Home •আন্তর্জাতিক পাকিস্তানে রাজনীতির নতুন মোড়
পাকিস্তানে রাজনীতির নতুন মোড় PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Wednesday, 11 January 2012 23:34

দেশ বিভক্ত দ্বিজাতিতে

পাকিস্তান এখন দ্বিজাতিতে বিভক্ত। একটি ইসলামের পক্ষের, অপরটি সেক্যুলারিস্টদের। উভযের ধ্যান-ধারনা, শিক্ষা-সংস্কৃতি এবং বাঁচবার লক্ষ্য যেমন ভিন্ন, তেমনি ভিন্ন তাদের রাজনীতি। এমন বিভক্তি প্রতিটি মুসলিম দেশে থাকলেও পাকিস্তানে সেটি অতি প্রকট। যতই দিন যাচ্ছে ততই সে বিভক্তি আরো তীব্রতর হচ্ছে। আর সে বিভক্তির কারণে দেশ দ্রুত সংঘাতের দিকেও এগুচ্ছে। বরং বাস্তবতা হলো, সে সংঘাত শুরুও হয়ে গেছে। ১৯৪৭য়ে দেশটির প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ অবধি শাসন ক্ষমতা লাগাতর দখলে আছে সেকুলারিস্টদের হাতে। তারা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পেয়েছিল ব্রিটিশদের হাতে। ফলে তাদের অঙ্গিকার ও দায়বদ্ধতা যতটা ব্রিটিশের শেখানো সেক্যুলারিজমের প্রতি ততটা নিজ ধর্ম ও নিজ সংস্কৃতির প্রতি নেই । ব্রিটিশদের হাতে গড়া সেক্যুলারিস্টদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হলো পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। এছাড়াও রয়েছে দেশের সেক্যুলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আইন-আদালত ও প্রশাসন। রয়েছে বহু সেক্যুলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। এতদিন এ প্রতিষ্ঠানগুলি সম্মিলিত ভাবে ইসলামিকরণের যে কোন প্রক্রিয়াকে রুখেছে। তাদের পক্ষে ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সকল পাশ্চাত্য শক্তি।

 

 

 

কিন্তু সম্প্রতি প্রচণ্ড ভাবে কমে গেছে এ সেক্যুলার জোটের জনপ্রিয়তা। তাদের কুখ্যাতি বেড়েছে সীমাহীন দূর্নীতি এবং মার্কিন স্বার্থের লেজুড়বিত্তির কারণে। তারা ইসলামিস্টদের দমনে মার্কিনীদের পরিচালিত যুদ্ধের সাথে পুরাপুরি একাত্ম হয়েছে। তাদের দুর্নামের আরো কারণ, তারা পুরাপুরি ব্যর্থ হয়েছে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায়। তারা নিজ দেশের জনগণের উপর শুধু মার্কিনীদের ড্রোন হামলারই অনুমতি দেয়নি, সুযোগ করে দিয়েছে দেশের অভ্যন্তর ঢুকে যাকে ইচ্ছা তাকে ধরে নেয়া বা হত্যা করার। বর্তমানে সেক্যুলারিস্ট পক্ষের মূল রাজনৈতিক দলটি হলো  দেশের প্রেসিডেন্ট জনাব আসিফ জারদারীর পাকিস্তান পিপলস পার্টি। তাদের সাথে কোয়ালিশনে আছে ওয়ালী খানের প্রতিষ্ঠিত এবং বর্তমানে তাঁর পুত্রের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টি এবং ভারত থেকে আগত মোহাজিরদের দল মোহাজির কাওমী মাহায (এমকিউএম)। সেক্যুলারিস্ট এ জোটটি ক্ষমতায় এসেছিল জেনারেল মোশাররফের নেতৃত্বাধীন আরেক সেক্যুলারিস্ট জোটকে হটিয়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট ভেবেছিল মোশাররফের চেয়ে নতুন জোট তাদের বেশী সুবিধা দিবে। তাই পাশ্চাত্য জোট তাদের সমর্থনও দিয়েছিল। কিন্তু জারদারির জনপ্রিয়তা এখানে তলায় ঠেকেছে। জারদারীর আশংকা,তাঁর জনপ্রিয়তার এ দুর্দিনে জেনারেল কিয়ানীর নেতৃত্বে আর্মি অভ্যুর্থান ঘটিয়ে তাঁর হাত থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিবে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি সে অভ্যুর্থান থেকে বাঁচানোর আবেদান রেখেছিলেন মার্কিন সরকারের কাছে। জারদারীর পক্ষ থেকে সে আবেদনটি একটি মেমো রূপে মার্কিন সরকারের কাছে পৌঁছে দেয় তাঁর বন্ধু ওয়াশিংটনে পাকিস্থানের রাষ্ট্রদূত জনাব হোসেন হাক্কানী।  পাকিস্তানের রাজনীতিতে এখন সেটি মেমোগেট কেলেঙ্কারি রূপে পরিচিত। পাকিস্তানের উচ্চ আদালতে এখন সে মেমো নিয়ে বিচার শুরু হয়েছে। জারদারীকে আদালত হাজিরা দিতে সমন জারি করেছে। আদালতে সেটি প্রমাণিত হলে জারদারী দেশের বিরুদ্ধে গাদ্দার বা বিশ্বাসঘাতক হিসাবে দোষী সাব্যস্ত হবেন এবং শাস্তি হিসাবে তিনি প্রেসিডেন্ট পদ হারাবেন। জনাব জারদারীর মনে সে ভয়ই ঢুকেছে।

