Home •বাংলাদেশ বাংলাদেশে সন্ত্রাসী স্বৈরাচারিদের অপরাধনামা
বাংলাদেশে সন্ত্রাসী স্বৈরাচারিদের অপরাধনামা PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Wednesday, 10 December 2014 23:29

একা নয় সন্ত্রাসী ঘাতকেরা

সন্ত্রাসী ঘাতকেরা কোন সমাজেই একা নয়।তাদের একার পক্ষে রাষ্ট্রের উপর দখলদারি প্রতিষ্ঠা দূরে থাক,কোন একটি গৃহে একাকী ডাকাতি করাও সম্ভব নয়। বিপুল জনগণের সহযোগিতা না পেলে ফিরাউন,নমরুদ,হালাকু,চেঙ্গিজ,হিটলার,স্টালীন ও পলপটদের মত ভয়ানক নরঘাতকগণ কি কখনোই রাষ্ট্রের উপর দখলদারি প্রতিষ্ঠা করতে পারতো? বুশ-ব্লেয়ারও কি পারতো একাকী আফগানিস্তান ও ইরাকে আগ্রাসন চালাতে এবং দেশ দু’টির লক্ষ লক্ষ নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করতে? প্রতি সমাজেই এমন লোকের সংখ্যা প্রচুর যারা শুধু এ ধরণের নৃশংস মনুষ্য জীবকেই নয়,ইতর পশুকেও ভগবান বলতে রাজী। সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে এদের সংখ্যা তো একক আল্লাহতায়ালার উপাসনাকারিদের চেয়েও অধীক। নির্বাচনে এরা শুধু নৃশংস নরঘাতকদের বিপুল ভোটে বিজয়ীই করে না,তাদেরকে মাথায় তুলে উৎসবও করে। তাই হিটলার বা নরেন্দ্র মোদীর ন্যায় নরঘাতকগণ যেমন বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছে,তেমনি গণন্ত্রের ঘাতক ও ৩০-৪০ হাজার মানুষের প্রাণসংহারি বাকশালী মুজিবও নির্বাচিত হয়েছে। এসব বর্বরদের কোন যুদ্ধই একাকী লড়তে হয়নি। তাদের পক্ষ অস্ত্র ধরেছে লক্ষ লক্ষ মনুষ্য জীব।

 

যে গ্রামে অপরাধী চরিত্রের মানুষদের সংখ্যা অধিক,সে গ্রামে সহজেই বিশাল ডাকাত দল গড়ে উঠে।কোন রাষ্ট্রে এমন মানুষদের সংখ্যা বাড়লে সেখানে সন্ত্রাসী স্বৈরাচারিদের দুঃশাসন শুরু হয়।ন্যায়পরায়ন মানুষদের তখন লাশ হতে হয়। দুর্বৃত্ত-অধিকৃত এমন সমাজে নবীদের ন্যায় পুতঃপবিত্র চরিত্রের মহামানুষেরাও অত্যাচারিত হয়েছেন। স্বৈরাচারি সরকারের বড় অপরাধ হলো, সমগ্র রাষ্ট্রকে তারা দুর্বৃত্ত উৎপাদনের ইন্ডাস্ট্রিতে পরিণত করে। জনগণকে তারা নিজেদের দুর্বৃত্তির সহযোগী করে গড়ে তোলে। তারই দৃষ্টান্ত হলো আজকের বাংলাদেশ। বাংলাদেশে আজ  যেরূপ সন্ত্রাসী স্বৈরাচার চেপে বসেছে তা কি দুনিয়ার কোন সভ্য দেশে আশা করা যায়? এমন কি বাংলার বুকেও কি আজ থেকে শত বছর আগে কল্পনা করা যেত? যারা বলে,“জনগণ কখনোই ভূল করে না” -তারা সত্য বলে না।বরং প্রকৃত সত্য হলোঃ জনগণ শুধু ভূলই করে না,স্বেচ্ছায় তারা ভয়ানক অপরাধের সাথেও নিজেরা সম্পৃক্ত হয়। মহান আল্লাহতায়ালার কাছে অপরাধ শুধু ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা নয়। অপরাধ হলো ইসলামের বিরুদ্ধে শত্রুপক্ষের আরোপিত যুদ্ধের মুখে নীরব। এমন নীরবতা আযাব ডেকে আনে। একারণে,অতীতে আযাবগুলো স্রেফ ফিরাউনের ন্যায় দুর্বৃত্ত শাসকদের উপরই আসেনি, জনগণের উপরও এসেছে। বাংলাদেশে আজ যে সন্ত্রাসী স্বৈরাচারের বিজয় -তার জন্য কি জনগণ কম অপরাধী? জঙ্গলের গভিরতা বুঝে বাঘ-ভালুকেরা বাসা বাঁধে। তেমনি উপযোগী পরিবেশ খোঁজে সন্ত্রাসী স্বৈরাচারেরা। আজ থেকে ৬০ বছর আগে বাংলাদেশ সন্ত্রাসী স্বৈরাচারিদের জন্য এতটা উপযোগী ছিল না। ফলে তখন বাকশালী গণতন্ত্র,শাপলা চত্ত্বরের গণহত্যা,ভোটবিহীন নির্বাচনের প্রহসনের নায়কেরা জনগণের মাঝে নামতে সাহস পায়নি।রক্ষিবাহিনী ও র‌্যাব-এর ন্যায় ঘাতক বাহিনীও তখন অস্তিত্ব পায়নি। তখন নিরীহ মুসল্লিদের হত্যা করে তাদের লাশ ময়লার গাড়িতে তুলে লাশ গায়েবের সাহস কোন সরকারই দেখায়নি।

 

ফলে আজ  থেকে ৬০ বছর আগে ১৯৫৪ সালে দলীয় সরকারের অধীনে যে নির্বাচন সম্ভব হয়েছিল,তেমন একটি নির্বচনের কথা আজ ভাবাই যায় না। বিগত ৬০ বছরে বাংলাদেশের আলোবাতাসে পরিবর্তন না এলেও দারুন ভাবে পিছিয়ে গেছে বাংলাদেশের মানুষের চেতনা,চরিত্র ও রুচি। ৬০ বছর আগে কোন পরিবার থেকে ঘরবাড়ি কেড়ে নিয়ে সে পরিবারের সদস্যদের রাস্তায় মুক্ত আকাশের নীচে বসানো হয়নি। কিন্তু বাংলাদেশের বুকে বহুলক্ষ বিহারী নারী-পুরুষ-শিশু আজ নর্দমার পাশে বস্তিবাসী। ডাকাতপাড়ায় যেমন ডাকাতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ উঠে না তেমনি বাংলাদেশেও এমন বর্বরতার বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ উঠেনি। বরং খোদ সরকার এগিয়ে এসেছে জবর দখলকারি ডাকাতদের সহায়তায়। ডাকাতদের নামে সরকার দখলকৃত বাড়ির দলীল করে দিয়েছে। যে দেশ দুর্বৃত্তিতে বিশ্বের ৫ বার প্রথম হয়,এমন নিষ্ঠুর ডাকাতিতে কি অন্য কোন দেশ সেদেশকে ছাড়িয়ে যেতে পারে? ভয়ানক অপরাধ প্রবনতা গণমুখিতা পেয়েছে। কোন জাতির লোকেদের মাঝে পরিবর্তন না এলে মহান আল্লাহতায়ালাও সে জাতির ভাগ্যে পরিবর্তন আনেন না। সে ঘোষণাটি তিনি পবিত্র কোরআনে দিয়েছেন। বলা হয়েছে,“নিশ্চয়ই আল্লাহ কোন জাতির অবস্থার পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না পর্যন্ত তারা নিজেরাই নিজেদের পরিবর্তন না করে।” –(সুরা রা’দ আয়াত ১১)। অথচ নিজেদের অবস্থার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে যা ঘটেছে সেটি চেতনা ও চরিত্র নির্মাণে উপরে উঠা নয়,বরং নীচে নামা।এমন জাতির কল্যাণে কি মহান আল্লাহতায়ালা এগিয়ে আসেন?

