Home •আন্তর্জাতিক
•আন্তর্জাতিক
অধিকৃত হলো ইরাকঃ এ পরাধীনতা থেকে মুক্তি কোন পথে? PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Saturday, 01 January 2011 20:59

অবশেষে পতন হলো মুসলিম ইতিহাসের প্রধানতম নগরী বাগদাদের। যোগ হলো পরাজয় ও গ্লানির আরেক অধ্যায়। সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও তাদের তাঁবেদার মহলে আজ এ নিয়ে প্রচন্ড উৎসব। ঊৎসব হচ্ছে ইসরাইলে। অপর দিকে পরাজয়ের গভীর বেদনায় ভারাক্রান্ত আজ প্রতিটি মুসলিম হৃদয়। মুসলমানদের সে ব্যাথাকে আরো তীব্রতর করতে হানাদার সৈনিকরা সমাজের জঘন্য ও বিবেকহীন দূর্বৃত্তদের রাস্তায় নামিয়েছে। মনে হচ্ছে এ দুর্বৃত্তদের স্বাধীন করতেই দেশটি দখলে নিয়েছে।

Read more...
 
বহুজাতিক সাম্রাজ্যবাদ এবং বিপন্ন মুসলিম-বিশ্ব PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Saturday, 01 January 2011 20:02

পুঁজিবাদ যেমন তার বিশ্বব্যাপী দাপট ও শোষন প্রক্রিয়া চালু রাখতে বহুজাতিক কোম্পানীর রূপ ধরেছে তেমন অভিন্ন কৌশল সাম্রাজ্যবাদেরও। আগ্রাসী সাম্রাজ্যবাদ এখন পূজিবাদী বিশ্বের বহুজাতিক প্রজেক্ট। সে বহুজাতিক সাম্রাজ্যবাদেরই প্রকান্ড চর্চা চলছে ইরাক ও আফগানিস্তানে। ইরাক ও আফগানিস্তান দখলের চেষ্টা এই প্রথম নয়, অতীতেও হয়েছে। হামলা করেছিল এক সময়ের প্রধান সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ব্রিটেন। আফগানিস্তানে দুই দুই বার হামলা করে ভয়ানক ভাবে পরাস্ত হয়েছিল। হামলা করেছিল প্রকান্ড সাম্রাজ্যবাদী শক্তি সোভিয়েত রাশিয়াও। আফগানিস্তানে প্রায় দশ বছর চেষ্টা করেও রাশিয়া ব্যর্থ হয়েছে। এ ব্যর্থতার ভারে সোভিয়েত রাশিয়া নিজেই খান খান হয়ে গেছে। প্রায় নব্বই বছর আগে ব্রিটিশ বাহিনী ইরাক দখল করেছিল। কিন্তু ধরে রাখার সামর্থ ছিল না বলে হটে আসতে বাধ্য হয়েছিল।

Read more...
 
মার্কিন সন্ত্রাসের কাছে বিশ্ববাসী কি আত্মসমর্পণ করবে? PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Saturday, 01 January 2011 10:14

