Home •বাংলাদেশ সাগরে ভাসছে রোহিঙ্গা মুসলিমঃ কতটুকু ঈমান নিয়ে বাঁচছে বাঙালী মুসলিম?
সাগরে ভাসছে রোহিঙ্গা মুসলিমঃ কতটুকু ঈমান নিয়ে বাঁচছে বাঙালী মুসলিম? PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Wednesday, 20 May 2015 04:16

মূত্রপান করছে রোহিঙ্গারা

টিভি,রেডিও ও পত্র-পত্রিকার খবর,৮ থেকে ১০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম আন্দামান সাগরে জাহাজে ভাসছে।তাদের মাঝে বহু নারী এবং শিশুও রয়েছে। জাহাজে খাবার নাই,খাবারের পানি নাই,ঔষধও নাই।ক্ষুধার্ত পেট,নিস্তেজ দেহ ও মলিন মুখ নিয়ে টিভি ক্যামেরার সামনে তারা কেঁদে কেঁদে “আমাদের বাঁচাও বাঁচাও” বলে সাহায্য চাইছে। বিবিসি’র সংবাদদাতা জনাথান হেড সরেজমিনে গিয়ে তথ্য দেনঃ থাইল্যান্ড উপকূলের অদূরে আন্দামান সাগরে মাছ ধরার একটি ট্রলারে প্রায় সাড়ে তিনশ রোহিঙ্গা এক সপ্তাহ ধরে খাদ্য ও পানীয়ের অভাবে নিজেদের মূত্র পান করে প্রাণবাঁচানোর সংগ্রাম করছে।ওই নৌকায় দশজন মারা গেছে। ৩৫০ জনের মত নারী,পুরুষ,শিশু গাদাগাদি করে সেটিতে  আছে। তারা জানিয়েছেন,দুমাস ধরে তারা ঐ ট্রলারে রয়েছে। থাইল্যান্ড এবং মালয়েশিয়ার উপকুল রক্ষীরা সম্প্রতি শক্ত অবস্থান নেওয়ায় মানব পাচারকারিরা উপকুলের কাছাকাছি গিয়ে নৌকা থেকে সটকে পড়েছে। অনেকগুলো নৌকায় কয়েক হাজার মানুষ দিনের পর দিন সাগরে ভাসছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার হিসাবে এ সংখ্যা আট হাজারের মত হবে। যাত্রীদের অধিকাংশই রোহিঙ্গা,তবে অনেক বাংলাদেশিও এগুলোতে রয়েছে। (সূত্রঃ বিবিসি বাংলা,১৫ই মে,২০১৫)।

 

রোহিঙ্গা মুসলিমদের এ এক করুন অবস্থা। ধুকে ধুকে তারা মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে। অনেকে বিনা চিকিৎসায় ডাইরিয়ায় মারা যাচ্ছে।বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ তাদের সে করুণদশা টিভিতে দেখেছে,কিন্তু কেউ এ অবধি উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি। মালয়েশিয়া,ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ড সরকার জাহাজগুলিকে তাদের সীমান্তে ঢুকতে দিচ্ছে না। অথচ প্রাণ বাঁচাতে আসা উদ্বাস্তুদের প্রবেশ রুখাটি আন্তর্জাতিক আইনে অপরাধ।কিন্তু কোন দেশই সে আইনের পরওয়া করছে না। এ এক চরমবিবেকশূণ্যতা।পৃথিবীতে প্রায় এক শত তিরিশি কোটি মুসলমান।তাদের মাঝে রয়েছে বহু লক্ষ আলেম,মুফতি,পীর,মোহাদ্দেস ও শত শত ইসলামি সংগঠনের নেতাকর্মী। কিন্তু তারাই বা কোথায়? মহান নবীজী (সাঃ) বিশ্বমুসলিমকে এক দেহ ও এক উম্মাহ বলেছেন। উম্মাহর এক অঙ্গে ব্যাথা হলে সমগ্র দেহে সে ব্যাথা অনুভুত হবে,অন্য অঙ্গগুলিও সে ব্যাথা রোধে এগিয়ে আসবে -সেটাই তো কাঙ্খিত। কিন্তু কোথায় সে ব্যাথার অনুভুতি? কোথায় উপশমের চেষ্টা? উম্মাহ যে বেঁচে আছে তারই বা প্রমাণ কৈ? প্রাণ থাকলে এ নৃশংস নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে কি সমগ্র উম্মাহ গর্জে উঠতো না?

 

উম্মাহর দেহে প্রাণ হলো ঈমান। দেহ প্রাণ হারালে অঙ্গে ছুরি চালালেও তাতে ব্যাথা অনুভুত হয় না;অন্যান্য অঙ্গগুলিও তখন নড়াচড়া করে না। সেরূপ প্রাণহীন তথা ঈমানহীন অবস্থাই এখন  মুসলিম উম্মাহর।ইহুদী,খৃষ্টান বা হিন্দুদের সাথে বিশ্বের কোথাও এরূপ বর্বরতা ঘটলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ত্বরিৎ বৈঠক বসতো এবং মায়ানমারের ফাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষিত হতো। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কি কম হৃদয়হীন? অথচ প্রতিবেশী হিসাবে মায়ানমার সরকারের নৃশংস নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশী সোচ্চার হওয়া উচিত ছিল তার। কিন্তু কিছু করা দুরে থাক,এ নির্মম নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে হাসিনা ও তার সরকার সম্পূর্ণ নিশ্চুপ। বাংলাদেশের জনগণের আচরনও কি কম হৃদয়হীন? ঘরবাড়ি পুড়িয়ে রোহিঙ্গা মুসলিমদের নির্মূলের প্রক্রিয়া নতুন ভাবে শুরু হয় ২০১২ সালে। টিভিতে সে বর্বরতার চিত্র দেখে সবচেয়ে বড় বড় প্রতিবাদ মিছিল গুলো তখন ইস্তাম্বুল,আংকারা,তেহরান,করাচী ও লাহোরে হয়েছে। ঢাকায় বা চট্টগ্রামে হয়নি।এবং আজও  হচ্ছে না। অথচ মজলুমের পক্ষ নেয়াটি তো ইসলামে ফরজ। ব্যক্তির মাঝে ঈমান ও সুস্থ্য বিবেকবোধ যে বেঁচে আচে -তা তো মজলুলের পক্ষ নেয়ার মধ্য দিয়েই প্রকাশ পায়। মৃত ব্যক্তির সে সামর্থ থাকে। বেঈমান দুর্বৃত্তেরও সে সামর্থ থাকে না। প্রায় শত বছর আগে প্রখ্যাত মাওলানা আবুল কালাম আযাদ লিখেছিলেন,“বলকানের রণাঙ্গনে কোন তুর্কি সৈনিক যদি গুলিবৃদ্ধ হয় বা আফ্রিকার জঙ্গলে কোন মুসলিমের পা যদি কাঁটা বিদ্ধ হয়,আর সে ব্যাথা যদি তুমি হৃদয়ে অনুভব না করো -তবে খোদার কসম তুমি মুসলমান নও।” -(সূত্রঃ আবুল কালাম আযাদ রচনাবলি,প্রকাশনায় ইসলামি ফাউন্ডশেন,ঢাকা)। অথচ রোহিঙ্গা মুসলিমের সংকট তো তার চেয়েও গুরুতর ও ভয়াবহ। তাদের সংকটটি কোন সৈনিকের গুলিবিদ্ধ বা কাটাবিদ্ধ হওয়ার নয়,সেটি তো একটি জনগোষ্ঠির নৃশংস নির্মূলের।এরূপ অসহায় মজলুমদের পক্ষ না নিলে বিচার দিনে মহান আল্লাহতায়ালার দরবারে যে দারুন অপরাধি হতে হবে এবং সে অপরাধে শাস্তি পেতে হবে -তা নিয়ে কি সন্দেহ আছে? এমন হৃদয়শূণ্য ও দায়িত্বশূণ্য ব্যক্তিটি নবীজী (সাঃ)র সামনেই বা তাঁর উম্মত রূপে মুখ দেখাবে কি করে? ঈমান কি ব্যক্তিকে কখনো উদ্ভিদের ন্যায় নির্জীব ও নিস্তেজ করে? ঈমান কি কখনো এরূপ বিবেকহীন,হৃদয়হীন,দায়িত্বহীন ও অনুভুতিহীন মানুষের মাঝে বাঁচে? সেটি সম্ভব হলে তো বনের পশুরাও ঈমানদার হতো।

