর্থ এ কিতাবের আয়াতগুলিতে বর্ণিত শিক্ষাকে আঁকড়ে ধরা। আর সে জন্য অতি জরুরী হলো সে আয়াতের অর্থ বুঝতে পারা আর এ ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতাটি প্রতিটি ব্যক্তির বুঝতে হবে যে, এ মহান কিতাবটি নবীজী (সাঃ)র উপর অবতীর্ণ হলেও এটি এসেছে প্রত্যেক নর ও নারীকে জান্নাতের পথ দেখাতে তাই নবীজী (সাঃ), তাঁর সাহাবাগণ ও কিছু আলেম এ কিতাব থেকে শিক্ষা নিলে অন্যদের শিক্ষা নেয়ার দায়ভার তাতে শেষ হয়না অন্যদের তাতে জান্নাতের পথপ্রাপ্তি ঘটে না এ মহান কিতাব থেকে যে কেউ সিরাতুল মুস্তাকীম খুঁজে পেতে পারে কিন্তু তাতে সে ব্যক্তির কি লাভ যে ব্যক্তিটি পবিত্র এ কিতাবটি বুঝতেই অক্ষম?

 

সঠিক পথ খুঁজে পেতে হলে শর্ত হলো, পথের রাস্তাটি বুঝতে হয় এবং বুঝার কাজ কি না বুঝে তেলাওয়াতে সমাধা করা যায়? তাই বুঝার সামর্থ্য না থাকলে অতি উত্তম ইবাদত হলো বুঝার সামর্থ্য অর্জনে লেগে যাওয়া মানব জীবনে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ সারা রাত নফল ইবাদতের চেয়ে কিছুক্ষণের জন্য কোরআনের জ্ঞানার্জনকে এজন্যই শ্রেষ্ঠতর বলেছেন নবীজী (সাঃ) কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, নিজেদেরকে যারা মোল্লা, মৌলভী ও আলেম রূপে পরিচয় দেয় তাদেরও অনেকে না বুঝে কোরআন পাঠকে সওয়াবের কাজ বলেন কিন্তু না বুঝে তেলাওয়াতের সওয়াবে যে সিরাতুল মুস্তাকীম খুঁজে বের করার সামর্থ্য সৃষ্টি হচ্ছে না এবং যার ফলে মানুষ পথভ্রষ্ট হয়ে জাহান্নামের পথ ধরছে তা নিয়ে তাদের বেদনা নেই কোরআন পাঠের মূল উদ্দেশ্য তো সিরাতুল মুস্তাকীম খুঁজে বের করার সামর্থ্য সৃষ্টি সেটিই তো প্রতিটি মুসলিমের উপর গুরুত্বপূর্ণ ঈমানী দায়ভার সে সামর্থ্যটি বাড়াতেই তো কোরআনের জ্ঞানার্জন প্রতিটি নরনারীর উপর ফরজ করা হয়েছে সে ফরজ পালনে অনাগ্রহ ও অবহেলা তো জান্নাতের পথ খুঁজে পাওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা সে অনাগ্রহ ও অবহেলাটি ঈমানের ভয়ানক অসুস্থ্যতাও সে ভয়নাক অসুস্থ্যতায় মৃত্যু ঘটে ব্যক্তির ঈমানের তখন মহান আল্লাহতায়ালার হুকুমের বিরুদ্ধে পদে পদে বিদ্রোহ হলেও মৃত ঈমানের মানুষটি সেটি বুঝতে পারে না বাংলাদেশের ন্যায় মুসলিম দেশগুলির রাজনীতি, অর্থনীতি, আইন-আদালত, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও প্রশাসনের সর্বত্র জুড়ে আজ যে এত বিদ্রোহ, এত দুর্বৃত্তি ও এত পাপাচার তার মূল কারণটি তো বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত ঈমান এবং সেটি ঘটেছে এ কারণে যে, ঈমান পুষ্টি পায়নি পবিত্র কোরআনের জ্ঞান থেকে ০২/০৪/২০১৮



Add this page to your favorite Social Bookmarking websites
 
Last Updated on Tuesday, 03 April 2018 05:51
 
Dr Firoz Mahboob Kamal, Powered by Joomla!; Joomla templates by SG web hosting
Copyright © 2018 Dr Firoz Mahboob Kamal. All Rights Reserved.
Joomla! is Free Software released under the GNU/GPL License.