ত্রাস বা ভয় সৃষ্টিই যদি সন্ত্রাস হয় তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আজ সেটিই করছে বিশ্বব্যাপী। সে সন্তাসের শিকার বিশ্বের দরিদ্র রাষ্ট্রগুলীই শুধূ নয়, খোদ জাতিসংঘ এবং তার সবল ও দুর্বল সদস্য রাষ্ট্রগুলী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাপ দিচ্ছিল, ইরাকের বিরুদ্ধে তাদের পরিকল্পিত আগ্রাসী যুদ্ধকে বৈধতা দিতেই হবে। এজন্য ২৪ ঘন্টা সময়ও বেঁধে দিয়েছে। যুদ্ধ তারা করবেই, জাতিসংঘের কাজ সেটিকে জায়েজ ঘোষণা দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের  সন্ত্রাসী শাসক চক্র বিশ্ববাসীকে যে কতটা বেওকুপ ভাবে এটি হলো তারই প্রমান। ফ্রান্সসহ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অধিকাংশ সদস্যরাষ্ট্রি সে চাপের কাছে নতি স্বীকার করেনি। আর সেটিই মার্কিনীদের কাছে অপরাধে পরিণত হয়েছে। সমর্থণ লাভে ব্যর্থ হয়ে বলছে নতুন প্রস্তাব পাশের কোন প্রয়োজনই নেই। বহু প্রতিক্ষিত যুদ্ধের প্রস্তুতি স্বরূপ প্রেসিডেন্ট বুশ ১৭ই মার্চে সাদ্দামকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে দেশ ছেড়ে পলায়ন অথবা যুদ্ধ এ দুটির যে কোন একটিকে বেছে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। সাদ্দাম এ হুমকি প্রত্যাখান করেছে। অতএব হামলা এবার হবেই। হাজার হাজার বোমা, ক্ষেপনাস্ত্র ও ভারী কামানে গোলা গিয়ে অচিরেই ইরাকের নীরস্ত্র মানুষের মাথায় নিক্ষিপ্ত হবে। নিহত ও আহত হবে দেশটির লক্ষ লক্ষ মানুষ। প্রেসিডেন্ট এতকাল যে ক্রুসেডের হুশিয়ারি শুনিয়ে আসছিলেন সেটিই শুরু হবে অতি বীভৎস্যরূপে। ফিলিস্তিনের ন্যায় এদেশটিও দীর্ঘকালের জন্য অধিকৃত হবে ইসরাইলের মিত্র ও রক্ষক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে।

Read more...
 
হত্যা, সন্ত্রাস ও জবর দখল যেখানে গণতন্ত্র PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Saturday, 01 January 2011 10:26

 প্রেসিডেন্ট বুশের বড্ড অহংকার মার্কিন গণতন্ত নিয়ে। অহংকার মার্কিন বিচার ও মার্কিন মূল্যবোধ নিয়েও। যেমন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাতি হওয়ার পৈশাচিক অহংকার চেপেছিল হিটলারের মাথায়। সে অহংকারে হিটলার পদানত করতে চেয়েছিল সমগ্র ইউরোপকে। বহু কোটি মানুষের তাতে প্রাণনাশ হয়েছিল। তেমনি অহংকার চেপেছে মার্কিনীদের মাথায়ও। হিটলার যেটি ইউরোপময় করতে চেয়েছিল, জর্জ বুশ সেটিই চাচ্ছে বিশ্বময় করতে। জিদ ধরেছেন, মার্কিন গণতন্ত্র মার্কিন মূল্যবোধ ও বিচারকে তিনি বিশ্বময় করবেনই। যারাই তার বিরোধীতা করবে তাদের ঘাড়ে পৌঁছে দিবেন মার্কিন বিচার। বহুবার তিনি সে কথা শুনিয়েছেন বিশ্ববাসীকে। তার দাবী, যারা মার্কিনীদের ঘৃনা করে তারা সেটি করে মার্কিন গণতন্ত্র, মার্কিন বিচার ও মূল্যবোধের প্রতি ইর্ষার কারণে। ১১ই সেপ্টেম্বরের হামলার তেমনই এক ব্যাখা তিনি তৎক্ষনাৎ দিয়েছিলেন। কিন্তু বিষয়টি কি সত্যই তাই? প্রশ্ন হলো কি সেই মার্কিন গণতন্ত্র? কি সেই মার্কিন বিচার ও মূল্যরোধ? তাদের রাজনীতি, তাদের গণতন্ত্র ও মূল্যবোধ আজ আর কোন গোপন বিষয় নয়। যেখানেই তারা গেছে সেখানেই তারা সেটিকে সাথে নিয়ে গেছে। অতীতে জাপান, কোরিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, লেবারনের মানুষ তাদেরকে অতি কাছে থেকে দেখেছে। এখন দেখছে আফগানিস্তান ও ইরাকের মানুষ। সবগুলি দেশেই হত্যা, সন্ত্রাস, দস্যুতা ও জবর দখলকে তারা  নিজেদের জাতিও নীতিতে পরিণত করেছিল। এসব দেশের মানুষ মার্কিনী গণতন্ত বলতে কতটুকু গণতন্ত বুঝে, আর কতটুকু বুঝে এ্যাটম বোমা, নাপাম বোমা, আগুণে বোমা, ক্লাস্টার বোমা আর গুয়ান্তোনামো বে’র কনসেনট্রেশন ক্যাম্প সেটি কি বুঝার জন্য কি বুশের ওয়াজ শুনার প্রয়োজন আছে। বিশ্ববাসী কি এতটাই মুর্খ ও বিবেক শূণ্য যে এসব স্বচক্ষে দেখেও তা বুঝবে না? মানব শিশু রূপে জন্ম নেওয়ার কারণেই যেমন কেউ মানবতা পায় না তেমনি নির্বাচিত হলেই কেউ সভ্যতর হয়না। বুশ যেমন নির্বাচনে ক্ষমতায় এসেছেন, তেমনি মানব ইতিহাসের সবচেয়ে নিষ্ঠুরতম ব্যক্তি হিটলারও এসেছিল। ফলে গণতন্ত্র নিয়ে বড়াই চলে না। বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে হত্যা, সন্ত্রাস, দস্যুতাকে বিশ্বময় ছড়াচ্ছে তাতে মার্কিন গণতন্ত্র কতটা ডিমোক্রাসি আর কতটা ডিমোনক্রাসি বা দৈত্যতন্ত্র সেটিই এখন বিবেচনার বিষয়।