 

যে ব্যর্থতা বাঙালী মুসলিমের

রোহিঙ্গাগণ যেমন মুসলিম,তেমনি তাদের নৃতাত্ত্বিক সম্পর্কও বাঙালী মুসলিমদের সাথে। বাংলাদেশই তাদের নিকটতম প্রতিবেশী;ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়া বা থাইল্যান্ড নয়। তাছাড়া যে ভাষায় তারা কথা বলে সে ভাষাটিও চট্রগ্রামের আঞ্চলিক বাংলার কাছাকাছি। এককালে চট্টগ্রাম ছিল অখন্ড আরাকান রাজ্যের অংশ,তখন এক অভিন্ন রাষ্ট্রে রোহিঙ্গাদের সাথে ছিল চট্টগ্রামবাসির বসবাস। অতীতে আরকানের রাজসভাতে কবি আলাউলের ন্যায় অনেক বাঙালী কবি আশ্রয় পেয়েছেন। অতএব রোহিঙ্গাদের বিপদকালে যে দেশটির সর্বপ্রথম এগিযে আসা উচিত ছিল সেটি বাংলাদেশ। সে সাথে বৃহত্তম চট্টগ্রামবাসীর। বাঙালী জাতীয়তা নিয়ে যাদের গর্ব,তাদের বিবেকেও রোহিঙ্গাদের এ দুর্যোগে সহানুভূতি জাগা উচিত ছিল। কিন্তু সেটি ঘটেনি। বাঙালী জাতীয়তাবাদি হাসিনা সরকার আশ্রয়প্রার্থী রোহিঙ্গাদের আবার সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশীদের জন্য এটি এক ভয়ানক নৈতীক ও ঈমানী ব্যর্থতা। এ ব্যর্থতার কালিমা বাংলাদেশের জনগণকে আগামী বহু শত বছর ধরে বহন করতে হবে। বাংলাদেশের মাটিতে জন্ম নেয়া আগামীদিনের ঈমানদারগণ তখন প্রশ্ন তুলবে, “আমাদের পূর্বপুরুষগণ কি এতই বিবেকহীন ছিল?” এবং এ অপরাধে আখেরাতেও আসামীর কাটগড়ায় দাঁড়াতে হবে।বিশ্ববাসীর সামনেও প্রকাশ পেল,বাঙালী মুসলিমগণ অন্যদের থেকে শুধু হাত পেতে নিতেই জানে,দিতে নয়।

 

ঘরে আগুণ লাগলে আসল চরিত্রটি প্রকাশ পায় পাশের প্রতিবেশীর। দুর্যোগের সে মুহুর্তেও গরু-ছাগলদের ঘাস খাওয়াতে ছেদ পড়ে না। অনুরূপ চিত্রটি দেখা যায় পশু চরিত্রের প্রতিবেশীদের ক্ষেত্রেও। মানবরূপী সে পশুগণ আগুণ থামাতে না নেমে দূরে দাঁড়িয়ে ঘরবাড়ি পোড়ার দৃশ্য দেখে। কিছু করার বদলে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর ও দোকানপাট পোড়ার দৃশ্য এবং তাদের জাহাজে ভাসার চিত্রটি টিভির পর্দায় দেখাটি তখন এরূপ বিবেকহীনদের রীতি হয়ে দাঁড়ায়। মহাজ্ঞানী রাব্বুল আ’লামীনের কাছে এরূপ বিবেকশূণ্য ও ঈমানশূণ্য ব্যক্তিবর্গ শুধু গবাদী পশুতুল্যই তার চেয়েও নিকৃষ্ট। ঈমানশূণ্যদের বর্ণনা দিতে গিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে “উলাইয়ীকা কা’আল আনয়াম,বাল হুম আদাল” অর্থ: তারাই হলো গবাদী পশুর ন্যায় বরং তার চেয়েও নিকৃষ্ট। যে দেশ দুর্বৃত্তিতে বিশ্বে ৫ বার প্রথম হয় সে দেশ যে এরূপ মানবরূপী পশু উৎপাদনে বিশ্বরেকর্ড গড়বে তা নিয়েও কি সামান্যতম সন্দেহ চলে? এদের কারণেই প্রতিবেশী রোহিঙ্গা মুসলিমদের আজ  সাগরে ভাসতে হচ্ছে এবং প্রাণ বাঁচাতে মুত্র পান করতে হচ্ছে। এরূপ এক নিদারুন বিবেকহীনতা ও ঈমানশূণ্যতার কারণে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও তাঁর শরিয়তি আইন বাংলাদেশের ন্যায় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে আস্তাকুঁরে গিয়ে পড়েছে এবং বিজয়ী হয়েছে কুফরি বিচার ব্যবস্থা। এবং সে অভিন্ন কারণেই শাপলা চত্বরে পুলিশ,র‌্যাব,বিজিবি ও সেনাবাহিনীর গুলিতে মুসল্লিরা লাশ হয়ে ময়লার গাড়িতে গায়েবে হয়েছে। এবং হাজার হাজার মানুষের চোখের সামনে শ্লীলতা হারাচ্ছে নারীরা। অন্যায় রুখতে নবীজী (সাঃ)বাহুবল প্রয়োগের কথা বলেছেন। কিন্তু ১৫ কোটি মুসলমানের মাঝে ক’জনের আছে সে বাহুবল? সেটি থাকলে তো দেশে লাগাতর জিহাদ শুরু হত। সেটি সম্ভব না হলে জবান দিয়ে রুখতে বলেছেন। ১৫ কোটি মুসলমানের মাঝে ক’জনের আছে সে জবানের বল? সেটি থাকলে তো দেশব্যাপী গগনবিদারি আওয়াজে দুর্বৃত্তদের জীবনটাই অতিষ্ট হয়ে উঠতো। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কোথায় সে প্রতিবাদ? আওয়াজ তোলঅ অসম্ভব হলে নবীজী (সাঃ) দুর্বৃত্তদের হৃদয় দিয়ে ঘৃণা করতে বলেছেন। কিন্ত ঘৃণার সামর্থই বা ১৫ কোটি মুসলমানের মাঝে ক’জনের? সে সামর্থ থাকলে কি দেশে চোরডাকাত,ভোটডাকাত ও স্বৈরাচারি দুর্বৃত্তগণ কোন একটি নির্বাচনেও বিজয়ী হত? মাছের পচন মাথায় শুরু হয়,তেমনি বাংলাদেশেও নৈতিকতার সবচেয়ে বড় পচনটি দেশের প্রধানমন্ত্রীর। হাসিনার সে নৈতিক পচনের কারণেই মরণাপন্ন রোহিঙ্গারা বহু শত মাইল দূরের অজানা-অচেনা থাইল্যান্ড,মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়ার পথে গভীর সাগরে নৌকা ভাসালেও,পাশের বাংলাদেশমুখী হতে তারা রাজী নয়। বরং বাংলাদেশের রোহিঙ্গারাও সেখান থেকে পলায়নের রাস্তা খুঁজছে।

