একাত্তরের ইতিহাস (ই-বুক)
অধ্যায় পনেরো: ঘরের শত্রুর নাশকতা PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Wednesday, 16 March 2016 19:52

বিষাক্ত রাজনীতি

আওয়াম লীগের অনেক  নেতা পাকিস্তানকে তার প্রতিষ্ঠা থেকেই মেনে নিতে পারেননি। যদিও তারা একসময় মুসলিমের লীগের নেতা ছিলেন, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী হয়েছেন এবং মন্ত্রীরূপে পাকিস্তানের অস্তিত্ব ও সংহতি রক্ষায় পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে মহান আল্লাহতায়ালার নামে কসম খেয়েছেন। পাকিস্তানের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে তাদের মনে প্রচণ্ড ক্ষোভ ছিল, বিষাক্ত বিষও ছিল। তারা বিশ্বাস করতেন, পাকিস্তান হলো ১৯৪০ সালের গৃহীত লাহোর প্রস্তাবের সাথে গাদ্দারীর ফসল। এ ধরণের নেতাদের বিষপূর্ণ মনের পরিচয় পাওয়া যায় এ গ্রুপের প্রধান বুদ্ধিজীবী জনাব আবুল মনসুর আহমদের লেখায়। তিনি লিখেছেনঃ “মুসলিম লীগ ৪৬ সালে নির্বাচনে ৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের উপর ভোট নিয়া নির্বাচনে জিতিবার পরে গুরুতর ওয়াদা খেলাফ করিলেনঃ লাহোর প্রস্তাবে বর্ণিত পূর্ব-পশ্চিমে দুই মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের বদলে পশ্চিম-ভিত্তিক এক পাকিস্তান বানাইলেন।”-(আবুল মনসুর আহম্মদ, ১৯৮৯)। অর্থাৎ তার মতে অতি অপরাধ হয়েছে অখণ্ড এক বৃহৎ পাকিস্তান বানিয়ে। পাকিস্তানকে বলেছেন পশ্চিম পাকিস্তান ভিত্তিক পাকিস্তান। এসব কথা তারা প্রকাশ্যে বলতেন এবং বইয়ের পাতায় লিখতেন। তাদের মনের গভীরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্বেষের বিষ যে কত গভীর ছিল তা এ থেকেই অনুমেয়।

Read more...
 
অধ্যায় ষোল: প্রতারণা দ্বি-জাতি তত্ত্বের সাথে PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Wednesday, 16 March 2016 19:41

শ্বাশ্বত দ্বি-জাতি তত্ত্ব

যে কোন বিশাল মহৎ কর্মের শুরুতেই প্রবল দর্শন বা যুক্তি চাই। নইলে সে কর্মে জনগণ নিজেদের অর্থ, শ্রম, মেধা ও জানের কোরবানি পেশ করে না। ফলে সে দর্শনের প্রতিষ্ঠায় কোন অপ্রতিরোধ্য আন্দোলনও গড়ে উঠেনা। পাকিস্তান তো এক অপ্রতিরোধ্য গণআন্দোলনের ফসল। কিন্তু কী ছিল সে আন্দোলনের মূল দর্শন? সে দর্শনটি ছিল দ্বি-জাতি তত্ত্ব। সে দর্শনটিই এতোই প্রবল ছিল যে, সেটি উপমহাদেশের মানচিত্রই পাল্টে দেয়। সে দর্শনটি ব্রিটিশদের বাধ্য করে ভারত বিভাগে; এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারতীয় হিন্দুগণও বাধ্য হয় ভারত মাতার বিভক্তিকে মেনে নিতে। সে দর্শনের মূল কথা, সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের থেকে মুসলিমগণ সর্বার্থেই একটি পৃথক জাতি। এ জাতির লোকদের বসবাস যেহেতু বিপুল সংখ্যায় এবং ভারতের বিশাল এলাকায় জুড়ে, তাদের জন্য একটি পৃথক রাষ্ট্রও চাই। মুসলিমগণ পৃথক জাতি শুধু ভিন্ন প্রকারের নাম ও নামকরণ পদ্ধতির জন্য নয়; বরং এজন্য যে, তাদের রয়েছে অন্যদের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্নতর জীবন-লক্ষ্য, আইন-কানূন, তাহজিব তামুদ্দন, ইতিহাস ও ঐতিহ্য এবং সে সাথে এ জীবনে সফলতা ও বিফলতা যাচাইয়ের মানদণ্ড।

Read more...
 
অধ্যায় আঠারোঃ নির্বাচন থেকে যুদ্ধ ও ভারতীয় অধিকৃতি PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Wednesday, 16 March 2016 19:24

রায় ছিনতাই

স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে বাঙালী সেক্যুলারিস্টদের মূল যুক্তিটি হলো,১৯৭০’য়ের নির্বাচনী বিজয়।কিন্তু কিসের উপর নেয়া হয়েছিল সে গণরায়? সেটি কি ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে? আওয়ামী লীগের সে নির্বাচনী বিজয়টি পাকিস্তান ভাঙ্গা বা স্বাধীনতার নামে অর্জিত হয়নি।পাকিস্তান ভাঙ্গা ও স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা শেখ মুজিবের নিজের গোপন অভিপ্রায় হতে পারে,গুপ্ত দলীয় এজেন্ডাও হতে পারে,কিন্তু যে নির্বাচনী মেনিফেস্টো জনসম্মুখে প্রকাশ করে আওয়ামী লীগ নির্বাচন লড়েছিল তার কোথাও স্বাধীন বাংলাদেশের কথা বলা হয়নি।পাকিস্তান ভাঙ্গার কথাও বলা হয়নি।ভোট নিয়েছিল ৬ দফার নামে।৬ দফা ও স্বাধীনতা কি এক বিষয়? পাকিস্তান সরকার আওয়ামী লীগের নির্বাচনি মেনিফেস্টোর কোথাও পাকিস্তান ভেঙ্গে বাংলাদেশ সৃষ্টির কোন প্রমাণ পায়নি,ফলে দলটিকে নির্বাচনে অংশ নিতে কোনরূপ বাধা দেয়নি। নির্বাচনের পর গণরায়কে শেখ মুজিব স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির পক্ষে দলিল রূপে ব্যবহার করবেন -সেটি নির্বাচন কালে কোথাও বলেননি।এরূপ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষযে রায় দেয়ার অধিকার ছিল একমাত্র জনগণের।কিন্তু জনগণ সে অধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়নি।জনগণের সে অধিকার নির্বাচনের নামে ছিনতাই হয়েছে।গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটি এক বড় রকমের জালিয়াতি।