 

জারদারীর অনুগত প্রধানমন্ত্রী জনাব ইউসুফ রাজা গিলানী তাঁর প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল লোদীকে অপসারণ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, গুরুতর অপরাধ করেছেন। কিন্তু কি সে অপরাধ সেটি উল্লেখ করেননি।  সম্ভবতঃ এটাই, তিনি সরকারের গোপন কথা সেনাবাহিনীর প্রধানকে বলে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী গিলানী অভিযোগ এনেছেন আর্মি এবং আইএসআই'য়ের বিরুদ্ধেও। আর্মিও তার সে অভিযোগের জবাবে তাঁকে হুশিয়ারি করে বলেছে, জনাব গিলানীর অভিযোগ দেশের নিরাপত্তার জন্য অতি বিপদজনক এবং এর পরিনাম শুভ হবে না। অপরদিকে দেশের সুপ্রিম কোর্ট প্রধানমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছে, প্রেসিডেন্ট জারিদারির বিরুদ্ধে যে দূর্নীতির মামলা উঠেছিল তার দ্রুত বিচার শুরু করতে। একথাও বলেছে, সেটি না করলে তাকেও ক্ষমতা থেকে সরতে হতে পারে। সব কিছু মিলে এক গুরুতর অস্থিরতা। চরম নড়বড়ে অবস্থা এখন দেশের সেক্যুলার শিবিরে। সেক্যুলারিস্টদের এ দুর্দিনে তাদের পক্ষে নতুন নেতৃত্ব রূপে হাজির হয়েছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার ইমরান খান। তাঁর পক্ষ নিয়েছে দেশের আর্মি। সম্প্রতি টিভি চ্যানেল আল-জাজিরার সাথে এক সাক্ষাতকারে সাবেক প্রেসিডেন্ট জেনারেল মোশাররফ বলেছেন, তিনিও ইমরান খানকে সমর্থণ করবেন। অপরদিকে ইসলামি দলগুলোর মধ্যে প্রধান দলগুলো হলো জামায়াতে ইসলামি, মাওলানা ফজলুর রহমানের জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, পাকিস্তানী তালেবান এবং হিজবুদ দাওয়াহ। ইসলামী জোটের জনপ্রিয়তা এতই বেড়েছে যে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ন্যাটোর বিমান হামলার পর তাদের দাবীতে সরকার ন্যাটোর সাপ্লাই রুট বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। বাধ্য করেছে শামসী বিমান ঘাটি থেকে মার্কিনীদের বের করে দিতে। অথচ দেশের সেক্যুলারিস্ট পক্ষটি মার্কিনীদের বিরুদ্ধে এতটা কঠোর নীতির প্রয়োগে আগ্রহী ছিল না। সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামী করাচী, লাহোর, ইসলামাবাদ এবং পেশোয়ারে যে জনসভা করেছে তাতে বিপুল জনসমাগম হয়েছে। তাদের জনসভাগুলিতে বিপুল সংখ্যক মহিলাও যোগ দিয়েছে।

 

বেড়েছে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস

পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিভক্তি দ্রুত একটি সংঘাতে রূপ নিচ্ছে।  সে সংঘাত কোথাও কোথাও দীর্ঘদিন ধরে চলছেও। এতদিন সে সংঘাত সীমাবদ্ধ ছিল ফেডারেল শাসিত উপজাতীয় এলাকায়, এখন সেটি রাজধানী ইসলামাবাদ, বাণিজ্যিক শহর করাচীসহ অনেক শহরে প্রবেশ করেছে। রাজনীতিতে বিবাদ বেড়ে যাওয়ার কারণ, দেশের চরমপন্থি সেক্যুলারিস্টদের সন্ত্রাসী নীতি। ইসলামপন্থিগণ চায়,দেশে শরিয়া আইনের প্রতিষ্ঠা। চায়, দেশের সেনাবাহিনী মার্কিনীদের পরিচালিত তথাকথিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে আসুক। কিন্তু সরকার তাতে রাজী নয়। বরং সরকার নিজেই নেমেছে সন্ত্রাসে। তারা চায় মার্কিনীদের থেকে সামরিক ও অর্থনৈতিক সাহায্য। সে সাহায্য লাভে কমতি পড়লে তারা মনক্ষু্ণ্ণ হয় বটে, তবে তাদের কোল থেকে বেরিয়ে আসতে চায় না। মার্কিনীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভের কারণে কখনো কখনো তালেবানদের সাথে সেনাবাহিনী আপোষরফার কথাও বলে। কিন্তু যখন মার্কিনীদের সাহায্য জুটে তখন আবার তালেবানদের মাথার উপর বোমা বর্ষণ শুরু করে। জেনারেল মাশাররফ তো মার্কিনীদের খুশি করতে ইসলামাবাদের লাল মসজিদে হামলা করে বহু শত নিরীহ ও নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করেছিল।

 

