Home •শিক্ষা ও প্রচার মাধ্যম বাংলাদেশে শিক্ষানীতিঃ শিক্ষাঙ্গণ যেখানে ক্রাইম-ইন্ডাস্ট্রি

Article comments

বাংলাদেশে শিক্ষানীতিঃ শিক্ষাঙ্গণ যেখানে ক্রাইম-ইন্ডাস্ট্রি PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Tuesday, 29 January 2013 23:48

দুর্বৃত্ত অধিকৃত শিক্ষাব্যাবস্থা

শিক্ষা শুধু জ্ঞানের বাহন নয়,অজ্ঞতা এবং মিথ্যারও বাহন। আজ ধর্মের নামে নানা অধর্ম,দর্শনের নামে নানা ভ্রষ্টতা,ইতিহাসের নামে নানা মিথ্যাচার যুগ যুগ বেঁচে আছে শিক্ষাকে বাহন করে। শিক্ষার দুটি রূপ:সুশিক্ষা ও কুশিক্ষা। যে দেশে শিক্ষাব্যবস্থা দুর্বৃত্তদের হাতে অধিকৃত হয়,সেদেশে শিক্ষার নামে প্লাবন বাড়ে কুশিক্ষার। সত্যের প্রচার এবং ন্যায়পরায়ন মানুষের বেড়ে উঠাটি তখন অসম্ভব হয়। দুর্বৃত্তরা মানব গৃহে নিষ্পাপ শিশু রূপে জন্ম নিলেও অপরাধী রূপে বেড়ে উঠে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। পণ্য উৎপাদনে যেমন ইন্ডাস্ট্রি, দুর্বৃত্ত উৎপাদনেও সেরূপ ইন্ডাস্ট্রি হলো দুর্বৃত্ত কবলিত স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশে এ ইন্ডাস্ট্রিগুলির উৎপাদন এতই অধিক যে দুর্বৃত্ত উৎপাদনে দেশটি বার বার বিশ্ব রেকর্ড গড়ছে। সেটিরই প্রমাণ,দূর্নীতিতে বিশ্বে ৫ বার প্রথম হওয়াটি। এ দুর্বৃত্তদের হাতে বাংলাদেশের রাজনীতি,প্রশাসন,পুলিশ,কোর্টকাচারি,ব্যাংক-বীমা,হাসপাতাল,ব্যবসা-বাণিজ্য পুরাপুরি ভাবে অধিকৃত। বনেজঙ্গলে ঢুকে হিংস্র পশুদের হাত থেকেও প্রাণে বেঁচে আসা যায়,কিন্তু দুর্বৃত্ত কবলিত বাংলাদেশের অফিস-আদালত,থানাপুলিশ থেকে নিস্তার পাওয়া কঠিন।কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা তাদেরকে শিকার ধরায় প্রচণ্ড কৌশলী বানিয়েছে। দুর্নীতির কারণেই দেশটিকে বিশ্বব্যাংক,আইএমএফ, এবং জাপানের ন্যায় দাতা সংস্থাগুলো পদ্মাসেতুর অর্থসাহায্য দিতে অস্বীকার করছে।

বাংলাদেশের বহুমুখি ব্যর্থতা,এবং এসব ব্যর্থতার কারণও অনেক। তবে মূল কারণটি হলো দেশের শিক্ষাব্যাবস্থা।আরেক বড় ব্যর্থতা হলো,শিক্ষাব্যবস্থাই যে সকল ব্যর্থতার মূল কারণ –সে সরল সত্যটি বুঝতে না পারা। কেউ বা দোষ খুঁজে বাংলাদেশের জনসংখ্যা,ভূমি ও জলবায়ুর মাঝে,কেউবা খুঁজে অতীতের বিদেশী শাসন ও অপ্রতুল সম্পদে। তাদের দৃষ্টি ব্যর্থ শিক্ষাব্যবস্থা এবং তা থেকে ডিগ্রি নিয়ে বেরিয়ে আসা অতি দুর্বৃত্ত মানুষগুলোর দিকে পড়েনি। ইসলামে জ্ঞানার্জন নামায-রোযার ন্যায় ফরজ তথা বাধ্যতামূলক। নামাযের ফরজ আদায়ের জন্য মুসলমানগণ একত্রে মিলে মহল্লায় মহল্লায় মসজিদ গড়ে। কারণ নামাজের ফরজ নিজ গৃহে একাকী পড়ায় আদায় হয়না। নবীজী (সাঃ) এমন নামাযীদের গৃহ জ্বালাতে চেয়েছেন। আর শিক্ষালাভের ফরজ আদায়ের জন্য মুসলমানগণ স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করে। কারণ এ ফরজটিও একাকী ঘরে বসে আদায় হয়না। শত শত বছরের মুসলিম ইতিহাসে শিক্ষাদানের এ কাজটি মুসলিম দেশের সরকারই হাতে নিয়েছে। সরকারের কাঁধে এটিই হলো সবচেয়ে বড় জিম্মাদারি।মুসলিম সরকারগুলি যখন এ জিম্মাদারি ছেড়ে তাজমহল বা প্রাসাদ গড়ায় মনযোগী হয়েছে তখনই মুসলমানদের পরাজয় ও বিপর্যয় শুরু হয়েছে। জনগণ মসজিদের পরিচালনায় যেমন অর্থ জোগায়,তেমনি শিক্ষাদানের কাজেও সরকারকে রাজস্ব দেয়। বাংলাদেশের সরকারও জনগণ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আদায় করছে। কিন্তু সরকারের শিক্ষানীতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কি আদৌ সে ফরজ আদায়ে জনগণকে সহায়তা দিচ্ছে? বরং রাষ্ট্রজুড়ে এখানেই হচ্ছে সবচেয়ে বড় খেয়ানত এবং অপরাধ। মসজিদের মেঝেতে পুঁজাপার্বন হওয়াতে মসজিদের মর্যাদাহানি হয় এবং তাতে গজব নেমে আসে আল্লাহর। তেমনি মুসলিম দেশের স্কুল-কলেজে কোরআন-হাদীস, নবীচরিত, সাহাবাচরিত ও ইসলামের ইতিহাস না পড়িয়ে সেক্যুলারিজম,ডারউনিজম,সমাজবাদ,জাতিয়তাবাদ,রবীন্দ্রসাহিত্য,নাচগান,অশ্লিল ছবিআঁকা, মুর্তিনির্মান এবং গণতন্ত্রশত্রু ও বাকস্বাধীনতার শত্রু বাকশালী স্বৈরাচারিদের দেশবন্ধু ও মহানবরূপে পড়ানোতেও কোন ছওয়াব নাই্। বরং তাতে পাপ বাড়ে এবং গযবও নেমে আসে।