 

বীভৎস সন্ত্রাস

সন্ত্রাসের আভিধানিক অর্থঃ স্বার্থ সিদ্ধির লক্ষ্যে অস্ত্রের ব্যবহার। ডাকাতেরা গ্রামগঞ্জ ও রাস্তাঘাটে সেটি করে অস্ত্র দেখিয়ে। বাংলাদেশে সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাস সৃষ্টির সে ভয়ানক অপরাধটিই সংঘটিত হচ্ছে সমগ্র রাষ্ট্র জুড়ে।সেটি রাস্তায় দলীয় ক্যাডার,পুলিশ,গোয়েন্দা পুলিশ,র‌্যাব,বিজিবী ও  সেনাবাহিনী নামিয়ে। রাস্তার অস্ত্রধারি ডাকাতদের তুলনায় সরকারের এ সন্ত্রাসী কর্মগুলো আরো বর্বর ও ধ্বংসাত্মক। এরূপ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের লক্ষ্য,সমগ্র দেশের উপর তাদের রাজনৈতিক দখলদারি এবং দেশজুড়ে লুন্ঠন। রাস্তার ডাকাতগণ মানুষের অর্থলুন্ঠন করে। কিন্তু ত্রাস সৃষ্টিতে ডাকাতদের সামর্থ সীমিত। দেশের রাজনীতি,আদালত,পুলিশ,প্রশাসন,সংস্কৃতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপর তাদের দখলদারি থাকে না। পুলিশ অফিসার,সেনাবাহিনীর সদস্য এবং আদালতের বিচারকদের লাঠিয়ালে পরিণত করার সামর্থও চোর-চোডাকাতদের থাকে না। কিন্তু সন্ত্রাসী সরকারের থাকে। ফলে ডাকাতের লুন্ঠনে কোন দেশেই দুর্ভিক্ষ নেমে আসে না। কিন্তু সেটি আসে সরকারি ডাকাতদলের লুন্ঠনে। সরকারের এরূপ দস্যুবৃত্তির কারণে বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনবার ভয়ানক দুর্ভিক্ষ এসেছে। দুইবার এসেছে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক দস্যুদের লুন্ঠনে। তৃতীয় বার এসেছে শেখ মুজিবের শাসনামলে ১৯৭৪ সালে। ব্রিটিশ দস্যুদের লুন্ঠনে প্রথম বার দুর্ভিক্ষ এসেছিল ১৭৭০ সালে (বাংলা সন ১১৭৬),এটিকে বলা হয় ছিয়াত্তরের মনন্তর। সে ছিল ভয়াবহ মহা দূর্ভিক্ষ। তাতে  বাংলার প্রায় একতৃতীয়াংশ মানুষের মৃত্যু হয়। কোন কোন হিসাব মতে অধিকৃত বাংলা ও বিহার জুড়ে প্রায় দেড় কোটির মানুষের মৃত্যু হয়। ১৯৭৪ সালে আওয়ামী সরকারের লুন্ঠনে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষেও মারা যায় বহু লক্ষ মানুষ।

 

অপরদিকে স্বৈরাচারের আভিধানিক অর্থঃ দেশ পরিচালনায় শাসকের বা শাসক দলের স্বেচ্ছাচারিতা তথা খেয়ালখুশির প্রাধান্য। স্বৈর-শাসকদের হাতে দেশ অধিকৃত হলে কবরে শায়ীত হয় বহুদলীয় গণতন্ত্র। নির্বাচন তখন তামাশায় পরিণত হয়। তখন নিষিদ্ধ হয় সরকার বিরোধী সকল পত্র-পত্রিকা,বই-পুস্তক ও টিভি চ্যানেল। লুপ্ত করা হয় কথাবলা ও লেখালেখীর স্বাধীনতা। কোন দেশেই এরূপ স্বৈরাচার স্রেফ স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে হাজির হয় না। হাজির হয় ভয়ানক সন্ত্রাস নিয়েও। কারণ স্বৈরাচার তো বাঁচে সন্ত্রাসের মাধ্যমে। জনগণের মাঝে গ্রহনযোগ্যতা বা নির্বাচনি বিজয় নিয়ে তারা ভাবে না। বরং ভাবে সন্ত্রাসের হাতিয়ারগুলোকে আরো শানিত করা নিয়ে। শেখ মুজিব তাই শুধু একদলীয় বাকশালী শাসন,বিরোধী দলগুলির নিষিদ্ধকরণ ও সকল পত্রপত্রিকার অফিসে তালা ঝুলিয়েই খুশি হননি। পাশাপাশি দেশ জুড়ে ত্রাস সৃষ্টিতে রক্ষিবাহিনীও নামিয়েছেন। মুজিবের সে সন্ত্রাসে মৃত্যু ঘটে ৩০-৪০ হাজারের বেশী বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক কর্মীর। শেখ হাসিনাও বাংলাদেশের রাজনীতিতে আজ একই রূপ সন্ত্রাস,চুরিডাকাতি ও স্বৈরাচার নিয়ে হাজির।

 

আদালত যেখানে ঘাতকের হাতিয়ার

স্বৈরাচারি ও সন্ত্রাসী শাসকগণ শুধু রাজনীতি,পুলিশ,প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর উপরই কবজা করে না। কবজায় নেয় দেশের আইন-আদালত ও বিচার ব্যবস্থাকেও। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ন্যায় বিচারকগণও তখন পরিণত হয় সন্ত্রাসী সরকারের ঘাতক লাঠিয়ালে। তখন নির্বাসনে যায় ন্যায় বিচার। এমন সরকারের আমলে আদালতে উঠার অর্থই হলো কারাগারে বা রিমান্ডে গিয়ে অপমানিত,অত্যাচারিত ও শাস্তির মুখোমুখি হওয়া। আদালত পরিণত হয় অত্যাচারের নির্মম হাতিয়ারে। এমন সন্ত্রাসী সরকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে ধর্মচর্চার উপরও। ফিরাউন-নমরুদ কখনোই হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ও হযরত মুসা (আঃ)র ন্যায় মহান ব্যক্তিদেরকে দ্বীন প্রচারের সুযোগ দেয়নি। প্রতিযুগে একই রীতি শয়তানি শক্তির। ফলে স্বৈরাচারি শাসনামলে অসম্ভব হয় স্বাধীন ও নির্ভেজাল ধর্মপালন। অধিকৃত হয় মসজিদও। তখন মসজিদের ইমামের মুখ থেকে তখন তাই ধ্বনিত হয় যা দেশের স্বৈরাচারি সরকার চায়। শরিয়ত প্রতিষ্ঠার পবিত্র জিহাদকে তখন মসজিদের মেম্বর থেকে সন্ত্রাস বলে চিহ্নিত করা হয়। মসজিদের মেম্বর থেকেই ৮০ বছরের বেশী কাল ধরে হযরত আলী (রাঃ)ন্যায় ব্যক্তির বিরুদ্ধে গালিগালাজ করা হয়েছে। কারণ, সেটিই ছিল উমাইয়া শাসকদের নীতি। অধিকৃত আদালত তখন সে রায়ই শোনায় যা স্বৈরাচারি সরকার চায়। এরূপ আদালতের অত্যাচার থেকে ইমাম আবু হানিফা (রহঃ),ইমাম শাফেয়ী (রহঃ),ইমাম মালেক (রহঃ)এবং হযরত ইমাম হাম্বলী (রহঃ)র ন্যায় বিখ্যাত ইমামগণও তাই রক্ষা পাননি। তারা অসম্ভব করেছে সুশাসন ও সুবিচারের প্রতিষ্ঠা। দেশে স্বৈরশাসনের এটিই সবচেয়ে গুরুতর বিপদ।

 

ঔপনিবেশিক লুন্ঠনকারি বা মোঙ্গল বর্বরেরা যখনই দেশ দখল ও লুন্ঠনে বের হতো তখন সাথে শুধু নৃশংস সৈনিকই থাকতো না,থাকতো একপাল ঘাতক বিচারকও। এসব ঘাতক বিচারকগণই ভারতসহ বহু অধিকৃত দেশের স্বাধীনতাকামী মহান সৈনিকদের ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে। এরূপ সন্ত্রাসী স্বৈরাচারিদের শাসনামলে সুবিচার আশা করাটি বৃথা। তখন বিচারের লক্ষ্য হয়,স্রেফ স্বৈরাচারকে নিরাপত্তা দেয়া। বিচারকগণ এরূপ পেশা বেছে নেয় স্রেফ নিজেদের রুটিরুজি নিশ্চিত করতে,আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে নয়। এরা পেটের গোলাম। এমন বিচারকদের কারণেই ফিরাউনের আদালতে দুর্বৃত্ত ফিরাউন ও তার সহচরদের কখনোই বিচার হয়নি। বরং বিচার বসেছে মানব সভ্যতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান হযরত মূসা (আঃ) ও তাঁর নিরপরাধ সহচরদের বিরুদ্ধে। এরূপ বিচারের লক্ষ্য,নিরপরাধ মানুষ হত্যাকে জায়েজ করা। এরূপ সন্ত্রাসী শাসকগণ আল্লাহর শরিয়তি আইন প্রতিষ্ঠা হতে দিতে রাজি নয়। কারণ সেটি হলে,আইন তখন দুর্বৃত্ত শাসক ও তাদের সহচরদেরও আদালতে তোলে। যে আাইন চোর-ডাকাত, ঘুষখোর ও দুর্বৃত্তদের হাত কাটে বা পিঠে চাবুক মারে সে আইন কি কখনোই চোর-ডাকাত ও দুর্বৃত্তরা চাইবে? বাংলাদেশের মত দুর্বৃত্ত-অধিকৃত দেশে এজন্যই শরিয়তের প্রতিষ্ঠার এতো বিরোধীতা।

 