পাকিস্তানের রাজনীতিতে ইসলামি ও সেক্যুলারিস্ট – এ উভয় পক্ষেই দ্রুত বেড়ে চলেছে চরমভাবাপন্নতা। সেক্যুলারিস্টগণ তাদের চিন্তা-চেতনা ও সংস্কৃতির প্রচারে যেমন টিভি, ইন্টারনেট ও পত্রপত্রিকা পেয়েছে, তেমনি পেয়েছে ইসলামিস্টরাও। আগে কোরআনের যে জ্ঞানার্জনে ছাত্রকে মাদ্রাসার যেতে হতো এখন টিভি, ইন্টারনেট, ভিডিও ও  ইউটিউবের মাধ্যমে ঘরে বসে শিখছে। ফলে এতদিন যে শরিয়তের প্রতিষ্ঠার দাবী মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকগণও মুখে আনতে ইতস্ততঃ করতো,এখন সে শরিয়তি আইনের পক্ষে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্ররা বিপুল সংখ্যায় ময়দানে নামছে। শরিয়ার অনুসরণকে তারা নামায-রোযার ন্যায় ফরয মনে করছে। কিন্তু পাকিস্তানের স্যেকুলার আর্মি, রাজনৈতিক দল,স্যেকুলার জুডিশিয়ারি ও মিডিয়া সেটি হতে দিতে রাজী নয়। ফলে অনিবার্য হতে চলেছে লড়াই। সে লড়াই শুধু বুদ্ধিবৃত্তির ময়দানে সীমাবদ্ধ থাকছে না। রাস্তায় এসে গড়াচ্ছে।

 

আফগানিস্তানে ন্যাটোর আগ্রাসনের মূল কারণটি ছিল শরিয়তের প্রতিষ্ঠা রোধ। ইসলামের শরিয়াহ আইনকে তারা নিজেদের সেক্যুলার সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক মনে করে। তাই তারা বলছে, এ লড়াই দুটি ভিন্ন আদর্শের তথা দুটি ভিন্ন সভ্যতার। একদিকে পাশ্চাত্যের সেক্যুলার দর্শন, আরেকদিকে ইসলাম। চেতনা বা দর্শনের ভৌগলিক সীমানা থাকে না, ফলে এ লড়াইয়ে দুই পক্ষেই যোগ দেয় নানা দেশের নানা ভাষার সৈনিক। আফগানিস্তানে তাই ন্যাটো-ভূক্ত ৪০টি দেশের ৭০ হাজার সৈন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করছে। মার্কিনীদের সাথে যোগ দিয়েছে সেক্যুলার চেতনাধারী আফগানরাও। যোগ দিয়েছে ভারতীয়রা। একাত্ম হয়েছে সেক্যুলার চেতনার পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক দলগুলি। পিপল’স পার্টির নেত্রী বেনজির ভূট্টো তার মৃত্যুর আগে বলেছিলেন, পাকিস্তানের অভ্যন্তরে তালেবানদের দমনে তিনি মার্কিন বাহিনীর হামলাকেও সমর্থণ করবেন। আর এখন মনে হচ্ছে, বেনজিরের স্বামী জনাব আসিফ আলী জারদারী দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া মাত্রই মার্কিনীদের সে অধিকার দিয়েই দিয়েছেন। ফলে জেনারেল মোশাররফের আমলে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে যে বিমান হামলা হামলা হয়নি, এখন সেটি বার বার হচ্ছে। সম্ভবতঃ এ প্রতিশ্রুতি দিয়েই বেনজির ভূ্ট্টো মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের সার্বিক সমর্থণ আদায় করেছিলেন। জর্জ বুশই মোশাররফকে বাধ্য করেছিলেন, বেনজির ভূট্টোকে দেশে ফিরতে দিতে এবং জারদারীর উপর থেকে দূর্নীতির মামলা প্রত্যাহার করতে। অধিকার দিয়েছিলেন, জারদারী যে বিপুল অর্থ সুইস ব্যাংকে জমা রেখেছিলেন সে অর্থ তুলে নেয়ার।

 

