একাত্তরের ইতিহাস (ই-বুক)
অধ্যায় দশ: মুক্তিযুদ্ধে ইসলামশূণ্যতা PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Wednesday, 16 March 2016 21:34

সংকট ইসলামশূণ্যতার

বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে সবচেয়ে বড় সংকটটি ছিল আদর্শের। সেটি ইসলামশূণ্যতার। যে কোন মুসলিমের জন্য এটি এক বিশাল সমস্যা। ঈমানদারদের জন্য এ যুদ্ধে অংশ নেয়ার কোন জায়েজ পথ খোলা রাখা হয়নি। ঈমানদারদের জন্য প্রতিটি খাদ্যকে যেমন সম্পূর্ণ হালাল হতে হয়,তেমনি প্রতিটি যুদ্ধকেও বিশুদ্ধ জিহাদ হতে হয়। নইলে সে যুদ্ধে প্রাণ দূরে থাক একটি পয়সা, একটি ঘন্টা বা একটি মুহুর্তের বিনিয়োগও জায়েজ হয় না। মুসলমানের জান-মাল ও প্রতিটি সামর্থ্যই মহান আল্লাহতায়ালার দেয়া নিয়ামত। ব্যক্তির উপর মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে অর্পিত এটি আমানতও। ব্যক্তি এখানে ট্রাস্টি বা রক্ষক মাত্র, মালিক নয়। প্রতিটি আমানত কীরূপ ব্যয় হলো সে হিসাবটি প্রকৃত প্রভূ মহান আল্লাহতায়ালার কাছে আখেরাতে দিতে হবে। তাই মুসলিম মাত্রই যুদ্ধে প্রাণ দিবে একমাত্র মহান আল্লাহতায়ালার পথে; নইলে সে মৃত্যু হবে জাহিলিয়াতের পথে -যা পরকালে জাহান্নাম প্রাপ্তিকে সুনিশ্চিত করবে।তাই ঈমানদারের প্রতিটি প্রচেষ্টা ও যুদ্ধকে হতে হয় ইসলামকে প্রতিষ্ঠা দেয়া বা মুসলিম ভূমিকে প্রতিরক্ষা দেয়ার স্বার্থে। ভাষা, বর্ণ, গোত্র বা কোন সেক্যুলার লক্ষ্যে নয়। কারণ, মুসলিমের কাছে একমাত্র হালাল বা কোরআন-নির্ধারিত মতবাদটি হলো ইসলাম;জাতীয়তাবাদ, পুঁজিবাদ, সমাজবাদ, সেক্যুলারিজম বা কম্যুনিজম নয়।তাই মু’মিনের জানমাল ও সামর্থ্যের উপর ইসলাম ভিন্ন অন্য কোন মতবাদ ও ধর্মের অধিকার থাকে না।

Read more...
 
অধ্যায় এগারো: পাকিস্তানের ব্যর্থতা ও বাঙালীর হিস্যা PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Wednesday, 16 March 2016 21:28

বাঙালীর ব্যর্থতা

এ নিয়ে দ্বিমত নেই, পাকিস্তান বহু ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়ছে। কিন্তু সে ব্যর্থতার জন্য দায়ী কি শুধু পশ্চিম পাকিস্তানীরা? তাতে পূর্ব পাকিস্তানীদের হিস্যা কতটুকু? দেশের সাফল্যের ন্যায় ব্যর্থতার দায়ভারও তো জনগণের। অথচ বাঙালীদের মাঝে প্রবল প্রবনতাটি হলো, পাকিস্তানের সকল ব্যর্থতার জন্য পশ্চিম পাকিস্তানীদের ঘাড়ে দোষ চাপানো। নিজেদের ব্যর্থতা দিকে তারা নজর দিতে রাজী নয়। পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৬% ভাগ ছিল পূর্ব পাকিস্তানী। ফলে নানারূপ ব্যর্থতা থেকে দেশকে বাঁচানোর সবচেয়ে বড় দায়িত্বটি ছিল পূর্ব পাকিস্তানীদের। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সমগ্র পাকিস্তানের শিক্ষা, শিল্প, কৃষি, বিজ্ঞান ও বাণিজ্যের অগ্রগতিতে সংখ্যার অনুপাতে অংশ নেয়া দূরে থাক, এমনকি নিজ প্রদেশের নিজস্ব রাজনীতিতেও তারা দক্ষতার পরিচয় দিতে পারেনি। অথচ পশ্চিম পাকিস্তানের মত পূর্ব পাকিস্তানে চারটি প্রদেশ ছিল না। নানা ভাষা, নানা অঞ্চল ও নানা বর্ণের বিভক্তিও ছিল না। কিন্তু যেটি ছিল তা হলো ক্ষমতালোভীদের আত্মঘাতি রাজনীতি। আর রাজনীতিতে আত্মঘাত থাকলে সে দেশের ধ্বংসে কি বিদেশী শত্রুর প্রয়োজন পড়ে? সে আত্মঘাতি রাজনীতির কারণে বাঙালী পূর্ব পাকিস্তানীগণ নিজেদের ঘর গোছাতেই চরম ভাবে ব্যর্থ হয়। ফলে পশ্চিম পাকিস্তান যেখানে কৃষি, শিল্প ও শিক্ষায় দ্রুত এগিয়ে যেতে থাকে, পূর্ব পাকিস্তান সেখানে আত্মঘাতি রাজনীতির গভীরে লাগাতর ডুবতে থাকে। বড় কিছু করা দূরে থাক, খেলাধুলার ন্যায় হালকা বিষয়েও তারা পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পিছিয়ে পড়তে থাকে। বিপদের আরো কারণ, সে বিশাল বিশাল ব্যর্থতা ও আত্মঘাতি রাজনীতি নিয়ে বাঙালী রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের মাঝে কোন আত্মজিজ্ঞাসা বা আত্মসমালোচনাও হয় নাই। নিজেদের ত্রুটিগুলোর দিকে নজর না দিয়ে তাদের প্রধান কাজটি হয় অবাঙালীদের ত্রুটি তালাশ।