অধিকৃত আদালত

বাংলাদেশের ইতিহাসে অতিশয় ঘৃণ্য অপরাধ ঘটেছে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে। নানারূপ জঘন্য অপরাধ যে কোন দেশেই ঘটতে পারে। কিন্তু আদালতের ব্যর্থতা স্পষ্টতর হয় সে অপরাধের বিচার না হওয়ার মধ্য দিয়ে। নির্বাচনের নামে কোন দেশে ভোট ডাকাতি হলে আদালতের দায়িত্ব হয় সে নির্বাচনকে বৈধতা না দিয়ে নির্বাচনের আয়োজকদেরকেই আসামীর কাঠগড়ায় খাড়া করা। কিন্তু বাংলাদেশে সেটি হয়নি। ডাকাতপাড়াতেও ডাকাতদের নিজস্ব সংস্কৃতি থাকে। সে সংস্কৃতিতে গুরুত্ব পায় নৃশংস ডাকাতদের সম্মান দেখানো। ডাকাতি কর্মে যে যত দুর্বৃত্ত ও নৃশংস,সেই তত বেশী সম্মান পায়। সবচেয়ে নৃশংস ডাকাতকে সর্দারের আসনে বসানো হয়। ফিরাউন-নমরুদের মত দুর্বৃত্ত রাজাদের শাসনে সবচেয়ে বেশী মর্যাদা পেয়েছে তো তারাই। এমনকি তাদেরকে ভগবানের মর্যাদাও দেয়া হয়েছে। স্বৈরাচার-প্রবর্তিত সে সংস্কৃতিতে শুধু রাজাকে নয়,রাজার পোষা কুকুর-বিড়ালকে সম্মান দেখানোই রীতি। দুর্বৃত্ত শাসকের ঘাতক বিচারকগণও তখন “মাই লর্ড” বা “মহামান্য” বলে অভিহিত হয়। ভারতবাসীর স্বাধীনতার চরম শত্রু ও সাম্রাজ্যবাদি ব্রিটিশের পদলেহী বিচারকগণ তো সে উপাধিতেই ব্রিটিশ ভারতের আদালতগুলিতে সম্মানিত হয়ে এসেছে। যুগে যুগে বর্বর স্বৈর-শাসকগণ স্রেফ অস্ত্রের জোরে বাঁচেনি,তারা যুগ যুগ বেঁচেছে,সম্মান পেয়েছে, এমনকি ভগবান রূপে আখ্যায়ীত হয়েছে জনগণের উপর চাপিয়ে দেয়া এরূপ অপসংস্কৃতির কারণে।তেমন এক অপসংস্কৃতির জন্ম ও প্রচন্ড পরিচর্যা দেয়া হয়েছে বাংলাদেশের স্বৈরাচারি সরকারের পক্ষ থেকেও। এমন অপসংস্কৃতির কারণেই দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পরম শত্রু এবং বিদেশী শক্তির গোলামও জাতির পিতা,জাতির নেতা বা জননেত্রীর খেতাব পায়।

 

ডাকাতপাড়ায় ডাকাতদের বিচার হয় না। বাংলাদেশের তেমনি ভোট ডাকাতদেরও বিচার হয় না। অবৈধ নির্বাচনও তখন বৈধ নির্বাচন রূপে স্বীকৃতি পায়। প্রধানমন্ত্রী,মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য রূপে সন্মান পায় ভোট ডাকাতগণ। কথা হলো জন্ম সূত্রেই যে সরকার অপরাধী,তেমন সরকার থেকে কি ভাল কিছু আশা করা যায়? জীবাণু মাত্রই রোগ ছড়ায়। তেমনি অপরাধীগণও দেশজুড়ে অপরাধ ছড়াবে সেটিই স্বাভাবিক? নেকড়ে বাঘ সব জঙ্গলে একই রূপ হিংস্র। তেমনি অভিন্ন হলো সব দেশের ও সব সময়ের স্বৈরাচারি শাসকগণ। তাই নমরুদ-ফিরাউন মারা গেলেও আজকের নমরুদ-ফিরাউন বেঁচে আছে সে অভিন্ন স্বৈরাচার নিয়ে। সেটি যেমন মিশরে,তেমনি বাংলাদেশসহ বহুদেশে। মিশরের স্বৈরাচারি সরকারের সেনাবাহিনী ২০১৩ সালের ১৪ই আগষ্টের রাতে কায়রোর রাবা আল -আদাবিয়ার ময়দানে এক হাজারের বেশী নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করে। নিহতদের অপরাধ,সে দেশের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জনাব মুরসীর বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুর্ত্থানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে তারা রাস্তায় ধর্ণা দিয়ে বসেছিল। কিন্তু সে হত্যাকান্ডের অপরাধে কাউকে আদালতে তোলা হয়নি। কারো শাস্তিও হয়নি। লক্ষণীয় হলো,এরূপ গুরুতর অপরাধও বিচারকদের কাছে কোন অপরাধ রূপে গণ্য হয়নি! সম্প্রতি মিশরের সর্বোচ্চ আদালত সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসনী মোবারককে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল খুনের মামলা থেকে বেকসুর খালাস করে দিল। নির্দোষ রূপে ঘোষণা দিল হুসনী মোবারকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সকল অভিযুক্ত ব্যক্তিদের। তাদের বিরুদ্ধে বিচারকগণ কোন অপরাধ খুঁজে পায়নি। বরং সে বিচারকগণ অপরাধ খুঁজে পেয়েছে ২০১১ সালে সংঘটিত গণবিপ্লবের বিরুদ্ধে -যা স্বৈরশাসক হুসনী মোবারককে ক্ষমতা থেকে হঠিয়েছিল। ফলে সে বিপ্লবে যারা নেতৃত্ব দিয়েছিল তারা এখন জেলে। অথচ ২০১১ সালের সে বিপ্লবে হুসনী মোবারাকের স্বৈরাচারি সরকার ৮ শতের বেশী নিরীহ ও নিরস্ত্র মানুষকে রাজপথে হত্যা করেছিল। সে হত্যাকর্মকে দ্রুততর ও নৃশংস করার স্বার্থে রাজপথে ট্যাংক,কামান ও মেশিনগান নামানো হয়েছিল। মানুষ খুন হয়েছিল দিনের আলোতে এবং রাজপথে। অথচ মিশরের আদালত কোন খুনিকে খুঁজে পায়নি। সে অপরাধে কারো শাস্তিও হয়নি। স্বৈরাচারিদের হাতে দেশ অধিকৃত হয়ে ন্যায় বিচার যে কতটা অসম্ভব হয় এ হলো তার নজির। জঙ্গলে মানুষ খুন হলে কারো শাস্তি হয় না।তেমনি ৮ শতের বেশী মানুষ হত্যাতেও মিশরে কারো শাস্তি হলো না।স্বৈরাচার এভাবেই জনপদে বন্যতা নামিয়ে আনে।

 

মিশরে স্বৈরাচারি সরকার গণবিক্ষোভ থেকে বাঁচতে তড়িঘড়ি করে শত শত প্রতিবাদি মানুষের বিরুদ্ধে ফাঁসির হুকুম দিচ্ছে। বিচারকগণ সে ফাঁসির হুকুম দিচ্ছে শত শত মানুষের বিরুদ্ধে একসাথে। আসামী পক্ষের আইনজীবীগণ যুক্তি পেশেরও সুযোগ পাচ্ছে না। এমন কি রাস্তায় প্রতিবাদ মিছিলে নামার অপরাধে কয়েকশত স্কুলছাত্রীকে ৪ বছরের জেল দিয়েছে। একই অবস্থা বাংলাদেশে। বাংলাদেশের বিচারকগণও স্বৈরাচারি সরকারের অতি নিষ্ঠুরগুলোকেও অপরাধ রূপে দেখতে রাজি নয়। তাদেরকে আদালতে তুলতেও রাজী নয়। ২০১৩ সালের মে মাসে বাংলাদেশের শাপলা চত্বরে হিফাজতে ইসলামের নিরস্ত্র সমাবেশ রুখতে সেনাবাহিনী,র‌্যাব,বিজিবি ও পুলিশ নামানো হলো। অসংখ্য মানুষ নিহত হলো,এবং আহত হলো সহস্রাধিক। কিন্তু দেশের আদালতে সে হত্যাকান্ড নিয়ে কোনরূপ তদন্ত হলো না,কারো বিরুদ্ধে কোন বিচারও বসলো না। কারো কোন শাস্তিও হলো না। স্বৈরাচারি সন্ত্রাসীদের হাতে দেশ অধিকৃত হলে দেশের সমগ্র বিচার ব্যব্স্থা, প্রসিকিউশন ও আদালত যে কতটা ঘাতকদের হাতে অধিকৃত হয় -এ হলো তার নজির। তখন জঙ্গলে পরিনত হয় সমগ্র দেশ। তখন মানুষ শুধু পথেঘাটেই মারা যায় না,মারা পড়ে আদালতেও।