 

অথচ প্রাণ বাঁচাতে উদ্বাস্তু হওয়াটি কোন নতুন ঘটনা নয়। বিশ্বের নানা অঞ্চলে সেটি বার বার ঘটছে। ইসরাইলী আগ্রাসনের মুখে বহু লক্ষ ফিলিস্তিনী আজ ৬০ বছরেরও বেশী কাল ধরে উদ্বাস্তু। প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় না পেলে তারা বাঁচতো কেমনে? ৩০ লাখ আফগান উদ্বাস্তুদের দীর্ঘ ২৫ বছরেরও বেশী কাল যাবত স্থান দিয়েছে পাকিস্তান।বহু লাখ আফগান উদ্বাস্তুর এখনো দেশে ফেরা হয়ে উঠেনি। ১৯৪৭য়ে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় মুসলমানকে উদ্বাস্তু হতে হয়। পাকিস্তানের বড় বড় শহুরগুলির বিপুল সংখ্যক বাসিন্দা তো ভারত থেকে আসা উদ্বাস্তু। দেশটির সর্ববৃহৎ শহর করাচীর সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক হলো মোহাজির। কয়েক কোটি উদ্বাস্তু নিয়ে পাকিস্তানের জনসংখ্যা বাংলাদেশের চেয়ে বেড়ে আজ  ২০কোটিতে পৌঁছেছে। কিন্তু তাতে কি দেশটি বাংলাদেশের চেয়ে দুর্বল হয়েছে। বরং ৫৭টি মুসলিম দেশের মাঝে আনবিক অস্ত্রধারি ও বিশাল সেনাবাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ হলো পাকিস্তান। অপর দিকে কয়েক লাখ বিহারী উদ্বাস্তুদের ঘরবাড়ি ও দোকান-পাট কেড়ে নিয়ে বাংলাদেশ কি সম্পদশালী ও শক্তিশালী হয়েছে?

 

কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিলেই বাংলাদেশে খাদ্য ও বাসস্থান সংকট দেখা দিত –সরকারের সে ভাষ্যটি কি সঠিক? বাংলাদেশের জনসংখ্যা যখন আজকের তুলনায় সিকি ভাগ ছিল তখনো তো দেশে ভয়ানক দুর্ভিক্ষ এসেছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ তখনও অনাহারে মারা গেছে। রিজিক আসে মহান করুণাময় আল্লাহতায়ালা থেকে। ফলে দেশে জনসংখ্যা বাড়লে সে দেশে রিজিকদাতার পক্ষ থেকে খাদ্য ও সম্পদের জোগানও বেড়ে যায়। তাছাড়া মোহাজিরগণ তো আল্লাহর মেহমান। ফলে তাদের আগমনে দেশে রহমতও আসে। এটিই তো ইসলামের মৌল বিশ্বাস। সে সামান্য ঈমানটুকু হাসিনার থাকলে কি সে প্রাণ বাঁচাতে আসা মজলুম রোহিঙ্গাদের নৌকাগুলিকে আবার সাগরে ভাসিয়ে পাঠাতো? এক মুসলমান তো অপর মুসলমানের ভাই। তাই রোহিঙ্গা মুসলমানগণ বাঙালী মুসলমনাদের ভাই। সে ঘোষণাটি তো মহান আল্লাহতায়ালার।কোন ভাই কি তার নিজ ভাইয়ের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে? হাসিনার মানবতাশূণ্য এ নির্দয় আচরণ মহান আল্লাহতায়ালার দরবারে যে আযাবের কারণ হবে -সে ভয় কি তার আছে? তার এরূপ নিষ্ঠুর আচরণে বিশ্ববাসীই বা কি ভাবছে সেটিও কি কখনো ভেবেছে?

 

নাশকতা সেক্যুলারিজমের

দেশের রাজনীতি,সংস্কৃতি ও বিদেশনীতির মধ্য দিয়ে দেশের আলোবাতাস,মাঠঘাট বা জলবায়ু কথা বলে না। বরং তাতে প্রকাশ পায় দেশের নেতা-নেত্রী, বুদ্ধিজীবী ও জনগণের ধর্ম বা জীবন-দর্শন। তাই দেশবাসীর ধর্মীয় চেতনা বা জীবন-দর্শন পাল্টে গেলে রাজনীতি,সংস্কৃতি ও বিদেশনীতিও পাল্টে যায়। বাংলাদেশ,থাইল্যান্ড,মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার ন্যায় প্রতিবেশী দেশগুলো যে কারণে বিপদাপন্ন রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিচ্ছে না তার কারণ দেশগুলির বস্তুবাদী ও জাতীয়তাবাদী সেক্যুলার নীতি। সেক্যুলারিজমের আভিধানিক অর্থ ইহজাগতিকতা;ফলে সেক্যুলার রাজনীতির মূল বিষয়টি হলো পার্থিব স্বার্থসিদ্ধি ও নিজ নিজ সম্ভোগবৃদ্ধি। ফলে জাতিয়তাবাদী উগ্রতায় দেশে দেশে স্বার্থশিকারিদের মাফিয়াচক্র গড়ে উঠে। নিজেদের ভোগের আয়োজনে কারো ভাগ না দেয়াটাই তাদের রাজনীতি ও সংস্কৃতি। শুধু রাষ্ট্রীয় ট্রেজারি,সরকারি ব্যাংক, বিদেশী অনুদান ও রিলিফের মালের উপরই শুধু নয়,অন্যদের অর্থকড়ি,ঘরবাড়ি,ব্যবসাবাণিজ্য ও শ্লীলতার উপরও তারা হাত দেয়। বাংলাদেশের রাজনীতি এরূপ দুর্বৃত্তদের হাতে অধিকৃত হওয়ায় আজ যেমন রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুগণ বাংলাদেশে আশ্রয় পাচ্ছে না,একাত্তরে তেমনি বহুলক্ষ বিহারী সর্বস্ব হারিয়েছে। এরূপ দুর্বৃত্তচক্রের হাতে মুজিবামলে লুট হয়ে গেছে হাজার হাজার কোটি টাকার রিলিফের মাল।

