একাত্তরের ইতিহাস (ই-বুক)
অধ্যায় ত্রিশঃ টার্গেট ইসলাম ও মুসলিম PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Wednesday, 16 March 2016 07:02

সহ্য হয়নি ইসলাম ও মুসলিম এ শব্দ দুটি

১৯৪৭-এ পাকিস্তান যখন প্রতিষ্ঠা পায়, তখন হিন্দুদের নামে ও হিন্দু ধর্মের ঐতিহ্য নিয়ে দেশে বহু প্রতিষ্ঠান ছিল। যেমন ভারতেশ্বরী হোম, রামকৃষ্ণ মিশন, জগন্নাথ হল, জগন্নাথ কলেজ, আনন্দ মোহন কলেজ (সিলেট), রাজেন্দ্র কলেজ (ফরিদপুর), ভোলানাথ হিন্দু এ্যাকাডেমী (রাজশাহী), ব্রজলাল কলেজ (বরিশাল) এরকম অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। দেশ জুড়ে শত শত রাস্তাঘাটের নাম ছিল হিন্দুদের নামে। বলা যায়, শহর এলাকার অধিকাংশ রাস্তার নামই ছিল হিন্দুদের নামে। কিন্তু পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার সেসব প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হয়নি। সে সময় বহু কংগ্রেস নেতা ও বহু হিন্দু জমিদার বাড়িঘর ফেলে হিন্দুস্থানে চলে যায়। তাদের ফেলে যাওয়া সম্পত্তি পরিত্যক্ত সম্পত্তি রূপে সরকারি নথিভুক্ত হয়। কোন কোন দালানকোঠা সরকারি অফিস বা সরকারি কর্মচারির বাসস্থান রূপে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কারো হাতে ব্যক্তিগত মালিকানার দলিল তুলে দেয়া হয়নি। সেটি করা সরকারি নীতি ছিল না। অথচ বাংলাদেশ হওয়ার সাথে সাথে অবাঙালী ও পাকিস্তানপন্থী বাঙালীদের ঘরবাড়ী ও দলীয় অফিস জবর দখল শুধু আওয়ামী লীগের দলীয় নীতি নয়, সরকারি নীতিতে পরিণত হয়।

Read more...
 
অধ্যায় একত্রিশঃ বাংলাদেশী পত্রিকায় মুজিব-আমল PDF Print E-mail
Written by firozkamal   
Wednesday, 16 March 2016 06:51

অপরাধ নিজেই কথা বলে

ইতিহাস রচনার নামে বাংলাদেশের ইতিহাসে শুধু যে মিথ্যাচার ঢুকানো হয়েছে তা নয়, মুজিব ও তার দলের দুঃশাসনের বিবরণগুলো ইতিহাসের গ্রন্থ থেকে সতর্কতার সাথে বাদ দেয়া হয়েছে। সেটি ছিল আওয়ামী লীগের দলীয় রাজনীতি বাঁচানোর স্বার্থে; সত্য ঘটানোগুলো তুলে ধরা এখানে লক্ষ্য ছিল না। কিন্তু অপরাধ কি কখনো লুকানো যায়? অপরাধী তার অপরাধ কর্মগুলো লুকানোর যত চেষ্টাই করুক না কেন, তা নিজেই কথা বলে এবং সাক্ষী রেখে যায়। শেখ মুজিবও তার সহচরদের অপরাধও তাই অসংখ্য সাক্ষী রেখে গেছে। আর সে সাক্ষ্য ধারণ করেছে সে সময়ের দেশী ও বিদেশী পত্র-পত্রিকা। আগামী দিনের ইতিহাস রচনায় মুজিব আমলের সে বিবরণগুলোই গণ্য হবে গুরুত্বপূর্ণ দলিল রূপে। শেখ মুজিব ও তার দল বাংলাদেশকে যে কতটা বিপর্যয়ের মুখে ফেলেছিল সে পরিচয় পাওয়া যায় সে আমলের ঢাকার পত্রিকাগুলো পড়লে। নিজ ঘরে নিরাপত্তা না পেয়ে বহু মানুষ তখন বনজঙ্গলে লুকিয়েছে। ১৯৭৩ সালের ১৭ আগস্ট দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত একটি খবরের শিরোনাম ছিল, “নিরাপত্তার আকুতি গ্রাম-বাংলার ঘরে ঘর”। মূল খবরটি ছিল এরূপ, “সমগ্র দেশে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির ফলে এবং মানুষের জান-মাল ও ইজ্জতের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার অভাবে গ্রাম-গঞ্জ ও শহরবাসীর মনে হতাশার মাত্রা দিন দিন বাড়িয়াই চলিয়াছে এবং আইন রক্ষাকারী সংস্থার প্রতি মানুষের আস্থা লোপ পাইতেছে। অবস্থা এমন দাঁড়াইয়াছে যে, চুরি-ডাকাতি, লুটতরাজ তো আছেই, রাজনৈতিক, সামাজিক ও বৈষয়িক কারণে শত্রুতামূলক হত্যাকান্ডের ভয়ে মানুষ বাড়ীঘর ছাড়িয়া অন্যত্র আশ্রয় লইতেছে। যাহারা বিত্তশালী তাহারা শহরের আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ীতে এমনকি শহরের আবাসিক হোটেলগুলিতে পর্যন্ত আসিয়া উঠিতেছেন। যাঁহাদের শহরে বাস করিবার সঙ্গতি নাই, তাহার বনে-জঙ্গলে অথবা এখানে-ওখানে রাত্রি কাটাইতেছেন”।