 

তালেবানদের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলার বড় বাহানা ছিল তারা দেশটিতে মানাধিকার প্রতিষ্ঠা করবে, জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিবে। আফগানিস্তান দখল হলো, সরকারও প্রতিষ্ঠা হলো কিন্তু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে কি? জনগণ পেয়েছে কি তাদের মৌলিক অধিকার? এসেছে কি স্থিতিশীলতা? দেশটি আজ বহু টুকরায় বিভক্ত। ক্ষমতায় বসিয়েছে সেসব জঘন্য খুণীদের যারা মানবহত্যাকে দেশের সংস্কৃতিতে পরিণত করেছে । দেশটিতে খুণোখুণি বন্ধ হোক তা নিয়ে এদের সামান্যতম আগ্রহও নেই। আর তেমনি একটি পরিবেশে মার্কিন বাহিনীও সুযোগ পেয়েছে যত্র তত্র মানুষ খুণ করার। ফলে কে তাদের বিচার করবে? ক’দিন আগে কাবুলে মার্কিন দূতাবাসের সামনে মিছিলে গুলী চালিয়ে ৫ জন নিরস্ত্র আফগানিকে হত্যা করেছ। বন্য পশু জঙ্গলে শিকার ধরলে যেমন বিচার হয় না তেমনি বিচার নেই এ খুণীদেরও। বনের পশুহত্যাকে জঙ্গলের গাছ-পাথর ও অন্যপশুরা যেমন নীরবে দেখে তেমনি মার্কিনীদের এ নৃশংস হত্যাকান্ডকে নীরবে দেখেছে কারজাই সসরকার। সম্প্রতি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তারা প্রস্তাব তুলেছিল দুনিয়ার কোন আদালতই যেন মার্কিন খুণীদের বিচারের বৈধতা না পায়। এবং সেটি পাশও হয়ে গেছে। অর্থাৎ বৈধতা পেল সমগ্র বিশ্বটাকেই তারা আফগাস্তান বানানোর। যথেচ্ছাচারে এরা দেশ দখল করবে, শত সহস্র বোমা ফেলে মানুষ খুণ করবে, যারাই বিরোধীতা করবে তাদের ঘর বাড়ী জ্বালিয়ে দিবে, নারী-শিশুকে পঙ্গু করবে - এসব বর্বরতাও জাতিসংঘ  আইনে বৈধতা পেল। সেটি পাশ করাতে ব্যর্থ হলেও তাদের অসুবিধা ছিল না। যে আইন তাদের খেয়ালখুশিকে বৈধতা দেয় না সেটিকে তারা বুড়ো আঙ্গুল দেখায়। যেমনটি করেছে ইরাককের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর ক্ষেত্রে। তারা নিজেরাও জানে তাদের এ নিষ্ঠুরতা ইতিহাসের বর্বরতম অপরাধ। তাই আজ হোক কাল হোক বিশ্ববাসীর অধিকার থাকবে সেটিকে আদালতে তোলার। কিন্তু তাদের কৃত এ অপরাধের বিচারের অধিকার তারা বিশ্ববাসীকে দিতে রাজী নয়। রাজী নয় নিষ্ঠুর বর্বরতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধকে বৈধতা দিতে। বরং নিরীহ মজলুমের এ প্রতিরোধকে তারা বলছে সন্ত্রাস। আর নিজেদের অব্যাহত এ সন্ত্রাসকর্মকে বলছে স্বাধিনতা ও গণতন্ত্রের লড়াই। এভাবে নিজেদের সন্ত্রাসী জঘন্যতাকে যেমন মান্যতা দিচ্ছে তেমনি