 

আস্তাকুরে ন্যায়বিচার

জাতি কতটা সভ্য ও উন্নত -সে বিচার জনসংখ্যা,অর্থনীতি বা সামরিক শক্তি দিয়ে হয় না। বড় বড় প্রাসাদ দিয়েও হয়না। সাম্রাজ্যবাদী দস্যুগণও উন্নয়নে বিস্ময়কর ইতিহাস গড়ে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী আগ্রাসন,দস্যুবৃত্তি ও গণহত্যা তো বেড়েছে তাদের দ্বারাই। তাদের দ্বারাই সংঘটিত হয়েছে দুটি ভয়ানক বিশ্বযুদ্ধ। দু’টি বিশ্বযুদ্ধে সাড়ে সাত কোটি মানুষকে তারা হত্যা করেছে। আনবিক বোমা ফেলেছে জাপানের দুটি জনবহুল নগরীর উপর। বিশ্বযুদ্ধ থামলেও ধ্বংস ও গণহত্যা। ভয়ানক ধ্বংস ও গণহত্যা উপহার দিয়েছে ভিয়েতনাম,আফগানিস্তান ও ইরাকসহ নানা দেশে। সে সব অধিকৃত দেশে লক্ষ লক্ষ নিরপরাধ নারী-শিশুকে তারা হত্যা করেছে। যুদ্ধ তো নিজেই দুর্বলের বিরুদ্ধে অপরাধ। অপরাধটি অগণিত মানুষ হত্যার ও দেশ ধ্বংসের। ইতিহাসের কাঠগড়ায় তারা গণহত্যার আসামী। এখন সে অপরাধীরাই ড্রোন নিয়ে বিশ্বময় যুদ্ধে নেমেছে মুসলমানদের বিরুদ্ধে। এরূপ খুনিগণকে কি সভ্য রূপে চিত্রিত করা যায়? মহান আল্লাহতায়ালার দরবারে প্রতিটি জাতির মূল্যায়ন হয় সুবিচারের প্রতিষ্ঠায় সে জাতির সফলতা দিয়ে।

 

মুসলমানদের উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহতায়ালার ঘোষণাঃ “তোমরা্‌ই হচ্ছো শ্রেষ্ঠ উম্মত;সমগ্র মানব জাতির জন্য তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে;তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করো,অসৎ কাজে নিষেধ করো এবং আল্লাহতে বিশ্বাস করো।” –(সুরা আল -ইমরান আয়াত ১১০)। বলা হয়েছে,“নিশ্চয়ই আমি রাসূলদের প্রেরণ করেছি স্পষ্ট প্রমাণাদিসহ;এবং অবতীর্ণ করেছি তাদের সাথে কিতাব ও মিযান (ন্যায়দনন্ড) যাতে মানুষ ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে পারে।” -(সুরা হাদীদ আয়াত ২৫)। তাই নবীরাসূল প্রেরণের লক্ষ্য স্রেফ মহান আল্লাহতায়ালার উপর ঈমান ও তাঁর ইবাদতের দিকে মানুষকে ডাকা নয়,বরং গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সৎকাজের প্রতিষ্ঠা ও সুবিচারের প্রতিষ্ঠা। সৎকাজের প্রতিষ্ঠা ও সুবিচারের প্রতিষ্ঠায় কতটা সফল হলো তা দিয়েই নির্ণীত হয় জাতির মর্যাদা।তাই স্বৈরাচারি সন্ত্রাসীদের ক্ষমতায় বসিয়ে কি সভ্য জাতি রূপে বেড়ে উঠা সম্ভব? ইসলামে অজ্ঞ ও অঙ্গিকারহীনদের বিচারকের আসনে বসিয়ে কি ন্যায় বিচারের প্রতিষ্ঠা সম্ভব? বাংলাদেশের ব্যর্থতা কি এ ক্ষেত্রে কম? বিশ্বের দরবারে ৫ বার যারা সবচেয়ে দূর্নীতিগ্রস্ত দেশের খেতাব পায় সে দেশের মানুষ মহান আল্লাহতায়ালার দরবারেই বা কি মর্যাদা আশা করতে পারে? দেশে মসজিদ-মাদ্রাসা,চাল-ডাল,গরু-ছাগল,পোষাক-শিল্প বাড়িয়ে বা বিদেশে মনুষ্যজীব রপ্তানী করে কি মর্যাদা বাড়ানো যায়?

 

যে আসনে বসেছেন নবীরাসূলগণ

ন্যায়ের প্রতিষ্ঠায় এবং অন্যায়ের নির্মূলে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করে আদালতের বিচারকগণ। ইসলামে বিচারপতির মর্যাদা এই জন্যই বিশাল। ভূমি থেকে আাগাছা নির্মূল ও সে ভূমিতে ফসল ফলানোর দায়িত্ব যেমন কৃষকের,তেমনি দেশ থেকে দুর্বৃত্ত নির্মূল ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার বড় দায়িত্বটি হলো আদালতের বিচারকদের।এ লক্ষ্যে রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ইন্সটিটিউশন হলো আদালত। আদালতের বিচারকগণ যোগ্যবান হলে সেদেশ দুর্বৃত্তদের দ্বারা অধিকৃত হয় না। বিচারকগণ তখন দুর্বৃত্ত পেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রীকেও আদালতের কাঠগড়ায় তোলে। একটি দেশ কতটা ব্যর্থ সেটি পরিমাপের জন্য তাই চোর-ডাকাতদের সংখ্যা গণনার প্রয়োজন পড়ে না। দেশের আদালত কতটা কীরূপ বিচারকদের দ্বারা অধিকৃত –তা থেকেই সে হিসাবটি পাওয়া যায়। এ দিক দিয়ে বাংলাদেশের ব্যর্থতা কি কম? অতীতে বিচারপতির আসনে বসেছেন খোদ নবীরাসূলগণ। তাদের অবর্তমানে বসেছেন তাদেরই বিশ্বস্থ্য সাহাবাগণ। ইসলামের যখন গৌরবযুগ তখন সে আসনে বসেছেন সবচেয়ে জ্ঞানী, ফকীহ ও চরিত্রবান ব্যক্তিগণ। ইসলামে এটি অতি উচ্চপর্যায়ের ইবাদত। রাষ্ট্র জুড়ে এ পবিত্র ইবাদতটি প্রতিষ্ঠা না পেলে কোটি কোটি মানুষের নামায-রোযা ও হ্জ-যাকাত,অর্থনৈতিক উন্নয়নে বা শত শত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় দুর্বৃত্তি ও অবিচার নির্মূল হয় না। প্রতিষ্ঠা পায় না সৎকর্ম ও ন্যায়-নীতি। ইসলাম যে শান্তির ধর্ম সেটিও তখন প্রমাণিত হয় না। দুর্বৃত্ত-অধিকৃত সে দেশটিতে তখন আস্তাকুঁরে গিয়ে পড়ে সুবিচার। তাই শ্রেষ্ঠ জাতির মর্যাদা দিতে গিয়ে মহান আল্লাহতায়ালা মুসলমানদের উপর যে প্রধান শর্তটি আরোপ করেছেন তা হলো ঈমানের পাশাপাশি ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়ের নির্মূল। যে দেশে যোগ্যতর বিচারপতি ও সুবিচারের অভাব,সেদেশে অসম্ভব হলো সভ্যতর সমাজের নির্মাণ।দেশ তখন ইতিহাস গড়ে অবিচার ও দুর্বৃত্তিতে।বাংলাদেশে তো সেটিই ঘটেছে।

কোনটি ন্যায়,আর কোনটি অন্যায় -সে জ্ঞান নিরক্ষর ব্যক্তিদেরও থাকে। কিন্তু সত্যের পক্ষে দাঁড়াবার নৈতীক বলটি সবার থাকে না।এমনকি বহু উচ্চ শিক্ষিতদেরও থাকে না।অতি দুর্বৃত্তরাও জানে কোনটি ন্যায়,আর কোনটি অন্যায়।জেনে বুঝে অন্যায়ের পক্ষ নেয় বলেই তারা দুর্বৃত্ত। আাদালতের বিচারকদের দায়িত্ব হলো,শুধু ন্যায়ের পক্ষ নেয়া নয়,অন্যায়কারিকে শাস্তি দেয়াও। এটি এক গুরু দায়িত্ব। তাই বিচারের কাজ ভীরু,কাপুরুষ ও স্বৈরাচারের কাছে আত্মসমর্পিত ব্যক্তির দিয়ে হয় না। কিন্তু সে সামর্থ বাংলাদেশের আদালতে ক’জন বিচারকের? সে নৈতীক বল কি আইন শাস্ত্রের উপর ডিগ্রি নিলে সৃষ্টি হয়? আইনের জ্ঞান,চিকিৎসাবিজ্ঞান,হিসাবজ্ঞান বা প্রকৌশলের জ্ঞান –এরূপ নানারূপ সেক্যুলার জ্ঞানে পেশাগত জানাশোনা বাড়ে। উপার্জনের সামর্থও বাড়ে। কিন্তু তা দিয়ে কি ন্যায়পরায়নতা,সততা বা নৈতীক বল বাড়ে? সে জন্য তো চাই ঈমানের বল। ঈমানের বলবৃদ্ধির জন্য চাই চেতনায় ঝাঁকুনি দেয়ার মত দর্শনের বল। চাই আধ্যাত্মীক বল। সে সামর্থ লাভে অপরিহার্য হলো মহান আল্লাহর কাছে জবাবদেহীতার ভয়। সে জন্য পেশাদারি জ্ঞানের বাইরেও প্রয়োজন পড়ে গভীর জ্ঞানার্জনের।