 

জ্ঞানার্জনের ফরজ

ইসলামে ফরজ দুই প্রকারঃ এক, ফরজে আইন; দুই, ফরজে কেফায়া। ফরজে আইন হলো সবার জন্য ফরজ। এ ফরজ পালনে অবহেলা করার সুযোগ কারো জন্যই নাই। ইচ্ছা করে সে ফরজ পালন না করাটি কঠিন গোনাহ। এ ফরজ পালনে লাগাতর অবহেলা হলে সে ব্যক্তি আর মুসলমান থাকে না,কাফেরে পরিণত হয়।অপরদিকে সমাজের কিছু লোক ফরজে কেফায়া পালন করলে অন্যরা সেটি পালনের দায়ভার থেকে বেঁচে যায়। যেমন জানাযার নামায। তবে কেউই পালন না করলে সবাই গোনাহগার হয়। জ্ঞানার্জনে তেমনি ফরজে কেফায়া হলো ডাক্তারী বিদ্যা,ইঞ্জিনীয়ারিং বিদ্যা,কৃষিবিজ্ঞান এরূপ নানা পেশাদারি জ্ঞানার্জন। সবার জন্য এগুলি ফরজ নয়। তবে কিছু লোককে অবশ্যই সে বিদ্যা অর্জনে অংশ নিতে হয়।পেশাদারি জ্ঞানার্জনের লক্ষ্যে বিশ্বের অন্যান্য ভাষার জ্ঞানার্জন জরুরী,তবে সবার জন্য তা বাধ্যতামূলক নয়। অথচ ইসলামের জ্ঞান তথা কোরআন-হাদীসের জ্ঞানার্জন ফরজে আইন।।তাই মুসলমান হওয়ার অর্থ শুধু নামাযী বা রোযাদার হওয়া নয়, আলেম হওয়াও। বাংলাদেশের মুসলমানদের এটিও এক বিশাল অজ্ঞতা যে,নামাজ-রোযা,হজ-যাকাত পালনকে তারা ফরজ মনে করলেও কোরআন-হাদীসের জ্ঞানার্জনকে সেরূপ ফরয মনে করেনি। এবং সে অজ্ঞতার আবাদ বাড়িয়েছে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা। অথচ এ ফরজ পালন না করাটি যে কঠিন গুনাহ –বিষয়টি শুধু তাই নয়,বরং তাতে অসম্ভব হয়ে পড়ে মুসলমান রূপে বেড়ে উঠা। কোরআন-হাদীসের জ্ঞান ছাড়া কি তাকওয়া গড়ে উঠে? নামায-রোযাও কি সঠিক ভাবে পালন করা যায়? অথচ এ ফরজে আইনকে ফরজে কেফায়াতে পরিণত করা হয়েছে। জ্ঞানার্জনের দায়ভার যেন শুধু ইমাম ও আলেমদের!অজ্ঞতা আর কাকে বলে!

 

মানব যেভাবে মহামানব হয়

অন্য জীবকুল থেকে মানুষ যে শ্রেষ্ঠতর –সেটি তার দৈহীক বলের কারণে নয় বরং জ্ঞানের কারণে। আর জ্ঞানের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাণ্ডার হলো পবিত্র কোরআন। এ পৃথিবীর বুকে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে দেয়া এর চেয়ে মহামূল্যবান কোন নেয়ামত বা সম্পদ নেই। জ্ঞানের এ শ্রেষ্ঠ ভাণ্ডার থেকে কে কতটা নিতে পারলো তার উপর নির্ভর করে সে কতটা মানবিক গুণ নিয়ে বেড়ে উঠবে সেটি। সমগ্র মানব ইতিহাসে এ মহাভাণ্ডার থেকে সবচেয়ে বেশী নিয়েছিলেন প্রথম যুগের মুসলমানগণ তথা সাহাবাগণ। ফলে সমগ্র মানব ইতিহাসে তারাই সর্বশ্রেষ্ঠ মানব রূপে বেড়ে উঠতে পেরেছিলেন এবং জন্ম দিতে পেরেছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্যতা। মহান আল্লাহতায়ালা যে মহাজ্ঞানটি তাদের মনে বদ্ধমূল করেছিলেন তা হলো,এ জীবন পরীক্ষাপর্ব মাত্র। এবং আসল জীবন হলো অনন্ত অসীম কালের আখেরাত। পবিত্র কোরআনে ঘোষণা,“যিনি সৃষ্টি করেছেন মুত্যু ও জীবনকে,এজন্য যেন পরীক্ষা করতে পারেন তোমাদের মধ্যে আমলে কে উত্তম এবং তিনি সর্বশক্তিময় এবং ক্ষমাশীল”-সুরা মুলক, আয়াত ২)। ফলে এ পার্থিব জীবনে প্রতিদিন ও প্রতিক্ষণ আসে পরীক্ষা -কোনটি মালের,কোনটি প্রাণের। আখেরাতে জান্নাত পেতে হলে জীবনের এ লাগাতর পরীক্ষাগুলো ঈমান ও আমলের বলে পাশ করতে হয়। পুরা পার্থিব জীবনটিই হলো পরীক্ষার হল। পরীক্ষাকক্ষে বসে কি কেউ নাচগান-আনন্দফুর্তি করে? বরং তাঁর প্রতিমুহুর্তের ভাবনা ও বিনিয়োগটি হয় সে পরীক্ষায় পাশের লক্ষ্যে। সে পরীক্ষায় পাশের লাগাতর প্রচেষ্টায় তার জীবনে প্রতিদিন ও প্রতিক্ষণ ভ্যালুএ্যাড বা মূল্যসংযোজন হয়। এতে সমৃদ্ধ হয় আমলনামাহ। প্রত্যহ ও প্রতিক্ষণ এমন ভ্যালুএ্যাডের কারণেই মানুষ তখন মহামানবে পরিণত হয়। তাদের হাতে তখন গড়ে উঠে উন্নত সভ্যতা। আরবের অতি বর্বর মানুষগুলো অতি দ্রুত মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্যতার জন্ম দিয়েছিল তো সে পথ ধরেই।