 

অথচ মু’মিনের জীবনে চিত্রটি ভিন্নতর হয়।সেখানে কাজ করে পরকালের ভয়। কাজ করে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার ব্যগ্রতা। সে ব্যগ্রতায় স্বার্থপরতার বদলে সৃষ্টি হয় স্বার্থত্যাগের  প্রেরণা। তেমনি একটি চেতনার কারণে ১৯৪৭ সালে কয়েক লাখ বিহারীরা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সমাদার পেয়েছে;ঘরবাড়ি ও ব্যবসাবাণিজ্য গড়ে তোলার সুযোগও পেয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে আসা বিহারী দুস্থ্যদের সাহায্য করাকে সেদিনের বাঙালী মুসলিমগণ ইবাদত মনে করেছে। অথচ সেক্যুলারিস্টদের কাছে মানবতা,ধর্মচিন্তা ও আখেরাতের ভাবনাগুলি সেকেলে ও অপ্রাসঙ্গিক। তাদের আমৃত্যু বসবাস স্বার্থপরতা নিয়ে। কথা হলো, নিজের স্বার্থ-উদ্ধার কি অন্যদের স্বার্থহানি ছাড়া সম্ভব? তাই সেক্যুলারিস্ট দুর্বৃত্তদের তান্ডবে বিহারীদের যেমন ঘরবাড়ি হারিয়ে বস্তিতে যেতে হয়েছে,রোহিঙ্গাদের তেমনি সাগরে ভাসতে হচ্ছে। স্বার্থসিদ্ধির তাড়না সেক্যুলারিস্টদের যে কতটা নির্মম ও নিষ্ঠুর করে তার উদাহরণ হলো আধুনিক ইউরোপ। ইউরোপীয় সেক্যুলারিষ্টগন শধু ইউরোপকে নয়,সমগ্র বিশ্বকে রণাঙ্গণে পরিণত করেছে। জন্ম দিয়েছে দুটি ভয়াবহ বিশ্বযুদ্ধের -যাতে প্রাণনাশ ঘটে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি মানুষের। সেক্যুলার ব্রিটিশদের স্বার্থসিদ্ধির রাজনীতি সুজলা-সুফলা বাংলাদেশকে দুই বার ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ উপহার দিয়েছে। প্রথমটি ছিল ছিয়াত্তরের মনন্তর –যাতে বাংলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষের প্রাননাশ ঘটে। আর দ্বিতীয়টি ঘটে ১৯৪৩ সালে। ব্রিটিশ শাসনের পূর্বে বাংলার বুকে কোন কালেই এরূপ দুর্ভিক্ষ আসেনি। বিগত ১৪০০ বছরের অধীক ইসলামের ইতিহাসে কোন মুসলিম দেশে কি এরূপ দুর্ভিক্ষ এসেছে? সাম্রাজ্যবাদ,উপনিবেশবাদ,বর্ণবাদ,এথনিক ক্লিনজিংয়ের ন্যায় নানা রূপ ভয়াবহ মতবাদ জন্ম নিয়েছে সেক্যুলারিজমের গর্ভে।

 

বাংলাদেশী সেক্যুলারিস্টদের দুর্বৃত্তি কি কম? তাদের হাতে শুধু যে মানুষ খুন ও গুম হচ্ছে তা নয়,ধর্মীয় চেতনা এবং মানবতাও মারা পড়েছে। ইসলামী ভাতৃত্বকেই তারা শুধু অপ্রাসঙ্গিক করে না,মনযোগ হটায় আখেরাতের কল্যাণ চিন্তা থেকেও। এভাবে বিপদ বাড়াচ্ছে আখেরাতেও। অথচ একমাত্র মহান আল্লাহর ভয় ও আখেরাতের স্বার্থচিন্তাই মানুষকে অপরের কল্যাণে নিজের স্বার্থত্যাগে উদ্বুদ্ধ করে।রাষ্ট্র তখন কল্যাণকর্মে ভরে উঠে। সে  আখেরাতের স্বার্থচিন্তা নিয়েই মদিনার আনসারগণ নিজ নিজ বসত ভিটা বা দোকানকে দুই ভাগ করে এক ভাগ তার মোহাজির ভাইকে দান করেছিলেন। তেমনি এক প্যান-ইসলামিক চেতনা নিয়েই বাঙালী মুসলিমগণ ১৯৪৭য়ে বহু লক্ষ ভারতীয় মুসলমানকে পূর্ব পাকিস্তানে স্থান দিয়েছিল। অথচ সেক্যুলারিজমে প্যান-ইসলামিক মুসলিম ভাতৃত্ববোধই শুধু মারা পড়ে না,চাষাবাদ বাড়ে উগ্র স্বার্থপরতার। স্বার্থপর মানুষগুলোর একের হাত তখন অপরের পকেটে ঢুকে। ঘুষ,চুরি-ডাকাতি ও সন্ত্রাস তখন দেশজ সংস্কৃতিতে পরিণত হয়। বাংলাদেশ তো সে পথেই বহুদূর এগিয়েছে।এমন নির্দয় সংস্কৃতিতে মায়ানমারের রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে স্থান পাবে -তা কি আদৌ ভাবা যায়? তাদের আজ সাগরে ভাসা ও খ্যাদ্যপানীয়ের অভাবে মুত্র পানের প্রেক্ষাপট তো এটাই।

 

হৃদয়শূণ্য হাসিনা

বাংলাদেশে নির্মম নিষ্ঠুরতার মডেল দেশের চোর-ডাকাত,খুনি বা সন্ত্রাসীগণ নয়। সেটি খোদ প্রধানমন্ত্রী হাসিনা। তার কিছু উদাহরন দেয়া যাক। রোহিঙ্গা মুসলিমদের ঘরবাড়ি পোড়া ও সাগরে ভাসার হৃদয়বিদারক দৃশ্যগুলি প্রথম প্রচার পায় ২০১২ সালের জুলাইতে। তখন রোহিঙ্গা মুসলিমদের গৃহে,দোকানপাটে ও মসজিদে আগুণ দেয়া শুরু হয়। টিভি চ্যানেলগুলি সে আগুনের লেলিহান শিখা বিশ্বময় দেখিয়েছে। সারা বিশ্বের বিবেকমান মানুষের বিবেকে তাতে আহাজারি উঠেছে। কিন্তু দূর থেকে তাদের কিছু করার ছিল না। সে সামর্থ ছিল হাসিনার। কিন্তু সে নির্মম নিষ্ঠুরতা হাসিনাকে স্পর্ষ করেনি। প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গাগণ সাগর পথে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু হাসিনার আজ্ঞাবহ বাংলাদেশের কোষ্টাল গার্ডগণ নৌকা থেকে তাদের ডাঙ্গায় পা রাখতে দেয়নি।বলপূর্বক নৌকাগুলোকে পুণরায় সাগরে ভাসিয়ে দেয়া হয়। এটি ছিল সমগ্র মানব ইতিহাসে অতি নির্মমতম নিষ্ঠুরতা। কোন সভ্যদেশে এমনটি ঘটে না।

