একাত্তরের ইতিহাস (ই-বুক)
অধ্যায় পাঁচ: শেখ মুজিবের মুখোশ ও রাজনীতি PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Wednesday, 16 March 2016 23:39

মুখোশের আড়ালে ষড়যন্ত্র

শেখ মুজিব প্রায়ই বহুদলীয় গণতন্ত্রের কথা বলতেন।বলতেন,‍জনগণের বাকস্বাধীনতাসহ মৌলিক অধিকারের কথা।বলেছেন শক্তিশালী পাকিস্তানের কথাও।প্রতিটি নির্বাচনি জনসভায় –এমন কি নির্বাচনের পর একাত্তরের ৭ই মার্চে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্দানের জনসভাতেও উচ্চকন্ঠে “‍‍‍‍‌‍পাকিস্তান জিন্দাবাদ” ধ্বনি দিয়েছেন।তবে এসবই ছিল তার রাজনীতির মুখোশ।সে মুখোশের আড়ালে ছিল পাকিস্তান ভেঙ্গে বাংলাদেশ নির্মানের প্রকল্প।ছিল,একদলীয় বাকশালী স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠার নেশা।ছিল নানারূপ ষড়যন্ত্রের রাজনীতি। মুজিবের সে রাজনীতিতে বিরোধীদের জন্য কোন স্থান ছিল না।তার শাসনামলে বিরোধী পত্র-পত্রিকার জন্যও কোন স্থান ছিল।বরং নিজের রাজনীতিতে স্থান করে দিয়েছেন বিদেশী শত্রুদের।ভোটের আগে যা বলেছেন,নির্বাচনি বিজয়ের পর করেছেনে তার উল্টোটি।ফলে “পাকিস্তান জিন্দাবাদ”য়ের বদলে স্থান পায় পাকিস্তান ধ্বংসের রাজনীতি।পাকিস্তান ভাঙ্গার কাজে তিনি যে আগরতলায় গিয়েছিলেন এবং তৎকালীন ভারতীয় সরকারের কাছের যে সাহায্য চেয়েছিলেন -সেটি আজ আর গোপন বিষয় নয়।

 

Last Updated on Thursday, 17 March 2016 00:45
Read more...
 
অধ্যায় ছয়: চাপানো হলো যুদ্ধ PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Wednesday, 16 March 2016 22:48

হিন্দু প্রতিহিংসা

ভারতীয় হিন্দুগণ মুসলিমদের দিল্লি-বিজয় এবং ভারতের বুকে প্রায় সাড়ে ছয় শত বছরের মুসলিম শাসনকে কখনোই মেনে নিতে পারিনি। মুসলিম শাসনের সে স্মৃতি এখনো প্রতিদিন ও প্রতিমুহুর্তে তাদেরকে পীড়া দেয়। তাদের কাছে পুরা মুসলিম শাসনামলটাই পরাধীনতার কাল। হিন্দু ছাত্রছাত্রীদের কাছে অতি অসহ্য হলো, স্কুল-কলেজের পাঠ্য বইয়ে তাদের পড়তে হয় মুসলিমদের ভারত বিজয় ও ভারত শাসনের ইতিহাস। সারা ভারত জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মুসলিম শাসনের বিশাল বিশাল স্মৃতিস্তম্ভ। বিশাল গর্ব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে তাজমহল, ফতেহপুর সিক্রি, দিল্লির লাল কেল্লা, জামে মসজিদ ও কুতুব মিনারের ন্যায় অসংখ্য কীর্তি। তাদের চক্ষুশূল হলো, প্রতিনিয়ত সেগুলি তাদের দেখতে হয়। তাদের মনের যাতনা আরো বেড়ে যায় ১৯৪৭ সালে, এ বছরটিতেই ভারতের বুক চিড়ে প্রতিষ্ঠা পায় বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তান। শত চেষ্টাতেও পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠা রুখতে পারিনি। তারা তো চেয়েছিল অখণ্ড ভারত, কিন্তু সেটি ব্যর্থ হওয়ায় তাদের মনকষ্ট বহুগুণ বেড়ে যায়। ভারতীয় হিন্দুগণ সে মনকষ্ট থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখতো মুসলিমদের বিরুদ্ধে আশু বিজয় এবং বদলা নেয়ার মধ্যে। ব্রিটিশ শাসনের বিদায়ের পর ভারতের বুকে প্রতিষ্ঠা পায় হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার ফলে এ রাষ্ট্রের মুসলিমগণ হিন্দু শাসনের বর্বরতা থেকে রক্ষা পেলেও বাঁচেনি ভারতীয় মুসলিমগণ।সহসাই তারা সহিংস হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। শুরু হয়, মুসলিমদের বিরুদ্ধে বদলা নেয়ার পালা। সংঘটিত হয় হাজার হাজার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং সেসব দাঙ্গায় মুসলিম গণহত্য,নারী ধর্ষণ ও লুটতরাজ। শুরু হয় ভারত থেকে মুসলিম বিতাড়ন ও মুসলিম রাজ্যগুলি দখল। যে মুসলিম প্রদেশগুলো ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান ভূক্ত হয়েছিল সে যাত্রায় সেগুলি বেঁচে যায়। কিন্তু ভারতীয় আগ্রাসন থেকে বাঁচেনি বিচ্ছিন্ন কাশ্মীর, হায়দারাবাদ ও মানভাদড়।