 

প্রাথমিক যুগের মুসলমানগণ যে সভ্যতা গড়েছিলেন সেটির ধারে কাছেও কি অন্যরা পৌঁছতে পেরেছে? মানবতায় তাদের অর্জনটি যে কতটা অসাধারণ ছিল তার একটি উদাহরণ দেয়া যাক। বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় ৬০গুণ বৃহৎ রাষ্ট্রের শাসক ছিলেন হযরত উমর (রাঃ)। তিনি মাত্র একজন ভৃত্য ও একটি উঠকে সাথে নিয়ে মদিনা থেকে জেরুজালেমের ৫৭১ মাইলের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছিলেন।লক্ষ্য,জেরুজালেম বিজয়ে যেন কোন মানব সন্তানের মৃত্যু না হয়।জেরুজালেমের খৃষ্টান অধিবাসীদের দাবী,খলিফা উমর (রাঃ)নিজে আসলে বিনা যুদ্ধে তারা নগরের চাবি খলিফার হাতে দিয়ে দিবেন। খলিফা এ খবর পেয়ে যুদ্ধ থামিয়ে দেন এবং নিজে জেরুজালেমের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। সে দীঘ্র যাত্রাপথে খলিফা উমর (রাঃ) পালাক্রমে যেমন উঠে চড়েছেন,তেমনি ভৃত্যকে উঠের পিঠে চড়িয়ে নিজে উঠের রশি ধরে সামনে হেঁটেছেন। এভাবে সেখানে পৌঁছাতে এক বিন্দু রক্তপাত ছাড়াই জেরুজালেমের ন্যায় এক বিখ্যাত নগরির উপর সেদিন বিজয় এসেছিল। রক্তপাত এড়াতে তাঁরা যে কতটা সতর্ক ছিলেন এ হলো তার নজির। অপর দিকে অন্যদের ইতিহাস? জেরুজালেম এরপূর্বে গ্রীকদের হাতে যেমন অধিকৃত হয়েছে, তেমনি রোমান ও ইরানীদের হাতেও অধিকৃত হয়েছে। অধিকৃত হয়েছে খুষ্টান ক্রসেডারদের হাতেও। প্রতিবারই শহরবাসীর উপর বিশাল গণহত্যা,ধর্ষণ ও লুন্ঠনের ঘটনা ঘটেছে।

 

কুকীর্তি যেখানে শিক্ষা ও সভ্যতার নামে

আধুনিক সভ্যতার অর্জন নিয়ে পাশ্চাত্যবাসীর অহংকারও কি কম? তাদের বিশাল গর্ব শিক্ষা ও সংস্কৃতি নিয়ে। কিন্তু সে শিক্ষা ও সংস্কৃতি তাদের চরিত্রে কীরূপ বর্বরতা যোগ করেছে তার উদাহরন দেয়া যাক। গত শতাব্দীর মাত্র দুইটি বিশ্বযুদ্ধে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি মানুষকে তারা হত্যা করেছে। জাপানের দুটি নগরের উপর তারা আনবিক বোমা নিক্ষেপ করেছে। মুসলমানদের চৌদ্দশত বছরের সমগ্র ইতিহাসে এর দশ ভাগের এক ভাগ মানুষও কি নিহত হয়েছে? স্পেনে মুসলিম-নির্মূল,আমেরিকায় রেড ইন্ডিয়ান-নির্মূল,অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী-নির্মূল ও নিউজিল্যান্ডের মাওরীদের নির্মূলই শুধু নয়,ভিয়েতনাম,আফগানিস্তান,ইরাকসহ বিশ্বের কোণে কোণে লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যার যে বীভৎস ইতিহাস রচিত হয় সেটিও বীববধনিহত তো ঘটেছে পাশ্চাত্য সভ্যতার আধুনিক নায়কদের হাতে।তাছাড়া উপনিবেশবাদ,সাম্রাজ্যবাদ, পুজিবাদী শোষন, এথনিক ক্লিন্জিং (বর্ণবাদী নির্মূল) এসবও তো পাশ্চাত্যের আবিস্কার। ইতিহাস চর্চার নামে তারা যেমন নিজেদের বর্বরতার এ কুৎসিত চিত্রগুলিকে ঢাকছে,তেমনি দোষ খুঁজছে মুসলমানদের। মিথ্যাচারে তারা এতটাই কৌশলী যে,উল্টো বর্বরতা ও রক্তের গন্ধ আবিস্কার করছে মুসলিম ইতিহাস থেকে।

 

বাংলাদেশীদের অর্জন কতটুকু?