নিন্দনীয় করে তুলছে অসহায় মানুষের মূক্তিযুদ্ধকে। এভাবে জন্ম দিচ্ছে এক বিকৃত মূল্যবোধের। ফলে তারা শূধু ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যার নায়কই নয়, মূল্যবোধের হন্তাও। সাধারণ খুণী, দূর্বত্ত ও দস্যুদের থেকে তাদের মূল পার্থক্য মূলতঃ এখানেই। কারণ সাধারণ দূর্বত্তরা মানুষ খুণ করলেও সে খূণকে ন্যায় বা যথার্থ বলে দাবী করে না। ফলে তাদের হাতে হাজারো ব্যক্তির প্রাণনাশ হলে এত সমাজে মূল্যবোধের মৃত্যু হয় না। ফলে এমন হত্যাকান্ড যেমন প্রশংসনীয় হয় না তেমনি বিচারও এড়াতে পারে না। কিন্তু মার্কিনী সন্ত্রাসে বিশ্বের মূল্যবোধেই পরিবর্তন আসছে। আর তার প্রভাব পড়ছে জাতিসংঘের উপর। এর প্রমাণ, যে যুদ্ধ জাতিসংঘের অনুমোদন পেল না, যার পক্ষে বিশ্বের অধিকাংশ মানুষের সমর্থণ ছিল না এবং যা ছিল জাতিসংঘ সংবিধানের সম্পূর্ণ লংঘন তেমন এক অবৈধ যুদ্ধে ইরাক অধিকৃত হওয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে  শাস্তি না দিয়ে বা তিরস্কার না করে বা ইরাক থেকে আগ্রাসী বাহিনীর অপসারণের ব্যবস্থা না করে বরং ইরাকের উপর আগ্রাসী মার্কিন বাহিনীর অধিকার মেনে নিল। এবং অধিকার দিল সেদেশের অর্থ-ভান্ডারে হাত দেওয়ার। আর এ ভাবেই পুরস্কৃত করা হলো এ অপরাধি দেশটিকে। মূল্যবোধ এভাবে বিকৃত হয়েছে বলেই নিরাপত্তা পরিষদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজ সৈন্যদের যুদ্ধাপরাধারের বিরুদ্ধে যে কোন বিচারকে নিষিদ্ধ করে যে প্রস্তাব এনেছিল সেটিও পাশ হয়ে গেল। আর এ বিকৃতির কারণেই প্রশ্রয় পাচেছ মার্কিনী খুণীচক্র। নিজেদের জঘন্য কর্মকেও হিতকর্ম বলছে। আন্তর্জাতিক দস্যুতাকেও স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য বলছে। ইরাক ও আফগানিস্তানের নিরস্ত্র মানুষকে যেভাবে হত্যা করছে সেটিকেও গণতন্ত্রের পক্ষে সেরা কর্ম বলে প্রচার করছে। শুধু তাই নয়, বিশ্ববাসীকে এ বর্বর কাজে তাদের পিছে সারিবদ্ধ হতে বলছে। আর এমন চেতনা যে শুধু মাকিন প্রশাসনে ভর করেছে তা নয়, বরং গ্রাস করেছে দেশটির জনগণের বিবেকবোধকেও। ফলে তৃতীয় বিশ্বের কোন নিরক্ষর গ্রাম্য কৃষক ইরাকের উপর মাকিন আগ্রাসনকে যেভাবে অন্যায় বলতে পারলো তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ দূরে থাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ প্রফেসরও তা পারিনি। পারিনি অধিকাংশ লেখক, কলামিষ্ট, বুদ্ধিজীবী, কংগ্রেস ও সিনেট সদস্যরাও।