 

আল –জাজিরা’তে দেয়া ২৭/০৭/১২ তারিখের সাক্ষাতকারে শেখ হাসিনা যা বলেছিলেন তা হলো তার বিবেকহীনতা,দায়িত্বহীনতা ও ঈমানহীনতার দলিল। তিনি বলেছিলেন, “রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশে কোন স্থান নাই”। এবং যুক্তি দেখিয়েছিলেন, “বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ, অতএব রোহিঙ্গাদের জন্য আশ্রয় দেয়ার প্রশ্নই উঠে না।” সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, “মায়ানমার সরকার সমস্যার সমাধানে চেষ্টা করছে। অবস্থার উন্নতি ঘটেছে এবং উদ্বাস্তু আসাও বন্ধ হয়েছে।” এভাবে হাসিনা সাফাই গেয়েছেন মায়ানমার সরকারের। তিনি যেন সেদেশের সরকারের মুখপাত্র। প্রশ্ন হলো, মায়ানমার সরকারের নীতিতে যে পরিবর্তন এসেছে সে প্রমাণ তিনি কোথা থেকে পেলেন? মায়ানমার সরকারের পক্ষে হাসিনা যখন এরূপ সাফাই গাইলেন,তার ক’দিন আগে সেদেশের প্রেসিডেন্ট সকল রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারি বলে মায়ানমার থেকে অপসারণের দাবী করেছিল।

 

রোহিঙ্গাদের দুঃখ লাঘবে কোনরূপ উদ্যোগ নেওয়া দূরে থাক,আওয়ামী লীগ সরকারের কোন কোন মন্ত্রী সে দুরবস্থা নিয়ে রুচীহীন মিথ্যাচার করেছে। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপুমনি তো মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের সংকটের সাথে ইসলামি উগ্রবাদকে জড়িয়েছে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত গণহত্যাকে চিত্রিত করেছে বাংলাদেশের জামায়াত-শিবিরের কাণ্ড বলে। অথচ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নির্মূল প্রক্রিয়ার যখন শুরু,তখন পৃথিবীর এ প্রান্ডে জামায়াত বা শিবির বলে কিছু ছিল না।এমন কি বাংলাদেশ বলেও কোন স্বাধীন দেশ ছিল না। মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের নির্মূল প্রক্রিয়া শুরু হয় শতাধিক বছর আগে। থেমে থেমে লাগাতর চলছে সে নিধন প্রক্রিয়া। সেটি উগ্র বার্মিজ জাতিয়তাবাদীদের হাতে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডটি ঘটে ১৯৪২ সালে। তখন চলছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। মায়ানমারের ব্রিটিশ শাসকগণ তখন জাপানীদের হাতে মার খাচ্ছিল। ব্রিটিশ সরকার তখন দেশের উপর নিয়ন্ত্রন হারায়। সে অরাজক পরিস্থিতিতে বার্মিজগণ তখন মায়ানমারকে মুসলিম শূণ্য করার পরিকল্পনা নিয়ে ময়দানে নামে। ১৯৪২ সালের ২৮শে মার্চ তারিখে প্রায় ৫,০০০ রোহিঙ্গা মুসলমানকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়। এর পর চলতে থাকে থেমে থেমে মুসলিম নিধন। নিধন প্রক্রিয়া থেকে বাঁচতে শুরু হয় রোহিঙ্গদের দেশ ছাড়ার পালা। মায়ানমার সরকার সেটিই চায়। এরূপ নির্মূল প্রক্রিয়ার ফলে মায়ানামারে বৌদ্ধ জনসংখ্যা বাড়লেও এলাকার রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বাড়েনি। বরং সেখানে বৃদ্ধি পেয়েছে রাখাইন সম্প্রদায়ে বৌদ্ধদের সংখ্যা। রোহিঙ্গা মুসলমানদের সংখ্যা বহু বছর আগে প্রায় দশ লাখ ছিল। কিন্তু সে সংখ্যা এখন ৮ লাখের বেশী নয়। লাগাতর এ নির্যাতন থেকে বাঁচতে প্রায় তিনি লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। প্রায় ২৪ হাজার আশ্রয় নিয়েছে মালয়েশিয়ায়।বহু রোহিঙ্গা মুসলমান বহু কষ্টে দূরবর্তী থাইল্যান্ড,ভারত,ব্রুনাই,সৌদি আরব এবং পাকিস্তানেও আশ্রয় নিয়েছে। স্রেফ মানবিক গুণে নয়,ইতিহাস-জ্ঞানেও আওয়ামী লীগ মন্ত্রীরা যে কতটা অজ্ঞ সেটি কি এরপরও বুঝতে বাঁকী থাকে?

 

বধ্যভূমি মানবতার

বাংলাদেশ আজ যে শুধু গণতন্ত্রের বধ্যভূমি -তা নয়। বধ্যভূমি মানবতারও। প্রতিবেশী রোহিঙ্গা মুসলমানদের সাগরে ভাসার কারণ শুধু ফাসিস্ট মায়ানমার সরকার নয়। দায়ী বাংলাদেশের ফ্যাসিস্ট সরকারও। মানবতাশূণ্য দুই ফ্যাসিস্ট শক্তির কারণে রোহিঙ্গাদের আজ সাগরে ভাসতে হচ্ছে এবং প্রাণ বাঁচাতে মূত্র পান করতে হচ্ছে। বাংলার মানুষ অতীতে কোন কালেই এতো বিবেকশূন্য ছিল না। নানা ধর্ম,নানা বর্ণ ও নানা ভাষার মানুষ বাংলার সবুজ-শ্যামল-উর্বর ভূমিতে চিরকালই নিরাপদ আশ্রয় পেয়েছে।বাংলার জনগণ এজন্যই এক শংকর জনগোষ্ঠিতে পরিণত হয়েছে।হিন্দু রাজা শংকরাচার্যের আমলে বৌদ্ধগণ যখন নির্মূল হচ্ছিল তারাও তখন বাংলার বুকে এসে নিরাপদ আশ্রয় পেয়েছে।অথচ সেক্যুলারিস্টদের হাতে অধিকৃত হওয়ায় বাংলাদেশের সে পরিচিত আজ  আর নেই।সেক্যুলার দুর্বৃত্তদের বর্বরতার প্রথম শিকার,ভারত থেকে বাঁচতে আসা অবাঙালী বিহারীগণ। এখন প্রাণ বাঁচাতে এসে আশ্রয় পাচ্ছে না প্রতিবেশী রোহিঙ্গাগণ। হাসিনা হৃদয়ে সামান ঈমান থাকলে আচরন কি এরূপ হত? ঈমানদারকে তো প্রতিমুহর্ত বাঁচতে হয় মহান আল্লাহতায়ালা ও পরকালের ভয় নিয়ে। সে ভয়ের কারণে প্রতিবেশী মুসলমানের প্রতি ভাতৃত্ববোধ অনিবার্য কারণেই এসে যায়। এটিই প্যান-ইসলামিক চেতনা। এমন চেতনার কারণে বিভিন্ন ভাষার মুসলিম অঞ্চলগুলির মাঝে অতীতে কোন সীমান্ত ছিল না। যোগাযোগে পাসপোর্ট বা ভিসা লাগতো না। অথচ সে চেতনাটি সেক্যুলারস্টদের কাছে গণ্য হয় মধ্যযুগীয় গোঁড়ামী ও সাম্প্রদায়িকতা রূপে। চিহ্নিত হচ্ছে মৌলবাদ,ধর্মীয় উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ রূপে।