প্রায়োরিটি তালেবান নির্মূল

পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও দেশের স্যেকুলার রাজনৈতিক দলগুলো এখন আর কাশ্মিরের মজলুম মুসলমানদের নিয়ে ভাবে না। ভাবে না, এমনকি নিজ দেশের সীমান্ত পাহারা দেওয়া নিয়েও। ফলে মার্কিন বিমান যখন পাক-সীমান্ত ভেদ করে জনগনের মাথার উপর বোমা বা মিজাইল ফেলে তখন পাকিস্তানী সৈন্যরা সে দৃশ্য নীরবে দেখে। বিমান বাহিনীর র‌্যাডারগুলোকে  তখন অচল রাখা হয়। ইরাকে এবং আফগানিস্তানে সেনাবাহিনীর দায়িত্ব যেমন মার্কিনী ঘাঁটি ও তাদের স্বার্থের নিরাপত্তা দেওয়া তেমনি ভূমিকা নিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। দেশের স্বার্থ বা জনগণকে পাহারা দেওয়াকে তারা আর নিজ দায়িত্ব ভাবে না। সেনা বাহিনীর মূল প্রায়োরিটি হয়ে দাঁড়িয়েছে, ইসলামী মৌলবাদ ও তার পতাকাধারীদের নির্মূল। আর প্রতিদানে পাচ্ছে বহু বিলিয়ন ডলার মার্কিনী সাহায্য। এতে নিরীহ মানুষ মরলে কি হবে,তাতে জৌলুস বাড়ে সেনা-অফিসারদের। অর্থপ্রাপ্তির প্রতিশ্রুতি পেলে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী এখন দেশে বা বিদেশে জাতিসংঘের পতাকা হাতে নিয়ে ভাড়ায় খাটতেও প্রস্তুত। সেনাবাহিনীর এরূপ ভূমিকার জন্য পাকিস্তানের ইসলামি চেতনাসম্পন্ন সাধারণ মানুষ প্রচন্ডভাবে বিক্ষুব্ধ। ক্ষোভ শুধু মার্কিনীদের উপরই বাড়ছে না, বাড়ছে পিপল’স পার্টির সরকার ও সামরিক বাহিনীর উপরও। ইতিমধ্যে হামলা হয়েছে দেশের প্রধানমন্ত্রীর গাড়ীর উপর। হামলা হচ্ছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সামরিক স্থাপনা, সামরিক যান ও সৈনিকদের উপর। সেনাবহিনীর প্রতিটি সেপাই ও প্রতিটি অফিসার এখন তাদের টার্গেট। বহু হাজার সৈনিক ইতিমধ্যে প্রাণ হারিয়েছে। হামলা হয়েছিল ওয়ালী খানের ছেলের গৃহে। তিনি অল্পে প্রাণে বেঁচে গেছেন। হামলার কারণ, তিনি সমর্থণ জানাচ্ছেন পাকিস্তানের অভ্যন্তরে মার্কিনী হামলায়।

 

 

বিলুপ্ত হচ্ছে সীমারেখা

আফগানিস্তানে ন্যাটোর হামলার ফলে বিলুপ্ত হয়েছে পাক-আফগান সীমান্ত। পাক ও আফগান রণাঙ্গণ এখন একাকার। মোজাহিদদের কাছে এখন আর এ দুটি কোন ভিন্ন দেশ নয়। তেমনি অবস্থা জনগণেরও। মুসলিম বিশ্বের ৫৫ এর বেশী রাষ্ট্রে বিভক্ত মানচিত্রটি সেক্যুলারিস্ট জাতিয়তাবাদীদের সৃষ্টি। এমন বিভক্তির সাথে কোন দেশেই প্রকৃত ইসলামিস্টরা জড়িত নয়।  বরং বহু দেশে তার সর্বশক্তি দিয়ে এরূপ ভাতৃঘাতি বিভক্তিকে রুখার চেষ্টাও করেছে। কারণ ইসলামে এমন বিভক্তি তো হারাম। তাই যেখানেই ইসলামিস্টরা বলবান হচ্ছে সেখানেই বিলুপ্ত হচ্ছে বিভক্তির এ কৃত্রিম প্রাচীর। মাঝে দেয়াল রেখে তো আর মুসলমানদের মাঝে কোরআনে বর্নীত “বুনিয়ানুন মারসুস” তথা সীসাঢালা দেয়াল গড়া যায় না। বিভক্তির এ সীমারেখা রেখে তো আর পালন করা যায় না মহান আল্লাহর ফরমান। মানচিত্রের পৃথক সীমারেখা তাই শুধু কাগজেই থেকে যাচ্ছে। ফলে সেক্যুলারিস্ট আর্মির হামলা থেকে প্রাণ বাঁচাতে হাজার হাজার মানুষ এখন পাকিস্তান ছেড়ে আফগানিস্তানে আশ্রয় নিচেছ। খবরে প্রকাশ,আফগানিস্তানে পাকিস্তানী উদ্বাস্তুর সংখ্যা এখন ২০ হাজারেরও বেশী। অপর দিকে,আফগানিস্তান থেকে দলে দলে তালেবান যোদ্ধারা এখন পাকিস্তানে এসে পাকি-বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। অর্থাৎ স্রোত উল্টা বইতে শুরু করেছে।

 