মার্কিন মূল্যবোধ ও বিচারবোধ যে কতটা বীভৎস পথে পা বাড়িয়েছে সে প্রমাণ প্রচুর। এমনই মার্কিন বীভৎসতার প্রমাণ হলো গুয়ান্তানামো বে’র কারাগার। যারা কোন দিন আমেরিকায় গেল না, সেখানে গিয়ে কোন যুদ্ধও করলো না, কোন মার্কিনীকে হত্যাও করলো না শত শত এমন নিরপরাধ মানুষকে নিয়ে তোলা হয়েছে কিউবার গুয়ান্তানামো দ্বীপের কারাগারে। দুই বছর অতিক্রান্ত হলো অথচ তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন সরকার কোন অভিযোগও খাড়া করতে পারলো না। অর্থাৎ তারা যে অপরাধ করেছে সে প্রমাণ মার্কিনীদের হাতে নেই। ফলে আইনের ভাষায় যথার্থ ভাবেই তারা নিরপরাধ। এমন মানুষদের বন্দী করে রাখা দুনিয়ার যে কোন আইনেই অবৈধ। এমন কাজ করে থাকে দূর্বৃত্ত হাইজাকারগণ। অথচ মার্কিনীরা সেটিই করেছে। গুয়ান্তানামো কারাগারের এসব নিরাপরাধ ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে হাতবাঁধা, চোখবাঁধা, পায়ে লোহার শিকলপড়া অবস্থায়। চিড়িয়াখানায় রাখা বাঘ-ভালুককেও এভাবে রাখা হয় না। নিষ্ঠুরতায় এটি হিটলার ও তার কনসেনট্রেশণ ক্যাম্পকেও হার মানায়। আর এটিকেই প্রেসিডেন্ট বুশ বড় গর্ব করে বলছে মার্কিন বিচার। গোঁ ধরেছেন এমন বিচার বিশ্বময় প্রতিষ্ঠা করে ছাড়বেন। অর্থাৎ মার্কিন আধিপত্যের বিরোধীদের ধরে ধরে তারা গুয়ান্তানামো দ্বীপে হাজির করবেন। বা গুয়ান্তানামো দ্বীপের বর্বরতাকে নিয়ে হাজির করবেন বিশ্বের কোনে কোনে। একবিংশ শতাব্দী এ ভাবেই পরিণত হবে মার্কিন আধিপত্যের শতাব্দী। এটি রুখতে কোন আন্তজাতিক আইন তাদের পায়ে বেড়ি পড়াক মার্কিনীরা সেটি মানতে রাজী নয়। এ মার্কিন অভিপ্রায়ের কারণেই জাতিসংঘকে পরিণত হয়েছে মরা লাশে, এখন শুধু এর দাফনই বাঁকি। ফলে বিবেকমান কোন মানুষের পক্ষে এ প্রতিষ্ঠানে কাজ করাই এখন দুরুহ। এমন তীক্ততা নিয়ে এমন কি হ্যানস ব্লিক্সের মত মৃদুভাষী কুটনৈতিকও মার্কিন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের প্রকাশ্যে ’বাস্টার্ড’ বলতে বাধ্য হয়েছেন। তার সে বেদনাভরা অভিব্যক্তির বিস্তারিত বিবরণ ছেপেছে ১১ জুনের দৈনিক গার্ডিয়ান। হ্যানস ব্লিক্সের দুঃখের কারণ মার্কিন কর্তৃপক্ষ ইরাকের উপর হামলাকে জায়েজ করতে তার রিপোর্টের ভাষাকে মার্কিনীদের জন্য অনুকূল করতে বলেছিল। কিন্তু তিনি তা না করায় পেন্টাগণ তার বিরুদ্ধে জঘন্য প্রচারণায় চালায়। অবশেষে তার কাজকে বন্ধ করতে বাধ্য করে। লক্ষাধিক সৈন্য, হাজার হাজার স্পাই ও শত শত অস্ত্র বিশেষজ্ঞ মাঠে নামিয়েও মার্কিন কর্তৃপক্ষ যেখানে বিগত দুই মাসে তথাকথিত উইপন্স অব মাসডিসট্রাকশন আবিস্কার করতে পারলো না, হ্যানস ব্লিক্সের ক্ষুদ্র অস্ত্রপরিদর্শক দলকে সে কাজ মাত্র দুই সপ্তাহে সমাধা করতে বলেছিল। তাকে একদিনও বাড়তি সময় দিতে রাজী হয়নি। ইরাকে অস্ত্র থাক আর না থাক সেটি বড় কথা নয়, মার্কিনীদের লক্ষ্য ছিল জাতিসংঘ পরিদর্শক দলের রিপোর্ট যেন তাদের হামলার পক্ষে দলিল হিসাবে কাজ করে। এবং সেটি সত্বর। কোন বিবেকমান মানুষের জন্যই এটি মেনে নেওয়া ছিল অপমানজনক। সম্ভব হয়নি হ্যানস ব্লিক্সের পক্ষেও। এক সময় তিনি সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। ফলে মার্কিনীদের মতিগতি বুঝার সামর্থ বা কুশলতা যে তার ছিল না তা নয়। তাছাড়া তিনি দীর্ঘকাল কাজ করেছেন জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ পদে। ফলে মার্কিন কর্তৃপক্ষের হাঁড়ির খবর তিনি রাখেন। ফলে তিনিই যদি মার্কিন কর্তাব্যক্তিদের বাস্টার্ড বলেন তবে যারা মাকিন ক্লাস্টার বোমা, কামানের গোলা ও নানা বিধ সন্ত্রাসের শিকার তারা তাদেরকে কি বলবে?   

