একাত্তরের ইতিহাস (ই-বুক)
অধ্যায় কুড়িঃ একাত্তরের মিথ্যাচার PDF Print E-mail
Written by firozkamal   
Wednesday, 16 March 2016 08:01

প্লাবন মিথ্যাচারের

একাত্তরকে ঘিরে বাঙালী সেক্যুলারিস্টদের মূল অস্ত্রটি হলো মিথ্যাচার। বাঙালী জাতীয়তাবাদীদের দাবী,পাকিস্তান সরকার বাঙালীদের কখনোই বিশ্বাস করতো না।সে দাবী যে কতটা মিথ্যা সেটি প্রমাণ করে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ক্যান্টনমেন্ট গুলোতে বহু হাজার বাঙালী সৈন্যের অবস্থান।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ইরাকীদের বিশ্বাস করেনি।সেটির প্রমাণ,ইরাক দখলে নেয়ার সাথে সাথে তারা ইরাকী সেনাবাহিনীকে বিলুপ্ত করে দেয়। ইরাকী সৈন্যদের হাত থেকে অস্ত্র কেড়ে নেয় এবং চাকুরী থেকে বরখাস্ত করে তাদেরকে ঘরে পাঠিয়ে দেয়।এ হলো অবিশ্বাসের নমুনা।পাকিস্তানে বাঙালী সামরিক ও বেসামরিক অফিসারদের সাথে কি সেটি ঘটেছে? কাশ্মীরে ভারতীয় ৬ লাখ সৈন্যদের প্রায় সবাই অকাশ্মীরী তথা বাইরের অন্যান্য প্রদেশের।অথচ একাত্তরে পূর্ব পাকিস্তানে যে ১৪ হাজার সৈন্য ছিল তার মধ্যে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট’য়ের ৩ হাজার বাঙালী সৈন্য ছিল একমাত্র চট্টগ্রামে।বহু হাজার ছিল পূর্ব পাকিস্তানের অন্যান্য ক্যান্টনমেন্টগুলোতে।এছাড়া ছিল ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর)’য়ে ছিল সশস্ত্র ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সৈনিক ছিল আরো ১৪ হাজার।তারা সবাই সশস্ত্র ছিল।তাছাড়া ছিল প্রায় এক লক্ষ আনসার।বাঙালীদের উপর বিশ্বাস না থাকলে কি পাকিস্তান সরকার বাঙালী সৈন্যদের কান্টনমেন্টে থাকতে দিত? তাদের হাতে কি অস্ত্র তুলে দিত? অথচ বাঙালী সৈনিকগণ তাদের উপর অর্পিত আস্থার জবাব দিয়েছে অবাঙালী অফিসার ও তাদের স্ত্রী-পরিজনদের হত্যা করে। চট্টগ্রামে পাকিস্তানে আর্মির বহু অফিসার,সৈনিক এবং বহু হাজার অবাঙালী নারী-পুরুষ মারা যায় বাঙালী সৈনিক ও সৈন্যদের হাতে।-(Williams, L.F.Rushbrook;1972)। সেনাবাহিনীর বাইরেও বহু বাঙালী অফিসার একাত্তরে পাকিস্তান সরকারেরর বহু গুরুত্বপূর্ণ পদে দেশে ও বিদেশ আসীন ছিল। লন্ডন,ওয়াশিংটন,নিউয়র্ক,বেইজিংসহ বিশ্বের নানা দেশে পাকিস্তান সরকারের দূতাবাসগুলোর বিরাট সংখ্যক কর্মচারী ছিল বাঙালী।কোন কোন দূতাবাসে প্রায় অর্ধেক। তখন কলকাতায় পাকিস্তানের যে ডিপুটি হাইকমিশন ছিল তার প্রধান ছিল বাঙালী।এমন কি রাজধানী ইসালামাবাদের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েটের শতকরা প্রায় ৪০ ভাগ কর্মচারি ছিল বাঙালী।এগুলি কি অবিশ্বাসের নমুনা?

Read more...
 
অধ্যায় একুশ: গণহত্যার কিছু নৃশংস চিত্র PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Wednesday, 16 March 2016 07:57