প্রশ্ন হলো,মহান আল্লাহর কোরআনী জ্ঞানের মহাভাণ্ডার থেকে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মুসলমানের অর্জন কতটুকু? হেজাজের কয়েক লাখ মানুষ যে সংখ্যক ফকিহ,মোফাচ্ছের,মোহাদ্দেস, মোহাক্কেক ও মোজাহিদ পয়দা করেছে বাংলাদেশের মুসলমানগণ কি তার হাজার ভাগের একভাগও জন্ম দিতে পেরেছে? পারেনি। কারণ শিক্ষাঙ্গণ সে লক্ষ্যে কাজই করেনি। বাংলাদেশের অর্জন যে অতি সামান্যই সেটি বোঝা যায় বাংলাদেশের সমাজ,রাজনীতি,অফিস-আদালত,ব্যবসা-বাণিজ্যে দূর্নীতির প্লাবন দেখে।কোরআন থেকে কিছু নিলে তো মানুষ তার জীবনে সুনীতি,সুচরিত্র,সুকর্ম ও সুসভ্যতা পায়। জনগণ তখন বেড়ে উঠে জগত জোড়া মান-সম্মান নিয়ে। এমন জনগণ কি দূর্নীতিতে বিশ্বে ৫ বার বিশ্ব-শিরোপা পায়? তলাহীন ভিক্ষার ঝুলিতে পরিণত হয়? কথা হলো,বাংলাদেশের জনগণের পবিত্র কোরআন থেকে অর্জনের সামর্থ কতটুকু? সে সামর্থ কি না বুঝে তেলাওয়াতে আসে? কোরআন থেকে কিছু আহরণ করতে হলে তো কোরআনের ভাষা শিখতে হয়। মুসলিম দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মূল দায়িত্বটি তো সে সামর্থ বাড়ানো। ডাক্তারি,প্রকৌশলী,কৃষিবিদ্যা ও অন্যান্য পেশাদারি বইয়ের সাথে সম্পর্ক গড়ার প্রশ্নটি আসে তো তার পরে। মুসলমানদের গৌরব যুগে এটিই ছিল শিক্ষানীতি। তখন মুসলিম শিশুর বিদ্যাশিক্ষা শুরু হতো কোরআন শিক্ষার মধ্য দিয়ে।সেঠি শুধু তেলাওয়াত বা পড়ার সামর্থ বাড়িয়ে নয়,বরং কোরআন বুঝার সামর্থ বাড়িয়ে।

 

ঔপনিবেশিক শাসনের নাশকতা

ঔপনিবেশিক কাফেরদের হাতে মুসলিম ভূমি অধিকৃত হওয়ার পর মুসলমানদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় নাশকতাটা হয়েছে শিক্ষাক্ষেত্রে। মুসলমানদের খৃষ্টান বানাতে না পারলেও ইসলাম থেকে তাদের দূরে সরাতে পেরেছে। ইসলাম থেকে দূরে সরার কারণেই হাজার হাজার মুসলিম যুবক ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনকে দীর্ঘায়ীত করতে তাদের পক্ষে অস্ত্র ধরেছে। তাদের অধীনে পুলিশে,প্রশাসনে ও আদালতে অতি অনুগত চাকরের পেশা নিয়েছে। ব্রিটিশদের মোস্ট অবিডিয়েন্ট সার্ভেন্ট রূপে পরিচয় দিতে এরা বরং গর্ববোধ করতো। ব্রিটিশদের অস্ত্র নিয়ে এমনকি এরা ইরাক,ফিলিস্তিন ইত্যাদি মুসলিম ভূমিতে গিয়ে মুসলিম হত্যায় নেমেছে।

 

ভারতে যে শিক্ষাব্যবস্থা ঔপনিবেশিক ব্রিটিশগণ প্রবর্তন করে তার মূল লক্ষ্য ছিল কোরআন থেকে মুসলমানদের দূরে সরানো। সে প্রকল্পের কথা সাম্রাজ্যবাদী শাসকবর্গ গোপনও রাখেনি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গ্লাডস্টোন পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে কোরআনে হাতে নিয়ে বলেছিলেন,এই কোরআন থেকে মুসলমানদেরকে যতদিন দূরে সরানো যাবে না,মুসলিম ভূমিতে ব্রিটিশ শাসনকে ততদিন নিরাপদ রাখা যাবে না। কারণ তারা জানে,কোরআন যে আগ্রাসী কাফের শক্তির বিরুদ্ধে জিহাদের হুকুম দেয়। ফলে,মুমিন মাত্রই নিজ দেশে অমুসলিম শাসনের নির্মূলে আমৃত্যু সৈনিক। সে জজবা কোরআন থেকে দূরে সরালে থাকে না। ফলে ব্রিটিশ শাসনামলে শিক্ষানীতির মূল জোরটি ছিল কোরআন থেকে মুসলমানদের দূরে সরানো। ফলে এতে প্রচণ্ড নাশকতা বাড়ে মুসলমানের ঈমান ও আমলের উপর।

 