ইরাক দখলের দুই মাস অতীত হলো। অথচ আজও তারা কিছুই করতে পারি। চলছে প্রশাসনিক শূণ্যতা। নাই নিরাপত্তা। নাই পানি ও বিদ্যুৎ সাপ্লাই। নাই খাদ্য-রেশন। পানিহীন, বিদ্যুৎহীন, খাদ্যহীন ও নিরাপত্তাহীন অবস্থায় মানুষ অতি অবর্ণনীয় দুরাবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। অথচ যেটি সফল ভাবে চালাতে পারছে সেটি হলো গণহত্যা। গত ১৩ জুন একদিনেই মার্কিন বাহিনী ৯৭ জনকে হত্যা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেনের শিক্ষাবিদ ও গবেষকগণের বরাত দিয়ে ১৪ জুনের গার্ডিয়ান খবর ছেপেছে এ অবধি ১০ হাজার বেসামরিক ইরাকীকে হত্যা করা হয়েছে। এবং হত্যাকান্ড চলছে অন্যভাবেও। হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ঔষধ না থাকায় বহু মানুষ মারা যাচ্ছে বীনাচিকাৎসায়। ভেঙ্গে পড়েছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। কোথাও কোথাও শুরু হয়েছে কলেরা। মনে হচ্ছে দখলদার মার্কিনীদের এসব দিকে ভ্রক্ষেপও নাই। অথচ ইতিমধ্যে তারা দেশটির তেলের খণিতে হাত দিয়েছে। শুরু করেছে তেলোত্তলন। চালু করেছে রিফাইনারি। তেলের খনিগুলোকে সঁপে দিচ্ছে মার্কিন কোম্পানীগুলোর হাতে। ঘরে ঢুকে দস্যু যেমন সিন্দুকে হাত দেয় এরা তেমন হাত দিয়েছে ইরাকের অর্থভান্ডারে। এবং এটিকেও বলছে মার্কিন বিচার।

 