গরুর গাড়ির চাকা কি রেলগাড়িতে লাগানো যায়? যে পবিত্র আসনে মহান নবী-রাসূলগণ বসেছেন সে আসনে কোরআনী জ্ঞানে অজ্ঞ ও ইসলামে অঙ্গিকারহীন ব্যক্তিদের কি বসানো যায়? এমন কর্ম যে হারাম এবং মহান আল্লাহতায়ালার বিধানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ -সে বিষয়টি একজন মুসলমান ভূলে যায় কি করে? বিচারকের আসনে কি গুরুছাগলকে বসানো যায়?  যারা কাফের, যারা নাস্তিক,ইসলামের শরিয়তি বিধানে যারা আস্থাহীন এবং ইসলামের পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠার যারা বিরোধী –তারা যত ডিগ্রিধারিই হোক,পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহতায়ালা তো তাদেরকে গরুছাগলের চেয়েও নিকৃষ্ট বলেছেন।তাদেরকে বিচারকের আসনে বসানো কি আদালতের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অবমাননা নয়? মুসলিম দেশে এমন হারাম কর্ম আদালতের অঙ্গণে চলতে থাকলে ঈমান নিয়ে ও আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ নিয়ে বাঁচাটিও যে সে আদালতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ রূপে চিহ্নিত হবে সেটি কি স্বাভাবিক নয়? ফিরাউনের আদালতে তো তাই হয়েছিল। বাংলাদেশেও তো আজ সেটিই হচ্ছে।

 

গণতন্ত্র হত্যায় আদালতের ব্যবহার

বাংলাদেশে বার বার আগ্রাসন ও নাশকতা ঘটেছে জনগণের মৌলিক অধিকারের বিরুদ্ধে। সেগুলো ঘটেছে ঔপনিবেশিক বিদেশী শক্তি এবং দেশী সামরিক বাহিনী ও ফ্যাসিবাদি রাজনৈতিক শক্তির হাতে। কিন্তু দেশের মানুষের মৌলিক অধিকারের বিরুদ্ধে সর্বশেষ নাশকতাটি ঘটিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের হাতে। সেটি বিচারের নামে। ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সে অসম্ভব সে উপলব্ধিটি ছিল সকল রাজনৈতিক দলের। সেটি যেমন অতীতে বহুবার প্রমাণিত হয়েছে, তেমনি প্রমাণিত হয়েছে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনেও। দীর্ঘ দিনের সে অভিজ্ঞতা নিয়েই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধানটি তাই গৃহিত হয়েছিল সর্বদলীয় সিন্ধান্তের ভিত্তিতে। অথচ কি আশ্চর্যের বিষয়! দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার যে মৌল বিষয়টি দেশের সবগুলো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীগণ বুঝতে পারলেও সেটিই বুঝতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকগণ। ফলে যে সম্মিলিত উপলব্ধির ভিত্তিতে দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান চালু হলো -সেটিকেই অবৈধ ঘোষণা দিল দেশের আদালত। আর এতে স্বৈরাচারি শেখ হাসিনা পেল,ইচ্ছামত ভোট ডাকাতির সুযোগ।

 

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধানকে অবৈধ বলে রায় দিয়েছে দেশের প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক। খায়রুল হক যে কতটা নীতিহীন ও মেরুদন্ডহীন সেটির প্রমাণ তিনি নিজেই দিয়েছেন। হাসিনা সরকারের পক্ষে রায় দেয়ার পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ১০ লক্ষ টাকা ত্রাণ নিয়েছেন। -(সূত্র- দৈনিক আমার দেশ,৩০/৫/১১)। প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক উদ্বাস্তু নন, গৃহহীন বা অর্থহীনও নন। তিনি উচ্চ বেতনের চাকুরি থেকে অবসর নিয়েছেন। ফলে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ত্রাণ নেয়ার প্রয়োজনটি তার দেখা দেয় কি করে? খায়রুল হকের দেয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির বিলুপ্তির রায়টি সুযোগ করে দেয় ২০১৪ সালের নির্বাচনী ডাকাতির। ডাকাতির অর্থ কামাইয়ে কোনরূপ চাকুরি-বাকুরি বা ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রয়োজন পড়ে না। তেমনি ভোট ডাকাতির নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দীতায় নামার প্রয়োজন পড়ে না। তাই সরকারি দলের ১৫১ জন প্রার্থী নির্বাচন জিতেছে কোনরূপ প্রতিদ্বন্দিতা না করেই। যেসব সিটে নির্বাচন হয়েছে,সেসব আসনেও শতকরা ৫% জন ভোটারও ভোট দিতে যায়নি। খেলার মাঠে প্রতিদ্বন্দি দুই দল খেলতে না নামলে কি সে খেলা দেখতে দর্শক হাজির হয়? এমন খেলা তো অবশ্যই পরিত্যক্ত হয়। অথচ দেশের সংসদ নির্বাচন খেলাধুলার ন্যায় মামূলী বিষয় নয়। এখানে নির্ধারিত হয় জাতির ভবিষ্যৎ। তাই গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচনি কমিশনের দায়িত্ব হলো এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা যাতে সরকারি ও বিরোধী দল –এ উভয় পক্ষের অংশগ্রহণই সুনিশ্চিত হয়। নইলে সে নির্বাচন পরিত্যক্ত হওয়াই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু এমন প্রতিদ্বন্দীতাহীন নির্বাচন বাংলাদেশে স্থগিত হয়নি!

 

আলেমদের অপরাধ

বাংলাদেশের নগরবন্দরে যেমন বেশ্যাবৃত্তি,সুদ,ঘুষ,মদ্যপান,সন্ত্রাস ও চুরিডাকাতির ন্যায় অসংখ্য হারাম কর্ম প্রতিষ্ঠা পেয়েছে,তেমনি আদালতের পবিত্র অঙ্গনে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে ব্রিটিশ কাফেরদের রচিত হারাম আইন ও হারাম বিচার রীতি। অথচ এ হারাম নিয়ে বাংলাদেশের আলেম-উলামা,পীর-মাশায়েখ ও ইসলামি দলের নেতাকর্মিগণও নীরব। এমন নীরবতা কি কম অপরাধ? মুসলিম ভূমির আইন-আদালত কাফেরদের হাতে অধিকৃত হলে কোন ঈমানদার কি নীরব থাকতে পারে? সে নীরবতায় কি তা ঈমান বাঁচে? নবীজী (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে এরূপ হলে কি জিহাদ শুরু হতো না? পবিত্র কোরআনের ও হাদীসের জ্ঞান ছাড়া কোন ব্যক্তি সুবিচারের সামর্থ পাবে ও নৈতীক মেরুদন্ড পাবে -সেটি বিশ্বাস করাই তো পবিত্র কোরআন ও নবীজী (সাঃ)র সূন্নতের প্রতি অবমাননা। এমন অবমাননাকারি কি পরকালে মহান আল্লাহতায়ালা থেকে কল্যাণ পেতে পারে? মুসলমানদের থেকেই বা তারা সম্মান পায় কি করে? অথচ বাংলাদেশের আদালতে আল্লাহর দ্বীনের এমন অবাধ্য বিচারকদেরও মহামান্য বলতে হয়। মহান আল্লাহতায়ালার শরিয়তের প্রতিষ্ঠার যারা বিরোধী তাদের প্রতি এমন সম্মান প্রদর্শন কি খোদ আল্লাহতায়ালার সাথে মশকরা নয়? তা নিয়েই বা ভাবনা ক’জনের?