Read more...
 
অধ্যায় তেত্রিশ: অধিকৃত ইতিহাস PDF Print E-mail
Written by firozkamal   
Tuesday, 15 March 2016 22:00

দখলদারিটি মিথ্যার

বাংলাদেশে অধিকৃত অঙ্গণ শুধু দেশের রাজনীতি, প্রশাসন, আইন-আদালত, বুদ্ধিবৃত্তি ও শিক্ষা-সংস্কৃতি নয়, বরং ইতিহাসের অঙ্গণও। সে অধিকৃতিটি মিথ্যার;সেটি প্রবল ভাবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে একাত্তর থেকে। ফলে নির্ভরযোগ্য কোন ইতিহাসের গ্রন্থ নেই দেশটির নিজ জন্মের। যা আছে তা চরম অসত্য ও পক্ষপাতদুষ্ট। ইতিহাসের এ অধিকৃত অঙ্গণে তিরিশ লাখ নিহত ও দুই বা তিন লাখ ধর্ষিতার ন্যায় অসংখ্য মিথ্যাকে স্থান দেয়া হয়েছে। এ অধিকৃত অঙ্গণে নিষিদ্ধ হয়েছে সত্যের প্রবেশ। মিথ্যাবৃত্তি পরিণত হয়েছে বুদ্ধিবৃত্তির মূল হাতিয়ারে। ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে সত্যের প্রবেশ রুখতে সর্বত্র পাহারায় বসানো হয়েছে অস্ত্রধারি রাজনৈতিক ক্যাডারদের। বুদ্ধিবৃত্তির ময়দানে প্রবল প্রতিষ্ঠা পেয়েছে প্রচণ্ড ফাসিবাদ। মিথ্যাচারীদের সত্যভীতি এতোই প্রকট যে, তাদের রচিত বিধানে প্রতিষ্ঠিত মিথ্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়াটিই দণ্ডনীয় অপরাধ। তিরিশ লাখ নিহতের পক্ষে কোন নির্ভরযোগ্য দলিল নাই, যা আছে তা হলো মুজিবের ন্যায় এক বাকশালী স্বৈরাচারী ব্যক্তির উক্তি -যা তিনি যুদ্ধকালীন বাংলাদেশকে এক দিনের জন্য না দেখেই বলেছিলেন। অথচ এ মিথ্যার বিরুদ্ধে কথা বললে আদালতের সমন জারি হয়। একাত্তরের ডিসেম্বরে ভারতের সামরিক অধিকৃতির পর থেকে ইতিহাস লেখার নামে যা কিছু লেখা বা বলা হয়েছে -তা ভারতসেবীদের প্রতিষ্ঠিত মিথ্যাগুলিকে মেনে নিয়েই। ফলে তিরিশ লাখ নিহত বা দুই/তিন লাখ ধর্ষণের ন্যায় বিশাল মিথ্যার বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ উঠেনি। ভারত যে একাত্তর পরবর্তী সামরিক অধিকৃতিকালে দেশের হাজার কোটি কোটি টাকার সম্পদ লুণ্ঠন করলো, মুক্ত বাণিজ্যের নামে দেশের তলা ধ্বসিয়ে দিল, লুণ্ঠনে লুণ্ঠনে উপহার দিল দুর্ভিক্ষ, তুলে নিল পদ্মা, তিস্তার ন্যায় বহু নদীর পানি –এতো সবের পরও ভারতকে বন্ধু রূপে মান্যতা দেয়াই এ ইতিহাসের ছবক। এরূপ বিশাল বিশাল মিথ্যার প্রহরায় নামানো হয়েছে প্রশাসনের পুলিশ ও আদালতের বিচারকদের।

Read more...
 