 

প্রতিশ্রুত আযাব

সেক্যুলারিস্টগণ চায়,মুসলমানগণ বেড়ে উঠুক ভাষা,বর্ণ ও ভূগোল-ভিত্তিক আঞ্চলিকতা নিয়ে। চায়,মহান আল্লাহতায়ালার হুকুমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। চায়,শরিয়তের অবাধ্যতা। ফলে সেক্যুলারিস্টদের হাতে দেশ অধিকৃত হলে সেদেশের শিক্ষানীতি,মিডিয়ানীতি,বুদ্ধিবৃত্তি ও রাজনীতির মূল এজেন্ডা হয় আল্লাহর স্মরণকে ভূলিয়ে দেয়া এবং মানুষকে ইসলামে অঙ্গিকারহীন করা। ফলে বিপদটি ভয়ানক। তখন অসম্ভব হয় ঈমান নিয়ে বেড়ে উঠা। অসম্ভব হয়,প্রতিবেশী মজলুল মুসলমানের প্রতি ঈমানী দায়িত্বপালন। বাংলাদেশ আজ তারই নজির। এরূপ বর্বর অধিকৃতির বিরুদ্ধে মুসলিম দেশে জিহাদ শুরু না হলে পরিণতিটি সুখের হয় না। তখন অনিবার্য হয় মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুত আাযাব। আযাব আসে মহান আল্লাহতায়ালার খলিফা রূপে দায়িত্ব পালন না করার শাস্তি রূপে –যেমন এসেছিল বনি ইসরাঈলীদের উপর। বাঙালী মুসলিমের জীবনে সে আযাব যেমন মুজিবামলে এসেছিল,তেমনি লাগাতর আসছে হাসিনার আমলেও। মুজিব আমলে আযাব নেমে আসে দুর্ভিক্ষ,বাকশালী স্বৈরাচার ও বিশ্বব্যাপী তলাহীন ভিক্ষার ঝুলি হওয়ার অপমান নিয়ে। মুজিব ও তার রক্ষিবাহিনী পরিণত হয় আযাবের হাতিয়ারে। হাসিনার আমলেও আযাবের নৃশংসতা কি কম? পুলিশ,র‌্যাব,আদালত,প্রশাসন ও নানারূপ সরকারি প্রতিষ্ঠান পরিণত হয়েছে খোদ আযাবের যন্ত্রে। ফলে বাংলাদেশের বুকে যত মানুষ বন্যপশু,শাপের কামড়,চোরডাকাত ও সন্ত্রাসীদের হাতে মারা যায়,তার চেয়ে বহুগুণ বেশী মারা যায় পুলিশ,র‌্যাব বা সামরিক বাহিনী ও সরকারি দলের গুন্ডাদের হাতে। নারীরা শ্লীলতা হারায় সরকারি দলের ক্যাডারদের হাতে। দেশে আজন নারী-পুরুষ -কারোই কোন নিরাপত্তা নেই। এটি কি কম আযাব? আযাব না বলে এগুলিকে কি রহমত বলা যায়? ইসলামচ্যুৎ ও ইসলামে অঙ্গিকারশূণ্যদের নির্বাচনে বিজয়ী করা ও তাদেরকে শাসকরূপে মেনে নেয়া এজন্যই কবিরা গুনাহ। এটি তো আযাব নামিয়ে আনার পথ। এটি তো শয়তান ও তার দাসদের কাছে আত্মসমর্পণ। এ গুনাহর শাস্তিও তাই বিশাল। তখন সে জনপদে পবিত্র কোরআনে প্রতিশ্রুত আযাবও নেমে আসে। তখন লক্ষ লক্ষ মানুষ সামুদ্রিক জলোছ্বাসে ও সুনামীতে ভেসে যায়;মারা যায় দুর্ভিক্ষে। দুর্বৃত্তিতে চ্যাম্পিয়ান রূপে তখন বিশ্বজুড়ে ধিক্কারও জুটে। তাই ইসলামে অতি পবিত্র ইবাদতটি বনের হিংস্র পশু তাড়নো নয়,বরং দেশ থেকে মহান আল্লাহতায়ালার দুষমন তাড়ানো। সে পবিত্র কর্মটি সমাধা করতে নবীজী (সাঃ)র শতকরা ৭০ ভাগের বেশী সাহাবাকে শহীদ হতে হয়েছে।সে আমলে বাংলাদেশের চেয়ে ৫০ গুণের অধিক ভূ-ভাগ জুড়ে মহান আল্লাহতায়ালার সার্বভৌমত্ব ও শরিয়তের প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছিল তো সে দুর্বৃত্তদের নির্মূলের পরই।

 

তবে আযাব যত ভয়ানকই হোক,সেক্যুলারিষ্টগণ সে আযাবকে আযাব বলে না। সুনামী,জলোচ্ছ্বাস,ঘূর্ণিঝড়, দুর্ভিক্ষ ও ভূমিকম্পের ন্যায় আযাবকে তারা বলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এভাবে দোষ দেয় প্রকৃতির উপর। এভাবে নিজেদের কর্মগুণে অর্জিত আযাবের বিষয়টি এড়িয়ে যায় এবং তা থেকে শিক্ষা নেয় না। অথচ মহান আল্লাহতায়ালার কোরআনী পরিভাষায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে কোন কিছু নাই। প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানই হলো মহান আল্লাহতায়ালার সৃষ্টি এবং তাঁর আজ্ঞাবহ দাস। সুনামী,জলোচ্ছ্বাস,ঘূর্ণিঝড় বা ভূমিকম্প সৃষ্টি দূরে থাক,প্রকৃতির তো সামর্থ নেই গাছের একটি মরা পাতাকে মাটিতে ফেলার। পৃথিবী পৃষ্ঠে বা সমগ্র বিশ্বভূবনে যা কিছু ঘটে তা ঘটে একমাত্র মহান আল্লাহতায়ালার ইচ্ছায়। তাঁর হুকুমে অতীতে সাগরের মধ্য দিয়ে রাস্তা নির্মিত হয়েছে,মরুর বুকে মেঘের সামিয়ানা টানানো হয়েছে। তাঁরই নির্দেশে রেডিমেড খাদ্য আসমান থেকে নেমে এসেছে এবং পাথর ফেটে ঝর্ণা সৃষ্টি হয়েছে। এবং জীবিত হয়েছে মৃতরা।অতীতে হাজার হাজার মানুষ মহান আল্লাহতায়ালার এরূপ বহু কুদরত স্বচোখে দেখেছে। তাই সুনামী,ভূমিকম্প,খড়া,বন্যা,ঘুর্ণিঝড় –এগুলিকে প্রকৃতির সৃষ্ট দুর্যোগ বল্লে কি ঈমান বাঁচে? সেটি তো মহান আল্লাহতায়ালার কুদরতকে ভূলিয়ে দেয়ার কৌশল। এগুলি তো বেঈমানীর লক্ষণ। অথচ সেক্যুলারিস্ট বুদ্ধিজীবী,রাজনীতিবিদ ও সেক্যুলারিস্ট সরকারের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তো বাঁচে এরূপ বেঈমানির উৎপাদন নিয়ে। ফলে তাদের অপরাধটি শুধু মহান আল্লাহতায়ালার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের নয়,জনগণকে ঈমানশূণ্য করারও।

 

বেঁচে আছে কি ঈমান?