যেরূপে পরাজিত আল্লাহর দ্বীন

বাংলাদেশের ন্যায় মুসলিম ভূমিতে ব্রিটিশ শাসন শেষ হলেও সে নাশকতা শেষ হয়নি। কারণ,দেশটির উপর থেকে ব্রিটিশের শাসন ১৯৪৭ সালে বিলু্প্ত হলেও তাদের প্রণীত শিক্ষানীতি বিলুপ্ত হয়নি। ফলে ইসলামের শত্রু উৎপাদনও শেষ হয়নি। এ শিক্ষাব্যবস্থায় যারা শিক্ষা পায় তাদের কাছে বিসমিল্লাহ,আল্লাহর উপর আস্থা ও শরিয়তের প্রতিষ্ঠার ন্যায় ইসলামের অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও গুরুত্ব হারায়। এদের কারণে বাংলাদেশের সংবিধানে আল্লাহর উপর আস্থার কথা যেমন প্রকাশ করা যায়নি,কোরআনকে আইনের উৎস রূপেও স্বীকৃতি দেয়া যায়নি। ফলে ১৬ কোটি মুসলমানের দেশে পরাজিত রূপে বন্দি হয়ে আছে আল্লাহর বিধান তথা শরিয়ত। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা লাভ করলেও এরাই বাংলাদেশের সবচেয়ে পথভ্রষ্ট শ্রেণী। সে সাথে তারা মহান আল্লাহর শত্রুও। আল্লাহর দ্বীনকে পরাজিত রাখার মধ্যেই তারা রাজনীতির সফলতা ভাবে। বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষানীতি ১৬ কোটি মুসলমানের মাঝে যদি ঈমানের সামান্য একটু আলোও জ্বালাতে সমর্থ হতো তবে কি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রেরীত বিধানের এরূপ পরাজয় ও অপমান একটি দিনের জন্যও তারা মেনে নিত?

 

সরকার মাদ্রাসা ছাত্রদেরকে কোরআন বুঝার ফরজ পালনে বাধা সৃষ্টি করছে ইংরাজী ভাষা শিক্ষার বোঝা চাপিয়ে। ইংরাজী শিক্ষাকে বলছে আধুনিকতা। আর কোরআন শিক্ষাকে বলছে পশ্চাদপদতা। প্রশ্ন হলো যারা জীবনে ডাক্তার,ইঞ্জিনীয়ার বা কৃষিবিদ হওয়ার স্বপ্ন দেখে না তারা কেন ইংরেজী ভাষায় অধিক সময় ব্যয় করবে? এতে কি তাদের কোরআন বুঝা তথা ফরজে আইন পালনকে বাধাগ্রস্ত করবে না? সরকারের লক্ষ্য এখানে স্রেফ ছাত্রদের আরবী ভাষা শিক্ষা থেকে দূরে সরানো নয়,দূরে সরাতে চায় সিরাতুল মোস্তাকীম থেকে। বলা হচ্ছে সকল ছাত্রের জন্য একমুখি শিক্ষার কথা। কিন্তু সে একমুখি লক্ষ্যটি কি? সে লক্ষ্যটি নিশ্চয়ই বাংলাদেশের মানুষকে ভাল মুসলমান বানানো নয়।সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে,সে লক্ষ্যটি হলো প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়ীক সেক্যুলার মানুষ তৈরী। প্রশ্ন হলো,এমন মানুষ হওয়াটি আওয়ামী লীগ কর্মীদের এজেন্ডা হতে পারে,কিন্তু সেটি কি কোন মুসলমানেরও এজেণ্ডা? প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়ীক সেক্যুলার মানুষের পক্ষে কি জান্নাত লাভ সম্ভব? জান্নাত লাভের রোডম্যাপ বেঁধে দেয়া হয়েছে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে। পবিত্র কোরআন তো সেটিই রোডম্যাপ। পবিত্র কোরআনের ভাষায় সে রোডম্যাপই হলো সিরাতুল মোস্তাকীম। প্রতিটি মুসলিমকে তো বাঁচতে হয় সে পথ অনুসরণ করে। সে মিশন থেকে বিচ্যুৎ হওয়ার অর্থ তো জাহান্নামের পথে চলা। মুসলমানের বাঁচার মিশনটি কীরূপ হবে সেটি ধ্বনিত হয়েছে হযরত ইব্রাহিম (আঃ)এর কন্ঠে। তাঁর সে বিখ্যাত ঘোষণাকে মহান আল্লাহতায়ালা স্থান দিয়েছেন তাঁর কোরআনে,এবং অনুকরণীয় আদর্শ রূপে পেশ করেছেন পরবর্তীকালের সকল মুসলমানদের জন্য। হযরত ইব্রাহিম (আঃ)এর সে ঘোষণাটি হলো,“নিশ্চয়ই আমার নামায,আমার কোরবানী,আমার হায়াত ও আমার মৃত্যু মহাজগতের প্রভু আল্লাহর জন্য।” ইব্রাহীম (আঃ) এ ঘোষনার মধ্য দিয়ে মুসলমান কী মিশন নিয়ে বাঁচবে সেটি সুস্পষ্ট করেছেন। সেটি হলো, মুসলমান বাঁচবে একমাত্র মহাপ্রভূ আল্লাহকে খুশি করার লক্ষ্যে। শুধু অর্থ, শ্রম ও সময় নয়,এমনকি জীবন দিয়েও। প্রতি মুসলিম নরনারীকে প্রতিদিন বাঁচতে হয় মহান আল্লাহর হুকুম পালনের এ আপোষহীন অঙ্গিকার নিয়ে। সেটিই তো মুসলমানের অতি অকৃত্রিম আদিম চেতনা,-যার শুরু আদি পিতা হযরত আদম (আঃ)থেকে। ফলে মুসলমানের জীবনে লিবারেল¸প্রগতিশীল,অসাম্প্রদায়ীক,অঙ্গিকারহীন সেক্যুলার হওয়ার সুযোগ কোথায়?

