একাত্তরের ইতিহাস (ই-বুক)
অধ্যায় পঁচিশ: পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষ নেয়া কি জালেমের সমর্থন? PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Wednesday, 16 March 2016 07:31

গদির চেয়ে দেশ বড়

অনেকের যুক্তি, একাত্তরে পাকিস্তানের সমর্থনটি ছিল জালেমের সমর্থন। অতএব হারাম। তাদের কথা, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ও সেনাবাহিনী যেহেতু জালেম, দেশটিকে তাই বাঁচিয়ে রাখা যায় না। ফলে তারা সর্বশক্তি বিনিয়োগ করে পাকিস্তানের বিনাশে। এ যুক্তিতে ইসলামের শত্রুশক্তি বা কাফের শক্তির সাথে জোট বাঁধাটাও তাদের কাছে আদৌ দোষের মনে হয়নি। ফলে তারা ভারতকে ডেকে আনে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। ভারত যে কাশ্মীরে তার অধিকৃতি বহাল রাখতে হাজার হাজার কাশ্মীরীদের হত্যা করছে -সে ভারতীয় জুলুম তাদের বিচারে আসেনি। সাদ্দাম হোসেন অতি জালেম -এ যুক্তি দেখিয়ে একই ভাবে ইরাকের মার্কিন তাঁবেদার পক্ষটি নিজ দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে অনিবার্য করে তোলে। এভাবে ত্বরান্বিত করে দেশটির সর্বাত্মক ধ্বংস। জালেম হটানোর এমন মার্কিনী যুদ্ধে ইতিমধ্যেই দেশটির ৬ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। পঙ্গু হয়েছে ১০ লাখেরও বেশী। উদ্বাস্তুর বেশে দেশে-বিদেশে ঘুরছে প্রায় ৩০ লাখ ইরাকী। ফালুজা,রামাদি, তিকরিতের মত ইরাকের বহু শহর মাটিতে মিশে গেছে। এখনও সে নাশকতার কাজ পুরাদমে চলছে। কোন ঘরেই বিষাক্ত সাপের প্রবেশ অস্বাভাবিক নয়। তবে আহাম্মকি হলো সে সাপের কারণে ঘরে আগুন দেয়া। ধৈর্য ধরলে সে সাপটি নিজেই সরে যেতে পারে। না সরলে সে সাপটিকে মারায় উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। কিন্তু তাই বলে ঘরের বিনাশ কি কোন সুস্থ মানুষের কাম্য হতে পারে? তাছাড়া স্বৈরাচারী জালেম শাসক চেপে বসেছে তো খোদ বাংলাদেশেও। তাই বলে কি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে হবে? অখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষ নেয়াকে যদি জালেমের পক্ষ নেয়া হয় তবে ভারতীয় অধিকৃতি ও বাকশালী স্বৈরাচারি মুজিবের পক্ষ নেয়াকে কি বলা যাবে?

Read more...
 
অধ্যায় ছাব্বিশ: বাঙালী মুসলিম চেতনায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Wednesday, 16 March 2016 07:28

পাকিস্তানের উপনিবেশ তত্ত্ব

বাঙালী সেক্যুলারিস্টদের দাবী, ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল অবধি পূর্ব পাকিস্তানে ছিল ঔপনিবেশিক পাকিস্তানের একটি কলোনি বা উপনিবেশ মাত্র। কিন্তু কিভাবে পাকিস্তানের উপনিবেশ রূপে বাংলাদেশের সে পরাধীনতা শুরু হলো সে বিবরণ তারা দেয় না। কীভাবেই বা পাকিস্তান একটি ঔপনিবেশিক দেশে পরিণত হলো সে বর্ণনাও তারা দেয় না। উপনিবেশ স্থাপনেও তো যুদ্ধ করতে হয়। ১৭৫৭ সালে বাংলাকে পরাস্ত করতে বহু হাজার ইংরেজ সৈন্য সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে পলাশীর রণাঙ্গণে এসেছিল।কিন্তু ১৯৪৭ সালে পূর্ববাংলা জয়ে এসেছিল কি কোন পাকিস্তানী সৈন্য? এসে থাকলে কোথায় হয়েছিল সে যুদ্ধটি? তেমনি ঔপনিবেশিক পরাধীনতার জন্যওতো পলাশীর পরাজয় লাগে। সে সাথে মীর জাফর লাগে।  তখন কে ছিল সিরাজউদ্দৌলা, আর কে ছিল মীরজাফর? কীরূপে প্রতিষ্ঠা পেল সে ঔপনিবেশিক শাসন?

Read more...
 