অপর দিকে একই রূপ অভিনব মার্কিন বিচার চাপিয়ে দিতে চাচ্ছে ফিলিস্তিনীদের উপর। মধ্যপ্রাচ্যের শান্তির জন্য বুশ প্রশাসন প্রণয়ন করেছে তথাকথিত ’রোড-ম্যাপ’। সম্প্রতি এটি নিয়ে দরবার করতে প্রেসিডেন্ট বুশ মধ্যপ্রাচ্য সফর করে গেলেন। এ রোড-ম্যাপ ফিলিস্তিনীদের শান্তি ও স্বাধীনতা কতটুকু নিশ্চিত করবে সেটি  বলা না হলেও ফিলিস্তিনীদের বলা হচ্ছে ইসরাইলীদের শান্তি ও নিরাপত্তাকে নিশ্চিত করতে। বলা হচ্ছে অস্ত্র পরিত্যাগ করতে। অথচ ইসরাইল প্রত্যহ হেলিকপ্টার গানশিপ ও ট্যাংক নিয়ে ফিলিস্তিনের বস্তিতে ঘুরছে ও মানুষ খুণ করছে তা নিয়ে মার্কিনীদের কোন বক্তব্য নেই।   আজ অবধি যতজন ইসরাইলী ফিলিস্তিনীদের হাতে মারা গেছে তার চেয়ে বহু গুণ বেশী ফিলিস্তিনী মারা গেছে ইসরাইলী সামরিক বাহিনীর হাতে। অথচ তাদেরকে সন্ত্রাসী না বলে সন্ত্রাসী বলা হচ্ছে ফিলিস্তিনীদের। ইতিহাসে অন্যের দেশদখল সব সময়ই নিন্দিত হয়েছে এবং প্রশংসিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ।

 

মার্কিনীরা ফিলিস্তিনীদের মুক্তিযুদ্ধকে বলছে সন্ত্রাস। অথচ ভূলে যায়, সেটি হলে বড় সন্ত্রাসী বলতে হয় প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনকেও। কারণ তিনিও অস্ত্র হাতে ইংরেজ উপনিবেশিক শক্তির দখলদারির বিরুদ্ধে লড়েছিলেন। ফলে মার্কিন বিচারবোধ যে কতটা বিকৃত, কতটা অমানবিক ও কান্ডজ্ঞান বর্জিত সেটি এর পরও বুঝতে বাঁকি থাকে? এমনই এক অসুস্থ্য বিবেকবোধের কারনে ইয়াসির আরাফত ফিলিস্তিনীদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হলে কি হবে তাকে তারা মানতে রাজি নয়। তার সাথে কথা বলতেও ইচ্ছুক নয়। কথা বলার জন্য মার্কিন চাপে আবু মাজেনকে প্রধানমন্ত্রী বানানো হয়েছে। অপরদিকে যে ইসরাইল ফিলিস্তিনকে গ্রাস করলো এবং দখলকৃত ভূমি থেকে সৈন্য অপসারণের জাতিসংঘ প্রস্তাবকে বার বার বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালো সে ইসরাইলই  হলো মার্কিনীদের পরম মিত্র। ইসরাইল বলেছে ১৯৬৭ সালের আগ্রাসনে অধিকৃত ভূমি থেকে তারা পিছু হঠবে না। রাজি নয় অধিকৃত পশ্চিম তীরে যে হাজার হাজার ইহুদী পল্লি নির্মান করেছে সেগুলি উঠিয়ে নিতে। রাজি নয় ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে যাদেরকে তারা নিজ গৃহ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল তাদের ঘরে ফিরতে দিতে। অথচ ফিলিস্তিনীদের সেটি মৌলিক অধিকার। তাদের ঘরে ফেরার সে অধিকার মেনে নিয়ে জাতিসংঘে প্রস্তাবও গৃহীত হয়েছে। ইসরাইল রাজি নয় ১৯৬৭ সালে দখল করা জেরুজালেম শহরটি ফিরত দিতে। অথচ এটিও জাতিসংঘ প্রস্তাব অনুযায়ী ফিলিস্তিনীদের প্রাপ্য। অতীতে বহু কনফারেন্স হয়েছে। ওসলো, মাদ্রিদ, প্যারিস, ক্যাম্প ডেভিড, আকাবা, শারমাল শেখসহ বহুস্থানে বহু আলোচনা হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। কারণ ইসরাইল ভূমি থেকে পূর্ণ ভাবে হাত গুটাতে যেমন রাজি নয়, তেমনি রাজি নয় ফিলিস্তিনী উদ্বাস্তুদের নিজ গৃহে ফিরবার অধিকার দিতে। ইসরাইলী কর্মকর্তাগণ সে কথা অতীতের ন্যায় এবারও স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এরপরও মার্কিনীদের কাছে শান্তির শত্রু ইসরাইল নয়, শত্রু হলো তারা যারা জাতিসংঘ প্রস্তাবের বাস্তাবায়ন চায়। প্রেসিডেন্ট বুশ এর পরও ফিলিস্তিনী নেতাদের নাকে স্বাধীন ফিলিস্তিনের মূলা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। এটি যে প্রচন্ড প্রতারণা সেটি বুঝবার সামর্থ কি ফিলিস্তিনীদের নেই? কথা হলো, যে ব্যক্তি ইরাকে অস্ত্র আছে বলে অবিরাম ডাহা মিথ্যা বলতে পারে, ইরাকের উপর বেআইনী হামলা ও জবর দখলকে গণতন্ত্র বলতে পারে, হাজার হাজার মানুষের মার্কিন বিরুদ্ধে মিছিলের পরও যে ব্যক্তি সেটিকে মার্কিনীদের প্রতি ইরাকী জনগণের আহলান সাহলান বলতে পারে তার পক্ষে স্বাধীন ফিলিস্তিনের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া কি এতই কঠিন?  (১৫/৬/২০০৩)