ইসলামী চেতনার দ্রুত প্রসারের সাথে সাথে বেড়ে চলেছে গণতন্ত্রের প্রতি পাকিস্তানীদের বীতশ্রদ্ধা, বিশেষ করে সৎ নাগরিকদের। কারণ,গণতন্ত্র দারুন ভাবে ব্যর্থ হচ্ছে সৎ ও যোগ্য মানুষের নির্বাচনে। গণতন্ত্র দিচ্ছে দূর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বিপুল অর্থের মালিকদের ভোটকেনার অধিকার। গণতন্ত্র পরিণত এসব দুর্বৃত্তদের ক্ষমতা দখলের হাতিয়ারে। ফলে বার বার নির্বাচন হলেও প্রতিবারেই নির্বাচিত হচ্ছে চিহ্নিত ধোকাবাজ ও দূর্নীতিবাজেরা। দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন আসিফ জারদারী। অথচ তিনি পরিচিত মিষ্টার টেন পার্সেন্ট রূপে। বলা হয়,তার স্ত্রী বেনজির ভূ্ট্টো যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন তিনি সরকারি প্রকল্প থেকে ১০% কমিশন নিতেন। কোন চাকুরী বা ব্যবসা-বাণিজ্য না করে নিছক কমিশনের অর্থে তিনি বহু মিলিয়ন ডলার জমা করেছিলেন সু্ইজারল্যান্ডের ব্যাংকে। পাকিস্তান সরকারের দাবীর প্রেক্ষিতে সে অর্থ তোলার উপর এতদিন নিষেধাজ্ঞা ছিল। কিন্তু মার্কিনী চাপে সাবেক প্রেসিডেন্ট মোশাররফ তার বিরুদ্ধে দূর্নীতির মামলা যেমন প্রত্যাহার করেছেন, তেমনি প্রত্যাহার করেছেন ব্যাংক থেকে অর্থ তোলার উপর নিষেধাজ্ঞা। দুর্বৃত্তদের সাথে মার্কিনীদের মিত্রতা ও কোয়ালিশন যে কত গভীর এ হলো তার নমুনা। জারদারীর বিরুদ্ধে ছিল খুণের অভিযোগ। বেনজির ভূট্টোর ভাই মারা যান সন্দেহজনক ভাবে। অনেকের বিশ্বাস, এ হত্যাকান্ডের সাথে আসিফ জারদারী জড়িত ছিল। হত্যাকান্ডটি ঘটেছিল বেনজির ভূট্টো প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে। কিন্তু কোন কার্যকর তদন্তই হয়নি, ফলে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত সন্দেহটি আজও  দূর হয়নি। উল্লেখ্য যে,রাজনৈতিক কারণে হত্যাকান্ড ঘটানো ভূট্টো পরিবারের একটি ঐতিহ্য। বেনজির ভূট্টোর পিতা জনাব জুলফিকার আলী ভূট্টো প্রধানমন্ত্রী থাকা কালে সত্তরের দশকে দুইজন ব্যক্তির সন্দেহজন মৃত্যূ ঘটে। এ দুইজনের একজন ছিলেন ৭০-এর নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য জামায়াত ইসলামীর ডাঃ নজির আহম্মদ। আরেক জন ছিলেন ভূট্টোর নিজ দলের সংসদ সদস্য জনাব রাজা কাসুরীর পিতা জনাব আহমদ আলী কাসুরী। রাজা কাসুরা ভুট্টোর দল ত্যাগ করে তার বিরোধীতা শুরু করেন। ডাঃ নাজির এবং জনাব রাজা কাসুরী ছিলেন পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে ভূট্টোর নির্ভীক সমালোচক। তাঁরা সংসদে প্রায়ই তাঁকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতেন। জনাব ভূট্টোর সেগুলি সহ্য করার সামর্থ্য ছিল না। তাঁর শাসানামলে এ দুটি হত্যাকান্ডের তদন্ত হয়নি। জিয়াউল হকের আমলে জনাব আহমদ আলী কাসুরী হত্যার বিচার হয়। রাজা কাসুরীকে মারতে গিয়ে আততায়ী হত্যা করে ফেলে তার পিতা আহমদ আলী কাসুরীকে।  রাজসাক্ষী হন দেশের গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধান। কার হুকুমে, কিভাবে এবং কার দ্বারা সে হত্যাকান্ড হয়েছিল সে বিবরণ তিনি আদালতে তুলে ধরেন। আদালতের রায়ে ভূট্টোর ফাঁসী হয়।

 

 

জিম্মি দুর্বৃত্ত নেতাদের হাতে

পাকিস্তান জিম্মি হয়েছে দুর্বৃত্ত নেতাদের হাতে। গণতন্ত্রের নামে জারদারীর ন্যায় চিহ্নিত দুর্বৃত্ত ও মার্কিন হানাদারদের সহযোগীকেও মেনে নিতে বলা হচ্ছে। তার মত অপরাধীকে নির্বাচিত করেছে অজ্ঞ-মুর্খ ভোটাররা নয়,নির্বাচিত করেছে দেশের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যরা। যে পদ্ধতিতে অপরাধীও নির্বাচিত হয় সেটি কি বিবেকবান মানুষের সহানুভূতি পায়? পায় কি ন্যায়পরায়ন ব্যক্তির গ্রহনযোগ্যতা? কারণ দুর্বৃত্তের পক্ষ নেওয়া তো বিবেকের সুস্থ্যতা নয়, এটি তো অপরাধ। তাছাড়া পিপল’স পার্টির মধ্যে কোথায় সে গণতন্ত্র? গণতন্ত্রের অর্থ কি এই, মা মারা গেল কলেজ-পড়ুয়া ছেলে দলের প্রধান হবে, -যেমনটি বেনজির ভুট্টোর ছেলে বেলাওয়াল হয়েছে? বা তার স্বামী নেতা হব? এমনটি হলে রাজতন্ত্র থেকে তার পার্থক্য কোথায়? যারা গণতন্ত্র বলতে বুঝে যোগ্যতমের নির্বাচন -তারা কেন এমন গণতন্ত্র মেনে নিবে? এটি নিছক পরিবারতন্ত্র,এবং বেঁচে আছে রাজতন্ত্রের ঐতিহ্য নিয়ে।পাকিস্তানে বার বার গণতন্ত্র হত্যা হচ্ছে এদের কারণেই। এ সমস্যা শুধু পিপল’স পার্টিতে তা নয়, একই রূপ সমস্যা ওয়ালী খানের পারিবারীক দল আওয়ামী ন্যাশন্যাল পার্টি, মুফতি মাহমুদের দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ আরো কিছু প্রধান দলে। আজ থেকে ৬০বছর আগে দেশটিতে যতটা গণতন্ত্র ছিল,এখন সেটুকুও নেই। সে আমলে মুসলিম লীগের ন্যায় প্রধান দলটিতে অন্ততঃ পরিবারতন্ত্র ছিল না।