অপূর্ণাঙ্গ ইতিহাস

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে সংঘটিত হত্যাকান্ড নিয়ে বহু লেখালেখি হয়েছে, তা নিয়ে বহু ছায়াছবিও নির্মিত হয়েছে। কিন্তু বাঙালীর ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ বাঙালী রূপে যাদেরকে পেশ করা হয় তাদের চরিত্র কি কখনো আলোচিত হয়েছে? নিষ্ঠুরতা, লুন্ঠন, হত্যাকান্ড ও স্বৈরাচারে তারা যে কতটা নিচে নেমেছিল-তা নিয়ে কি কখনো গবেষণা হয়েছে? বাংলাদেশে প্রকাশিত কোন গ্রন্থে সে বীভৎসতার কি কোন বিররণ আছে? বসনিয়ার মুসলিমদের বিরুদ্ধে সার্বদের নিষ্ঠুরতার বিবরণ বিশ্ববাসী টিভিতে দেখেছে, দেখেছে গুজরাতের মুসলিমদের বিরুদ্ধে হিন্দু গুণ্ডাদের নিষ্ঠুরতাও। সম্প্রতি মায়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিম নির্মূলের নিষ্ঠুরতাও বিশ্ববাসী দেখলো। কিন্তু বাংলাদেশের বুকে নিরস্ত্র বিহারী বা অবাঙালী হত্যা ও তাদের সহায়সম্পদ দখলে যে নিষ্ঠুরতা ঘটেছে তা কি কম বীভৎস? অথচ বাংলার সমগ্র ইতিহাসে বাঙালীর হাতে সবচেয়ে বড় নৃশংসতাটি ঘটেছে একাত্তরে? সে বীভৎসতার বিবরণ অন্যদেশে ও অন্য ভাষায় ছাপা হলেও বাংলাদেশের ইতিহাসের বইয়ে তা খুঁজে পাওয়া যায় না। অথচ এটিও বাঙালীর নিজস্ব ইতিহাস। অন্যদের ইতিহাস পড়ে কি লাভ, যদি নিজেদের ইতিহাসই অলিখিত ও অপঠিত থেকে যায়? তাছাড়া নিজেদের চারিত্রিক ব্যাধি ও ব্যর্থতাগুলো থেকে শিক্ষালাভে ব্যর্থ হলে অন্যদের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়ার কি সামর্থ্য থাকে? তাছাড়া স্বাস্থ্যের পরিচয় জেনে লাভ কি? লাভ তো রোগের পরিচিতি জানায়। কারণ তাতে বাড়ে সে রোগ থেকে মুক্তির সামর্থ্য।

Read more...
 
অধ্যায় তেইশ: ভারতের পরিকল্পিত যুদ্ধ ও এজেন্ডা PDF Print E-mail
Written by firozkamal   
Wednesday, 16 March 2016 07:46

অসত্য দাবী

বাংলাদেশের স্বাধীনতায় আওয়ামী লীগ ও মুক্তিবাহিনীর অবদান নিয়ে বহু কিছুই লেখা হয়েছে। সেগুলির বেশীর ভাগই তাদের নিজেদের লেখা। এ ময়দানে নিরপেক্ষ ইতিহাসবিদ নেই। ফলে ইতিহাসের সবগুলি গ্রন্থই তাদের বিজয় গাঁথা। তাদের দাবীর বস্তুনিষ্ঠ সমীক্ষা আজও হয়নি। শেখ মুজিবের ক্ষমতায় থাকা কালে সেটি সম্ভবও ছিল না। সে সময় যা সম্ভব ছিল তা শুধু শেখ মুজিব ও তার সাথীদের প্রশংসা গীত। তবে এনিয়ে কোন বিরোধ নেই, মুক্তিবাহিনীর বহু হাজার সদস্য একাত্তরে ভারতে গিয়েছিল এবং ভারতীয় সেনাবাহিনী থেকে ট্রেনিং নিয়েছিল। ট্রেনিং শেষে তাদের কাজটি ছিল মূলত নাশকতামূলক। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মুখোমুখি যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার শক্তি তাদের ছিল না। ফলে বেশী মনযোগী হয়েছে পাকিস্তানপন্থী নিরস্ত্র ব্যক্তিদের হত্যায় এবং দেশের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসে। তাদের নাশকতাটি ছিল রেল লাইন, রেলওয়ে ব্রিজ, কালভার্ট ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি ধ্বংসে। মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে নিহতদের মধ্যে অধিকাংশ ছিল শান্তি কমিটির সদস্য, রাজাকার, মুসলিম লীগের লিডার, রাজনীতি সচেতন আলেম এবং ইসলামপন্থী ও পাকিস্তানপন্থী রাজনৈতিক নেতা। অনেকে নিহত হয়েছে স্রেফ দীর্ঘ দিন থেকে চলে আসা পারিবারীক গোলযোগের কারণে। তারা বহু কালভার্ট, ব্রিজ ও রেল লাইনের ধ্বংস করতে সমর্থ হয়। কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক বাহনীর সাথে তাদের সরাসরি দ্বি-পাক্ষিক যুদ্ধ খুব কমই হয়েছে। প্রশ্ন হলো, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পরাজয় এবং স্বাধীন বাংলাদেশের সৃষ্টিতে তাদের সে হামলাগুলি কতটুকু সফল ছিল?

 

Last Updated on Wednesday, 16 March 2016 07:49
Read more...
 