 

নবীজী (রাঃ)র আদালত ও বাংলাদেশের আদালত

ঈমানদারির দায়ভার শুধু নবীজী (সাঃ)র অনুকরণে নামায-রোযা,হজ-যাকাত আদায় করা নয়, তাঁর অনুকরণে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করাও।ইসলামে এটি ফরজ। কিন্তু সে ফরজ ইবাদতটি অসম্ভব হয় দুর্বৃত্তদের হাতে রাষ্ট্র অধিকৃত হলে। ন্যায় বিচারে মুসলমানগণ যখন ইতিহাস গড়েছিল তখন বিচার কাজের জন্য কোন প্রাসাদ ছিল না। বিচার বসতো মসজিদের মেঝে বা মাটির ঘরে জীর্ণ খেজুর পাতার উপর। সুবিচারের জন্য যা জরুরী তা হলো সুযোগ্য বিচারক। সুযোগ্য বিচারক গড়তে যা অপরিহার্য তা হলো ইসলামের গভীর জ্ঞান। সে জ্ঞানের মাধ্যমেই চেতনার ভূবনে বিপ্লব আসে,নির্মিত হয় বিচারকের অটুট মেরুদন্ড।সে জ্ঞানের বরকতেই ভেড়ার রাখালগণ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বিচারকে পরিণত হয়েছিলেন। মহান আল্লাহতায়ালা এমন উন্নত মানুষ গড়ার মিশন শুরু করেছিলেন কোরআনী জ্ঞানের আলো জ্বালানোর মধ্য দিয়ে। পবিত্র কোরআনের প্রথম আয়াতটি তাই “ইকরা” তথা “পড়”। প্রতিটি নরনারীর উপর ফরজ হলো পবিত্র কোরআনের জ্ঞানার্জন। এ জ্ঞান ছাড়া মুসলিম রাষ্ট্রের আদালতে কেউ বিচারকের আসনে বসবেন সেটি কি ভাবা যায়? সে জ্ঞান ছাড়া প্রকৃত ঈমানদার রূপে বেড়ে উঠাই কঠিন।

 

মানুষের চেতনা ও চরিত্রে মূল বিপ্লবটি আসে শিক্ষা ও দর্শনের গুণে। শিক্ষা ও দর্শনের গুণেই মানুষ পায় মজবুত মেরুদন্ড। পায় ন্যায়নীতিপূর্ণ মূল্যবোধ। চোর-ডাকাতদের থেকে ঈমানদারের মূল পার্থক্যটি পানাহারে বা পোষাক-পরিচ্ছদে নয়,দৈহীক গুণেও নয়। সেটি এই শিক্ষা ও জীবন-দর্শনের কারণে। মহান নবীজী (সাঃ)র আগমনে আরবের মানুষের মাঝে খাদ্য-পানীয়,বংশ-মর্যাদা ও আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসেনি। বরং পাল্টে গিয়েছিল আরব জনগণের আক্বিদা-বিশ্বাস তথা জীবন-দর্শন। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সে দর্শনটি তারা পেয়েছিলেন মহাজ্ঞানী মহান আল্লাহতায়ালা থেকে। তাদের কাছে সেটি পৌঁছেছিল পবিত্র কোরআন মারফত। জ্ঞানচর্চার সে পবিত্র কাজটি শুধু স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সীমিত রাখলে চলে না। স্রেফ স্বল্পকালীন ছাত্রজীবনের গন্ডিতে সীমিত রাখলেও চলে না। মুসলমান আমৃত্যু ছাত্র। জীবনের প্রতিদিন ও প্রতিরাত জুড়ে চলে তার জ্ঞানার্জন। জ্ঞানচর্চার সে কাজকে ব্যাপকতর ও গভীরতর করার স্বার্থে প্রতিটি ঘর ও প্রতিটি জনপদকে তখন পাঠশালায় পরিণত করতে হয়। ইসলামের প্রথম ১৩ বছরে কোন মসজিদ,মাদ্রাসা,কলেজ বা বিশ্ববিদালয় গড়া হয়নি। অথচ শুধু মুসলিম ইতিহাসে নয়,সমগ্র মানব ইতিহাসের সবচেয়ে চরিত্রবান,জ্ঞানী ও শক্ত মেরুদন্ডের মানুষগুলো সৃষ্টি হয়েছে সেই ১৩ বছরে। সেটি সম্ভব হয়েছে মু’মিনের মনে লাগাতর কোরআনের জ্ঞানকে বদ্ধমূল করার মহান আল্লাহতায়ালার নিজস্ব স্ট্রাটেজীর ফলে। কিন্তু রাষ্ট্রে সে অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজটি অসম্ভব হয় দুর্বৃত্তদের হাতে রাষ্ট্র অধিকৃত হলে।

 

ইন্ডাস্ট্রি ঈমানধ্বংসের

সাম্রাজ্যবাদি শাসনের যুগে ব্রিটিশগণ ভারতে যেসব শিক্ষা নীতি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করা হয়েছিল তার পিছনেও জঘন্য কু’মতলব ছিল। সেটি ছিল ব্রিটিশ স্বার্থের পাহারাদার ও ইংরেজ রাজকর্মচারিদের জন্য দোভাষী সৃষ্টি।লক্ষ ছিল মুসলমানদের ঈমান ধ্বংস। সে লক্ষ্যেই জোর দেয়া হয় ইংরাজী ভাষা শিক্ষার উপর। সে সময় মুসলমানদের বুদ্ধিবৃত্তিক পুষ্টির ভাষা ছিল ফার্সি। ঈমান পুষ্টি পেত সে ভাষা হতে। ফার্সি ছিল ভারতের রাষ্ট্র ভাষাও। অথচ সেটিকে বাদ দেয়া হয়। বুদ্ধিবৃত্তিক পুষ্টির ভাষাচর্চা নিষিদ্ধ হলে ঈমান যে মারা পড়বে সেটিই কি সুনিশ্চিত নয়? মুসলিম দেশে কাফের ব্রিটিশদের শাসনে মুসলমানদের শিল্প ধ্বংস হয়েছে সেটি সবচেয়ে বড় ক্ষতি নয়। বরং সবচেয়ে বড় ক্ষতিটি হয়েছে বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গণে। এতে মারা পড়েছে বা অসুস্থ্য হয়েছে মুসলমানদের ঈমান।

 

ব্যক্তির আত্মায় বা চেতনায় জীবাণু পৌঁছাতে ভাষা পাইপ-লাইনের কাজ করে। ঔপনিবেশিক শাসনামলে ইংরেজী ভাষায় ইসলাম বিষয়ে জ্ঞানলাভের কোন বইপুস্তক ছিল না। বরং ছিল মুসলিম চেতনায় দূষণ সৃষ্টি ও ইসলাম থেকে দূরে সরানোর বিপুল সামগ্রী। ফলে সে সাহিত্যের ফলে মুসলিম মনে বেড়েছে ডি-ইসলামাইজেশন। এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি পরিণত হয়েছে ঈমানধ্বংসের বিশাল ইন্ডাস্ট্রিতে। সে ইন্ডাস্ট্রি আজও একই মিশন নিয়ে মুসলিম দেশগুলির প্রতি অঙ্গণে কাজ করছে। মুসলমানগণ বিপুল হারে খৃষ্টান না হলেও,ইংরেজ-প্রবর্তিত সে শিক্ষানীতির ফলে তারা ইসলাম থেকে প্রচন্ড ভাবে দূরে সরেছে। সে শিক্ষাব্যবস্থায় ডাক্তার,ইঞ্জিনীয়ার, কৃষিবিদ,হিসাববিদ বা নানারূপ পেশাদার রূপে অনেকে বেড়ে উঠলেও সে শিক্ষা থেকে তারা ঈমানে পুষ্টি পায়নি। ঈমানে সে অপুষ্টি ও দূষণের কারণেই কাফেরদের ন্যায় তারাও শরিয়ত, জিহাদ, খেলাফতের বিরোধী। এরূপ ইসলাম বিরোধীদের হাতেই বাংলাদেশের ন্যায় মুসলিম দেশের আইন-আদালত,শিক্ষা-সংস্কৃতি, পুলিশ,সেনাবাহিনী ও প্রশাসন জিম্মি।

 

দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা ও হাসপাতালগুলো বিফল হলে সমগ্র দেশ অসুস্থ্য মানুষে ভরে উঠে। আর বিচার ব্যবস্থা কাজ না করলে দেশে দুর্বৃত্তদের প্লাবন আসে। তখন দেশ পূর্ণ হয় ভয়ানক অপরাধীদের দিয়ে। বাংলাদেশে তো সেটিই ঘটেছে। তাই ইসলামের অতি গুরুত্বপূর্ণ মিশন হলো শরিয়তের বিধানের উপর আদালতের প্রতিষ্ঠা। আইন-আদালত ও বিচারব্যবস্থার ব্যর্থতার কারণেই সমগ্র দেশ আজ দুর্বৃত্তদের দ্বারা অধিকৃত। চলছে ঘুষখোর ও নানারূপ অপরাধীদের রাজত্ব। বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় ব্যর্থ খাতটি তাই দেশের কৃষি,শিল্প,বাণিজ্য বা চিকিৎসা খাত নয়। বরং সেটি হলো দেশের আইন-আদালত ও বিচারব্যবস্থা। সে ব্যর্থতার কারণেই সুবিচার ও ন্যায়নীতি আজ  কবরে শায়ীত।

 