 

কোরআন বোঝা অপরিহার্য কেন?

শিক্ষার গুরুত্ব বুঝতে হলে জীবনে বাঁচার লক্ষ্যটি জানতে হয়। বাঁচার লক্ষ্য ভিন্ন ভিন্ন হওয়ার কারণে বিভিন্ন চেতনার মানুষের শিক্ষানীতিও ভিন্ন ভিন্ন হয়।কম্যুনিস্ট ও সেক্যুলারিস্টদের বাঁচার লক্ষ্যটি মুসলমানদের থেকে ভিন্ন,ফলে তাদের শিক্ষানীতিও ভিন্ন। মহান আল্লাহতায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এ লক্ষ্যে যে,তারা তাঁর ইবাদত করবে। বলা হয়েছে,“আমি জ্বিন ও মানব জাতির সৃষ্টি মূল লক্ষ্যটি এ ছাড়া অন্য কিছু নয় যে তারা একমাত্র আমার ইবাদত করবে। -(সুরা জারিয়াহ,আয়াত ৫৬)।মুসলমানের ইবাদত তাই শুধু ৫ ওয়াক্ত নামায বা রমযানের একমাস রোযা বা হজ-যাকাত নয়।বরং এটি প্রতিবছরের প্রতিদিনের প্রতিক্ষণের। গোলামেরা প্রতিমুহর্তেই গোলাম –কোন মুহুর্তে তাদের অবাধ্য হওয়ার সুযোগ নাই। তেমনি যারা আল্লাহর গোলাম,তাদের গোলামীটা তাই প্রতি মুহুর্তের। শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যটি হলো,মানবকে তার জন্ম নেয়ার মূল উদ্দেশ্য পূরণে সহায়তা দেয়া। তাকে ইবাদতের পথ দেখানো,এবং সে সাথে সে ইবাদতের সামর্থ ও ওজন বাড়ানো।

 

মুসলমানের ইবাদত অন্য ধর্মের ন্যায় কোন ধর্মীয় নেতা,পুরোহিত বা পাদ্রীকে দিয়ে হয় না। সেকাজ তাকে নিজেকে করতে হয়। নামাজে দাঁড়িয়ে কোরআনের কিছু আয়াত তাকে শুদ্ধ ভাবে পাঠ করতে হয়,রুকু-সিজদাতে গিয়েও তাকে কিছু বলতে হয়। সেসবের অর্থও তাকে বুঝতে হয়। নামাযের ওজন তো তখনই বাড়ে যখন সে নামাযে উচ্চারিত প্রতিটি কথা ও বাক্যের সাথে তার মনের সংযোগ থাকে। সে কথাগুলো না বুঝা তো অপরাধ। না বুঝে কোন কিছু উচ্চারন করা তো পাগলের কাজ,সুস্থ্ মানুষের নয়। পবিত্র কোরআন বুঝার তাগিদ এজন্যই বার বার এসেছে। পাগলের সে সামর্থ নাই বলে তার জীবনে নামাযও নাই। নামাযে যা বলা হয় সেটি বুঝার সামর্থ বাড়াতেই ইসলামে জ্ঞানার্জনকে নামাযের আগে ফরজ করা হয়েছে। প্রাথকি যুগের মুসলমানগণ তাই ইসলাম কবুলের সাথে নামাযে উচ্চারিত প্রতিটি সুরার অর্থ জানার চেষ্টাও করেছেন। আল্লাহর নাযিলকৃত প্রতিটি ওহী তথা আয়াতকে বুঝার চেষ্টা করেছেন। সে লাগাতর প্রচেষ্টাতেই তাদের নিজেদের ভাষাও আরবীতে পরিণত হয়েছে। অপর দিকে জ্ঞানের আসল উৎস্য তো মহান আল্লাহতায়ালা। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে “হে নবী বলুন,আল্লাহই সমস্ত জ্ঞানের মালিক।”-(সুরা মুলক, আয়াত ২৬)।“আল্লাহই দৃশ্য-অদৃশ্য সমস্ত জ্ঞানের অধিকারি।” –(সুরা হাশর, আয়াত ১২)।“জ্ঞানের অতি সামান্য অংশই তোমাদের দেয়া হয়েছে।” –(সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত ৮৫)।

 

প্রকৃত জ্ঞানী হতে যা অপরিহার্য তা হলো,কোরআনী জ্ঞানভাণ্ডারের সাথে প্রত্যক্ষ সংযোগ। সে সংযোগ কোরআনের তরজমা পড়ে হয় না। সরাসরি বুঝার সামর্থ অর্জন করতে হয়। মুসলিম ইতিহাসে যারা যথার্থ জ্ঞানী রূপে স্বীকৃত,তাদের সবাই সে মর্যাদা পেয়েছেন কোরআনের ভাষায় কোরআন বুঝার সামর্থ অর্জনের মধ্য দিয়ে। এছাড়া বিকল্প পথ নেই। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে,“মানবসৃষ্টির মাঝে একমাত্র জ্ঞানীরাই আমাকে ভয় করে”-(সুরা ফাতির, আয়াত ২৮)। ফলে মানব মনে আল্লাহর ভয় সৃষ্টির জন্য জ্ঞানার্জন অপরিহার্য। যার মধ্যে জ্ঞান নেই,তার মধ্যে আল্লাহর ভয়ও নাই। আলেম বা জ্ঞানী হওয়াটি তাই শুধু মাদ্রাসার শিক্ষক,মসজিদের ইমাম বা মাদ্রাসার ছাত্রের উপর ফরজ নয,বরং ফরজ প্রতিটি এমন নরনারীর উপর,যারা অন্তরে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করতে চায়। তাছাড়া জ্ঞান কতটা প্রকৃত জ্ঞান সে বিচারটিও হয় ব্যক্তির মনে আল্লাহর ভয় কতটা অর্জিত হলো তা থেকে। যে জ্ঞান মহান আল্লাহর ভয় সৃষ্টিতে ব্যর্থ,সেটি বিশাল তথ্য ও তত্ত্ব নিয়ে প্রচুর জানাশোনা হতে পারে,কিন্তু তাকে প্রকৃত জ্ঞান বলা যায় না।অথচ বাংলাদেশে এমন জ্ঞানের চর্চাই বাড়ছে। প্রকৃত জ্ঞান বাড়লে তো আল্লাহর ভয়ও বাড়তো। আর আল্লাহর ভয় বাড়লে কি দেশ দুর্বৃত্তিতে ৫ বার বিশ্বরেকর্ড গড়তো?