 

Last Updated on Wednesday, 16 March 2016 23:03
Read more...
 
অধ্যায় আট: ইয়াহিয়া-মুজিব-ভূট্টোর ব্যর্থ বৈঠক PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Wednesday, 16 March 2016 22:34

অবিশ্বাসের রাজনীতি

পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠায় কায়েদে আযম মুহ্ম্মদ আলী জিন্নাহ ঈমান, একতা ও শৃঙ্খলার উপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সে নীতির ভিত্তিতেই বহু ভাষা, বহু বর্ণ, বহু প্রদেশ ও বহু মজহাবে বিভক্ত ভারতীয় মুসলমানদের মাঝে তিনি একতা গড়েছিলেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা-অবধি সে একতা ও বিশ্বাস অটুট ছিল। ফলে বাঙালী, আসামী, পাঞ্জাবী, সিন্ধি, পাঠান, বিহারী, গুজরাতী এরূপ নানা ভাষার শিয়া-সূন্নী-দেওবন্দি-বেরেলভী মুসলমানেরা তাঁকে অবিসংবাদিত নেতা রূপে বরণ করে নেয়। ভারতীয় উপমহাদেশের বহু শত বছরের মুসলিম ইতিহাসে এমন একতা আর কোন কালেই প্রতিষ্ঠা পায়নি। কায়েদে আযম এক্ষেত্রে এক অবিস্মরণীয় নেতা। একতার শক্তি অসামান্য। সে একতার বলেই তিনি ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ ও সংখ্যাগরিষ্ট হিন্দুদের প্রবল বাধা সত্ত্বেও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় সমর্থ হন। মুসলিম একতার সবচেযে বড় নিয়ামতটি হলো, এটি মহান আল্লাহতায়ালার অপার রহমত নামিয়ে আনে। আর অনৈক্য নামিয়ে আনে কঠিন আযাব -যার হুশিয়ারি মহান আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করেছেন। বলা হয়েছে, “তোমরা তাদের মত হয়ো না যারা স্পষ্ট নিদর্শন আসার পরও পরস্পরে বিচ্ছিন্ন হলো এবং নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করলো। তাদের জন্য রয়েছে মহা শাস্তি।”–(সুরা আল ইমরান আয়াত ১০৫)। অর্থাৎ মুসলমানদের মাথার উপর মহান আল্লাহতায়ালার আযাব নামিয়ে আনার জন্য অনৈক্যের ন্যায় কবিরা গুনাহটিই যথেষ্ট।

Read more...
 
অধ্যায় সাত: ইতিহাসে প্রতিহিংসা PDF Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Wednesday, 16 March 2016 22:41

সহিংস মানস

কোন সভ্য আদালতই এমন কি নৃশংস খুনির বিরুদ্ধেও মিথ্যা বলার অধিকার দেয় না। কারণ আদালতে মিথ্যা বলা শুরু হলে মৃত্যু ঘটে ন্যায়-বিচারের। তখন অসম্ভব হয়ে পড়ে সামাজিক শান্তি ও সভ্য সমাজের নির্মাণ। একই কারণে মিথ্যা চলে না ইতিহাসের আদালতেও। এখানে বিচার বসে ইতিহাসের ঘটনাবলি ও তার মূল নায়কদের। ইতিহাস লেখার কাজ তো বিচারকের কাজ। প্রতিটি যুদ্ধেই পক্ষ ও বিপক্ষের মাঝে রক্তাত্ব সংঘাত থাকে; নৃশংস অপরাধও ঘটে। উভয় পক্ষের নেতা-নেত্রী ও যোদ্ধাদের মনে প্রচণ্ড সহিংসতাও থাকে। সে সহিংস মানস নিয়ে কেউ কি নিরপেক্ষ ইতিহাস লিখতে পারে? তাদের লেখনিতে বরং যা ফুটে উঠে তা হলো তাদের প্রতিহিংসা-পরায়ণ মানস। আগুণের কাজ আশেপাশে আগুণ লাগানো; সহিংস লেখনিও তেমনি রাষ্ট্র জুড়ে সংহিসতা ছড়ায় ও যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি করে। তাই মানব সমাজের অতি ভয়ংকর অনাসৃষ্টি হলো সহিংস ইতিহাস ও সাহিত্য। এরূপ ইতিহাস ও সাহিত্য জাতিকে আত্মবিনাশী করে। ইতিহাস রচনার বাংলাদেশে বস্তুত সেটিই হয়েছে।

Read more...
 