যুদ্ধ মহান আল্লাহতায়ালার এজেন্ডার বিরুদ্ধে

মানব জাতির সবচেয়ে বড় বিপর্যয়টি খাদ্যাভাবে,বস্ত্রাভাবে,অর্থাভাবে বা চিকিৎসার অভাবে ঘটে না। বরং সেটি ঘটে সুবিচারের অভাবে। অবিচার এবং আল্লাহর আইনের অবাধ্যতা বরং আল্লাহর আযাবকে অনিবার্য করে তোলে। সুবিচারের প্রতিষ্ঠা মহান আল্লাহতায়ালার কাছে এতই গুরুত্বপূর্ণ যে সেটিকে সুনিশ্চিত করতেই মহাজ্ঞানী রাব্বুল আলামীন শরিয়তি বিধান দিয়েছেন,এবং সে সাথে সে বিধানের প্রতিষ্ঠাকে নামায-রোযা,হজ-যাকাতের ন্যায় ফরয তথা বাধ্যতামূলক করেছেন। তিনি খাদ্য,বস্ত্র,রাস্তাঘাট বা শিল্প বাড়াতে এরূপ ওহী নাযিল করেনি। অথচ ওহী পাঠিয়েছেন সুবিচারের পথ দেখাতে। পবিত্র কোরআনে স্পষ্ট ভাবে হুশিয়ার করে দেয়া হয়েছে এ বলে,“যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী বিচার করে না তারাই কাফির, তারাই যালিম ও তারাই ফাসিক।” -(সূত্রঃ সুরা মায়েদা আয়াত ৪৪,৪৫,৪৭)।তাই কাফের হওয়ার জন্য পুতুল পুজারি বা নাস্তিক হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। মহান আল্লাহতায়ালার দেয়া শরিয়তি বিধানের প্রতিষ্ঠায় অনাগ্রহ বা বিরোধীতাই সে জন্য যথেষ্ঠ। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে কোন রূপ অস্পষ্টতা রাখা হয়নি।

 

মানব জাতির বড় প্রয়োজনটি স্রেফ সুযোগ্য কৃষক,শ্রমিক,শিক্ষক,চিকিৎসক,প্রকৌশলী বা বিজ্ঞানী নয়,বরং সবচেয়ে বড় প্রয়োজনটি হলো শরিয়তি বিচার ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা। সে কাজে প্রয়োজন হলো শরিয়তি আইনের উপর বিশেষজ্ঞ বিচারকদের। এবং পবিত্র কর্ম হলো শরিয়ত প্রতিষ্ঠার জিহাদ।পবিত্র কোরআনের পরিভাষায় এটি হলো জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ। মসজিদ-মাদ্রাসার সংখ্যা বাড়িয়ে,হাফিজ বা ক্বারির সংখ্যা বাড়িয়ে কি জিহাদের দায়ভার থেকে মুক্তি মেলে? খাদ্যপণ্য, শিল্পপণ্য বা বৈজ্ঞানিক সামগ্রিক বিদেশ থেকে কেনা যায়। কিন্তু শরিয়তি আদালতের ন্যায়-বিচারকদের বিদেশ থেকে আমদানি করা যায় না। তাদের গড়তে হয় নিজেদের মধ্য থেকে। নইলে সে ভূমিতে সুবিচার প্রতিষ্ঠা পায় না,সভ্য সমাজও নির্মিত হয় না। বাংলাদেশের বড় ব্যর্থতা তো এখানেই। নবীজী (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামের জীবনে একটি দিনও শরিয়তি বিধান ছাড়া অতিবাহিত হয়নি। এমনকি উমাইয়া,আব্বাসীয়,উসমানিয়া ও মোগল আমলেও নয়।বাংলার সুলতানি আমল বা সিরাজুদ্দৌলার আমলেও নয়। মুসলিম দেশগুলিতে শরিয়ত আইনকে বিলুপ্ত করেছে সাম্রাজ্যবাদি কাফের ব্রিটিশগণ। আর তাদের প্রতিষ্ঠিত সে কুফরি বিচার ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রেখেছে তাদেরই মানসিক গোলাম ও কলাবোরেটরগণ। আজকের মুসলিম দেশগুলিতে ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদি শাসনের এটিই হলো সবচেয়ে ক্ষতিকর লিগ্যাসি যা মুসলমানদেরকে মহান আল্লাহতায়ালার শত্রু রূপে খাড়া করছে। মুসলমানদের ভয়ংকর অপরাধ হলো তারা বাঁচিয়ে রেখেছে কাফেরদের সে ঈমানধ্বংসী লিগ্যাসী। বাংলাদেশের ন্যায় মুসলিম দেশের ইসলামি দলের নেতাকর্মী ও আলেমদের ব্যর্থতাও এ ক্ষেত্রে বিশাল। দেশের আলেম ও পীরমাশায়েখগণ দাফন-কাফন,হায়েজ-নেফাস, ঢিলাকুলুপ ও মেছাওয়াকের মসলা নিয়ে বিস্তর জ্ঞানদান করলেও শরিয়ত প্রতিষ্ঠার ফরজ বিষয়টি নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য করেন না। ইসলামি দলের নেতাকর্মীগণ সরকারের পতন,নেতাদের মুক্তি বা নির্বাচনের দাবীতে রাস্তায় বিপুল সংখ্যায় নামলেও শরিয়তের প্রতিষ্ঠা নিয়ে একটি আওয়াজও তোলেন না। আল্লাহর দ্বীনের প্রতিষ্ঠায় এরূপ অবহেলা নিয়ে ইহকাল বা পরকালের কোথাও কি মহান আল্লাহতায়ালার করুণা জুটবে?

 

নিয়ন্ত্রণ ইসলাম চর্চায়

ভারতে ব্রিটিশের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো মূলতঃ কাজ করেছে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনের পক্ষে একপাল অনুগত সেবক সৃষ্টির ইন্ডাস্ট্রি রূপে। সে শিক্ষানীতির প্রবক্তা লর্ড ম্যাকলে নিজেই তেমন এক উদ্দেশ্যের কথা ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন। সে শিক্ষানীতি ব্রিটিশের দালাল সৃষ্টিতে অপূর্ব সফলতা দেখিয়েছে। এ দালাল  সৃষ্টির কারণেই একমাত্র প্রথম বিশ্বেযুদ্ধেই ব্রিটিশের সাম্রাজ্য রক্ষায় ১০ লাখ ভারতীয় যুদ্ধ করেছে এবং ৭৪ হাজার ১৮৭ জন ভারতীয় প্রাণ দিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সে সংখ্যা ছিল আরো অধীক। ব্রিটিশ সাম্রাজ্য রক্ষায় ১৯৩৯ সালে প্রায় ২৫ লাখ ভারতীয় ব্রিটিশ বাহিনীতে সৈনিক রূপে নাম রিজিস্ট্রিভূক্ত করে। তারা যুদ্ধ করেছে এশিয়া ও আফ্রিকার নানা রণাঙ্গণে। মানব জাতির সমগ্র ইতিহাসে এটিই হলো একটি বিদেশী শক্তির পক্ষে কোন একটি দেশ থেকে সবচেয়ে বৃহৎ দালাল বাহিনী। অথচ সে ভারতের বুকেই ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ লড়তে সুভাষ বোস ২০-৩০ হাজার সৈন্য খুঁজে পেতেই্ প্রচন্ড হিমশীম খাচ্ছিলেন। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ সামরিক ও রাজনৈতিক অধীনতা থেকে মুক্তি মেলেছে এবং উপমহাদেশের ভূগোলও পাল্টে গেছে। কিন্তু ইংরেজদের প্রবর্তিত সেক্যেুলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে যারা ডিগ্রিপ্রাপ্তদের মনের ভুবন থেকে গোলামী এখনো দূর হয়নি। সে অভিন্ন ধারা আজও  অব্যাহত রয়েছে আজকের বাংলাদেশে।ফলে ব্রিটিশ কাফেরদের প্রবর্তিত কুফরি আইন ও বিচারব্যবস্থা এখনও বেঁচে আছে ১৫ কোটি মুসলিম অধ্যুষিত একটি দেশে। সাহাবায়ে কেরামের যুগে কি এটি ভাবা যেত? অথচ এরপরও আমরা নিজেদের তে ইসলামের অনুসারি মনে করি!