 

দুর্বৃত্ত উৎপাদনের ইন্ডাস্ট্রি

জ্ঞানের অর্থ শুধু তথ্য,তত্ত্ব,উপাত্ত,গদ্যপদ্য,পরিসংখ্যান বা কিসসা-কাহিনী জানা নয়,বরং নানা বিষয় নিয়ে চিন্তা-ভাবনা এবং সে চিন্তা-ভাবনা থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সামর্থ। কোরআনের নানা স্থানে নানা ভাবে মহান আল্লাহতায়ালা মানুষকে চিন্তা-ভাবনায় উৎসাহিত করেছেন। প্রতিটি জীবজন্তু,প্রতিটি উদ্ভিদ,প্রতিটি পাহাড়-পর্বত,প্রতিটি নদীনালা,আকাশের প্রতিটি নক্ষত্র,প্রকৃতির প্রতিটি দৃশ্যপটই মহান আল্লাহর মূল্যবান আয়াত। কোরআনের ভাষায় তা হলো “আয়াতিল লি উলিল আলবাব” অর্থ চিন্তাশীল মানুষের জন্য নিদর্শণ। বিদ্যাশিক্ষার কাজ মূলতঃ মহান আল্লাহর সে আয়াতগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহণের সামর্থ সৃষ্টি। মানুষের মনে সে আয়াতগুলি বহুভাবে বহুকথা বলে। কোনটি সরব ভাবে,কোনটি নীরব ভাবে।ব্যক্তির চক্ষু,কর্ণ,বিবেকের সামনে এগুলো লাগাতর সাক্ষ্য দেয় সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহর অপার অসীম কুদরতের। বিদ্যাশিক্ষার কাজ হলো সে সাক্ষ্য বুঝতে ও আল্লাহর পক্ষে সাক্ষ্যদানে সামর্থ সৃষ্টি করা। সে সামর্থ অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি লাগে না। সেজন্য যা জরুরী তা হলো চিন্তার সামর্থ। ইসলামে চিন্তাকে তাই শ্রেষ্ঠ ইবাদত বলা হয়েছে। চিন্তাশিল মনই হলো জ্ঞানের সবচেয়ে বড় পাওয়ার হাউস। চিন্তার বলে আল্লাহর অসংখ্য আয়াত থেকে শিক্ষা নেয়ার যে সামর্থ গড়ে উঠে তার গুণে মানব ইতিহাসের বহু নিরক্ষর ব্যক্তিও বিখ্যাত দার্শনিকে পরিণত হয়েছে। অথচ সে সামর্থ না থাকায় বহু পিএইচডি ধারিও প্রচণ্ড আহম্মকে পরিণত হয়।বাংলাদেশে তো এমন আহম্মকদের কাছে গরুছাগল ও শাপশকুন যেমন ভগবান মনে হয় তেমনি বঙ্গশত্রু,গণশত্রু এবং অতি স্বৈরাচারি দুর্বৃত্তরাও মহমানব বন্ধু মনে হয়।

 

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় শুধু এমন আহম্মকের সংখ্যাই বাড়েনি,ভয়ানক দুর্বৃত্তের সংখ্যাও বেড়েছে। এ শিক্ষার কাজ হয়েছে,শুধু চিন্তার সামর্থ কেড়ে নেয়া নয়,কোরআনের সাথে সম্পর্ককে ছিন্ন করারও। পারিবারিক বা সাংস্কৃতিক সূত্রে কোরআনের সাথে যদি কোনরূপ সম্পর্ক গড়েও উঠে,বাংলাদেশের শিক্ষার কাজ হয়েছে সে সম্পর্ক বহাল রাখাকে কঠিন করে দেয়া। শিক্ষাব্যবস্থার কাজ হয়েছে ছাত্রদের ইবাদতের সামর্থ কেড়ে নেয়া,এবং সে সামর্থ যাতে গড়ে না উঠে তার ব্যবস্থা করা। মুসলিম শিশুর জীবনে ভ্যালু এ্যাড বা মূল্য সংযোজন না করে বরং পারিবারিক বা সাংস্কৃতিক সূত্রে সংযোজিত মূল্যও কেড়ে নিচেছ। ফলে কৃষকের সুবোধ পুত্রটি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ব্যাভিচারি,ধর্ষক,চোরডাকাত ও সন্ত্রাসী খুনি হয়ে বের হচ্ছে। এবং এরাই রাজপথে আল্লাহর শরিয়তী বিধানের বিরুদ্ধে সৈনিক রূপে নামছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলামের বিপক্ষে আজ যে বিপুল বাহিনী এবং পথেঘাটে,অফিস-আদালত,ব্যবসা-বাণিজ্যে যে অসংখ্যক দুর্বৃত্ত -তারা কি কাফেরদের ঘরে, মন্দিরে বা বনেজঙ্গেলে বেড়ে উঠেছে? তারা তো বেড়ে উঠেছে দেশী স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। বস্তুত শিক্ষাঙ্গণ বেড়ে উঠেছে দুর্বৃত্ত উৎপাদনের ইন্ডাস্ট্রি রূপে।