Read more...
 
অধ্যায় তেরো: নীতিহীনতা ও অনৈক্যের রাজনীতি PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Wednesday, 16 March 2016 21:02

আত্মঘাতি নীতিহীনতা

পাকিস্তানের ব্যর্থতার জন্য দেশটির শত্রুরাই শুধু দায়ী নয়, দায়ী তারাও যারা দেশটির প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বর্পূণ ভূমিকা রেখেছে। অতিশয় আত্মঘাতি ছিল বহু পাকিস্তানপন্থী ও ইসলামপন্থীর রাজনীতি। রোগী অনেক সময় রোগের কারণে মারা যায় না; মারা যায ভুল চিকিৎসার কারণে। পাকিস্তানের ক্ষতিটা হয়েছে দুই ভাবেই। পাকিস্তানের মূলে সর্বপ্রথম যে কুড়ালটি আঘাত হানে তা হলো মুসলিম লীগ নেতাদের আভ্যন্তরীন কোন্দল। দেশের মেরুদণ্ডে আঘাত হেনেছে সুযোগসন্ধানী আমলা কর্মকর্তা, সেনা কর্মকর্তা ও সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকগণ। দেশটির বিপদ বাড়িয়েছে রাজনৈতিক নেতাদের নীতিহীনতা ও অযোগ্যতা। কায়েদে আযম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও লিয়াকত আলী খানের মৃত্যুর পর আর কোন নেতাই তেমন যোগ্যতা, সততা ও দুরদৃষ্টির পরিচয় দিতে পারেননি। পাকিস্তানের বড় ক্ষতিটি করেছে আইয়ুব খানের প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির ১১ বছরের শাসন। কায়েদে আযম মহম্মদ আলী জিন্নাহ যে ধরণের শাসনতান্ত্রিক পদ্ধতিকে প্রতিষ্ঠা দেন সেটি ছিল পার্লামেন্টারী পদ্ধতির। তাতে দেশের এক অঞ্চল থেকে রাষ্ট্রপ্রধান পদে বসলে অন্য অঞ্চল থেকে প্রধানমন্ত্রী হতেন। সে পদ্ধতিতে বাংলা থেকে ২ জন রাষ্ট্রপ্রধান পদে এবং ৩ জন প্রধানমন্ত্রী পদে বসেছেন। কিন্ত্র আইয়ুব খানে ১১ বছরের প্রেসিডেন্ট শাসনে প্রধানমন্ত্রীর পদ না থাকায় পূর্ব পাকিস্তানীদের মাঝে বঞ্চনার অনুভূতিটি তীব্রতর হয়। আর তা থেকে ফায়দা নিয়েছে পাকিস্তানের শত্রুগণ। যদিও আইয়ুব খানের আমলেই পাকিস্তানে সবচেয়ে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটে, তবে সে উন্নয়নে দেশের অখণ্ডতা বাঁচেনি।

Read more...
 
অধ্যায় বারো: পাকিস্তান ও বাঙালী মুসলিমের লাভ-লোকসান PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Wednesday, 16 March 2016 21:11