অধ্যায় বাইশ: একাত্তরে নারীধর্ষণ PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Wednesday, 16 March 2016 07:56

মহামারি নৈতিক পচনের

একমাত্র হত্যা,ধর্ষণ বা চুরি-ডাকাতিই অপরাধ নয়, অতি চরিত্রধ্বংসী ও মানবতাধ্বংসী অপরাধ হলো মিথ্যা বলা ও তার প্রচার। দেহের খাদ্য দুষিত হলে তাতে স্বাস্থ্যহানী ঘটে। আর আত্মার খাদ্য তথা জ্ঞানে মিথ্যার দূষণ হলে আসে নৈতিক পচন। মহান নবীজী (সাঃ) মিথ্যা কথনকে একারণেই সকল পাপের মা বলেছেন। কারণ, সর্বপ্রকার পাপের জন্ম তো মিথ্যাচর্চা থেকেই। খুনি, ধর্ষণকারি, ঘুষখোর, চোর-ডাকাত, সন্ত্রাসী ও ধোকাবাজ রাজনীতিবিদ -সবাইকে পদে পদে মিথ্যা বলতে হয়। চুরি-ডাকাতি, খুন  বা ধর্ষণের লক্ষ্যে বাড়ী থেকে বেরুনোর পরই যদি কোন দুর্বৃত্তকে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় যে সে কোথায় যাচ্ছে, এবং উত্তরে যদি সত্য কথা বলে তবে কি সে খুন, চুরি-ডাকাতি বা ধর্ষণ করতে পারে? পদে পদে মিথ্যার সিঁড়ি বেয়েই প্রতিটি অপরাধীকে অপরাধের নানা পথে ছুটতে হয়। মিথ্যা বলা বন্ধ হলে পাপাচারও বন্ধ হয়ে যায়। হত্যা বা ধর্ষণের কারণে একটি জাতির মুখে যতটা অপমানের কালিমা লাগে, মিথ্যাচর্চায় ভেসে যাওয়ার অপমানটি  তা থেকে কম নয়। নৈতিক পচন ও দুর্বৃত্তিতে বাংলাদেশ যে পাঁচবার বিশ্ব রেকর্ড গড়লো -সেটি তো সর্বস্তের মিথ্যাচর্চার কারণে। দেশের রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনিককর্মকর্তা, বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, আইনবিদ, শিক্ষক ও সাধারণ জনগণের বিরাট অংশ এনৈতিক রোগে আক্রান্ত। এ চারিত্রিক ব্যাধি এখন এক ভয়াবহ মহামারিতে পরিণত হয়েছে।

Read more...
 
অধ্যায় চব্বিশ: রাজাকার ও মু্ক্তিযোদ্ধা PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Wednesday, 16 March 2016 07:41

কারা রাজাকার ও কারা মুক্তিযোদ্ধা?

মিথ্যাচার,দূর্নীতি ও স্বৈরাচার কখনোই কোন দেশে একাকী আসে না। নৈতিক এ রোগের মহামারিতে মৃত্যু বরণ করে জনগণের বিবেক।মিথ্যা বলা বা মিথ্যা লেখাও তখন অভ্যাসে পরিণত হয়। দেশের ইতিহাসও তখন মিথ্যাচারে পূর্ণ হয়। স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠা দেয় ব্যক্তিপুঁজার।ফিরাউনের ন্যায় দুর্বৃত্তগণও তখন পুঁজণীয় হয়। তাছাড়া ইতিহাসের পাতায় স্বৈরচারী দুর্বৃত্তদের বাঁচার খায়েশটিও বিশাল। একারণেই বিস্তর মিথ্যাচার ঢুকে ইতিহাসে। একাত্তরের ইতিহাসের বিশাল অংশ জুড়ে তাই মুক্তিযুদ্ধের গুণকীর্তন। কিন্তু রাজাকারদের নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা নেই; উল্লেখ আছে স্রেফ ভিলেন রূপে। চিত্রিত হয়েছে পাকিস্তানের দালাল রূপে। কিন্তু দালালের কর্মে থাকে অর্থপ্রাপ্তির লোভ, তাতে মনের সম্পর্ক থাকে না। প্রাণদানের স্পৃহাও জাগে না। বাংলাভাষী হলেও প্রতিটি রাজাকার ছিল জন্মসূত্রে পাকিস্তানী; তারা মুক্তিবাহিনীর প্রতিপক্ষ রূপে দাঁড়িয়েছিল পাকিস্তানের গর্বিত ও নিষ্ঠাবান নাগরিক রূপে। কথা হলো, নিজ জন্মভূমির পক্ষে নামলে তাদেরকে কি দালাল বলা যায়? কিন্তু একাত্তরের ইতিহাসে রাজাকারের সে পরিচয়টি আলোচিত হয়নি। তাই আগামী প্রজন্মের জন্য প্রশ্ন থেকে যায়, কারা এ রাজাকার? কি ছিল তাদের মিশন? কেনই বা বাঙালী হয়েও তারা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠায় প্রাণপনে বিরোধীতা করলো এবং রক্ত দিল? কি ছিল তাদের রাজনৈতিক দর্শন? কিসে তারা অনুপ্রাণিত হলো? শুধু আজ নয়,বহুশত বছর পরও এ প্রশ্নগুলি বাংলাদেশের ইতিহাসের পাঠকের মনকে আন্দোলিত করবে। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসে এসব প্রশ্নের উত্তর নাই।

Read more...
 
<< Start < Prev 1 2 3 4 5 6 7 8 Next > End >>

Page 5 of 8
Dr Firoz Mahboob Kamal, Powered by Joomla!; Joomla templates by SG web hosting
Copyright © 2017 Dr Firoz Mahboob Kamal. All Rights Reserved.
Joomla! is Free Software released under the GNU/GPL License.