 

যুদ্ধ কোরআনের বিরুদ্ধে

বাংলাদেশের সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থা আল্লাহর অনুগত বান্দাহ রূপে বেড়ে উঠাকে যেমন অসম্ভব করছে,তেমনি অসম্ভব করছে নবীজী(সাঃ) এবং সাহাবাদের অনুকরণে বাংলাদেশকে গড়ে তোলা। এভাবে অসম্ভব করছে পরিপূর্ণ ইসলাম পালন। মহান আল্লাহর মানবসৃষ্টির মূল উদ্দেশ্যকে এভাবে তারা ব্যর্থ করে দিচ্ছে। প্রাথমিক যুগের মুসলমানগণ স্রেফ কোরআনের সাথে আত্মীক সম্পর্ক মজবুত করতে নিজেদের মাতৃভাষাকে কবরে পাঠিয়ে আরবী শিখেছে এবং সন্তানদেরও শিখিয়েছে।মিশর,সুদান,লিবিয়া,আলজিরিয়া,ইরাক,সিরিয়া,লেবানন,মরক্কো,মৌরতানিয়া,তিউনিসার জনগণের মাতৃভাষা কি আরবী ছিল? এদেশেগুলিতে আরবী ভাষা প্রাধান্য পেয়েছে নিছক কোরআন থেকে সরাসরি পথনির্দেশনা পাওয়ার স্বার্থে। অথচ আজ কোরআনের ভাষাকে এমনকি বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলোতেও স্থান দেয়া হচ্ছে না।

 

এখানে যুদ্ধ কি নিছক আরবী ভাষার বিরুদ্ধে? বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন ইসলামের বিপক্ষ শক্তিটি ইসলামের প্রতিষ্ঠা রুখতে চায়। এটিই তাদের স্বঘোষিত নীতি। তারা চায় ইসলামের শাসনমুক্ত ও প্রভাবমুক্ত বাংলাদেশের নির্মান। এ লক্ষ্যে তারা ভারতের ন্যায় কাফের শক্তির শুধু মিত্রই নয়, তাদের কাছে দায়বব্ধও। ফলে মহান আল্লাহর শরিয়তী বিধানের বিরুদ্ধে তাদের অবিচ্ছিন্ন যুদ্ধাবস্থা। তারা জানে আরবী ভাষার প্রসার বৃদ্ধির অর্থ কোরআনী জ্ঞানের সাথে সরাসরি সংযোগ।

 

অজ্ঞ লোকদের বিভ্রান্ত করা যায়। কিন্তু জ্ঞানী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কি সেটি সম্ভব? বাংলাদেশে ইসলামের বিপক্ষ শক্তির মূল উৎস,কোরআনের জ্ঞানলাভে অসমর্থ জনগণ। তারা চায় সংখ্যাগরিষ্ট জনগণের ইসলাম বিষয়ে বর্তমান অজ্ঞতা আরো দীর্ঘায়ু পাক। কোরআনী জ্ঞানের এজন্যই তারা মহাশত্রু। কোরআনী জ্ঞান বাড়লে সে জ্ঞান ছাত্রদের বিপুল শক্তি জোগাবে ঈমান নিয়ে বেড়ে উঠায়। ইসলামের বিজয়ে তখন তারা আপোষহীন হবে। শরিয়ত প্রতিষ্ঠার আন্দোলন তখন বিপুল সংখ্যায় আপোষহীন মোজাহিদ পাবে। এখানেই ইসলামের বিপক্ষ শক্তির ভয়। সে ভয় নিয়েই আরবী ভাষা এবং সে সাথে কোরআনের চর্চা রুখা হচ্ছে ইসলামের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি কৌশল রূপে। বাংলাদেশে ইসলামের শত্রুপক্ষ দেশের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ব্যবহৃত করছে ইসলামের বিরুদ্ধে এ যুদ্ধে দুর্গ বা সেনানীবাস রূপে। মহান আল্লাহর দেয়া শরিয়তের প্রতিষ্ঠার দাবী নিয়ে রাজপথে কোন মিছিল শুরু হলে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে যারা হামলায় নেমে আসে তারা কোন মন্দির,গীর্জা বা বনজঙ্গল থেকে আসে না। আসে এই কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রাঙ্গণ থেকেই। অথচ এগুলির নির্মানে ব্যয় হয়েছে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অর্থ। শিক্ষার নামে মুসলমানগণ কি এভাবে নিজ ধর্ম,নিজ ঈমান,সর্বোপরি মহান আল্লাহর শত্রু পালনে অর্থ জোগাতে থাকবে? এবং মেনে নিবে শিক্ষাঙ্গণের উপর ইসলামের শত্রুপক্ষের এ দখলদারি? ২৯/০১/১৩

 

 



Add this page to your favorite Social Bookmarking websites
 
 
Dr Firoz Mahboob Kamal, Powered by Joomla!; Joomla templates by SG web hosting
Copyright © 2017 Dr Firoz Mahboob Kamal. All Rights Reserved.
Joomla! is Free Software released under the GNU/GPL License.