 

চোর-ডাকাতদের মহল্লায় কি ন্যায়নীতি প্রচার পায়? কদর পায় কি ন্যায়পরায়নতা? বিচার বসে কি ডাকাত দমনে? সেখানে তো প্রশংসা পায় চুরি-ডাকাতি,হত্যা ও হত্যায় নৃশংসতা। একই রূপ কদর্যতা বাড়ে দুর্বৃত্ত-কবলিত দেশে। তখন অপরাধ বাড়াতে ভূলিয়ে দেয়া হয় ধর্মের বাণী এবং ধর্মকর্মকে। রাজনীতিতে তখন গুরত্ব পায় এক খুনের বদলে ১০ খুনের রাজনীতি। বাংলাদেশে তো সেটিই হয়েছে। তাছাড়া দুর্নীতিতে যে দেশ ৫ বার বিশ্বে প্রথম হয় সে দেশে কি ভিন্নতর কিছু আশা করা যায়? ন্যায়বিচার ও ইসলামের শরিয়ত ভিত্তিক বিচার ব্যবস্থা কদর পাবে বা প্রতিষ্ঠা পাবে সেটিও কি আশা করা যায়? বাংলাদেশে মার্কসবাদ,লেলিনবাদ বা মাওবাদের প্রচার নিষিদ্ধ নয়। নিষিদ্ধ নয় বাইবেল প্রচার। নিষিদ্ধ নয় রামায়ান,বেদ বা ত্রিপঠক পাঠ। নিষিদ্ধ নয় বেশ্যাবৃত্তি, জুয়া, ঘুষ ও মদ্যপানের ন্যায় হারাম কর্মও। বরং পাপাচারের নিরাপত্তা বাড়াতে দেশের পতিতা পল্লিগুলিতে দিবারাত্র পুলিশ মোতায়েন করা হয়। অথচ মসজিদে মসজিদে সরকারের নজরদারি বেড়েছে নবীজী (সাঃ)র প্রচারিত সনাতন ইসলামের প্রচার রুখতে।

 

নবীজী (সাঃ)র ইসলামে জিহাদ ছিল,শরিয়তি ছিল,খেলাফত ছিল,শুরা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশে ইসলামের এ সনাতন রীতিগুলি চিহ্নিত হচ্ছে সন্ত্রাস রূপে। শরিয়তের দাবী নিয়ে রাস্তায় নামলে বা ঘরে জিহাদ বিষয়ক বই রাখলে জেলে তোলা হয়। আদালতে ঈমানদারদের স্থান নাই। সেখানে বরং বেছে বেছে বসানো হয় দলীয় ক্যাডারদের।মহান আল্লাহর শরিয়তি বিধানের পরাজয় দেখতেই এসব বিচারকদের আনন্দ। রাজনৈতিক শত্রু নির্মূলে দলীয় ক্যাডারগণ যেমন রাজপথে লাঠি ধরে,একই লক্ষ্যে তারা আদালতের উপরও অধিকার জমিয়েছে। বিচারকের আসনে বসে নিজ দলের পক্ষে ও ইসলামের বিরুদ্ধে এরাই কলম ধরছে। এরূপ পক্ষপাত-দুষ্ট ও দেশবাসীর স্বাধীনতার প্রতি অঙ্গিকারশূণ্য বিচারকদের দিয়েই ঔপনিবেশিক শাসকেরা অধিকৃত দেশগুলিতে মুক্তি আন্দোলনের অসংখ্য নেতাকর্মীকে ফাঁসিত ঝুলিয়ে হত্যা করেছে।আর বাংলাদেশ ও মিশরের ন্যায় দেশগুলিতে এখন তারা ব্যবহৃত হচ্ছে গণতন্ত্র হত্যার কাজে। এবং আদালতে চলছে সরকার বিরোধীদের ফাঁসিতে ঝুলানোর তুমুল তান্ডব।

 

যে অপরাধ জনগণের

প্রতিটি ঈমানদারকে শুধু পানাহারে বাঁচলে চলে না,ঈমানী দায়ভার নিয়ে বাঁচতে হয়। সে দায়ভার পালনে প্রয়োজনে যুদ্ধেও নামতে হয়। সে দায়ভার পালনে নবীজী (সাঃ)র শতকরা ৭০ ভাগের বেশী সাহাবী শহীদ হয়ে গেছেন। দায়িত্বপালনে গাদ্দারির কারণে ইহুদী জাতির লাগাতর আযাব ও অপমান নেমে এসেছে।তাদেরকেও স্বৈরাচারি ও সন্ত্রাসী শাসকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুকুম দেয়া হয়েছিল। কিন্তু অবাধ্য ইহুদীগণ সে হুকুমের জবাবে হযরত মূসা (আঃ)কে বলেছিল, “যাও, তুমি ও তামার আল্লাহ গিয়ে যুদ্ধ করো। আমরা অপেক্ষায় থাকলাম।” জনপদে বাঘ-ভালুক নামলে সেটি তাড়ানোর দায়িত্ব ফেরেশতাদের নয়। সে দায়ভারটি মহল্লাবাসীদের নিতে হয়। তেমনি রাষ্ট্র জালেম শক্তির হাতে অধিকৃত হলে তাদের নির্মূলের দায়ভারটিও জনগণের। অন্যায় কে মেনে নেয়ার মধ্যে কোন সাধুতা বা ভদ্রতা নেই। বরং সেটি হলো কাপুরুষতা ও অন্যায়ের কাছে আত্মসমর্পণ। ইসলামে এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরণের অপরাধ পৃথিবী পৃষ্ঠে মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে কঠিন আযাব নামিয়ে নামে। মহান আল্লাহতায়ালার হুকুমের বিরুদ্ধে এটি এক প্রচন্ড বিদ্রোহও। মহিমাময় মহান আল্লাহতায়ালা শুধু নামায-রোযা,হজ-যাকাত পালনের নির্দেশই দেননি। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন “নেহী আনিল মুনকার” তথা রাষ্ট্র থেকে দুর্বৃত্তদের নির্মূলেও। সামর্থবান মানুষের মহল্লায় যেমন নেকড়া বাঘ বাঁচে না,মুসলিম সমাজে তেমনি আবু লাহাব ও আবু জেহেলদের ন্যায় ইসলামের শত্রুগণও বাঁচে না।তাদের বিরুদ্ধে ঈমানদারদের লাগাতর জিহাদ শুরু হয়। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ এক্ষেত্রে অনেক নীচে নেমেছে। আজ থেকে ৬০ বছর আগেও বাংলার সমাজ ও রাজনীতি বর্বর সন্ত্রাসীদের হাতে এতটা অধিকৃত হয়নি। মানুষ গুম ও খুনে পূর্বের কোন সরকারই এতটা সাহস পায়নি।কিন্তু এখন পায়।কারণ,কোটি কোটি মানুষ এমন অপরাধী খুনিদের শুধু ভোটই দেয় না,তাদের পক্ষে অনেকে লাঠিও ধরে।অনেকে কলমও ধরে।

 

শরীরে ক্যান্সারের আলামতগুলি স্বচোখে দেখার পরও সেটির চিকিৎসা না করাটি অপরাধ। রোগীকে সে অপরাধের শাস্তি পোহাতে হয় অকাল মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। একই রূপ অপরাধ বাংলাদেশীদেরও। দেশে রাজনীতি,প্রশাসন ও আইন-আদালতের নামে প্রাণনাশী ক্যান্সার বেড়ে উঠছে বহুকাল যাবত। সেটি এখন ফুলে ফেঁপে উঠেছে এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বিশ্বব্যাপী। সে দুর্গন্ধ টের পাচ্ছে হাজার হাজার মাইল দূরের বিশ্ববাসীও। ফলে বাংলাদেশের প্রশাসন ও আইন-আদালতের অপরাধ নি্য়ে বিশ্বের নানা প্রান্তর থেকে প্রবল প্রতিবাদ উঠেছে। বিচারকগণ স্বৈরাচারি সরকারের এজেন্ডা পূরণে রাজনেতিক বিরোধীদের হত্যায় নেমেছে -সে গুরুতর অভিযোগটিও উঠেছে। হ্ত্যার সে সরকারি অভিলাষটি প্রকাশ পেয়েছে একজন সাবেক বিচারপতির স্কাইপী সংলাপ থেকে। কিন্তু যে দেশবাসী সে রোগে আক্রান্ত তাদের মাঝে এ নিয়ে আন্দোলন কই? এটি কি কম বিস্ময়ের? অথচ এরূপ সন্ত্রাসী দুর্বৃত্তদের হাতে কোন কোন সভ্য দেশ অধিকৃত হলে সে অধিকৃতির বিরুদ্ধে তৎক্ষনাৎ যুদ্ধ শুরু হতো। কিন্তু বাংলাদেশে বেড়েছে নীরব আত্মসমর্পণ। মুসলমান তো প্রতিমুহুর্তে বাঁচে মহান আল্লাহর কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণ নিয়ে। প্রশ্ন হলো,মহান আল্লাহতায়ালার কাছে আত্মসমর্পণের পাশাপাশি এরূপ দুর্বৃত্ত স্বৈরাচারের কাছে আত্মসমর্পণও কি একত্রে চলতে পারে? তাতে কি ঈমান বাঁচে? পরকালে কি তাতে জান্নাত জুটবে? ১৫/১২/১৪



Add this page to your favorite Social Bookmarking websites
 
Last Updated on Monday, 15 December 2014 21:59
 
Dr Firoz Mahboob Kamal, Powered by Joomla!; Joomla templates by SG web hosting
Copyright © 2017 Dr Firoz Mahboob Kamal. All Rights Reserved.
Joomla! is Free Software released under the GNU/GPL License.