আগুণের উত্তাপ অন্ধ ও বধিরগণও টের পায়।তেমনি ব্যক্তির ঈমানও দেহের মাঝে গোপন থাকে না। ঈমান শুধু নামায-রোযা ও হজ-যাকাতে প্রকাশ পায় না,ঈমানের প্রবল প্রকাশ ঘটে জিহাদে। ঈমান তখন ক্বালব থেকে গলা,মুখ,জিহ্বা ও হাতে-পায়ে নেমে আসে। ঈমানদারের মুখে তখন শুধু যিকরই উঠে না,জালেমের বিরুদ্ধে বজ্রনাদও উঠে। হাতে শুধু কলমই উঠে না,হাতিয়ারও উঠে। হাতের কাছে যা পায় তা নিয়ে দুর্বৃত্ত শাসকের বিরুদ্ধে জিহাদ শুরু করে। হিন্দু রাজা দাহিরের দুঃশাসন থেকে সে দেশের জনগণের জানমাল ইজ্জত-আবরু বাঁচাতে মুসলিম বাহিনী জিহাদে নেমেছে জন্মভূমি থেকে হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে সিন্ধুতে এসে।ফলে নিজদেশে দাহিরদের শাসন শুরু হলে কোন মু’মিন ব্যক্তি কি নীরব থাকতে পারে? জালেমের বিরুদ্ধে জিহাদ তো ঈমানের দায়বদ্ধতা। জান্নাত ক্রয়ের সেটিই পথ।

 

১৯৪৭য়ে বাঙালী মুসলিমদের আর্থিক অবস্থা আজকের ন্যায় এতটা স্বচ্ছল ছিল না। মুসলমানের ভিটায় দালান ঘর থাকাটি ছিল অতিশয় বিরল ব্যাপার। এমন কি টিনের চাল বা কাঠের দরজাও ছিল না। শতকরা ৯৯% ভাগ দালান কোঠার মালিক ছিল হিন্দুরা। কিন্তু সে দূর্দিনেও ভারত থেকে আসা মোহাজিরদের জন্য তারা স্থান করে দিয়েছে। কিন্তু তাতে কি পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ না খেয়ে থেকেছে? জুটেছে কি তলাহীন ভিক্ষার ঝুলির খেতাব? মানুষ যেখানেই ঘর বাঁধে সেখানেই তার রিজেকের ব্যবস্থা হয়। সেটি হয় মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে। আল্লাহতায়ালার সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হলো মানুষ;তেল,গ্যাস বা সোনার খনি নয়। তেল-গ্যাসের খনিতে দেশের শক্তি বাড়ে না। বাড়ে মানব খনিতে। আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টিকে আপদ ভাবলে বা তাদের   সংখ্যাবৃ্দ্ধিতে দেশে সংকট দেখা দিবে -সেটি বিশ্বাস করলে কি ঈমান থাকে? বাংলাদেশে আজ  দালান-কোঠা বেড়েছে,মাথাপিছু আয়ও বেড়েছে। গত ১৪/০৫/১৫ তারিখে বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিক্সের ঘোষণা, বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় বেড়ে ১৩১৪ ডলার হয়েছে। এ আয় পাকিস্তান ও ভারতের মাথাপিছু আয়ের চেয়েও অধীক। অথচ ১৯৪৭য়ে মাথাপিছু আয় এর সিকিভাগও ছিল না। কিন্তু প্রশ্ন হলো,মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির সাথে মানবতা বা মানবিক মূল্যবোধও কি বেড়েছে? বরং যা বেড়েছে তা হলো দুর্বৃত্তি ও নিষ্ঠুর বর্বরতা।তাই দেশে মানুষ খুন ও গুম হয়। বিশ্ববিদ্ব্যালয় অঙ্গণে মেয়েদের বিবস্ত্র করা হয় এবং ধর্ষণে উৎসব হয়। নির্বাচনের নামে ভোটডাকাতিও হয়।মাথাপিছু আয়ু বৃদ্ধির সাথে যা প্রবল ভাবে বেড়েছে তা হলো ঈমানশূণ্যতা।আর ঈমানশূণ্যতার সাথে উপার্জন ও সম্ভোগের নেশা বাড়লে জঘন্য অনৈতিক কাজেও কি তখন বাধা থাকে? তখন বাড়ে পতিতাপল্লি। বাড়ে ব্যাভিচার।বাড়ে মদ্যপান ও ড্রাগের নেশা। বিদেশে নারী রপ্তানিও তখন অর্থনীতি গণ্য হয়। বাংলাদেশে তো সেটিই ঘটেছে। সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,রমজানের আগেই সৌদি আরবে কমপক্ষে ২০ হাজার নারী শ্রমিক পাঠাবে। বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন,“সৌদি আরব ৫০ হাজার নারী শ্রমিক নিতে চায়। এ জন্য ১০০ রিক্রুটিং এজেন্সিকে ২০০ জন করে নারী শ্রমিক সংগ্রহ করতে বলে হয়েছে। যাতে তাদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা যথা সময়ে নারী শ্রমিক পাঠাতে পারি।” –(সূত্রঃ আমার দেশ, ৫ই মে,২০১৫)।

 

অর্থ তো কত ভাবেই উপার্জন করা যায়। কিন্তু তাই বলে কি সব পথেই পা বাড়াতে হবে? বাঙালী মুসলমান কি কখনো তার মেয়েকে বা বউকে একাকী পাশের গ্রামেও যেতে দিয়েছে? ইসলাম কি কোন মহিলাকে সাথে মহররাম পুরুষ ছাড়া পবিত্র হজ পালনেও অনুমতি দেয়? অথচ বাংলাদেশ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাজার হাজার মাইল দূরে ভিন দেশে ও ভিন ভাষার অপরিচিতের ঘরে কাজ করেত মহিলাদের পাঠাচ্ছে। ধর্মচ্যুৎ ও অর্থলোভী সেক্যুলারিস্টদের কাছে উপার্জনটি বড়।সেটি হারাম পথে হলেও।নিতান্তই সেটি বাড়তি ফুর্তি বাড়ানোর প্রয়োজনে। সেক্যুলার সাহিত্য ও সেক্যুলার সংস্কৃতির কাজ হয়েছে প্রবৃত্তির তাড়নায় উম্মাদনা বাড়ানো। সে তাড়নায় বহু লক্ষ বাঙালী মহিলা ইতিমধ্যেই দেশে-বিদেশে পতিতাবৃত্তিতে নেমেছে।সে অভিন্ন তাড়নায় পশ্চিমা দেশের সরকারগুলি ব্যাভিচার ও সমকামিতাকেও জায়েজ করে দিয়েছে। বাংলাদেশের সেক্যুলার সরকার যে দেশকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে সেটি বুঝতে কি এখনো কিছু বাঁকী আছে? বিবেকের এরূপ মরণদশায় হাসিনা সরকার রোহিঙ্গাদের বাঁচাতে আগ্রহ দেখাবে সেটি কি আশা করা যায়?