অধ্যায় নয়: আত্মবিনাশী ইতিহাস প্রকল্প PDF Print E-mail
Written by firozkamal   
Wednesday, 16 March 2016 22:28

বেঁচে আছে যুদ্ধ

একাত্তরের যুদ্ধ বহু দশক পূর্বে শেষ হলেও এখনো সেটি বেঁচে আছে। সেটি যেমন দেশের ইতিহাসের বইয়ে, তেমনি বাঙালী সেক্যুলারিস্টদের রাজনীতি, বুদ্ধিবৃত্তি ও চেতনা রাজ্যে। দেশ জুড়ে আজও তাই সংঘাতময় যুদ্ধাবস্থা। ইতিহাস রচনার নামে ইতিহাসের বইয়ে প্রতিনিয়ত বিস্ফোরক ঢালা হচ্ছে। সেটি যেমন মিথ্যাচারের, তেমনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার। ফলে বাংলাদেশে অতি দুঃসাধ্য বিষয়টি হলো রাজনীতিতে শান্তি ও সম্প্রীতির অবস্থা ফিরিয়ে আনা। আরো অসম্ভব হলো, একাত্তরে কি ঘটেছিল তার সঠিক বিবরণটি জানা। ৯ মাসের যুদ্ধে সঠিক কত জন মারা গেল; এবং তারা কোথায়, কীভাবে এবং কাদের হাতে প্রাণ হারালো সে হিসাবটি যেমন নাই, তেমনি একাত্তরের মার্চে ইয়াহিয়া-মুজিব-ভূট্টোর বৈঠকে কি আলোচিত হয়েছিল এবং সে বৈঠক কেন ব্যর্থ হলো -সে বিষয়ে সঠিক রেকর্ডও বাংলাদেশের ইতিহাসে নেই। যুদ্ধ শেষে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কি পরিমান অস্ত্রশস্ত্র অব্যবহৃত ছিল এবং সেগুলো কোথায় গেল -সে বিবরণও কোথাও লিপিবদ্ধ করা হয় নাই। বলা হয়, বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিল মুক্তিযোদ্ধারা। কিন্তু পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে পরাস্ত করে তারা নিজ শক্তি বলে দেশের কোন কোন জেলাগুলি এবং কোন কোন উপজেলাগুলি স্বাধীন করেছিল এবং সেটি কোন কোন তারিখে -সে বিষয়েও কোন তথ্য নেই। অথচ বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মুক্তিবাহিনী নিজ শক্তিতে পাকিস্তান বাহিনীকে পরাজিত করলে ভারতীয়দের কাছে বাংলাদেশীদের কেন এতো নতজানু দায়বদ্ধতা? সে দায়বদ্ধতা পূরণ করতে বাংলাদেশকে কেন ভারতকে করিডোর দিতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাগণ দেশ স্বাধীন করলে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভূমিকাটি কি ছিল? কি পরিমান সম্পদ, যানবাহন ও অস্ত্রশস্ত্র বাংলাদেশ থেকে লুণ্ঠন করে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়-এসব মোটা দাগের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বাংলাদেশের ইতিহাসে নেই। ইতিহাসের নামে যা চর্চা হয় -তার বেশীর ভাগই গুজব বা বানায়োট কাহিনী নির্ভর। সেটিও দেশের ভারতসেবী পক্ষের রাজনৈতিক স্বার্থে। সেটি যেমন যুদ্ধে তিরিশ নিহত হওয়ার কাহিনী। তেমনি ২৫শে মার্চ এক রাতে ঢাকায় ৬০ হাজার মানুষের মৃত্যু কাহিনী। তেমনি দুই বা তিন লাখ নারীর ধর্ষিতা হওয়ার কাহিনী। বস্তুনিষ্ঠ ও বিশ্বাসযোগ্য ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে এগুলি হলো ব্যর্থতার দলিল। একাত্তরের ইতিহাসে যা কিছু বলা হয়েছে বা লেখা হয়েছে -তা আজ ও তাই প্রশ্নবিদ্ধ।

Read more...
 
<< Start < Prev 1 2 3 4 5 6 7 8 Next > End >>

Page 2 of 8
Dr Firoz Mahboob Kamal, Powered by Joomla!; Joomla templates by SG web hosting
Copyright © 2017 Dr Firoz Mahboob Kamal. All Rights Reserved.
Joomla! is Free Software released under the GNU/GPL License.