 
মৃত্যুশয্যায় এবার পুঁজিবাদ PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Saturday, 01 January 2011 07:59

মৃত্যু ঘটেছে সমাজবাদী বিশ্বশক্তি সোভিয়েত রাশিয়ার। মৃত্যুশয্যায় এবার পুঁজিবাদ এবং সে মতবাদের প্রধানশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্ব-রাজনীতি তাই এখন নতুন যুগ-সন্ধিক্ষণে। নানা অজ্ঞতা ও বিভ্রান্তির পাশাপাশি সেকুলারিজম প্রসব করেছিল দুটি প্রবল মতবাদ। একটি হল পুঁজিবাদ, অপরটি সমাজবাদ। মানব জাতির যত অকল্যাণ এ দুটি মতবাদের হাতে হয়েছে তা আর কোন ধর্ম বা মতবাদের হাতে হয়নি। দুটি মতবাদের জন্মে অভিন্ন উপাদান হল নিরেট ইহলৌকিকতা ও বস্তুবাদ। পুঁজিবাদের সাথে সমাজবাদের মূল বিবাদ পুঁজির উপর নিয়ন্ত্রন ও বন্ঠন নিয়ে, মানব বা সৃষ্টিকূলের সৃষ্টি-রহস্য নিয়ে নয়। বিবাদ নয় আখেরাতের অস্বীকার নিয়েও। উভয় মতবাদের অনুসরারিরাই দীক্ষা নিয়েছে ডারউনের বিবর্তনবাদ থেকে। ফলে তাদের কাছে মানুষও পশু-পাখী, মশা-মাছি ও বানর-সিম্পজীর ন্যায় আরেক জীব মনে হয়। এতে তাদের মাঝে গড়ে উঠেনি নিজেদের নিয়ে উচ্চতর চেতনাবোধ বা মানবিক ভাবনা। গড়ে উঠেনি কোন মানবিক মূল্যবোধের উচ্চতর স্টান্ডার্ড। আফগানিস্তান, ভিয়েতনাম, ইরাকের নিরীহ ও নিরস্ত্র গ্রামবাসীর উপর বোমা ফেলাও তখন জাতীয় গর্বের বিষয় মনে হয়। এমন একটি চেতনার কারণেই জর্জ বুশ বা ব্লেয়ারের ন্যায় ইতিহাসের অতি নিষ্ঠুর যুদ্ধাপরাধীও বিপুল ভোটে নির্বাচনে বিজয়ী হয়। সে ঘোরতর যুদ্ধাপরাধকে অব্যাহত করার প্রতিশ্রুতি নিয়েও সিনেটর জন ম্যাকেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে শতকরা ৪৭ ভাগ ভোট পায়।

Read more...
 
<< Start < Prev 1 2 3 4 5 6 Next > End >>

Page 3 of 6
Dr Firoz Mahboob Kamal, Powered by Joomla!; Joomla templates by SG web hosting
Copyright © 2017 Dr Firoz Mahboob Kamal. All Rights Reserved.
Joomla! is Free Software released under the GNU/GPL License.