 

পাকিস্তানের স্যেকুলার দলগুলি পরিণত হয়েছে দুর্বৃত্তদের ট্রেড ইউনিয়নে। সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া এরা রাজনীতি করে ক্ষমতা কুক্ষিকরণ ও সরকারি তহবিল তছরুপের লক্ষ্যে। এরা যেমন জমা হয়েছে পিপল’স পার্টির ব্যানারে, তেমনি আছে মুসলিম লীগেও। ইসলামী মৌলবাদ দমনে মাকিনীদের সাথে পূর্ণ সহয়তা করতে উভয়েই রাজী। কারণ, এতে ক্ষমতায় যাওয়াটি সহজতর হয়। দেশটিতে দূর্নীতির অনেক পথ। তবে দূনীর্তি করতে যারা রাজনীতিকে বেছে নেয় তাদের বাড়তি সুবিধা হল, এ পথে সহজে বিচার এড়ানো যায়। অন্য জগতের অপরাধীদের সে সুবিধাটি নেই।তাছাড়া কাদের বিচার হবে বা হবে না -সেটি নির্ধারণ করে রাজনীতিবিদেরা। ফলে তারা নিজেদেরকে রাখে ধরা-ছোঁওয়ার বাইরে। ফলে দেশের ছিঁচকে দুর্বৃত্তরা যেরূপ বিচারের মুখে পড়ে, সে ভয় রাজনৈতিক নেতাদের নেই। আরো সুবিধা, বিজয়ী হলে প্রতিপক্ষকে তারা আসামীর কাঠগড়ায় খাড়া করতে পারে,জেলেও ভরতে পারে।সে জন্যই অপরাধ জগতের নেতাদের রাজনীতিতে এত আগ্রহ। অর্থ,সন্ত্রাস,মিথ্যা ও ধোকাবাজীর মাধ্যমে নিরীহ ও ন্যায়পরায়ন মানুষকে এরা রাজনীতির ময়দান থেকে প্রায় বেরই করে দিয়েছে। দুনিয়াতে এরা জান্নাতের সুখ নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেয়। যেমন শেখ মুজিব ১৯৭০-এর নির্বাচনে দিয়েছিল। পয়গম্বর নেমে আসলেও তাঁর পক্ষে এ মিথ্যাচারীদেরকে কি ভোটযুদ্ধে পরাজিত করা সম্ভব? মৎস্য শিকারের ন্যায় এরা ভোট শিকার করে নানারূপ আকর্ষণীয় টোপ দিয়ে। ক্ষুধার্ত মাছের ন্যায় জনগণ সে টোপে সহজে ধরা দেয়।এভাবে গণতন্ত্র পরিণত হয়েছে দুনীর্তিবাজদের যথেচ্ছারে।

 

 

হতাশা বেড়েছে জনগণের

গণতন্ত্রচর্চায় চরমব্যর্থতার কারণে প্রচন্ড হতাশা বেড়েছে ইসলামপন্থি সাধারণ মানুষের -যারা দেশকে দূর্নীতিমূক্ত করতে চায়। দেখতে চায় পাশ্চাত্যের অধিকৃতি থেকে মুক্তি। এরাই যোগ দিচ্ছে পাকিস্তানের তালেবান আন্দোলনে। যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দুর্বৃত্তদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করে না,বরং নির্বাচনের নামে তাদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেয় সে গণতন্ত্র থেকে জনগণ কল্যাণকর কিছু আশা করতে পারে কি? অথচ ইসলামে অঙ্গিকাবদ্ধ জনগণ চায়, রাষ্ট্রের কল্যাণে নিজ নিজ দায়িত্বপালন করতে। প্রতিটি মুসলমানের উপর এটি ফরয। অথচ সেক্যুলারিস্টগণ সে সুযোগ দিতে রাজী নয়। নির্বাচন পরিনত হয়েছে তাদেরকে দূরে রাখার হাতিয়ারে। দায়িত্বপালনের সে অধিকার আদায়ে  তাদেরকে তাই ময়দানে নামতে হয়েছে। ফলে নিছক ফ্যানাটিক বা ধর্মান্ধ বলে তাদেরকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এমন গালিগালাজ করে তাদেরকে খাটো করাও যাচ্ছে না।এ বিষয়টি পাশ্চাত্যের কলামিস্টরাও এখন স্বীকার করেন। আফগানিস্তানে তালেবানরা ক্ষমতায় এসেছিল তেমনি এক রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে। রাজনীতির ময়দানে তারা নেমেছিল দায়িত্বপালনের গভীর দায়ভার নিয়ে। সে সময় কোন মুসলমান ময়দানে না নামলে সে কি গোনাহ থেকে বাঁচতো? রুশ বাহিনীর প্রস্থানের পর, তৎকালীন আফগান নেতারা লিপ্ত হয়েছিল লুঠপাট ও নানারূপ অসামাজিক কাজকর্মে। মানুষ খুন হচ্ছিল, সম্পদ লুন্ঠিত হচ্ছিল, মহিলারা ধর্ষিতা হচ্ছিল কিন্তু সরকার তার প্রতিকার না করে লিপ্ত ছিল ক্ষমতার লড়াইয়ে। মাদ্রাসার ছাত্ররা (তালেবানরা) তখন মাদ্রাসা ছেড়ে ক্ষমতা হাতে নেয়। তাদের আমলটিই ছিল আফগানিস্তোনের সবচেয়ে শান্তির দিন। একথা এখন পাশ্চাত্যের বহু সাংবাদিকও স্বীকার করেন। তালেবান সরকার সক্ষম হয়েছিল এমনকি আফিম চাষ বন্ধ করতে।