অধ্যায় বত্রিশ: বিদেশী পত্র-পত্রিকায় শেখ মুজিব ও তার শাসনামল PDF Print E-mail
Written by firozkamal   
Tuesday, 15 March 2016 22:03

ভিক্ষার ঝুলি

বাংলাদেশের নিজস্ব ইতিহাসে শেখ মুজিবের আসল পরিচয় পাওয়া মুশকিল। আওয়ামী বাকশালীদের রচিত ইতিহাসে রয়েছে নিছক মুজিবের বন্দনা। তার আমলে দেশী পত্র-পত্রিকাগুলি ছিল সরকারের নিয়ন্ত্রনে। তাই মুজিব এবং তার শাসনামলের প্রকৃত পরিচয় জানতে হলে পড়তে হবে সে আমলের বিদেশী পত্র-পত্রিকা। বাংলাদেশ সে সময় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-সাহিত্য, জ্ঞান-বিজ্ঞান বা খেলাধুলায় চমক সৃষ্টি করতে না পারলেও বিশ্বব্যাপী খবরের শিরোনাম হয়েছিল দুর্ভিক্ষ, দুর্নীতি, হত্যা, সন্ত্রাস, চোরাকারবারি, ব্যর্থ প্রশাসন ও স্বৈরাচারের দেশ রূপে। ১৯৭৪ সালের ৩০ শে মার্চ গার্ডিয়ান পত্রিকা লিখেছিল, “আলীমুদ্দিন ক্ষুধার্ত। সে ছেঁড়া ছাতা মেরামত করে। বলল, “যেদিন বেশী কাজ মেলে, সেদিন এক বেলা ভাত খাই। যেদিন তেমন কাজ জুটে না সেদিন ভাতের বদলে চাপাতি খাই। আর এমন অনেক দিন যায় যেদিন কিছুই খেতে পাই না।” তার দিকে এক নজর তাকালে বুঝা যায় সে সত্য কথাই বলছে। সবুজ লুঙ্গির নীচে তার পা দু'টিতে মাংস আছে বলে মনে হয় না।

Read more...
 
অধ্যায় চৌত্রিশঃ ব্যর্থতা সত্য আবিস্কারে PDF Print E-mail
Written by firozkamal   
Tuesday, 15 March 2016 21:54

সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা

মানব জীবনে সবচেয়ে বড় বিপদটি বৈজ্ঞানিক আবিস্কারে ব্যর্থতার কারণে ঘটে না। সেটি অনিবার্য হয়ে উঠে সত্য আবিস্কারের ব্যর্থতার কারণে। ব্যক্তির জ্ঞান, প্রজ্ঞা, যোগ্যতা ও নিয়তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাটি হয় এক্ষেত্রে। মহান আল্লাহতায়ালার কাছে শ্রেষ্ঠ মানুষ তো তারাই -যারা  সত্য আবিস্কারে সফল। সে সফলতা থেকেই মানব জীবনে নেক আমলের জোয়ার শুরু হয় -যা পরকালে জান্নাতের পুরস্কার আনে। সত্য আবিস্কারে ব্যর্থতা থেকেই পাপাচারের শুরু, তখন শুরু হয় জাহান্নামের পথে যাত্রা। শুধু ধর্মের ক্ষেত্রে নয়, সত্য আবিস্কারের মিশন নিয়ে বাঁচতে হয় ইতিহাস, দর্শন, বিজ্ঞান, রাজনীতি ও বিচার-আচারের ন্যায় জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে। মিথ্যাচারীতা নিয়ে বাঁচায় মর্যাদা নাই; কল্যাণও নাই। মানবজীবনে এটিই সবচেয়ে ঘৃণ্য, ব্যর্থ ও কলংকিত দিক। একাত্তরকে ঘিরে বাঙালী জাতীয়তাবাদীদের ব্যর্থতা অনেক। তবে সবচেয়ে বড় ব্যর্থতাটি ঘটেছে বাংলাদেশের জন্ম নিয়ে সত্য ঘটনার সন্ধান লাভে। একাত্তরের ইতিহাস বস্তুত সে ব্যর্থতারই দলিল। বিষয়টিকে তাই শুধু সত্য আবিস্কারে ব্যর্থতা বললে যথার্থ বলা হয় না। শুধু এটুকু বললে এ ব্যর্থতার সাথে যে অপরাধী মানসটি জড়িত -সেটিও প্রকাশ পায় না। সে অপরাধটি মিথ্যা রটনার।অপরাধটি তাই গুরুতর।

Read more...
 
<< Start < Prev 1 2 3 4 5 6 7 8 Next > End >>

Page 7 of 8
Dr Firoz Mahboob Kamal, Powered by Joomla!; Joomla templates by SG web hosting
Copyright © 2017 Dr Firoz Mahboob Kamal. All Rights Reserved.
Joomla! is Free Software released under the GNU/GPL License.