বৈষম্যের শুরুটি শতবছর আগে

ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিমদের মাঝে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প ও বুদ্ধিবৃত্তির ন্যায় নানা ক্ষেত্রে তুলনামূলক ভাবে সবচেয়ে পিছিয়ে পড়েছিল বাঙালী মুসলিমগণ। দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, বিহার -এসব প্রদেশে মুসলিমদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার শতকরা ১৫ বা ২০ ভাগের বেশী ছিল না। কিন্তু তারা শিক্ষাদীক্ষায় হিন্দুদের চেয়েও অগ্রসর ছিল। এলাহাবাদ, পাটনা, দিল্লি, বোম্বাইয়ের আদালতগুলোতে অনেক প্রতিষ্ঠিত মুসলিম আইনজ্ঞ ছিলেন। সেরূপ অবস্থা কলকাতায় ছিল না। মুষ্টিমেয় যে ক’জন বাঙালী মুসলিম লেখাপড়া শিখেছিল তাদের পক্ষে প্রতিবেশী অগ্রসর হিন্দুদের সাথে প্রতিযোগীতা করে চাকরিতে প্রবেশ করা এতোটা সহজ ছিল না। সহজ ছিল না শিল্প বা ব্যবসা-বাণিজ্যে সামনে এগুনো। পূর্ব থেকে প্রতিষ্ঠিত হিন্দুরা তাদের জন্য সামান্যতম স্থানও ছেড়ে দিতে রাজী ছিল না। চিত্তরঞ্জন দাশ একবার চাকরিতে মুসলমানদের জন্য সংখ্যানুপাতে বরাদ্দের কথা বলেছিলেন, কিন্তু বর্ণহিন্দুগণ সে প্রস্তাব তৎক্ষণাৎ নাকোচ করে দেয়। আজকের ভারতে আজও তারা দিচ্ছে না। ভারতে মুসলমানদের সংখ্যা শতকরা ১৫ ভাগ হলে কি হবে, সরকারি চাকরিতে শতকরা ৩ ভাগও তারা নয়। ফলে ভারতের মুসলমানগণ আজ সে দেশের নমশুদ্র বা হরিজনদের থেকেও পশ্চাদপদ। সে ঘোষণাটি এসেছে সাবেক ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং কর্তৃক স্থাপিত সাচার কমিশনের রিপোর্টে।

Read more...
 
অধ্যায় চৌদ্দ: ভাষার নামে নাশকতা PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Wednesday, 16 March 2016 20:00

ভাঙ্গার কাজের শুরু

মুসলিম ইতিহাসে বড় বড় ক্ষতিগুলো ভূমিকম্প, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় বা সুনামীতে হয়নি। কলেরা,যক্ষা বা টাইফয়েডের ন্যায় রোগের মহামারিতেও হয়নি। হয়েছে বর্ণ, গোত্র, ভূগোল, ভাষা ও ভাষা ভিত্তিক জাতীয়তার নামে। উসমানিয়া খেলাফত ভেঙ্গে ২৫টির বেশী রাষ্ট্র গড়া হয়েছে বিভিন্ন ভাষা ও গোত্রের নামে। যে কোন দেশের ন্যায় মুসলিম দেশেও বিস্তর সমস্যা ছিল। কিন্তু সমাধান খোঁজা হয়েছে বিভক্তির মাঝে। কিন্তু বিভক্তিতে যে পবিত্র কোরআনে ঘোষিত মহান আল্লাহতায়ালার প্রতিশ্রুত আযাব ডেকে আনে -সে হুশ মুসলমানদের ছিল না। বিভক্তির কারণে মুসলিমদের উপর প্রতিশ্রুত আযাবের ঘোষণাটি এসেছে সুরা আল-ইমরানের ১০৫ নম্বর আয়াতে। বলা হয়েছে, “এবং তোমরা তাদের মত হয়োনা যারা সুস্পষ্ট নির্দেশনা (কোরআন) আসার পরও পরস্পরে মতভেদ করলো এবং বিভক্ত হলো; তাদের জন্য রয়েছে কঠোর আযাব। তাই মুসলিম দেশ বিভক্ত হলো অথচ তাদের উপর মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে তাঁর প্রতিশ্রুত আযাবটি এলো না -সেটি অভাবনীয়। আজকের মুসলিম বিশ্ব তো সে আযাবপ্রাপ্তিরই নজির। মুসলিম দেশের বিভক্তিতে সমস্যার সমাধান না হয়ে বরং বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বেড়েছে শক্তিহীনতা, বেড়েছে শত্রুর হাতে মৃত্যু, ধ্বংস, ধর্ষণের ন্যায় নানারূপ বিপর্যয়। বেড়েছে রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির উপর শত্রুশক্তির দখলদারি। শরিয়তের প্রতিষ্ঠা এবং মুসলিম উম্মাহর বুক থেকে বিভক্তির দেয়াল নির্মূলের অঙ্গীকার নিয়ে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় নামলেই শত্রুপক্ষের বোমা বর্ষণ শুরু হয়। মুসলিম ভূমিতে আসন গেড়ে বসেছে ইসরাইল। বিভক্তির কারণেই ৫৭টির বেশী মুসলিম দেশের প্রায় দেড়শত কোটি মুসলিম আজ শক্তিহীন। জাতিসংঘের ন্যায় আন্তর্জাতিক ফোরামে সাড়ে ৫ কোটি ব্রিটিশ বা ৬ কোটি ফ্রান্সবাসীর যে প্রভাব ও প্রতিপত্তি, ১৫০ কোটি মুসলিমের তা নাই।

Read more...
 
<< Start < Prev 1 2 3 4 5 6 7 8 Next > End >>

Page 3 of 8
Dr Firoz Mahboob Kamal, Powered by Joomla!; Joomla templates by SG web hosting
Copyright © 2017 Dr Firoz Mahboob Kamal. All Rights Reserved.
Joomla! is Free Software released under the GNU/GPL License.