অধ্যায় আঠাশঃ শেখ মুজিবের অপরাধনামা PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Wednesday, 16 March 2016 07:16

অপরাধ মানবহত্যার

শেখ মুজিবকে একবার তার টেবিলে সামনে বসে কিছুক্ষণ কিছু দেখার সুযোগ হয়েছিল এ লেখকের। সেটি ছিল ১৯৭০’য়ের জানুয়ারীর প্রথম সপ্তাহ;স্থানটি ছিল পুরোন পল্টনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অফিসের দো’তালায়।সেখানে সন্ধায় হাজির হয়েছিলাম নিজ এলাকার আওয়ামী লীগের দুই স্থানীয় নেতার দৈবাৎ সহচর হয়ে। তাদের একজন ছিলেন আমাদের পারিবারীক চিকিৎসক, সে সূত্রেই তাদের সাথে কিছু সময় কাটানো।সেদিন আমাদের তিন জনকেই তিনি চা’ পানে আপ্যায়িত করেছিলেন। সেখানে দেখলাম নানা নেতাকর্মীদের মূক্ত আনাগোনা।মনে হলো তাদের অনেকেই মফস্বলের বিভিন্ন জেলার। সামনে নির্বাচন। নির্বাচনি জনসভাকে সামনে রেখে কেই কেউ তাকে জিজ্ঞেস করছেন,তার সফর উপলক্ষে ক’খানি তোরণ বানানো হবে ইত্যাদি বিষয়।কেউ কেউ নিজ নিজ এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে সুপারিশ করছেন।কেউ তার সাথে একান্ত সাক্ষাতের সময় চাইছেন। সামনে নির্বাচন,ফলে শেখ মুজিবের সাথে তাদের আলোচনার মূল বিষয়গুলো ছিল নির্বাচনী বিষয়াদি।এক ব্যক্তি শেখ মুজিবের বাঁ পাশে দাঁড়িয়ে খবর দিলেন,জামায়াতে ইসলামীর লোকেরা মফস্বল থেকে ঢাকায় লোক জড়ো করছে।সম্ভবতঃ সে ব্যক্তি ১৮ই জানুয়ারি পল্টনে অনুষ্টিতব্য জামায়াতের জনসভায় লোক সংগ্রেহর দিকে ইঙ্গিত করেছেন।সে খবর শুনে মুজিব বেশ উত্তেজিত হলেন এবং যা বল্লেন সেটি কোন সভ্য ও গণতান্ত্রিক চেতনা-সম্পন্ন মানুষের কথা মনে হয়নি।মুখের পাইপ থেকে টানা তামাকের সাদা ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে রাগতঃ স্বরে বল্লেন,“লাহোর-করাচীর ব্যবসায়ীদের টাকা নিয়ে মওদূদী বাঙ্গালী কিনতে আসছে।দেখে নিব কি করে মিটিং করে।”

 

Last Updated on Saturday, 14 May 2016 20:35
Read more...
 
অধ্যায় সাতাশ: শেখ মুজিবের ষড়যন্ত্রের রাজনীতি PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Wednesday, 16 March 2016 07:21

ষড়যন্ত্র শুরু থেকেই

১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর থেকেই পাকিস্তানে প্রচুর সমস্যা ছিল। ভৌগলিকভাবে দুটি প্রদেশের মাঝে হাজার মাইলের বেশী ব্যবধান থাকায় সে সমস্যায় জটিলতাও ছিল।পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে প্রচুর বৈষম্যও ছিল। সে বৈষম্যের শুরু ১৯৪৭ সাল থেকে নয়, দেশটির জন্মের শত বছরপূর্ব থেকেই। দিল্লির মোগল শাসনের পতন হয় ১৮৫৭ সালে, আর বাংলায় মুসলিম শাসনের বিলুপ্তি ঘটে শত বছর আগে ১৭৫৭ সালে। ফলে বাঙালীর মুসলিম জীবনে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশদের অর্থনৈতিক রক্তশূন্যতা সৃষ্টির কাজটি শুরু হয় পশ্চিম পাকিস্তানীদের জীবনে শুরু হওয়ার এক শত বছর আগে। ব্রিটিশগণ বাংলার মসলিন শিল্পিদের যেভাবে আঙ্গুল কেটেছে সে নিষ্ঠুর কাজটি পাঞ্জাব, সিন্ধু, বেলুচিস্তান বা পাখতুন খা’ প্রদেশে করেনি। পশ্চিম পাক্স্তিানভূক্ত এলাকায় কৃষকদের নীল চাষেও বাধ্য করেনি। লাহোরে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা হয় ১৮৮২ সালে;দিল্লির পতনের মাত্র ২৮ বছরপর।অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা হয় ১৯২১ সালে –অর্থাৎ বাংলার উপর ব্রিটিশ অধিকৃতির ১৬৪ বছরপর।ব্রিটিশের গোলামী শুরু হওয়ার পাশাপাশি বাঙালী মুসলিমদের উপর শোষন ও নির্যাতনের আরেকটি নির্মম যাঁতাকল চেপে বসেছিল; সেটি ছিল হিন্দু জমিদার ও মহাজনদের শোষণ প্রক্রিয়া। ব্রিটিশের আশ্রয়ে ও প্রশ্রয়ে বেড়ে উঠা হিন্দু জমিদার ও বাবুশ্রেণীর কাজ ছিল মুসলিমদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে সর্বতোভাবে দাবিয়ে রাখা।