 

Last Updated on Wednesday, 16 March 2016 19:40
Read more...
 
অধ্যায় সতেরো: ভারতীয় ‘‌র’ এবং সি.আই.এ’য়ের ভূমিকা PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Wednesday, 16 March 2016 19:34

পরিকল্পনাটি ভারতীয়

পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনাটি ভারতীয়। আওয়ামী লীগ ব্যবহৃত হয়েছে সে ভারতীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের হাতিয়ার রূপে। অথচ গণতান্ত্রিক সংগঠনের ক্ষেত্রে সেটি হওয়ার কথা নয়। গণতান্ত্রিক রাজনীতির মূল কথা রাজনীতিতে স্বচ্ছতা; বিদেশী এজেন্ডা পালন বা বিদেশী গুপ্তচরদের সাথে সংশ্লিষ্টতার বদলে গুরুত্ব পায় জনগণের সাথে সংশ্লিষ্টতা। অথচ শেখ মুজিবের রাজনীতির সাথে নিজ দলের নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতা ছিল অতি সামান্যই। কখনো তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন;সেটি ভাল না লাগায় সাথে সাথে প্রেসিডেন্টও হয়েছেন। কিন্তু তা নিয়ে দলীয় নেতাদের ডেকে পরামর্শ নেননি। সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং আবির্ভুত হয়েছেন নির্ভেজাল স্বৈরাচারী রূপে। স্রেফ ভোটের জন্য জনগণের কাছে ধর্ণা দিয়েছেন, কিন্তু দেশের ভাগ্য নির্ধারণে দেশের বিজ্ঞজন বা জনগণের মতামতের তোয়াক্কা করেননি। সেটি একাত্তরে যেমন নয়, তেমনি একাত্তরের আগে বা পরেও নয়। পরামর্শ করেছেন ভারতীয় গুপ্তচরদের সাথে। সে লক্ষ্যে ষাটের দশকেই তিনি ভারতে গেছেন। ভারত সরকার ১৯৪৭ থেকেই পাকিস্তান ভাঙ্গার চেষ্টায় ছিল। শেখ মুজিব সে কাজে ভারতের সহযোগী হন। এ নিয়ে শুধু ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’য়ের কর্মকর্তাগণই শুধু মুখ খুলেনি, মুখ খুলেছে বাংলাদেশের বহুনেতাও।

Read more...
 
অধ্যায় উনিশ: রক্তপাতের পথে দেশ PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Wednesday, 16 March 2016 08:04

শুরু পঁচিশে মার্চের পূর্বে

স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ছাত্রলীগ নেতা সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্ব গোপন সেল গঠন করা হয়েছিল যাটের দশকের মাঝামাঝিতে। জেলা শহরগুলিতেও গোপন সেল গড়ে তোলা হচ্ছিল। ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থা “র”য়ের শত শত গুপ্তচর ও ফিল্ড অপারেশনের দায়িত্ব প্রাপ্তরা তখন সারা পূর্ব পাকিস্তানে। তারা শুধু সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। তেসরা মার্চের অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পরিষদের বৈঠক মুলতবি করায় তাদের জন্য সে সুযোগটি এসে যায়। ৭ই মার্চের ব্ক্তৃতায় শেখ মুজিব হাতের কাছে যা আছে তা দিয়ে লড়াইয়ে নামার হুকুম দেন। নির্দেশ দেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যদের ভাতে ও পানিতে মারার। ঘোষণা দেন, “এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম।” এটি ছিল গোপন সেলের ক্যাডারদের জন্য মাঠে নামার তাগিদ। শুরু হয় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোনের পর্ব। শুরু হয় পাকিস্তান আর্মি এবং বিহারীদের উপর হামলা। বিশেষ বিশেষ অপারেশনের পরিকল্পনা নিয়ে অনুপ্রবেশ করে ভারতীয় গুপ্ত ঘাতকেরা। এভাবে রক্তপাতের শুরুটি মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকেই। পরিকল্পনা মাফিক ছাত্রলীগের ক্যাডারগণ ঢাকা শহরে একটি যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি করে। অখণ্ড পাকিস্তান বাঁচিয়ে রাখার জন্য ইয়াহিয়া সরকারের সাথে কোনরূপ বৈঠক হোক ও রাজনৈতিক সমাধান হোক –এরা ছিল তার ঘোরতর বিরোধী।

Read more...
 
<< Start < Prev 1 2 3 4 5 6 7 8 Next > End >>

Page 4 of 8
Dr Firoz Mahboob Kamal, Powered by Joomla!; Joomla templates by SG web hosting
Copyright © 2017 Dr Firoz Mahboob Kamal. All Rights Reserved.
Joomla! is Free Software released under the GNU/GPL License.