 

ঈমানের পরীক্ষা ও পাশ-ফেল

বাংলাদেশ শতকরা ৯২ ভাগ মুসলমানের দেশ। দেশটিতে লক্ষাধিক মসজিদ,কোটি কোটি মুসল্লী এবং হাজার হাজার মাদ্রাসা। রয়েছে বহু লক্ষ আলেম। কিন্তু তাদের মাঝে কোথায় যে ঈমানের উত্তাপ? মরণাপন্ন রোহিঙ্গাদের উদ্ধারে কোথায় সে আগ্রহ? কার মধ্যে কতটুকু ঈমান ও আমল -সেটির পরিমাপে কি গজ-ফিতার প্রয়োজন আছে? প্রয়োজন আছে কি রোজ হাশরের বিচার দিনে কাটগড়ায় দাঁড়িয়ে ঈমান-আমলের ওজন দেখার? প্রতিটি ব্যক্তি যেমন তার দেহের বল বুঝে,তেমনি ঈমানের বলও বুঝে। তাই পবিত্র কোরআনের ঘোষণা,“বস্তুত প্রত্যেক মানুষ নিজের সম্বন্ধে সম্যক অবগত, যদিও সে নানা অজুহাতের অবতারণা করে।” –(সুরা ক্বিয়ামা আয়াত ১৪-১৫)। কতটুকু ঈমান নিয়ে বাঙালী আলেম-উলামা ও মুসলমানদের বসবাস তা কি দেশের উপর ইসলামের শত্রুপক্ষের বিজয় ও তাদের নিজেদের নিষ্ক্রিয়তাই বলে দেয় না? যে ঈমান হাতে-পায়ে ও মুখের কথায় আলোড়ন তোলে না এবং জালেমের বিরুদ্ধে হৃদয়ে ঘৃনাও উৎপাদন করে না –সে ঈমান কি আদৌ ঈমান? সিদ্ধান্তু যখন মহান আল্লাহতায়ালার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ নিয়ে বাঁচার - ঈমানহীনতাও তখন আত্মতৃপ্তির কারণ হয়। তেমন এক আত্মতৃপ্তি নিয়ে লাগাতর আনন্দ-উৎসব আজ সেক্যুলারিস্টদের ঘরে ঘরে। কিন্তু সে আত্মতৃপ্তি থেকে কতটুকু ভিন্নতর দেশের আলেম সমাজ? রোহিঙ্গাদের সাহায্যদানে তারাই বা কতটুকু আন্তরিক ও তৎপর?

 

কোরআন-হাদীসের ভার বহনের সামর্থ গাধারও থাকে। কিন্তু সেগুলি বোঝার সামর্থ ও সে অনুয়ায়ী জীবন চালানোর সামর্থ কোন পশুরই থাকে না। অনুরূপ দশা ছিল বনি ইসরাইলের আলেমদের। সবসময়ই তারা তাওরাত হাতে নিয়ে চলাফেরা করতো;কিন্তু তাওরাতে বর্নিত শরিয়তের আইনের প্রতিষ্ঠা নিয়ে তাদের মাঝে কোনরূপ আগ্রহ ছিল না। আল্লাহর দ্বীনের বিদ্রোহীদের নির্মূলে তাদের মাঝে কোনরূপ উদ্যোগ বা জিহাদ ছিল না। মহাজ্ঞানী আল্লাহতায়ালা এমন আলেমদের সুরা জুময়া’তে ভারবাহি গাধার সাথে তুলনা করেছেন। বাংলাদেশের আলেমদের হাতে পবিত্র কোরআন আছে,তাদের মুখে তেলাওয়াতও আছে। কিন্তু কোরআনের বিধান প্রতিষ্ঠা নিয়ে মাথাব্যাথা নাই। ফলে তারা যে সূন্নতের অনুসারি সেটি কি নবীজী (সাঃ)র? এ সূন্নত তো বনি ইসরাইলের আলেমদের।নবীজী (সাঃ)র সূন্নতে স্বৈরাচারি শাসকের সামনে আত্মসমর্পণ নাই। তাদের সাথে মেলামেশাও নাই।বরং আাছে শরিয়ত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আপোষহীন জিহাদ। সে জিহাদে জানমালের লাগাতর কোরবানি আছে। শতকরা ৭০ ভাগের বেশী সাহাবা তো সে জিহাদে শহীদ হয়ে গেছেন।

 

স্বৈরাচারি জালেম শাসকের সামনে আত্মসমর্পণ নিয়ে সমাজে আলেম,আল্লামা,মুফতি,সুফি,দরবেশ,শায়খ,মোফাচ্ছের,পীর ও ইমাম রূপে পরিচিতি মেলে,তাতে শহরত ও উপার্জনও বাড়ে। কিন্তু তাতে কি মহান আল্লাহতায়ালার দরবারে মুত্তাকী বা ঈমানদারের মর্যাদা জুটে? ইসলামের শত্রুপক্ষের সামনে এমন আত্মসমর্পণে কি ঈমান বাঁচে? ঈমান বাঁচলে কি রোহিঙ্গা মুসলমানদের সাথে তাদের আচরনটি এরূপ প্রাণহীন ও বিবেকহীন হতো? প্রতিটি মুসলিমের জীবনেই বার বার ঈমানের পরীক্ষা আসে। সেটি যেমন নিজ জীবনের বিপদ দিয়ে,তেমনি অন্যের বিপদ দিয়েও। পরকালে মাগফেরাত ও জান্নাত পেতে হলে এ পরীক্ষাগুলোতে অবশ্যই পাশ করতে হয়।অন্যের বিপদে এগিয়ে না এলে কি পরীক্ষায় পাশ হয়? রোহিঙ্গা মুসলিমরাও বাঙালী মুসলিমদের দরবারে ঈমানের পরীক্ষা পেশ করেছিল।কিন্তু সে পরীক্ষায় তারা যে ফেল করেছে তা নিয়ে কি সন্দেহ আছে? ২০/০৫/১৫



Add this page to your favorite Social Bookmarking websites
 
Last Updated on Wednesday, 20 May 2015 18:36
 
Dr Firoz Mahboob Kamal, Powered by Joomla!; Joomla templates by SG web hosting
Copyright © 2017 Dr Firoz Mahboob Kamal. All Rights Reserved.
Joomla! is Free Software released under the GNU/GPL License.