Read more...
 
অধ্যায় উনত্রিশ: ভারতের নাশকতা PDF Print E-mail
Written by firozkamal   
Wednesday, 16 March 2016 07:07

এজেন্ডাঃ অখণ্ড ভারত নির্মাণ

পাকিস্তান ভাঙ্গাটি ভারতের কাছে এতোটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে,ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির কাছে একাত্তরে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা চিহ্নিত হয় ভারতের জন্য স্বাধীনতা লাভের দ্বিতীয় পর্ব রূপে।পাকিস্তান ভাঙ্গার পর মনের সে সে তীব্র আনন্দটিই ইন্দিরা গান্ধি ১৯৭২ সালের ৮ই জানুয়ারি লক্ষৌতে এক বক্তৃতায় প্রকাশ করেন।আনন্দটি ছিল হাজার সালের বদলা নেয়ার।পরের দিন ইন্দিরার সে উল্লাসভরা উক্তিটি ভারতীয় পত্র-পত্রিকায় বিশাল শিরোনামায় ছাপা হয়।ফলে প্রমানিত হয়,পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাত্তরের যুদ্ধটি ছিল ভারতের নিজস্ব যুদ্ধ।সে যুদ্ধের লক্ষ্য আদৌ স্বাধীন ও শক্তিশালী বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা ছিল না।সেটিই প্রকাশ পেয়েছে ইন্দিরা গান্ধির সেদিনের বক্তব্যে। তিনি একই রূপ আনন্দ জাহির করেছেন ভারতীয় পার্লামেন্টের বক্তৃতায়।আনন্দ জাহির করেছে অন্যান্য নেতানেত্রীগণও।ভারতীয় হি্ন্দুদের কাছে স্বাধীনতার অর্থ অখণ্ড ভারত এবং সে ভারতের উপর হিন্দু শাসন।সে অখণ্ড ভারতে স্বাধীন পাকিস্তানের যেমন স্থান নেই,স্বাধীন বাংলাদেশেরও স্থান নেই।ফলে প্রতিবেশী দেশের স্বাধীনতাকে পদদলিত করাই তাদের নীতি।একাত্তরে বাংলাদেশ একটি ভিন্ন মানচিত্র,ভিন্ন পতাকা ও ভিন্নজাতের একটি জাতীয় সঙ্গিত পেয়েছে ঠিকই;কিন্তু ভারতীয় বাহিনীর যুদ্ধজয়ের ফলে হারিয়েছে সাংস্কৃতিক,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব।সে স্বার্বভোমত্ব হারানোর সুস্পষ্ট আলামতটি হলো,ভারতের সাথে তাজু্দ্দীনের ৭ দফা এবং মুজিবের ২৫ সালা গোলামী চুক্তি স্বাক্ষর। আরো আলামত হলো,বাংলাদেশের বাজারে ভারতীয় পণ্যের মুক্ত প্রবেশ,এবং সাংস্কৃতিক ময়দানে হিন্দুস্থানী টিভি প্রগ্রাম,ফিল্ম ও বই-পুস্তকের অবাধ দৌরাত্ম।ভারত এখন আর বাংলাদেশকে তার রাজনৈতিক,সামরিক ও সাংস্কৃতিক দখলদারির বাইরে যেতে দিতে রাজি নয়।এসবই হলো একাত্তরের অর্জন।

Read more...
 
<< Start < Prev 1 2 3 4 5 6 7 8 Next > End >>

Page 6 of 8
Dr Firoz Mahboob Kamal, Powered by Joomla!; Joomla templates by SG web hosting
Copyright © 2017 Dr Firoz Mahboob Kamal. All Rights Reserved.
Joomla! is Free Software released under the GNU/GPL License.