 

 

সেনাবাহিনীর ঘাতকভূমিকা

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীটি হল ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ সেনাবাহিনীরই উত্তরসুরি।গড়ে তোলা হয়েছিল সম্পূর্ণ স্যেকুলার চেতনায়। ব্রিটিশ, হিন্দু, শিখ ও বৌদ্ধদের ন্যায় নানা অমুসলিমদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সে আমলের স্যেকুলারাইজড মুসলমান সেপাই ও অফিসারগণ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যর খেদমত করত। প্রয়োজনে প্রাণও দিত। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সদস্যরূপে এরা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মুসলমান হত্যায় ও মুসলিম ভূমি দখলে ইরাকে গিয়েছিল। এখন একই কাজ করছে পাকিস্তানের নিজভূমিতে। ইসলামের প্রতি অঙ্গিকার যেমন পূর্বেও ছিল না,এখনও নাই।প্যান-ইসলামের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তানের সাথে এ আর্মির আদর্শিক দ্বন্দ বা মিস-ম্যাচ শুরু হয় শুরু থেকেই। পাকিস্তানের গণপরিষদে যখন শরিয়তী আইন চালুর পক্ষে আলেমদের সম্মিলিত ২২ দফা প্রস্তাব যখন শাসনতন্ত্রের মূলনীতি রূপে গৃহীত হল, সেনাবাহিনীর মেসে ও পার্টিতে তখনও সরকারি খরচে প্রকাশ্যে মদ্যপান হত। নানারূপ অশ্লিলতাও হত। সেনা-অফিসারদের অনেকই লিপ্ত হতো জ্বেনাতে। তখন প্রতিটি ক্যান্টনেন্ট ছিল পাশ্চাত্য সংস্কৃতির সুরক্ষিত দ্বীপ। সে দ্বীপ থেকে তারা সে সংস্কৃতির প্রসার ঘটাতো নিজের গৃহে এবং দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে। এভাবে ইসলামের দুষমনদের এজেন্ট রূপে কাজ করতো সমগ্র দেশে তাদের সংস্কৃতির জোয়ার আনতে।

 

অধিকৃত মুসলিম দেশগুলিতে ঔপনিবেশিক ইউরোপীয় শাসকদের গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রাটেজিক লক্ষ্য ছিল,এরূপ স্যেকুলারাইজড মুসলিম শ্রেণী গড়ে তোলা। এ বিষয়ে সে আমলে মিশরে ব্রিটিশ সরকারের প্রতিনিধি লর্ড ক্রোমার বলেছিলেন,একটি স্যেকুলারাইজড (ডি-ইসলামাইজড) শ্রেনী গড়ে না উঠা পর্যন্ত মুসলিম দেশগুলোর স্বাধীনতা দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না। এরাই হল মুসলিম দেশে পাশ্চাত্য সংস্কৃতি,মূল্যবোধ ও স্বার্থের মূল রক্ষাকর্তা। তাই পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ক্ষতিটি হয়েছে দেশটির স্যেকুলারাইজড আর্মীর দ্বারা। এরা অপূরণীয় ক্ষতি করছে, মিশর, আলজেরিয়া, তুরস্ক, ইরাক,সিরিয়া, লিবিয়াসহ প্রায় প্রতিটি মুসলিম দেশে। পাকিস্তান ইসলামের নামে অর্জিত হলে কি হবে, দেশটির জেনারেল জিয়াউল হকই প্রথম সেনাপ্রধান যিনি সেনাবাহিনীর মেসে মদ্যপানকে নিষিদ্ধ করেছিলেন,সেনাবাহিনীর সদস্যদের জন্য কিছু ইসলামী তা’লীমের ব্যবস্থা করেছিলেন। ফলে সে সময় গড়ে উঠেছিল কিছু শশ্রুমন্ডিত জেনারেল ও উচ্চপদস্থ অফিসার। পূর্বে পাকিস্তান আর্মিতে এমনটি ছিল অতি বিরল। জেনারেল মোশাররফ আবার স্যেকুলার ধারায় ফিরিয়ে নিয়ে যান। তিনি ইসলামের প্রতি অঙ্গিকারসম্পন্ন জেনারেল ও  অফিসারদের ঝেঁটিয়ে বিদায় দেন। আর তাতে প্রচন্ড খুশি হয়েছিল মার্কিনীরা। মোশাররফ নিজেও ছিলেন একজন মদ্যপায়ী। লন্ডনের ডেইলী গার্ডিয়ানের সাথে এক সাক্ষাতকারে সেটি তিনি স্বীকারও করেছেন। পত্রিকাটি কুকুর কোলে-নেওয়া মোশাররফের ছবিও ছেপেছিল। তাঁর ও তাঁর অনুগত জেনারেলদের প্রচন্ড স্যেকুলার চেতনার ফলেই, ইসলামাবাদের লালমসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসাটি কামান দেগে ধ্বংস এবং ছাত্রীদের হত্যায় সেনাবাহিনী একটুও পিছুপা হয়নি। বিবেকে দংশনও হয়নি। বরং সেটিকে তারা উৎসযোগ্যই মনে করেছে। এরা দমন করতে চায় জ্বিহাদ। তাদের হাতে রাষ্ট্র পরিণত হয়েছে নিপীড়নের যন্ত্রে। ফলে জনগণ চিনতে ব্যর্থ হচ্ছে, কে মার্কিনী অমুসলিম সৈনিক আর কে পাকিস্তানী মুসলিম সৈনিক, কোনটি পাকিস্তানী বুলেট আর কোনটি মার্কিনীদের বুলেট। মৌলবাদী মুসলমান ও তালেবান হত্যায় উভয়ই এখন একই রূপ আপোষহীন ও নির্দয়।

 

তীব্রতর হচ্ছে জিহাদ

পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সমূহ পরিণত হয়েছে ইসলামের মৌল-বিশ্বাস নির্মূলের যন্ত্রে। তবে পাকিস্তানে লড়াকু মুসলমানদের সংখ্যও প্রচুর। সেখানে জ্বিহাদী চেতনা তুলে ধরার জন্য কাজ করছে শত শত মাদ্রাসা, আলেম ও লেখক। মিথ্যাপ্রচারণা ও ধোকাবাজীর ভোটে তারা পরাজিত হলে কি হবে, তারা হারতে রাজী নয় লড়াইয়ের ময়দানে। লড়াইকে তীব্রতর করেছে শুধু মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধেই নয়, তাদের পাকিস্তানী মিত্রদের বিরুদ্ধেও। বার বার মার্কিনী মিজাইল ও বোমা হামলায় বহু নিরীহ নারী ও শিশু হত্যা তাদের লড়াইকে আরো জনপ্রিয়তা দিচ্ছে। এতে এ লড়াই পাচ্ছে নির্ভেজাল জ্বিহাদের মর্যাদা। আর কোন মুসলিম ভূমিতে নিরেট ও নির্ভেজাল জ্বিহাদ শুরু হলে সেটির পরাজয় কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ, মুসলমান তখন এমন জ্বিহাদকে জান্নাত লাভের মোক্ষম মাধ্যম ভাবে। দেশীয় মোজাহিদদের সাথে সেখানে তখন বিশ্বের নানা দেশ থেকে মোজাহিদ এসে জমা হয়। অন্যরা এমন বিশ্বাসকে যতই ধর্মান্ধতা বলুক না কেন, এটিই মোজাহিদদের ঈমানী বিশ্বাস। তখন নানা দেশ থেকে আসে জনবল ও অর্থবল। কারণ যারা জ্বিহাদ করে, সেটি করে নিছক আল্লাহকে খুশি করা জন্য। তাই জ্বিহাদের কোন ভাষাগত বা ভূগোলিক সীমানা থাকে না, যেমন সীমানা নেই আল্লাহর সার্বভৌমত্বের। রুশদখল কালে আফগানিস্তানে সেটাই ঘটেছিল। মার্কিনী দখলদারি প্রতিষ্ঠার পর আবারও সেখানে তাই হচ্ছে। তাই দূরহ হয়ে পড়েছে ন্যাটোর বিজয়। ইসলামী শিবিরে নতুন অপর দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর পক্ষ থেকে দাবী উঠছে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হামলাকে আরো কঠোর ও তীব্রতর করতে। তাদের চাপে ইসলামপন্থিদের বিরুদ্ধে ব্যাপকতর ও তীব্রতর হচ্ছে এ সংঘাত। আর এতে পাকিস্তান পরিণত হচ্ছে ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদের মূলভূমিতে। বিশ্বের মানচিত্রে দেশটির গুরুত্ব বাড়ছে মূলত একারণেই।



Add this page to your favorite Social Bookmarking websites
 
Comments (2)
Comment
2 Sunday, 15 January 2012 12:33
M Mubinul Islam

Nice article.All should be united against secularist,imperialist and zionist.

Feature on Pakistan
1 Saturday, 14 January 2012 03:09
Haque

Excellent writeup. This subject should be in a process of regualr up-dates, as things are changing very fast.Thanks. Best regards.  Haque, USA

Last Updated on Saturday, 14 January 2012 08:26
 
Dr Firoz Mahboob Kamal, Powered by Joomla!; Joomla templates by SG web hosting
Copyright © 2017 Dr Firoz Mahboob Kamal. All Rights Reserved.
Joomla! is Free Software released under the GNU/GPL License.